কবিতার পাতা

আমরা সবাই শব্দচারী — তৈমুর খান

একুশের মাঠে

এক একটি বৃক্ষের ফুল ফোটে

এক একটি পাতায় ডালে ডালে

বাংলা ভাষা কথা বলে

বৃক্ষদের কত কত নাম

বরকত রাফিক জব্বার সালাম

সবাই ভাষাকে ধরে মুঠো মুঠো

ছড়িয়ে দেয় মাঠময়
মাঝি – নৌকো কৃষক – লাঙল চড়ুই – খড়কুটো

ভাষারা অনন্ত হয়ে জন্ম দেয় গান

ঘরে ঘরে ভাষাদের দুরন্ত সন্তান

আজ সব বৃষ্টি রোদে হাসি কান্নায়

ভাষারা ঐশ্বর্যময়, ভাষাদের জয়

আমাদের সব আলো জ্বলে গাছে গাছে

ভাষাদের আলো সব, অশ্রু আর রক্তে মিশে আছে

একুশের সন্নিধানে উঠে আসে সুর

আবেগের পাখিগুলি ওড়ে হৃদয়পুর

ইতিহাসের নিভৃত বাগানে

শ্রদ্ধা এবং সম্পর্কের টানে

আমরা রচনা করি মুগ্ধ বিশ্বাস

জেগে থাকি অক্লান্ত ভাষার ইতিহাস

পথ জুড়ে ভাষাবিশ্ব, মন জুড়ে সৈনিক নিষাদ

আমরা সবাই শব্দচারী, সফল তিরন্দাজ

বসন্ত রচনা করি, বাসন্তীর আশ্চর্য বোধে

চৈতন্যের দরজা খুলে উপলব্ধিকে ডাকি উঠোনের রোদে

কালের সীমানা মুছে নিত্য মহাকালে

সংশপ্তক হয়ে দাঁড়াই ভাষার ছেলে

এইখানে এসে ডাকো যদি

সাড়া পাবে, সাড়া পাবে অনন্ত কন্ঠস্বর

একুশের তারুণ্যে ভরে আছে সব ঘর ।

ডি কে পালের লিমেরিক
‘রা’

সুখের আশায় আঁকড়ে ধরি যাকে,
মায়া,মোহে নির্ভরতা তাকে;
ত্রিতাপ জ্বালায় দগ্ধ হয়ে
ক্রমাগত দুঃখ সয়ে;
বুঝতে পারি ‘রা’ ছিল না ডাকে।

ইতিহাস ও মানুষ – মাধব মন্ডল

দেখো ভাই, ও ভাই এত ভয় পাবেন না
ভয় পেতে পেতেই তো মানুষ এত হাঁটল
এ মাটি তোমার
এ মাটি আমার
ভিজলে দু’জনেরই রক্তে ভিজবে, জ্যাবজেবে।

ইতিহাস বারবার, বারবার, বারবার সোচ্চারে
সোচ্চারে মানুষ বাছাই করেছে, করছেও
এ মাটি তোমার
এ মাটি আমার
ইতিহাস আবারও সেটাই করতে চলেছে।

ইতিহাস খুব নরম ঈশ্বরকে চুপ থাকতে দেখেছে
নরমরা তো কঠিন সময়ে পরীক্ষিত হয়ই, যাই হোক
এ মাটি তোমার
এ মাটি আমার
ঐতিহাসিক সময়ে গরম মাথা ঠিক পথই খোঁজে।

পথ খুঁজতে খুঁজতে মানুষ, মানুষ আজ পথে
অনেকটা রক্ত ঝরলে পথ একটা পায় বটে
এ মাটি তোমার
এ মাটি আমার
ও মানুষ, কি বলছি ঠিকঠাক বুঝলে কিনা বলো!

আবার শুরু করবো – সুমিত মোদক

তোর সঙ্গে দেখা হবে ঠিক একদিন ;
যখন নতুন করে গাছেরা কচিপাতা মেলে ধরবে ;
যখন চেনাজানা পাখিরা নতুন করে সুর তুলবে
আকাশে , বাতাসে , গাছের ডালে ডালে ,
ঠিক তখনই …

সিন্ধু নদের তীরে যে নগর সভ্যতা গড়ে তুলে ছিলিস নিজের হাতে ,
তাকেই আবার ধ্বংস করেছিস …
তুই জানতিস ,
তুই মানতিস ,
একটা সভ্যতাকে বেশি সময় ধরে ,
ধরে রাখতে নেই ;
বেশিটা সময় দিলে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে
সভ্যতার মানুষ গুলো ;

তুই তো সেদিন বলে ছিলিস –
যে বিষাক্ত জীবাণু গুলোকে
হাজার হাজার বছর ধরে লুকিয়ে রাখছি
বরফের নীচে ,
মাটির নীচে ,
দেখিস , একদিন এই মানুষ গুলো মাটি খুঁড়ে ,
বরফ গলিয়ে ঠিক বার করে আনবে ;

তোর কথা ঠিক হলো ;
এ মানুষ গুলো করেছেও তাই …

সত্যি , একটা সভ্যতাকে বেশিদিন ধরে রাখতে নেই ;
একটা সভ্যতাকে ধ্বংস করে
নতুন আরেকটা সভ্যতা গড়ে তুলতে হয় ;
নতুন আরেক সভ্যতা …
যেখানে নতুন করে আবার হবে শুরু …

তোর অপেক্ষায় বসে আছি এই যুগান্তরের পথে ;
তুই এলে আবার শুরু করবো
নতুন আরেক সভ্যতা ;
যেখানে গাছে গাছে জন্ম নেবে কচিকচি পাতা ;
পাখিরা নতুন করে গাইবে নতুন গান ।।

আশার জন্যে – বিশ্বনাথ পাল

কত দিন পরে আবার  এলে

দেখলাম  আবার নয়ন মেলে

সকল ভয়ের অবসানে

ভরালে হৃদয় নতুন গানে

মনের  কালি ঘুচিয়ে এবার

ঝলসে দিলে কলঙ্ক আমার।

তাই চেয়ে রই আকাশ পানে

ওই আকাশ যেন আশা-ই আনে।

শব্দরূপে – মোঃ রায়হান কাজী 

তোমাকে দেখি ছিলাম কোন সে বিকালে,

কিন্তু রয়ে গেছে রেশ আজও বাতাসে।

শেষ বেলাতে আলোছায়ার আড়ালে, 

রঙিন স্পর্শে হারায় মেঘের আবরণে। 

শব্দরূপ যাচ্ছে ছড়িয়ে লোকজনদের ভিতরে,

আমি অজ্ঞাতের মতো হকচকিয়ে তা শুনি দূর থেকে। 

ক্ষান্তবর্ষন লোকালয়ের সেই লাজুক রোদ্দুর, 

খানিকটা হাসি মুখে আছে লেগে স্মারক হয়ে, 

রোদ্দুরের প্রেমের ছোঁয়া কান পেতে শুনি দূর থেকে।

অযুত নিযুত মানুষের ভিড়ের মাঝে,

চক্ষুম্মান পথে হেঁটে যাই আশ্চর্য দৃষ্টি নিয়ে।

সমুৎসুক হয়ে মানবের মুখে মুখে, 

কাব্য ছড়ায় অজানা অচেনা প্রান্তের দিগন্তে। 

নিকুম্ভিলা যজ্ঞে উপস্থিত থাকবে তুমি, 

গুরুবন্ধনার ছলে আমার সর্বত্র জুড়ে। 

শতমাইল দূরে বসে বিড়ম্বনা বৃদ্ধি পায়, 

ক্ষুদ্র মনের গহীন কোণে একাকিত্বের মাঝে। 

স্তব্ধতার মাঝে লুকানো কোন সুর ভাসে, 

তা আছে অজানা ঝর্ণার ধারে, 

স্বপ্নের মাঝে কুয়াশায় লুকানো নির্বোধ হয়ে। 

ফুরায় না তার কিছুই ফুরায় না, 

শুধু দীর্ঘশ্বাস বাড়ে অবচেতন মনে। 

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

2 thoughts on “কবিতার পাতা

  1. খুব সুন্দর ভাবে সাজিয়েছেন কবিতাগুলো। আমরা চাই এভাবেই প্রকাশিত হোক। একসঙ্গে অনেক কবির অনেক কবিতা পড়ার সুযোগ হচ্ছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: