আমার রাকেশ দা – জমাট পাথর (সেখ আরিফ)

আমার রাকেশ দা               - জমাট পাথর (সেখ আরিফ)

যার সম্পর্কে আজ বলতে চলেছি তার সঙ্গে পরিচয় ক্লাস ফোরে পড়ার সময়। সম্পর্কের দিক দিয়ে দেখতে গেলে তিনি আমার পিসতুতো দাদা হন। এবার পরিচয় দিনের কথায় আসা যাক। সত্যি বলতে কি খুব সুন্দর গল্প বলিয়ে মানুষ আমার এই রাকেশ দা। আমাদের বাড়িতে বসে কেউ নিজের গ্ৰামের বাড়ির খুব সুন্দর একটা গল্প বলছে যেন। কান খাড়া করে শুনলাম গলার স্বরটা অপরিচিত। আসলে আমাদের বাড়িতে দাদা খুব একটা আসতো না। আমার কান গল্প শুনেছে এবার সে উৎস খুঁজতে ব্যাকুল হয়ে উঠল।

পিয়াসা তো কুয়াকে পাস হি যায়েগা না?” যাই হোক আমার রাকেশ দা রূপী গল্পের কুয়োটাকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করলাম। কী অপরূপ সুন্দর করে বর্ণনা করার ক্ষমতা। একেবারে মন্ত্রমুগ্ধের মতো আছন্ন হয়ে শুনলাম। পাশ থেকে মায়ের পড়তে বসার তাড়া উপেক্ষা করেও তার কাছে বসে গল্প শুনতে লাগলাম। কী অদ্ভুত অনুভূতি ছেড়ে যেতে মনই চায় না। বসে আছি হঠাৎ সেই মন্ত্রমুগ্ধ স্বর আমার নাম ধরে তার কাছে ডাকলো। একটু অবাক হলাম পরক্ষণে আমার অতিপাকা মস্তিষ্কই নিজ মনে এই উত্তর সঞ্চার করলো যে আমি দাদাকে না চিনলেও দাদা আমাকে খুব ভালো করে চেনে। তাই গেলাম তার দিকে এগিয়ে।

বেশ করে পিঠে হাত বুলিয়ে কীসে পড়ি জিজ্ঞাসা করল। উত্তর বলতেই আমার ক্লাসের আনুসাঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করল। প্রশ্নের সাথে সাথে আমার উত্তর দেওয়া দেখে আমাকে একটা উপাধিতে ভূষিত করল। এখনও মাঝে মাঝে ফোন করলে নাম(উপাধি) ধরে ডাকে। উপাধিটা হলোনিউটন কী জানি এই নাম দিয়ে আমাকে আধাপাগল (অগ্ৰিম ভবিষ্যৎবাণী, যা আমার বর্তমান অবস্থা) বলল নাকি বুদ্ধিমান (সবাই বলে, কিন্তু আদতে আমি নই) বলল জীবনের মধ্যগগনে এসেও তা ধরতে পারলাম না। সেই প্রথমদিন আমার একটা সমঝদার পেয়ে মুহূর্তের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড়লোক হয়ে গিয়েছিলাম। 

আজও তার সঙ্গে দেখা হলে অন্যথা হয় না। যাই হোক, তারপর আরও ভালো করে পরিচয় হলো যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। তখন দাদার দিদি(আমারও দিদি) কাছে টিউশনি পড়তাম। তখন দেখতাম খালি গায়ে (গরমকালে) একটা বই নিয়ে পায়চারি করতে করতে কেউ একজন ছাদময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কৌতুহল দমন করতে উঁকি মেরে দেখি বাবা এতো রাকেশ দা। দুজনার চোখাচোখি হলো। কিন্তু কি ব্যাপার আমার সাথে কথা বলল না কেন? মনে মনে একটু অভিমান হলো। আমিও প্রতিজ্ঞা করলাম দাদা যেমন সাড়া দিলোনা আমিও সাড়া দেবোনা।


কিছুক্ষণ পরে পড়ছি হঠাৎ পিঠে মৃদু চাপড় অনুভব করলাম। এবং একটা সম্মোহনী স্বরআরে নিউটন তখন কী বলতে ছাদে গিয়েছিলি?” দিদির ভয়ে বললাম,”কিছু না এমনি, ছাদে কেউ আছে কিনা দেখতে গিয়েছিলাম।” “ পড় পড় ভালো করে পড় সত্যিকারের নিউটন হতে হবে।বলে মৃদু আর একটা চাপড় মেরে বাড়ির অন্তঃপুরের দিকে চলে গেল। আজ বুঝতে পারি কতটা মনোযোগ সহকারে পড়লে কারোর সাথে চোখাচোখি হওয়া সত্ত্বেও তাকে সাড়া দেওয়াটা দুস্কর হয়ে পড়ে। আমার রাকেশ দা বিষয়ে বিশদে জানতে আমার সাথে যুক্ত থাকুন।

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: