গ্রহণ : পীযূষ কান্তি হাজরা

মেঘলা আকাশ আগে ভাগেই রবি মামার দখল এমন ভাবে নিয়ে নিয়েছে যে চন্দ্র ছায়ায় দিবাকরের হারিয়ে যাওয়ার লজ্জার আশঙ্কা আর এবারের মতো থাকল না ৷ একে লকডাউন তার উপর সূর্য গ্রহণ ; গিন্নির কৃপায় আজ বাজার যাওয়ারও তাড়া নেই , তাই সাগর আজ দিনভর বাড়িতেই বন্দিদশায় ৷

মোবাইল মারফত শাশুড়ি মাতার আদেশনামায় সাগর কিছু কিছু বিষয়ে আজকাল আর কখনোই বুঝতে পারে না যে সে পিতৃমাতৃ হীন এক অনাথ প্রৌড় ৷ আজকের ফরমানে উল্লিখিত নির্দেশ মতো গ্রহণ শুরুর আগেই স্নান টান করে সকাল ৯ টার মধ্যেই দ্বিপ্রাহরিক আহার সেরে ফেলতে হয়েছে তাকে ৷ তা যতই আমরা পড়ি বা পড়াই না কেন – যে ‘সূর্য-চাঁদ-পৃথিবী এক লাইনে এসে সূর্য দ্বারাই সৃষ্ট চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়লে পৃথিবীর কিছু অংশ থেকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যকে দেখতে পাওয়া যায় না – এটাই সূর্য গ্রহণ ৷

এ ব্যাখ্যা লিখে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থী হোক বা শিক্ষক , সমাজ জীবনে কিছু কিছু শিক্ষাকে মাথায় তুলে রাখতেই হয় আর প্রচলিত কিছু সংস্কার সকলেই মেনে চলতে বাধ্য হয় ৷ নির্দেশ মতো গ্রহণ চলা কালীন জলস্পর্শও তো আর করা যাবে না , জলপানও না ৷ অগত্যা ঘণ্টা তিন চারের মতো জল টল ধরে পড়ার ঘরে ছেলেকে নিয়ে সাগর সবেমাত্র ছেলের একটি পাঠ্য পুস্তক হাতে নিয়েছে অমনি সদর দরজায় টোকা – “সাগরদা , সতুকাকা গঙ্গা যাত্রা পেয়েছে গো , শ্মশান ঘাটে যেতে হবে ৷

” সাগর পুস্তক হাতেই বিড়বিড় করে বকতে লাগলো – “সতুকাকা ? আমাদের সত্যেন (হালদার) কাকা ?আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেল !আমাদের কাকা বলার আর কেউই রইল না ! জ্যাঠা , বাবা কাকাদের সারি পূরণ করতে আমরাই এবার এক সারি উপরে উঠে এলুম !” ছেলেকে তো আর পড়ানো হলো না ,

শ্মশান ঘাটে যাওয়ার জন্য কিছু টুকিটাকি জিনিসপত্র গোছানোর কাজ করতে করতে এটা বোঝাতে লাগল যে বংশ ক্রমে কিভাবে একটা শ্রেণি উন্নীত হয় ৷ আর গ্রহণ কালে খাওয়া দাওয়া বা অন্য সব কর্ম বন্ধ থাকলেও ধরাতলে আসা যাওয়ার খেয়া যে কখনোই বন্ধ থাকে না তাও ছেলেকে অজান্তেই যে কখন সব বলে ফেলল সাগর নিজেই তা বুঝতে পারেনি ৷

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: