অন্তঃসলিলা : রাজর্ষি বর্ধন

সেদিন, অর্থাৎ ৫৯৭৬ সালের ভরা চৈত্রমাসে অনীশের ভারি জলতেষ্টা পেলো।

তখন কলকাতায় সবে সন্ধ্যা নেমেছে। শহরের যেই চত্বরটা আগে ধর্মতলা নামে পরিচিত ছিল সেখানে দুশো বছর আগে একটা উল্কাপিন্ড এসে পড়ায় সেখানে একটা প্রকান্ড গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছে ! এস্প্ল্যানেড, মনুমেন্ট, ইডেন গার্ডেন নামে যে সব বিখ্যাত জায়গাগুলো ছিল সে সব নিমেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছিল ! শুধু তাই নয়, শহরের গা ঘেঁসে বয়ে চলা সেই হুগলী নদীর সমস্ত জল যেন কেউ শুষে নিয়েছিল ব্লটিং পেপার দিয়ে !

সেদিনের পর সেখানেও যে শুকনো খাত সৃষ্টি হয়েছিল, সেখান দিয়ে আর জল বইতে দেখা যায়নি! হঠাৎ একটা উল্কাপাত যেন শহরের ভীতটাকেই নড়িয়ে দিয়েছিল একরকম ! ধর্মতলায় যেই গহ্বরটা তৈরি হয়েছিল, সেটাই এখন পৃথিবীর গভীরতম স্থান, সেটা দেখতে নানা দেশ থেকে লোক এসে ভিড় জমায়- শহরের মাঝে এমন একখানা গহ্বর দেখতে কেউ বা না চাইবে ! এই গহ্বর ঘিরেই এখন গড়ে উঠেছে অনেক হোটেল, লজ এবং রেস্তরাঁ !

সবাই একবাক্যে স্বীকার করছে, যেই উল্কাপাতের ফলে ধর্মতলা হারিয়ে গেছিল, সেই উল্কাপাতের তৈরি গহ্বরের কারণে যেসব হোটেল, রেস্তরাঁ গড়ে উঠেছে, তাতে সেই হৃত জৌলুশ ফিরে আসছে !

সেই রকমই একটা বিলাসবহুল, মহার্ঘ হোটেলের স্যুইটে বসে ছিল তৃষ্ণার্ত অনীশ ! সে এখানে এসেছে কোম্পানির কাজে, কোম্পানিই তাকে এই স্যুইট বুক করে দিয়েছে, নইলে অনীশের একার পক্ষে এই হোটেলের খরচ ওঠানো সম্ভব ছিল না ! তবে কোম্পানি শুধু হোটেলের রুমই বুক করে দিয়েছে, বাকি খরচের দায় তাদের নেই !

এই যেমন অনীশ যেমন একগ্লাস জল খেতে চাইছে, কিন্তু তার দাম এখন হুস্কির থেকেও বেশি ! এমনই অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে, জলপান করা যেন একটা বিলাসিতা ! গোটা পৃথিবীতেই পানীয় জলের একরকম সঙ্কট চলছে, কলকাতায় তার ভয়াবহতা আরও বেশি ! গঙ্গা নদীটা উবে গিয়ে ভারি মুশকিলে ফেলেও দিয়েছে শহরবাসীদের!

খাওয়ার জলও যে কিনে খেতে হবে সর্বক্ষণ, এমনটা কেউ ধারণাই করতে পারেনি! তাছাড়া অনীশ সহ বাকি শহরবাসীদের পূর্বপুরুষেরা একসময় এতোটাই জল অপচয় করেছে যে তার মাসুল দিতে হচ্ছে অনীশদের প্রজন্মকে ! গোটা পৃথিবীর এখন চাতক পাখির মতো অবস্থা ! ভূমণ্ডলে নদীর শুধু শুকনো খাত পড়ে রয়েছে, হ্রদ থেকে শুরু করে পুকুর-খাল-বিল সবই রুক্ষ, শুষ্ক ! ভূগর্ভে জলের বদলে রয়েছে বিষাক্ত গ্যাস, যা শরীরে নিলে ক্ষতি ছাড়া কিছুই হয় না !

এমন দুর্বিষহ অবস্থাতেও কিন্তু পৃথিবী জুড়ে ক্ষরা নেমে আসেনি, বা কলকাতা শহর ম্রুভুমি হয়ে যায়নি, কারণ পানীয় জলের সরবরাহ তখনও বজায় ছিল ! নানারকম অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক উপায়ে তখন জল ‘উৎপাদন’ করা হতো ! কখনও মহাসমুদ্রের লোনাজলকে পাতন পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ করে, কখনও রাসায়নিক উপায়ে হাইড্রোজেন সাথে অক্সিজেন বিক্রিয়া ঘটিয়ে জল ‘তৈরি’ করা যেতো।

তৃতীয় উপায়ে জল সৃষ্টি হতো বরফ গলিয়ে, তবে সে বরফ পৃথিবীর কোন বরফ নয়, সে বরফ আনা হতো চাঁদ বা মঙ্গলগ্রহের দুই উপগ্রহ ফোবোস আর ডেমসের ভুখন্ড থেকে রকেটের সাহায্যে, কারণ উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর দুই মেরুর সাথে-সাথে নানান পর্বতশ্রেণীর চুড়ার বরফ গলে গেছিল গত পাঁচশ বছরে, এবং বর্তমানে তাদের চিহ্নমাত্র নেই! তাই গ্রহান্তর থেকে বরফ আনা ছাড়া উপায় নেই! সেই বরফ-গলানো জল মহার্ঘ মুল্যে বিক্রি করা হতো, এবং কিছু সংখক মানুষের তা কেনার সামর্থ্য ছিল !

তবে বিশ্বব্যাপী এই জলের সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের সমীকরণটাই পাল্টে গেছিল ! অনেক বহুজাতিক সংস্থা এখন জলের উৎপাদনে এবং পানীয় জলের ব্যবসায় প্রচুর অর্থ লগ্নি করছে এবং লাভের মুখও দেখেছে ! শহরের অলিতে-গলিতে সেসব সংস্থারা নিজেদের ‘ওয়াটার হাব’ খুলেছে, যেখানে কোম্পানির তৈরি জলের গুনমান পরীক্ষা করেন বিশেষজ্ঞরা ! এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে রেষারেষিও কম হয়না- প্রতিটা সংস্থাই মরিয়া হয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদের তৈরি জলই সেরা !

অনীশ এরকমই একটি সংস্থায় কর্মী, এবং গুন্মান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সে একজন শিক্ষানবিশ বৈজ্ঞানিকও বটে ! এইরকম সংস্থায় কাজ করার সুবাদে ভেতরকার অনেক ঘোঁতঘাত তার জানা হয়ে গেছে ! যেমন সে জানে, কলকাতা থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বে যেমন জলের আকাল শুরু হয়েছে, এবং প্রতিনিয়ত যেরকম ভয়ংকর আঁকার ধারন করতে চলেছে, তা অচিরেই মিটিয়ে দেওয়া যায় !

কারন এই সব সংস্থার কাছে পানীয় জলের ষ্টক প্রচুর এবং অভাবানীয় ! পৃথিবীর আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা বিভিন্ন জলাধার বা ঝরনা বা গুপ্ত হ্রদের হদিশ তারা জানে যাতে প্রচুর মিঠে জল রয়েছে, এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে তা শুকিয়ে যায়নি ! সেসব নদী বা জলাশয়ের খবর সাধারণ মানুষের কাছে পৌছায় না, সরকার থেকেও সেই জলাধারের খবর গোপন রাখার ব্যবস্থা করা হয় ! অনীশের কাছেও এমনও খবর আছে, অনেক সংস্থা জলের বদলে মানুষ কেনা-বেচার মতো ঘৃন্য কাজ করে !

বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলো, যারা অর্থনীতি ও প্রযুক্তিতে এখন প্রথম সারীতে রয়েছে, তারা আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেনের মতো গরীব , কপর্দকশূন্য দেশগুলোর কাছে জল বিক্রি করে সুন্দরী মেয়ের বিনিময়ে ! একটা সাদা চামড়ার নারীর বদলে এক গ্যালন জল, এবং সেই নারী যদি খুব ফর্সা, তন্বী এবং স্বাস্থ্যবতী তাহলে বাড়তি আরেক গ্যালন জল দেওয়া হবে ! ব্যপারটা খুবই কদর্য এবং অমানবিক হলেও সেই আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো একরকম নিরুপায় হয়েই সেটা মেনে নেয় !

গোটা পৃথিবীর কাছে এই বিষয়টা চাপা থাকে- সবাই দেখে, উন্নতির শিখরে পৌঁছান আফ্রিকার দেশগুলো একরকম দয়াপরবেশ হয়েই সেইসব গরীব ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে জলবন্টনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে, এতে সেই আফ্রিকান দেশগুলোর মহত্ত্বই প্রকাশ পায়, কিন্তু তাদের ভিতরের কদর্যতা ঢাকা পরে যায় ! অনীশ এইরকমই একটি আফ্রিকান জল নির্মাণকারি সংস্থায় কাজ করে, যখন সে এই ব্যপারটা জানতে পারে, তখন রাগে-ঘেন্নায় এতোটুকু হয়ে যায় !

সে চাকরিটা ছেড়েও দিতে চেয়েছিল, কিন্তু গ্রাআমে বৃদ্ধ বাবা-মা আর বোনের কথা ভেবে করেনা ! তার অবস্থা এখন শাঁখের করাতের মতো, কারণ সে কোম্পানির এই পলিসির কথা জানতে পেরে গেছে, তাই কোম্পানি নিজেদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সবরকম ব্যবস্থাই নিতে পারে ! অনীশ জানে, একবার যদি সে খবরটা প্রকাশ্যে আনেও কাজ ছেঁড়ে দেয়, তাহলে তার প্রাণ সংশয় ও হতে পারে !

তাই সে একরকম মুখ বুজে কাজ করে। তার এই অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কোম্পানি তাকে দিয়ে অনেক জঘন্য কাজও করায়, যেমন মালিককে খুশি করবার জন্য সে হপ্তায়ে একবার দক্ষিন কলকাতার এক বর্ধিষ্ণু পতিতালয় ত্থেকে ভারতীয় মেয়ে বেছে আনে ! আজও যেমন সে এনেছে! পাশের স্যুইটে তার কালো চামড়ার মালিক যৌনখেলায় মত্ত, আর নিজের ঘরের মধ্যে তীব্র ঘৃনায় ও পিপাসায় অসহায় অবস্থা অনীশের !

জল তেষ্টাটা যখন চরমভাবে অসহনীয় হয়ে উঠেছে, তখন তার ভারচুয়াল ট্র্যান্সমিটারে নীতার ছবি ফুটে উঠতে দেখা গেলো ! নীতা একজন কলগার্ল, তবে তার সম্বন্ধে তার মালিক এখনও কিছু জানে না ! অনীশ যখন প্রথমবার সেই পতিতালয়ে যায় তখন নীতাকে সে প্রথম দেখে, এবং দেখা মাত্রই সারাশরীরে একটা তরঙ্গ খেলে যায় ! কেমন একটা টান অনুভব করে! এমন অনুভুতি তার আগে কখনও হয়নি !

পরে সে অনেক খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছে, এই অনুভুতিকেই লোকে ‘প্রেম’ বলত বহু শতাব্দী আগে, যা এখন পানীয় জলের মতোই দুরল্ভ হয়ে আসছে ! তাই অনীশ বুঝতে পারেনি কখন সে নীতার প্রেমে পরে গেছে ! নীতারও মনের অবস্থা তথৈবচ, সে এতকাল একাধিক পুরুষের সংস্পর্শে এসেছে, কই কারো প্রতি তো এমন টান অনুভব করেনি ! সেদিনের পর থেকে তারা নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ করত, সেটা সম্ভব না হলে ভারচুয়ালি তারা কথাবার্তা বলত। আজ যেমন নীতা এসেছে কথা বলার জন্য !

-কি করছ অনীশ ?

-অফিসের কাজে ধর্মতলায়। তুমি?

-আমিও কাজে। কারোর সন্ধ্যেটা আরেকটু মোহময় করে তুলতে!

কথাটা অনীশের বুকে কাঁটার মতো বিঁধল। সে বলল, কতোবার বলেছি এইসব নোংরা কাজ ছেড়ে দাও ! তুমি শিক্ষিতা, আমাদের কোম্পানিতে একজিকিউটিভের পোস্ট খালি আছে, তুমি সবাচ্ছন্দে আবেদন করতে পারো !

-কাকে নোংরা কাজ বলছ অনীশ? তুমি যেটা করছ, সেটা বাধ্যে হয়েই হোক না কেন, সেয়াত কি খুব স্বচ্ছ? আমিও একরকম নিরুপায় অনীশ ! তাছাড়া এ কাজে যতোটা টাকা পাওয়া যায়, একজিকিউটিভ হয়ে তার অর্ধেকও পাবো না !

অনীশের অস্বস্তি হতে লাগল নীতার কথায়। নীতাকে দেখার পর তার তৃষ্ণাভাবটা একটু হলেও লাঘব হয়েছিল, তা আবার বেড়ে গেলো!

-আমার খুবই তেষ্টা পেয়েছে নীতা, তারওপর তোমার এই চটকদার সাজ আমায় আরও তৃষ্ণার্ত করে তুলেছে! তুমি আমায় জল খাওয়াতে পারো নীতা? আ গ্লাস অব ফ্রেস, কোল্ড ওয়াটার ?

-আমার যদি ক্ষমতা থাকত, তাহলে আমার প্রতিটা রক্তবিন্দু তোমায় পান করতে দিতাম, কিন্তু আমি অসহায় ! আমার ক্লায়েন্ট আমায় ডাকছে, আর কিছুক্ষন হয়ত তোমার সাথে কথা বলতে পারব !

-নীতা।

-বলো।

-তুমি শুধু আমার হয়ে থাকো, কারো কাছে যেও না !

উত্তরে নীতা যা বলল, তা সহস্র বছর আগে প্রেমিকারা নিজেদের প্রেমিকদের বলত, যার মধ্যে ‘শরীর’ ও ‘মন’ শব্দগুলি জোরদার !

তারপর হঠাৎই নীতার অবয়বটা সামনে থেকে মুছে গেলো, সেই যায়গায় ফুটে উঠল এডেকুয়েলো ড্যানিয়েলের ছবি, যে কিনা অনীশের বস ! অনীশের মেজাজটা খিচড়ে গেলো তা দেখে !

-গুড ইভিনিং অনীশ। এডেকুয়েলো বলে উঠল।

অনীশও প্রত্যুত্তরে ড্যানিয়েলকে শুভসন্ধ্যে জানাল। ভার্চুয়াল ট্রান্সমিটারে বসের রুমের ছবিও ফুটে উঠেছে, সেখানে খাটে একটা বিবস্ত্রা নারীকে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে ! দৃশ্যটা দেখার পর অনীশের গা গুলিয়ে উঠল ! এতেই পরিষ্কার হচ্ছে যে তাদের মধ্যে অনেকক্ষন ধরেই যৌনলিলা চলেছে, এবং ড্যানিয়েলের বংশগত কামক্ষ্মতায় কাবু হয়ে মেয়েটা বিধস্থ হয়ে পড়েছে ! ড্যানিয়েলের ‘গুড ইভিনিং’ বলার ধরণে বোঝা যাচ্ছে, সে সন্তুষ্ট !

-সি ইজ আ নাইস ক্যাচ মাই বয়, ভেরি ওয়াইল্ড ! এরকম মেয়েই আমায় এনে দেবে !

-সিওর স্যার !

-ডু ইউ লাইক টু টেস্ট হার টুনাইট? আমার পর্ব মিটে গেছে, এখন সবাচ্ছন্দে তুমি ওকে তোমার রুমে নিয়ে যেতে পারো ! পয়সা লাগবে না, তোমার কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তোমায় বকশিস হিসেবে দিলাম!

গলার কাছে জ্বালাভাবটা যেন বেড়ে যায় অনীশের, চারিপাশটা কেমন যেন শুকনো লাগে ! সে বলে, আই নিড আ গ্লাস অব ওয়াটার স্যর, আমি প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত !

শুনে তার বস নিজের লোমশ চামড়া কাপিয়ে অট্টহাস্য করে বলে, তোমাদের দেশের লোকের অন্যকিছুর তেষ্টা পায়না কেন বলো তো ? দুনিয়ায় এতোরকমের পানীয় আছে, ভালো মেয়ে আছে, আর তোমরা তোমাদের হাজার বছরের পুরনো সংস্কার আকড়ে পরে রয়েছ! কি লাভ পাও বলো তো ?

উত্তরে অনীশ কিছু একটা বলে, কিন্তু তার গলা দিয়ে অস্পষ্ট শব্দ বেরয় কেবল!

বস বলে, আচ্ছা, কোনদিন তোমার মার্সের উপগ্রহ থেকে আনা বরফ-গলা জল খাওয়ার সাধ হয়নি? ওহ ! সে জল যে একবার খেয়েছে, সে ভুলতে পারবে না ! বার-বার খেতে ইচ্ছে করবে, নেশার মতো হয়ে যাবে ! সে জল খেলে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি যেন উবে যায়, কামক্ষ্মতা দ্বিগুণ হয়ে যায় !

-সেসব জলের অনেক দাম, আমার কেনার সাধ্য নেই ! অনীশ অকপট জবাব দেয় !

ফের অট্টহাস্য হেসে ড্যানিয়েল জবাব দেয়, টাকা নিয়ে ভাবছ কেন, তোমাদের মাইনে আমি দ্বিগুণ করে দেবো ! আমাদের ব্যবসায় লাভ মানে তো তোমাদেরই লাভ ! আর জলের ব্যবসায় কোনদিনও লোকসান হবে না, কারণ জল ছাড়া জীবন অচল ! মানুষের আর কিছু না হোক, জল কিনতেই হবে, আর তাতেই আমাদের ব্যবসা ফুলে-ফেঁপে উঠবে ! তবে এই মুহূর্তে সেই জল তোমায় বিনামুল্যে দিতে পারি, যদি-

অনীশের তৃষ্ণাভাব যেন তার গলা চেপে ধরেছে, মুখের ভেতরটা মরুভূমির চাইতেও শুষ্ক, সারা শরীরের অবসন্ন! অনীশ জিজ্ঞেস করে, যদি ?

-কিছুই না, খানিকক্ষণ আগে তুমি যেই মেয়েটার সঙ্গে কথা বলছিলে, সেটা আমি দেখতে পেয়েছি ! মেয়েটাকে দেখেই আমার পছন্দ হয়ে গেছিল ! এতো মেয়ে ঘেটেছি জীবনে, কিন্তু অমন রসালো মেয়ে আগে দেখিনি-সারা শরীর যেন জলের মতো টলটল করছে ! ওই মেয়েকে যদি একরাতের জন্য আমার কাছে এনে দাও, তাহলে-

পুরোটা শুনতে পারল না অনীশ, মাথার ভেতর যেন বিস্ফোরণ হয়ে যাচ্ছে! গলার ভেতরে একটা টকভাব যেন লাভার মতো নির্গত হতে চাইছে! ওই কালো, বিকট শয়তানটা নীতার দিকে নজর দিয়েছে, ব্যাপারটা তার তৃষার্ত, অসুস্থ শরীর নিতে পারছিল না! সে কিছু একটা ঘটাতে চাইছিল, একটা অদম্য ইচ্ছে তার মনের মধ্যে অসুরের মতো চেপে বসেছিল ! সে নিজের পকেট থেকে ফস করে একটা পিস্তল বের করল, যেটা কোম্পানি থেকে প্রতেয়েক কর্মচারীদেরই দেওয়া হয়েছিল নিরপ্ততার জন্য !

আজ এই পিস্তলের গুলিতেই সেই শয়তানটাকে শেষ করবে, এমনটাই ভাবল অনীশ ! সে জানে, এতে তার প্রাণ সংশয় হবে, ড্যানিয়েলকে খুন তার বশংবদ বডিগার্ডেরা জানতে পারবে এবং তাকেও হত্যা করবে, তবু তার মধ্যে একটা মরিয়ে ইচ্ছে চেপে বসেছে ! সে পিস্তল্টা নিয়ে বসের ঘরের দিকে এগোয়, এই মনে করে যে ড্যানিয়েলকে শেষ করে সে একগ্লাস ঠাণ্ডা জল খাবে আগে……

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: