অন্ধকার গাঢ় রোদ্দুরে // মাধব মন্ডল

অন্ধকার গাঢ় রোদ্দুরে  //  মাধব মন্ডল

আশ শ্যাওড়া (১ – ২৫)
আমার এ উষ্ণতা কেড়ে নিলে
ভালো আছো তুমি !?
তুমি শুধু তুমি নও,
তুমি শেষহীন হিংসা বিলাসী
তুমি সামাজিক!
ছেঁড়া ছেঁড়া, ঘুটঘুটে সংসা্‌র
ছিদ্রভাগ্য আমি, 
এ থর রৌদ্রে
সমমনা ফুটো ফুটো কাঁথার ভাঁজেতে
উষ্ণতা কামড়ে খাচ্ছি।
আর হায় গো হায় রে
ঘুম ওষুধেও অস্থির চোখে দেখি
তোমার দাঁতের বিস্তার !
হিংসা শিকড়ে তুরন্ত তুমি 
কাটা বাটা হাসি,খাবলে খাচ্ছো
ঘিলুর গড়ানো রস।
—— তোমার জন্যে…….
কিছু কি কারো হল !?
সবাই যে যার মত 
পথ খামছে ঝুলছে
ঝুলতে ঝুলতে 
তোকে ছুঁড়ছে বারুদ।
তোর হাত সরু,
এমনকি পা-টাও
মরা-জন্মে তাই তো দেখলি খেতাবী
তোর সত্যি মুন্ডে বোম লাথি।
বাঁশ উদ্যানে কালশিটে মুরগী-রাতেতে 
তোর ছায়া দেখে দরবারি শাঁখচূড় চুপ।
তুই নিত্য অবিশ্বাস্,
সঙ্গ ছাড়ে ঘড়ির কাঁটা !
কই-মাছি জীবনে দেখিস সন্তানে 
বন্যা মাখামাখি কান্না
চোখের ভিতরে চোখ।
কারো কিছু হোক না হোক,
গোল্লা, শূন্য খেলে খাক
তোর সাহসে কেউ কী উদ্যানী হয় !?
—— আমার আমি——–
চার-জীবন আমার 
খানায় খন্দে ভরা।
নিঃশ্বাস টানতে উঠছি তো নামছি ।
ঈগলের মত চোখ, 
ডানাও মিলল।
কবিত্ব প্রাপ্ত হল এগারো দিক।
সবটা দেখছি,
মানছি হয়তো কিছু কিছু।
শুধু কিছুটা অঙ্গীকার সাঁকোর মত যুক্ত।
ফিরে ফিরে দেখি বোমা-গুলি উৎসবে
আমার আশ-শ্যাওড়া, মূলরোম অক্ষত।
চিরহরিৎ দৃষ্টি শুধু ঐ চার-জীবনে।
…….. বেঁচে থাকা…….
.
তোমারই সব,
এ ভূত্বক,রন্ধনঘর….
আমি তো অতীত-ছোঁয়া,
পেটে গ্যাস,
অভীধাপ্রাপ্ত
চারিত্রিক-খোলসী,
অভিনয়ী ।
বর্তমানটা ব্যোম ব্যোম, 
ভবিষ্যৎও।
তূই কত জানিস,
হাইড্রোজেনের বোম
সব চমকানো তোর!
শবের-শবানু আমি
উত্থান-রহিত তো,
পলায়ন ইচ্ছা ধারক,
দুঃখ-বিলাপী।
আশ্রয় চেয়ে শ্যাল-লাথি সামনে পিছনে…….
হায়রে হায়রে হায় কী চেয়ে কী পাই !
…….. প্রাপ্তি……
লুব্ধ,নীলরক্তকামী ঈগলেরা 
প্রবল ঈর্ষায়
ছদ্ম মানুষের সঙ্গে মহাজোট বাঁধে।
আমি একা 
কোথায় বা থাকি ! 
কোথায় বা যাই?
কারো কাছে কি যাবার কথা ছিল?
কোন কালে? জন্মে জন্মে?
তুমি ভুলে সব গুলে দিলে 
হায়,কার কার হৃদয় গভীরে?
পচা পচা সুগন্ধ,
এগারোটা দিক ম ম করে।
বল, করেছে না?
হায়রে এ বিলাপন
পানা-ডোবা বাজারী পুকুর।
তুমি তাই মৃত্যু-জন্মে আমাকে ছোঁবেনা।
……. বিলাপন……
পথ আঁটা কামড়া কামড়ি কুত্তা লড়াই 
খাবলে খাবলে কর্মছাড়া ।
হিমোগ্লোবিন ছাদ ফাটিয়ে
বনের মধ্যে রয়্যাল জিভে।
লাল টুকটুক তেলাকচু শরীর 
তোরাই এখন দন্ডমুন্ড।
ইচ্ছা-উল্কি মুখরোচক গল্প
পেটাই ছাপে গাঁথলি সব
শরীর ভরে বিচুটি হুলে।
অট্টহাসি মামদো দাঁতে।
এটাই কি তোর মনের ইচ্ছে !?
………মনের-ইচ্ছে ……..
কাদের জন্যে 
চোখ তোর ধোঁয়া ধোঁয়া।
কাল-বিচুটি থেঁতলে 
রক্তনালীর ছিদ্রে ছিদ্রে।
তাদের সম্মীলিত প্রলম্বিত গ্রোগাস,
তুই তো ভাবলি উৎসব,
অাকাঙ্খিত এ সুধা।
গোএঁড়কেলে শাঁখচূড়-পিরিতি প্রাণমন
এরচেয়ে বাঁশ উদ্যানে 
কালশিটে মুরগীর রাত ভাল।
হাতের আদুরে আড়ং ধোলাই রিভলবার 
আশ শ্যাওড়ার কার্নিশে এলো চুলে 
কী এক মুগ্ধ রজনীগন্ধা সাইক্লোন
বক্র-বিরোধী শবের শরীরে প্রবেশ অবাধ ।

………. কিছু হোক………
সমুদ্র ঘুর্নিতে ঘাস-পাতা-আমাশয় জীবন আমার 
বাঁশ উদ্যানে শাঁখচূড় ডাকে প্রীতি ভোজে।
আশ শ্যাওড়ার ঝুল বারান্দা
ভিজে ভিজে 
মুরগীর লালাভ চামড়া 
কিংবা তার জিভের মত
তোমার মড়াকান্তি স্মৃতি ঘোরে ফেরে……
চমকে দেখছি 
আমাকে আমার মত দেখতে লাগছে
আহা কতদিন এমন হয়নি!
হয়নি বা কেন!?
বিশ্বস্থ অস্ত্রের ট্রিগারেতে আঙুলের পায়চারি
হিসাব নিকাশের ঈশারা,
বল বল কোন ঘাটে
কত হিংস্রক,
কার কত শক্ত চোয়াল।
দেখা হোক?
দরবারি শাঁখচূড় ডাকে যারে,
আশ শ্যাওড়া যার গেরস্থালি
মুরগী রাতে মধু মৌতাতে…..
সব বেয়াড়া নিজেই শিরচ্ছেদী।
তুমি কী চাইছো বল এ সমুদ্র ঘুর্নি জীবনে….
.
…….. কী চাও বল……..
কালো কালো শুকনো রক্ত, 
জিভের তলায়, মৃত্যু মৃত্যু।
কাউকে কিছু কি বলে ছিল?
পিঁপড়ের ডিমের সুকথা?
মৌরলা মাছের চপ চেয়েছিল মধু মৌ-রাতে,
তাই কিরে….
রক্তে লুকানো রক্ত অভ্যাস,
জন্ম জন্ম মৃত্যু মৃত্যু।
আমৃত্যু ঘোরাফেরা যার আশ শ্যাওড়ার দালানে-কোঠায় 
এলানো চুলের বহুদূর ছড়ানো ছিটানো অমৃত আভাস 
তাকে শেষে…….
মিথ্যুকে চাপ চাপ রক্ত বরফে গাঁথে।
হায়!
মৃত্যু মিথ্যা এ ভূত্বক বরাবর।
ঈগলী চোখে রাশ রাশ বাষ্প।
মাগো,মৃত্যুর কালে তোর 
রন্ধনশালে লবণ কি কম ছিল!?
বিশ্বাস মরে গেল সার সার,
ঘুম ওষুধই সারাংশ ।
ভুত্বকে এত কি রহস্য মৃত্যু,
একি ফাঁদ জন্ম জন্ম!?
ভালবাসা বল,
প্রেম বল,
সব শব ঘুমের ওষুধে,
হায়!
…… ঘুম ওষুধ……
১০
রক্ত ছড়িয়ে কী লাভ হল,
তার থেকে এই ঠেকে 
মণীষী ছন্দে বস এসে।
মধুছন্দা ঘাস,
কাঁচ ঠাসা ঘরে
পয়সা ফুটন্ত দেওয়ালে 
লোকলজ্জার বিবরনিকা।
দুবেলা দুমুটো ভাতও খেলনা যে শরীর 
তোর ঘরে,
দীর্ঘ দীর্ঘায়িত শ্বাস তার,
রক্ত-জাত,
সহজ সঞ্চারক।
ভূত্বক নাভিতে বৃষ্টি-জল যথা….
আশ শ্যাওড়ার থেকে নেচে আসে কারা।
কিছু কি বলার ছিল?
এ তো অন্ধ-কালা-বোবা
মণীষী সজ্জার নিশি রাত,
অস্থির যুদ্ধে পরাজিত
আশশ্যাওড়ার ডাক তাই রক্ত-গভীরে…..
……. ডাক ……
১১
হিঙচে-কলমী শাকের পুকুরে 
গঙ্গা চান,
মুক্ত শরীরী ভাঁজে 
বনবিড়ালী চোখ 
গুয়ে বাবলার ফলে তুষ্ট এ শরীরের 
ঘাম-রক্ত-রস…
সাইবেরিয়ান বরফ আজ।
প্রযুক্তি কী দেবে?
নিরাশ্রয় ঘরে ও বাইরে
কনকলতার ঝোপ,
ডাক ঘুড়ি,
গজি খেলা
আধো ঘুমে ছায়া ছায়া মায়া হয়ে ডাকে।
ঈগলী ডানায় উড়ে চলি দ্বীপে দ্বীপে
কারো কি আসার কথা আমার সাথে!?
ভিখারীর শীতলতা ভাঙাবার কেউ কী থাকে?
ভালবাসা মেশে তাই আশ শ্যাওড়ায়……
…… আশ শ্যাওড়া……
১২
অন্ধকার গাঢ় রোদ্দুরে জন্ম
আশ শ্যাওড়ায় তাই ঈগলের কুচিৎচিৎ।
ঈপ্সিত আবেশে, 
পাছি ফিরে শোয়,
ক্রুদ্ধ মৃত্যুরা।
রিভলবার ভূত্বক ফোঁড়ে 
উজানী পথে অনন্ত হাঁটা
অন্ধকার গাঢ় রোদ্দুর।
একি জন্ম লগ্ন হা হা
চন্ডাল হরিশ-বাসা আবার ভূত্বকে!
আশ শ্যাওড়ায় মিহি মিহি দোলা।
কারো কি আসার কথা……
যদিচ সঙ্গী খোঁজার মুহূর্ত এ নয়
দলবদ্ধতার উল্লাসে মোক্ষ এ অসময়ে!?
আশ শ্যাওড়ায় খিলানে খিলানে 
লাশেরা অমুগ্ধ মুরগী রাতের মৌতাতে……

….অন্ধকার গাঢ় রোদ্দুরে …

১৩
বাঁশ উদ্যানে হুলুস্থুল মেঘ-উৎসবে
আকুলি-বিকুলি এস-এস লম্পটের।
দৃষ্টি ফুটুক,
আঙুল চাপুক রিভলবার
ভূত্বক ফাটানো চোখ
পিষুক ও লম্পটে।
আশ শ্যাওড়া চিল্লেছিল,
সঙ্গছাড়া লক্ষ লক্ষ 
লম্বা লম্বা সেকেন্ড,ঘন্টা
ছুটুক সংঘর্ষ,
চলুক মাতৃ-পিতৃ ভবন উদ্ঘাটন।
লাশেদের দাঁতের সারাংশে,হাড়াংশে
আশ শ্যাওড়ায় ঝিমিঝিক ঝনঝনা
জন্ম জন্ম মৃত্যু মৃত্যু,ঘুমের মোড়কে 
শাঁখচূড়-বিষ খেয়ে নিজস্ব ঔরসে
বাড়াক বাড়াবে কত বাঁশ উদ্যান।
আঙুল ট্রিগারে,
ডাকুক মৃত্যু-ডাক……
জন্ম লম্পটে
জারজ বাজারে…….
…..শাঁখচূড়-বিষ…..
১৪
ভূত্বক ফোঁড়া রক্ত চোখ,
বিশুদ্ধ প্রেমবাদিদের সশব্দে ওল্টায় পাছি 
অস্তিত্ব ভুলে সাগরে সাঁতার।
সরলরেখায় বরাবর,
বৃত্তে সরণি গেঁথে কেন্দ্রে উদগ্রকামী
সেই চোখে দেখো সাতাশ নদীর জল
কুলুকুলু ছলাৎছলাৎ
ভাসে মেঘের মধ্যে মেঘ।
শুধু আশ শ্যাওড়া দন্ডবান
দিন-রাত বলে,
কথা বলে কিছু নেই সেখানে সেখানে।
শুয়োরের ঠোঁটে মাদকতা 
শরীরী শরীরী সব
ছাগলির দুধ-পড়া বাঁট,
কেউ কেউ হাস্যোল্লাসে চাটে।
আর বেশী কম অংকবিদের 
আঁকাজোকা কাটাকুটি
ভগ্নাংশ দাঁতের,
ছেঁড়া চুল,
ভাঙা ভাঙা অস্থিসন্ধি।
গুলানো শরীরে ওগরানো বমি 
আবার উদরে ফেরৎ সড়াৎ…
আশ শ্যাওড়া নির্মাণে রাজি…
তাই জল শোষে মূলরোমে।
……নতুন গড়া……
.
১৫
সন্ধি মানতে দশভূজ,
স্বীকৃত শক্তি।
ঘিলুটা চটকে লক্ষ লক্ষ বেলডাঙা লঙ্কায়
আশ শ্যাওড়ায় মৌজ।
,
প্রকৃতি সাক্ষী ভাই 
বিসমিল্লার হাস্য-বাদ্য যথেষ্ট হয়নি মাইরি।
কীট কাটে সব ফুল 
প্রতিটা মিনিট সেকেন্ড
চমকে পক্ষী দেখে গলার ছেদন।
আহা আহা!
মৃত্যু লগ্নে জন্মে জন্মে সব কিছু খেলো, 
তাই
বৃষ্টি ভেজার রোদে কাক 
ভেজেও শালিক আর
অপরূপ অহংকারে উষ্ণতাকে ছিঁড়ছে শকুনি ।
ভাইয়ের মুখ ঢাকা দাপটে চৌপাটে
রক্ত খেকোর জিভ
এক দ্বীপ লালা ভাসমান!?
ট্রিগারে আঙুল,
কী রগড় কী রগড় এ ভূত্বকে!
……রগড়……
১৬
শাঁখচূড় বিষে তেজী মুখগুলো 
এ্যালশেশিয়ানের উল্লম্ফন।
কীট ঠাউরে মানুষ-মানুষীকে 
পদতলে স্বঘোষনা পেষে
কিংবা ঘিলুর নরম স্থানে ছিটায় লঙ্কা 
আর বিচুটির পাতা ঘষে।
স্বজন সেরা স্বজন তারা 
অন্তরাত্মা বাঁশ উদ্যানে
মুরগী রাতের মৌতাতে 
খোদ মহাত্মার খোলসে।
আহা মহাসিন্ধুর ভিতরে ভিতরে 
এত বিস্ময়-গাথা!
এই কি যিশু চেয়েছিল? 
গ্যালিলিও, গৌতম বুদ্ধ?
প্রেম বোবা অক্ষরে 
উচ্চারণেও
এমনকি চানের ঘাটেও।
স্বজন নড়ে আশ শ্যাওড়া ক্রমশ ক্রমশ
লাশেদের প্রাণে জাগে মৃত্যু রগড়!
ভূত্বকে রহস্য লীলা
সিগারেটি কিশোরীর ফেসবুকে
আহা
কি মদিরতা গভীর এককে।
…… বিষে তেজী ……..
১৭
কত কিছু বিলুপ্ত,
বিলুপ্তপ্রায় হয়তো কোনো কোনোটি।
হায়
কোথায় যে কে গেল
কার যে কোথায় যাওয়ার কথা!
ভুবনডাঙার মাঠে বিলুপ্ত কিন্তু নয়
আ্শ শ্যাওড়ার রূপেল ছায়ারা।
প্রেম ভেবে ভূত্বকের ঝোপে ঝাড়ে 
নিরাকার শরীরেরা
আহা স্বেচ্ছাকৃত বাগদানে,
ছলাকলা উপোসী উদ্যানে আহ্বানে
বর বউ সেজে বসে ইচ্ছাধীন আহ্লাদে।
বিষগাছে ফোটে মিষ্ট ফল!?
শাঁখচূড় হো হো হেসে শরীর উল্টে শোয়।
আহা,
কার শিশু তোর ধারনের কথা,
ধস্তাধস্তি তোর শুধু
ভূত্বকে অন্য রূপকথা।
হে ইচ্ছাময়,
বাথরুমে
বিছানায়,
যানবাহনেও 
প্রেম অজানায়।
হে ইচ্ছাময়
কত ফূলঝুরি ফোটে,
কত মাধ্যমে,
যখনি ইচ্ছা।
কোন ব্রাহ্মীরস লুপ্তপ্রায় স্মৃতিকে নাড়া দেবে?
হায়…
মধ্য কৈশোরের,
নানাবিধ বয়সের আনাচে কানাচে 
লক্ষ লক্ষ আকুলি বিকুলি।
শব্দবাণ সবই নির্লিপ্ত,
ভ্রষ্ট স্মৃতি…কষ্ট ধমনী ফোঁড়ে,
যাও মনোবিদে…যাও।.
…..স্মৃতি…..
১৮
এত কথা!
কথার জৌলুসে কথারা পোড়ে, 
প্রেমও ।
মৃত্যুলগ্নে জন্ম ওস্তাদ 
সেরা ওস্তাদ কী সুর রক্তে গোলো?
অক্ষরের অহং ফোঁড়।
নিদ্রা-ওষুধে স্কুল-কিশোরও।
লাশ-শরীরে মৃত্যু হেলাফেলা।
গোলাপ-চোখী হায়,
স্তুপ স্তুপ কথা-কীট দৃষ্টি তোর কাটে।
ভূত্বকের হাঁ-মুখ
কাঠ-বেকারের মতো সেখানেও তুই 
শীতলপাটির খোঁজে।
কী বিবশে কলমী-দামে 
মৌরলাও ঝারি মারে প্রকাশ্যে!
মাছরাঙা-ধ্যান সকলের চোখে,
বিভৎস পরম জ্ঞানে,
শ্রীদ্বীপভূমি
খন্ড খন্ড শিখণ্ডী সাইক্লোনে….
হায়!
প্রতিরূপ-মোনালিসা 
হাস্য-নৃত্য সব আনাচে-কানাচে।
আ্শ শ্যাওড়ার শাখাতে শাখাতে 
লাশেদের তাই হুড়োহুড়ি
কথার ঝড়ে জেগে ওঠে শাঁখচূড় 
ওদিকে বাঁশ উদ্যানে ……
……বিভৎসতা……
১৯
আমৃত্যু দত্তক-বোধ
মিথ্যা সকলের জীবপ্রায় ঝনাৎ ভড়ং।
কোথায় কার কেনা প্রেম 
ফুটপাতে,
জঞ্জালে খাবি খেল।
সংঙ্গাহীন ভালবাসা 
মুহ্যমান সব বয়সী,হা হা হা হা
শুয়োরের চামড়ার মত 
লেপ্টে শরীর শরীরে,হায় হায়
উষ্ণতা ভুলে যায় পরম উষ্ণতাকে।
কী ছিল ভূত্বকে?
এই কথামৃত?
কেন কেন কেন আসা!
বারংবার!
পা-পাতায় আলতা রঙ 
সকলি প্রিয় তোর
আ্শ শ্যাওড়ার কান্ডে মজ্জায় 
ঈগলের ছানা।
ধর্ম বোনের শরীরে 
ধর্ম দাদার র্শরীর বীজ পোঁতে।
তুমি কী বিচার পেলে প্রেম?
হায় প্রেম মুগ্ধ!
অজ্ঞাতনামা 
ছাব্বিশ পাতা
প্রেম প্রগলভতা?
তোমাকে পেঁচিয়ে সে,
মন পাতা অন্য নিঃশ্বাসে।
রাশভারী ঈগলের বাষ্পীয় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে
আঙুল রেখেছ ট্রিগারে,.
হত্যায় মাতো মিথ্যা সকলে।

…….মিথ্যা…….
২০
মুগ্ধবোধের ভোরের দুপুরে 
বিদ্যাধরীর নোনা বাতাসে
ঈগলের উড়ন্ত ছায়াতে
কাক কিংবা চড়ুই এর বুকে
মিথ্যালগ্নে জন্মে ভালবাসা।
তাই তার প্রবেশ বাহির
শুদ্ধাচারী মহাশ্মশানে।
আ্শ শ্যাওড়ার ঠোঁটেও তাই
নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ ধর্ম সুধা
মিথ্যালগ্নে জন্ম হল কিনা!
কারণসুধাতে কিংবা মাদকে
নশ্বর দেহ পোড়া পোড়া ভাত
ঘর গেরস্থালিতে শাঁখচূড় বিষ
বিষেতে শুয়োর চর্বি শরীরে
গরম ভাতেতে ধোঁয়া ওঠা বন্ধ।
মুহূর্তের ছেঁদা-ফাটায় মিথ্যা 
মিথ্যা মিথ্যা গোয়েবলস,হায় 
রক্তহীন মুন্ডু হাতে থানায়, হায়
শৈশবে রক্তে ভাসে গুহ্যদ্বার
মিথ্যালগ্নে জন্মেছিলিস তাই।
……মিথ্যালগ্নে জন্ম…….
২১
কী কালে খেল সব বসন্ত,সকল ঋতু
অথচ এখনও ঋতুর মাদকে এ শরীর
ধর্ম আচারে সহচর,না-প্রেম জ্বর ভূত্বকে
হা হা হাসির কামড়ে আঁচড়ে।
শুয়োরের গুয়োর্তুমি,আচ্ছন্ন ঘিলু।
শাঁখচূড় তোরও মায়ার শরীর
সন্তানে দিলি শেষে পুষ্প দৃষ্টি!
আহা,আমার সব শিকড় বাকড়
ওর ধমনী জড়িয়ে ভুলে যাক 
না পাওয়ার ইতিকথকথা।
মৃত শ্বাসে ঢাকুক সন্তানে।
সে কোন কৈশোরে,নাছোড় অভিমানে
ঘর গিলে খেয়ে,
ঘর খোঁজে আ্শ শ্যাওড়ায় 
ভূত্বকে সংসার বড় কঠিন ঠাঁই
কেউ কেউ উষ্ণ অভ্যর্থনা সাজায়
কিছু সেকেন্ড,
ভগ্নাংশ মুহুর্তমাত্র।
…… শিকড় বাকড়…….
২২
ভূত্বকে যখন তখন হুমকি হামলা
সেরার সেরার অপ্রাপ্তির অহেতুক মামলা
কোন খেলা খেলো মনে নাচের সকালে
ছায়া ছায়া মায়া তোর ঘেরে বোলচালে।
দোষ নেই জীবেদের হাবু ডুবু খেলা
মানুষ মানুষী ঠাসা কলকাতা বইমেলা
মেলাতেও কিৎকিৎ রূপেল ছায়ারা
আশ শ্যাওড়ায় বাঁধা পড়ে দড়ি দাড়ি ভায়ারা।
বাঁশ উদ্যানে পোঁতা বিশল্যকরনী
শাঁখচূড় আছে ভেবে ধরেও ধর নি।
বিষে বিষে বিষক্ষয়, ধরে মৃত সঞ্জীবিনী
গর্ভ পূরক খোঁজে গর্ভ বিরঞ্জিনী।
ভূত্বকে ঘুমের এখন সশব্দ ঝাঁপানি
সতর্ক আশ শ্যাওড়া,বন্ধ লাফানি।
……সতর্ক……
২৩
কাজে বানবাসী,বিপন্ন শরীর 
স্বশরীরে বেপাত্তা ভূত্বকে
বৃষ্টি চানের ছাড়পত্র কপালে 
ক্ষেত্রফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
বজ্রপাত এপাশে,গাছের ঘিলুতে
শাঁখচূড়ও অতিথি বানায় এ শরীর
স্বাবলম্বনের ঘিলু,রক্ত,হাড়াংশ খায় তারা।
শিউলি ঝরবেই প্রথম ভোরে
বয়স্ক ফুলকুড়ানির হা-হুতাশে
পরতে পরতে ছোটবেলার উল্লম্ফন।
কোথাও আসেনি প্রেম উৎসব
চোখ ফাটে শুধু কাঁচা হলুদের প্রতীক্ষায়
বউ কথা কও তুই সেটা কেন নিলি!
দগ্ধ সানাই,পোড়া বাসর
ঘিলুর রসে বিস্ময় বিপন্ন শরীরে
আশ শ্যাওড়া তুই শেষে আচ্ছাদন দিলি।
…….আচ্ছাদন …..
২৪
আহা কি স্বাতন্ত্র্য চুল-বাগানে!
আত্মছবি শাসিত জন্ম মৃত্যু
বিষ ফলে ঢাকা পড়ে উচ্চ শিক্ষিত
বিজ্ঞাপনী প্রচারে ঘরে ঘরে আহা 
মানুষ মানুষী রং শিল্পের গান ধরে।
বহুরূপী তোর বিস্ময় শেষ!
কাল রাতে খুন কন্যা ভ্রূণের মা!
শিশু এক কন্যাও রক্ত স্রোতে নদী!
পাড়ার নিরীহরা আক্রোশ-অস্ত্রে মহাবীর!
কী বিবশে অবলম্বন ঝোলে সিলিং ফ্যানে!
চল চল দেখ দেখি আনাচে কানাচে
বাহারি বাহারে সশব্দ মুহূর্ত প্রেম,
কী অনুশীলনে মুগ্ধ পলকপাত
তুমিও কী কোনকালে ভালবাসনি!?
সময় কাটছে ভাইরাসে এফোঁড় ওফোঁড়
পরিনত হয় ভূত্বক আর আ্শ শ্যাওড়া ।
মুহূর্ত হলেও প্রেম এক সারাংশ শ্বাস।
….. সারাংশ…..
২৫
দৈনন্দিন ত্রিশঙ্কু হালচালে
বাংলার পাঁচ হয় এই শ্রীমুখ।
তোর ভিতর বাহির সম্ভাবনা
চোখ দৃষ্টি মানতেই ভূমিকম্প।
আ্শ শ্যাওড়ায় পনের গুষ্টি
পাদুকা নাচায় আড়বাড় চোখে।
সাইক্লোন আভাসে নিঙড়ে মুচড়ে
কর্তারা বিভীষণ হয়ে লাফ কাটে।
ঘরে ঘরে জোনাকি গুহা প্রতিষ্ঠা
তিন লাফে বাঘ ঘাড়ে ধড়ে।
নিম তেতো মাংসের রক্ত নির্যাস
হায় বাঘ!তোর চেয়ে শুয়োরেরা ভাল।
কাজগুলো শেষ হতে লম্বাটে সময়
অপদার্থ ছোপ লাগে মজ্জায় হাড়াংশে।
আমি তুমি কেউ কী এই ভূত্বকে?
পিচমোড়া দড়ি প্যাঁচ ভাইরাস শরীরে।
.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *