আবদুর রাজ্জাকের কবিতা

banglanewspage.com
পূনর্বার
আবদুর রাজ্জাক
একভাবেনিখিল চরাচর উপেক্ষা কোরে সে বেড়ে উঠেছে,
বনস্পতির অধঃ অন্ধকার আর আকাশ রাত্রির এই
অশুভ নীল যা কালো বলেই মনে হয়েছিলতা  শরৎ 
ভূখণ্ড থেকে ক্রম বিস্তারেধীর গতিতেখানিক ধীর 
হয়ে হয়েনেমে আসে আমাদের বৃক্ষনিবাসে।
যারা নদীকূল বেয়েগুন টেনে টেনে গিয়েছিল নিরুদ্দেশে,
ক্ষণকাল পরেশিরদাঁড়া কুঞ্চিত কোরেসার্ধ দেহেআরো
এক   কম্পিত শব্দে,     দুপাশের     অরণ্য কাঁপিয়ে,
অনির্ধারিত    শব্দপুঞ্জ ছাপিয়ে       নিদ্রিত      প্রাণীদের
ঘুম ভেঙে দেয়।
তখন তাদের সঞ্চিত ঘুম উড়ে উড়ে যায় ——
সেই সান্ধ্য সন্ধ্যায়;
আধো অন্ধকারের    জ্বল জ্বলায়মান  নক্ষত্রের নিষাদে
থাকে সামান্য বিদ্যুচ্চমক,     তারপর      ঘোমটা  
খোলার সময়টা সুসম্পন্ন হলে    দূরে    আরো দূরে জ্বলে 
ওঠে মেঘ,  আর     তক্ষুণি    
বিনোদিনী    নিজহাতে     খুলে দেয়   খোঁপা।
সেই ছায়ারাত্রির জ্বলে ওঠা মেঘঅঙ্গীকার আর অন্ধকার
এক অধীর বিন্দুতে মিলিত হলে—–সান্ধ্যজাগরণ 
নিঃশ্ব কোরে    টুপটাপ ঝরে পরে    পূর্বাপর  
আরো কিছু      মেঘ।
তার অন্ধ সংকেত     ভোর প্রভাবে    একটি মাত্র মন্ত্রণায় 
প্রভাবিত হলে,     থেকে যায়       প্রত্যন্ত একটি    
নদীকূল;    আর     এক     অভূতপূর্ব     কালিক মান্দাস।

শব্দহীন সন্ধ্যায়
আবদুর রাজ্জাক
ছায়ারোদ বাউল হয়ে ফিরে আসে অন্ধকারেধান শুকানো রোদ
এক অদ্ভুত আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলো সেদ্ধ ধানে,
ছায়াভরা রোদঅন্ধকারের মৃত্যু দেখতে অভ্যস্ত নয়তবুও——-
অসংখ্য মৃত্যু পেরিয়েবাউলের সুর  বেজে ওঠে  পড়ন্ত বিকেলে।
সূর্যাস্ত বাড়ি ফিরে যায়মেষ মহিষেরাফিরে যায় বাথানে,
দুরন্ত কিশোরেরা ফিরে আসে   দূরের থেকে।
খেলার মাঠে বালকেরা হৈ চৈ করে আর   পটের সূর্য হাসে  একাকি।
বাউল ঘর জানে নাগৃহস্তালি জানে নাতার
ফেলে আসা দিনগুলি  মৃত্যুর  হাহাকারে  ক্রমশ বেজে ওঠে বাতাসে
কার্তিকের মধ্য জ্যোৎস্নায় থাকে   হিম শিশিরের হেম। 
সন্ধ্যায় ঘন  অন্ধকারে   সয়লাব হয়ে যায় ——- ঘর,   
সন্ধ্যাবাতি জ্বালানোর কথা   তার    মনেও থাকে না 
তুমি
আবদুর রাজ্জাক
তোমার অসম্ভব আয়োজন আমার আঙুল দুটো ছুঁয়ে দিয়েছে
ভেবেছিলাম সুবর্ণরেখার পারে   কখনই যাবো না,
সে কথা কথাই থেকে যায়তুমি তোমার ইগো সম্রাজ্য   ভেঙে 
সুবর্ণরেখার পারে    কখনই  এলে না।
শত্ররূপ শত্রু     থেকেও     বন্ধুত্বের দরজা    বন্ধ করি নি।
অবাক হয়েছি   সুবর্ণরেখার জল যেমন ছিলো   তেমনি রয়েছে
কখনও কি ভেবেছিলে? রণলব্ধ জল তোমাকে ডাকবে?   
সকল সময় উল্টো পথে   হেঁটেছিপছন্দ করো নি।
দুটাকার বাদাম কিনে হাতে দিয়েছিখেতে খেতে বললে:
কাল রোববারএসো,   সুবর্ণরেখার জল    স্বচ্ছ হবে। 
অবাক হয়ে না,  এজলে    কখনই   ঝাঁপ দেবো না।
এতোটা শীতল হলে কি  চলে!    বলো,  কিছু বলো! না হলে
তোমার ঈর্ষার ভেতর ডুবে যেতে   আমার    ভুল হবে না।
আবদুর রাজ্জাক
ঢাকা, বাংলাদেশ।
ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: