আজকের গল্প : “ঘরে ফেরা” — অমিত রায়

আজকের গল্প : "ঘরে ফেরা" -- অমিত রায়

দুর্গাপুজো আর মাত্র পনেরো দিন বাকি। দিন পাঁচেক হলো অনিকেতের মা অনিকেতের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেনা না। ফোন করা থেকে শুরু করে আত্মীয়বন্ধুবান্ধব সবার কাছ থেকে কোনো খোঁজখবর না পেয়ে অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাতে শুরু করেন। পুলিশ পর্যন্ত যেতে সাহস না হওয়ায় মেয়েজামাই এখন তার একমাত্র ভরসা।
প্রতিমা দেবীর এক মেয়ে এক ছেলে, স্বামী প্রায় ষোলো বছর আগে মারা গেছেন। বছর ছয়েক আগে তার মেয়ে অরুনিমার বিয়ে হয় কলকাতার হাজরাতে, উচ্চশিক্ষিত মেয়ে অরুনিমা কলেজের লেকচারার রাজীবকে ভালোবেসে বিয়ে করে। প্রতিমা দেবীর ছেলের নাম অনিকেত। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বিটেক করার পর এমটেক করার চিন্তা ভাবনা করছে, তারসাথে সবরকমের চাকরির পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের গার্মেন্টসের ব্যাবসা।
 সেই ব্যাবসায় তার একটুও আগ্রহ নেই। প্রতিমাদেবীর বোনের দুই ছেলে এই ব্যাবসা পরিচালনা করে এবং সপ্তাহে টাকাপয়সা বাবদ যা ভাগ থাকে ওরা মাসিকে (প্রতিমাদেবীকে) দিয়ে আসে।
আগে তবুও প্রতিমাদেবী তাদের কারবারে একটু হলেও নিজে গিয়ে দেখতো, এখন তাও আর শারীরিক মানসিক কারণে হয়না। দক্ষিনকলকাতার ঢাকুরিয়াতে আগে থাকতেন প্রতিমা দেবী, এখন সেখানকার সবকিছু বিক্রি করে হাজরা তে মেয়ের শশুরবাড়ির কাছাকাছি ফ্ল্যাট কিনে চলে এসেছেন।
অনিকেতও ঢাকুরিয়াতে আর থাকতে চাইছিল না আর অরুনিমারও খুব ইচ্ছা ছিল মা আর ভাই যেন তাদের কাছাকাছি চলে আসে। অরুনিমার বিয়ের পর থেকেই শশুরবাড়িতে একটু মানিয়ে নিতে অসুবিধা হতো। নানারকম এটা ওটা নিয়ে সমস্যা হতেই থাকতো। তাই যেহেতু মায়ের সামনেই ফ্ল্যাট, তাই চলে যেতে বিশেষ ধরনের সমস্যা হতো না। মায়েরও ভালো লাগতো।
বর্তমানে অরুনিমার একটা ছেলে হয়েছে। আর মায়ের কাছেই পাকাপাকি ভাবে থাকে। রাজীব (ওর স্বামী) রোজ দেখা করে বাড়ি ফেরে। খুব তাড়াতাড়ি রাজীব একটা ফ্ল্যাট কিনে অরুনিমাকে নিয়ে যাবে এইরকমই কথা চলছে।
এদিকে অনিকেতকে নিয়ে তার মা, দিদি এমনকি জামাইবাবুর যত সমস্যা। কেন এমটেক পড়বে ! কেন শুধু সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়ে সময় নষ্ট করবে ! প্রাইভেট কোনো ফার্মে কাজ করাই যায়। এইসব নিয়ে দিনের পর দিন একটা মানসিক অত্যাচার করতো অনিকেতের ওপর। জামাইবাবুও যা তা বলতো। মা কে মাঝে মাঝে বলতো অনিকেত যে দিদি কেন তার বিষয়ে এত নাকগলায়। পরক্ষনেই মা তাকে থামিয়ে দিত। মেয়ের হয়েই কথা বলতো।
এমটেক পড়তে একটা পয়সাও দেবে না, অনিকেত কে সাফ জানিয়ে দেয় প্রতিমা দেবী। কিন্তু এমটেক পড়বেই সে। মা কে অনেক বোঝানোর পরও যখন দেখছে দিনের পর দিন মাদিদিরা একই ভাবে তাকে মানসিক অত্যাচার করে যাচ্ছে তখন নিজেকে আর রাখতে পারেনি সেই গণ্ডিটাতে। গোটাকয়েক বইপত্র আর সাথে দুএকটা জামাপ্যান্ট নিয়ে হঠাৎই বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না বলে চলে যায়।
প্রতিমাদেবী যতই মেয়ে মেয়ে করুক না কেন, ছেলে বাড়ি না ফেরায় বেশ ভেঙে পড়েছেন। এদিকে অরুনিমা রাজীব মা কে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে যে, ঠিক চলে আসবে। কোনো বন্ধুর বাড়ি হয়তো গেছে। মায়ের মন তো ! বোঝানো মুশকিল। প্রায় পাঁচদিন হয়ে গেলো। অনিকেত বাড়ি ফেরেনি। ফোনও বন্ধ। কোথায় গেলো অনিকেত ?
অনিকেতের একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো। নাম তিয়াসা। ডাক নাম টুটু।
অনিকেত টুটু বলেই ডাকতো। অনিকেতের মাও একটু আধটু জানতো টুটুর ব্যাপারে। অনেক চেষ্টা করেও টুটু কোথায় থাকে সেটা সন্ধান করতে পারেননি প্রতিমাদেবী। অথচ টুটু হাজরাতেই থাকে।
এদিকে ফোনে ক্রমাগত চেষ্টা করেও অনিকেতের খবর না পেয়ে প্রতিমাদেবী ক্রমাগত ভেঙে পড়ছেন। অরুনিমা রাজীব কিন্তু এই সব নিয়ে একদম ভাবতে রাজি নয়, ওদের বিশ্বাস ভাই ঠিক আসবে, যাবে আর কোথায় ! পুজোও একদম সামনে , তাই বেশি এইসব ভাবতেও নারাজ তারা।
অনিকেত বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমেই তার বন্ধু সায়নের কাছে যায়, সদ্য ব্যাঙ্গালোর থেকে এসেছে, ওখানেই চাকরি করে সে। তাই যদি ওখানে একটা সুযোগ পাওয়া যায়, আর সাথে এমটেক করাই যেতে পারে। কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়াটা কোনো ব্যাপার নয়।এই ভেবেই অনিকেত সায়নকে বলে,

কিন্তু সায়ন নানারকমের সমস্যার কথা বলে অনিকেতকে কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় অনিকেত বুঝতে পেরে সেই স্থান থেকে বেরিয়ে আসে।

এরপর রানাঘাটের এক দূরসম্পর্কের মাসির কাছে যায় অনিকেত। মাসির ছেলে সিভিলইঞ্জিনিয়ার। সরকারি চাকরি করে।

তার সাথে দেখা করে তাকে বলে সমস্ত ঘটনাটা, বাড়ির পরিস্থিতি ঠিক কি অবস্থায় এখন আছে। তারাও খুব একটা অনিকেতের মনের মতো কথা বলেনা। সেখানেও আর বেশি সময় অপচয় না করে অনিকেত বেরিয়ে পরে। ততক্ষণে রানাঘাট স্টেশন পৌঁছে ফোনের সুইচ অন করে অনিকেত, সাথে সাথেই মিসড কল এলার্টের শব্দে বিরক্ত হয়ে পড়ে। মা , টুটু, দিদি, জামাইবাবু আরো অনেকের। একটা ফোন কলও চলে আসে, টুটুর।
অনিকেতের ইচ্ছা একেবারেই নেই কোনো ফোন ধরার। তবুও বারবার বাজছে দেখে ফোনটা অবশেষে ধরতে হলো। টুটুর গলার স্বর, কি রে তুই।।। তুই কোথায়, ফোন কেন বন্ধ তোর ? তুই কোথায় আছিস!
অনিকেত বলে কেন, আমি কোথায় আছি জেনে কি করবি ! আমি হারিয়ে গেছি। সামনেই পুজো। আমাকে নিয়ে না ভেবে আনন্দের প্রস্তুতিতে মগ্ন থাক। Don’t disturb me. টুটু শুনে মুচকি হেসে বলল আমি জানি তুই গা ঢাকা দিয়েছিস, বাড়ি থেকে নিশ্চই বেড়িয়েগেছিস।
 তুই তাড়াতাড়ি আমাদের বাড়ি আয়। তোর কি সমস্যা বলবি আয়, আমার বাপি আছে, ওনাকে সব বল উনি নিশ্চই হেল্প করবেন।
তোর মাথা খারাপ আছে আমি এখন তোর বাড়ি যাবো ! তোর বাবাকে আবার সব বলবো, কিছুই তো আমার নেই , আত্মসম্মানটা আর একটু আছে, ওটাকে শেষ করিস না। Please, আমাকে নিয়ে ভাবিস না, অনিকেতের এইরূপ কথার উত্তরে টুটু বলে ok… তোর যা ইচ্ছা তাই কর।
আর যাই করিস তোর মায়ের সাথে যোগাযোগ করছিস তো? না তাও করছিস না ! অনিকেত না বলার সাথে সাথে যথেষ্ট বিরক্তিপ্রকাশ করে টুটু ফোন কেটে দিলো।
অনিকেত স্টেশনে বসে বসে ভাবতে ভাবতে লাগলো যে, সে কি করতে চলেছে! সে কি আদেও ঠিক করছে নাকি ভুল ! এখন কি করবে ! টাকাও হাতে নেই, খিদেও পাচ্ছে, শরীরটাও বেশ ক্লান্ত, এদিকে আজ মহালয়া।
চারিদিকে পুজো পুজো একটা আনন্দের আবহ। তবু যেন আজ অনিকেতের মনে বিষাদের আবহ। ফোন আবারও বেজে উঠল, এবার মায়ের ফোন। বলো, বেঁচে আছি আমি। কেন তোমার মেয়ে, নাতি আর পুত্র সমূতলজামাইকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারছো না? তোমার টাকায় এমটেক পড়তে চাইনা।
 অনেক খরচ করেছো আমার জন্য, আর প্রয়োজন নেই। এতবার আমার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছো যে, ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে প্রতিমাদেবীর উত্তর চুপ কর। যা নয় তাই বলছিস। পাঁচদিন হলো আজ, তোর কোনো খবর নেই, কি মনের অবস্থা হচ্ছে বুঝতে পারছিস ! তুই কোথায় আছিস? যেখানেই থাকি তোমাদের কি তাতে ! ফিরবো না ঘরে আর কোনদিনও, যাও। অনিকেত এই বলেই ফোন কেটে ফোনের সুইচ অফ করে দেয়।
রানাঘাট প্লাটফর্মেই যেখানে সাধারণত বসার সিট থাকে, অনিকেত সেখানেই বসে আছে। ঠিক তার পিছনেই একজন মধ্যবয়স্কা ভদ্রমহিলা বসে অনেকক্ষন অনিকেতের ফোনে কথা বলা শুনছিলেন আর সাথে অনিকেতের দেহভঙ্গি নিজের মনে মনে বির বির করে কথা বলা সেইগুলো নজর রাখছিলেন। হঠাৎই অনিকেতকে বলে ওঠে ভাই খুব জটিল সমস্যায় আছো মনে হচ্ছে !
অনিকেত বেশ হকচকিয়ে পড়ল, বললো ! না না ম্যাডাম তা ঠিক তা নয় ওই একটুআধটু। আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু সমস্যায় তো সবসময়ই থাকি।
ম্যাডামের সাথে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কথাবার্তার ফলে অনিকেত প্রায় সবই তার ব্যাপারে ওনাকে জানায়।
তার বাড়ির সমস্যা থেকে শুরু করে তার বর্তমান সময়ের পুজোর প্রাকমুহূর্তে তার পকেটের অচল অবস্থা, সে কি করে এমটেক পড়বে ! কিভাবে মা কে বোঝাবে যে তার চাকরির সাথে সাথে higher study তাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সব কিছু শোনার পর ম্যাডাম তাকে কয়েকটা কথা বলেন, অনেকটা যেমন উপদেশ দেওয়া, সেইরকমই।।।।।
. জীবনে পালিয়ে যাওয়াটা কোনো মহৎ কাজের মধ্যে পড়েনা। পালিয়ে গিয়ে অধিকাংশ মানুষই বিফল হয়েছে। সফলতা লাভ করতে পারেনি।
. তোমার বাড়ির সমস্যাটা খুবই সাধারণ। তুমি বাড়ির ছেলে। তোমার নিজের প্রতি তোমার আত্মবিশ্বাসটা একেবারেই নেই, তাই তুমি সেখানে মানিয়ে নিতে পারছো না।
 তোমার দিদির বিয়ে হয়ে গেছে তোমার জামাইবাবুও তোমার কথা অনুযায়ী উচ্চবিত্ত, তোমার দিদির শশুর বাড়ির সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা তাই তোমাদের কাছে থাকে, আজ আছে কাল তোমার জামাইবাবু হয়তো নিয়ে চলে যাবেন। তোমার নিজের জায়গাটা তুমি হারাবে যদি এইভাবে পালিয়ে বেড়াও। একটু শক্ত হও। নিজের অধিকার নিজেকেই করে নিতে হয় তবে অপরকে কষ্ট অথবা ওপরের ক্ষতি করে নয়। মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েই।
. সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও তা অর্জন করতে পারছনা না বলে চুপ করে বসে থেকোনা, তাতে সময় এবং কাজ করার মৌলিক তাগিদ নষ্ট হয়ে যাবে। চেষ্টা করো। ওনেক বেসরকারি সংস্থায় কাজ শেখার জায়গা আছে তাতে নিজের অভিজ্ঞতা হয়। একটা কাজ জোগাড় করে করো। তারপর মা কে বলে দেখো, তোমার এমটেক পড়া ঠিক হয়ে যাবে। সব কিছু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করো। সবকিছু মানুষ একত্রে পায় না। মাথায় রেখো কথাটা। তোমার দিনের পর দিন বেকার থাকার মানসিকতার জন্যই তোমার প্রিয়জনরা তোমার প্রতি অক্ষুন্ন। তোমার চেষ্টার যথেষ্ট ত্রুটি আছে। শুধু সরকারি চাকরির নেশা তোমার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
. নিজের প্রেমভালোবাসার ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়। অত fickle mind হলে হয়না। জীবনে সবাই তোমার ভালো সময়ে তোমাকে সঙ্গ দেবে। কিন্তু খারাপ সময়ের সঙ্গী পাবেন না। সেই খারাপ সময়ের সাথী খোঁজো দেখবে সে ভালো সময়ের পথ দেখাবে। নিজের অস্তিত্ব যদি একবার হারিয়ে ফেলো দেখবে কোনোদিন তোমার প্রেমিকা, তোমার ভালোবাসা তোমাকে সম্মান করবে না।
. আর হ্যাঁ, পুজোতে কয়েকটা ঠাকুর দেখতে কখনো টাকাপয়সা লাগেনা। কখনো শুনেছো যে, প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার জন্য টাকা লাগে ! নিজের মনটাকে স্থির রাখো। দেখবে সব স্থির আছে। যাও বাড়ি যাও। অশান্তিকে পাত্তা দিয়ো না। তোমার মা অনেক চিন্তিত আছেন তোমার জন্য, সামনে পুজো মা কে আর কষ্ট দিয়ো না। হয়তো ওনার, তোমার, সবার মিলিত ভুল। তুমি সন্তান হয়ে তাকে কষ্ট দিতে পারোনা।
বাড়ি যাও আর সাথে মায়ের থেকে গিয়ে পুজোর অল্প হাত খরচ নিয়ে পুজোটা উপভোগ করো। একটু ক্রাইসিস পরিস্থিতির পুজো কাটাও এবার। তারপরই একটা চাকরির চেষ্টা করবে। তোমার লেভেলের যেকোনো কাজ, আগে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করো। বেশি কাজ করো আর লোকের থেকে কম আশা করো।
ওনার সাথে কথা বলতে বলতে ওনার এই সহজভাবে উপদেশ শুনে মোহিত হয়ে গেলো অনিকেত। জিজ্ঞেস করলো আপনি কোথায় থাকেন ? আপনি কি শিক্ষিকা? আমার তো তাই মনে হচ্ছে
ম্যাডাম বললেন আমি নিবেদিতা চক্রবর্তী। পলাশীতে থাকি। ওখানকার এক স্থানীয় গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা আমি।
এই রে!!! আমার ট্রেন এসে পড়ছে যদিও থামবে বেশ কিছুক্ষণ। দাঁড়াও,,, এই বলে দুটো কেক কিনে একটা অনিকেতকে দিয়ে ভাই এটা খাও আর সোজা শিয়ালদার ট্রেন ধরো আর বাড়ি যাও আমি চলি আবার কখনও দেখা হবে! শুনবো তখন তুমি হতাশা কাটিয়ে কিভাবে তোমার মেধাকে কাজে লাগিয়ে সফলতার শিখরে পৌঁছেছো।
টা টা। ভালো থেকো ।।। তার সাথে মা দুর্গার আগমনে, তুমি এবার ঘরে ফেরো।।
ম্যাডাম ট্রেনে উঠে পড়েছেন , ততক্ষনে অনিকেতও ঘরে ফেরার তাগিদটা বুঝতে পেরে শিয়ালদাগামী লোকালে উঠে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে লালগোলা লোকালের দিকে তাকিয়ে সেই ট্রেন ছাড়ার পূর্বে বাঁশির আওয়াজ কানে আশা মাত্রই জ্বলজ্বলে সবুজ সিগন্যালের দিকে চোখ চলে যায় মুহূর্তের মধ্যে ম্যাডামও তার নিজের গন্তব্যে এগিয়ে যায়।
রানাঘাটশিয়ালদা গামী ট্রেনও মিনিট দুয়েকের মধ্যে ছেড়ে দেয়। অনিকেত এবার ফোন অন করে প্রথমেই মা কে ফোন করে বলে।।।

মা ,,, আসছি আমি। ঘন্টা দুইআড়াইয়ের মধ্যে।

অপরপ্রান্ত থেকে মা এই কথা শুনে বেশ দুঃশ্চিন্তামুক্ত হয়ে মেয়ে অরুনিমাকে খুশিতে চেঁচিয়ে বললো ভাই আসছে রে। আয় বাবু তাড়াতড়ি। তোর প্যান্টজামা সব কিনে রেখেছে তোর দিদি। আর ভুল বুঝিস না বাবা। তোর এমটেক পড়া ঠিক হয়ে যাবে, তুই আয় তাড়াতড়ি।
ফোনে মায়ের এইরূপ অভিব্যক্তিতে অনিকেত ভাবলো, সে একটু হলেও ভুল করেছে। মাকে কষ্ট দেওয়া, চিন্তায় রাখা তার উচিত হয়নি। সন্তানকে তার মা কখনোই দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না।

এবার তাকে সবকিছু বাস্তবসম্মত ভাবেই সকলের কথা, উপদেশকে প্রাধান্য দিয়েই চলতে হবে। শিখতে হবে তাকে অনেক কিছুই।।।।।

আপাতত দুর্গাপুজোর চারদিন।।।। যাই আগে ঘরে ফিরি ! তারপর সবকিছু।।
(অমিত রায়)
ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: