ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) — সুদীপ ঘোষাল – পর্ব – ৫

ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) -- সুদীপ ঘোষাল - পর্ব - ৫
 
সে এখন অন্য নারীতে আসক্ত। তাহলে তোমরা কেন উপোসী হয়ে দিন কাটাবে। এসো আমরা মিলিতভাবে আনন্দ করি। বড় রাণী সময় চাইলেন। রাণীরা পরামর্শ করে দেখলেন,অমিয় সত্য কথা বলেছে। তারা তার প্রস্তাবে রাজী হলো। এদিকে অন্দরমহলের দাসীদের সেনাপতি ও তার সাথীদের ভোগ করতে দিলো অমিয়। 
ফলে শাসনকার্যের সমস্ত ক্ষমতা তার হাতের মুঠোয় চলে এলো। অমিয় একপ্রকার রাজা হলো অঘোষিতভাবে। তার প্রখর বুদ্ধির জোরে সে সুশাসনের মাধ্যমে সকলের সুখ,সুবিধার ব্যবস্থা করলো। ফলে অধিবাসীরা তার অধীনে এলো।সকলে বলাবলি করতে শুরু করলো,এইরকম রাজাই প্রয়োজন আমাদের।
চার রাণী প্রথম মিলনে বুঝে গেছে পুরুষশ্রেষ্ঠ অমিয়ভূষণকে। তারা তাকেই স্বামী হিসাবে বরণ করে নিলো। উদ্দাম আবেগে ভেসে গেলো পুরোনো সব স্মৃতি। অমিয়ভূষণ যৌনবিদ্যাকে অবশ্যপাঠের অন্তর্ভুক্ত করলো। ফলে নারী পুরুষের সম্বন্ধ ভালো হলো কয়েক বছরের মধ্যেই। পাঠশালাগুলোতে বয়স্কদের শিক্ষাদান শুরু হলো। সে জানতো,বেশির ভাগ সংসার যৌনতা বিষয়ে অজ্ঞতার জন্য ভেঙ্গে যায়। ধর্ষণের মতো অপরাধ বেড়ে যায় সমাজে।
আর এদিকে রাজা ও রতি প্রণয় আবেশে দিন কাটায়। রতির পরামর্শে রাজার কোনো অসুবিধা নেই। কোনো অভিযোগ নেই। রতির লেখা কামশাস্ত্রের পুঁথি দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করলো। পুঁথি উৎসর্গ করা হলো অমিয়ভূষণের নামে। রাজার সঙ্গে পরামর্শ করেই রতি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলো। কোনোক্রমে একটি পুঁথি অমিয়ভূষণের কাছে যায়। সে আবার স্মরণ করে রতির ভালোবাসা। সে বলে,ভালোবাসা শুধু গড়তে জানে। ধ্বংস তার অভিধানে নেই।অমিয়ভূষণ বুঝলো,রতির ভালোবাসার উপযুক্ত সে নয়। রাজাই তার উপযুক্ত প্রেমিক।
 
রাজার কাছে থাকতো তার বড় মেয়ে সোনা। সে অমিয়ভূষণের সঙ্গ পেয়েছিলো। তার জানা জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দুই দেহরক্ষিকে কামশাস্ত্রে পারদর্শী করপছিলো। তারা এখন অভিজ্ঞ পুরুষ। সোনা তাদের বলে,নারীদেহ হলো বাঁশীর মতো।  পারদর্শীর হাতে বেজে ওঠে সুর। আর আনাড়ি থুতু দিয়ে ভরিয়ে ফেলে বাঁশীর মুখ। পরে ভেঙ্গে ফেলে দেয় জলে। বাঁশী কোনোদিন সুরে বাজে না আনাড়ির হাতে।
সোনা বিবাহ পদ্ধতি স্বীকার করে নি। শরীরের শিল্প না জানলে বিয়ে সার্থক হয় না। অশান্তি, জীবনহানির মাধ্যমে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। অতএব শরীরকে জানতে হবে,বুঝতে হবে এটাই তার মতামত। এই বলে দাদু চুপ করলেন।
 
 
 পাঁচ
 
অনুপমা ছোটো থেকেই বিভিন্ন ফুল ওফলের গাছের ভক্ত। তাছাড়া যে কোনো গাছের কাছে গেলেই সেই গাছের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পরে। গাছটার সঙ্গে কথা বলে,আদর করে, গোড়ায় হাত বুলিয়ে দেয়। সে বলে বাড়ির উঠোনের আমগাছটাকে,কি রে আমি আগের জন্মে তোর বোন ছিলাম?  বুঝলি আমি আগের জন্মে আবার গাছ হবো। তোর ডালে ডালে আমার সোহাগ উথলে ওঠে। আমি তোর বোন হবোই। সুন্দর সহজ সরল জীবন নিয়ে আমি সুস্থ রাখবো জগতের সমস্ত জীব কুলকে। আমি গাছ হবো।
উঠোনের আমগাছটার ইতিহাস আছে। অনুপমার দাদু বি,ডি,ও অফিস থেকে চারা এনেছিলেন। তিনি উঠোনে ছায়া হবে, আর সিজনে কিছু আম পাওয়া যাবে বলে গাছটা লাগালেন। গর্ত খুঁড়তে গিয়ে হাতটার আঙুলে কোদালের চোট পরে কেটে গেছিলো সেদিন। অনুপমার ঠাকুমা রেগে বললেন,উঠোনের মাঝে আমগাছ লাগালে। তারপর আবার বাধা। অপয়া গাছ।  পাতা পরে জঙ্গল হবে।দাদু কোনো কথা বলে নি। শুধু বলেছিলো,খবর্দার এই গাছে কেউ যেনো হাত না দেয়। কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে ছাড়বো।
তখন অনুপমা ছোটো।  অনুপমা বললো থাক,ঠাকমা  আমি পাতা পরিষ্কার করবো। তারপর ঠাকুমা, নাতনির মুখ চেয়ে আর কিছু বলেন নি। দাদু এবার দুবছর পরে বাড়ি এসেছে।থাকে অনেকদূরে। অনুপমা ভাবে,কেন,এতদূরে থাকে দাদু। একদিন ঠাকুমাকে জিজ্ঞাসা করে দেখবে। কিন্তু বলতে সাহস হয় না। ঠাকমা যদি বকাবকি করে।
তারপর অনেক বৈশাখ কেটে গেলো। শেষে অনুপমার আঠারো বছর বয়সে আমগাছের মুকুল এলো। এতদিন গাছে জল দেওয়া, পাতা কুড়িয়ে পরিষ্কার করা সবকাজ সে নিজেই করেছে। তার ভালো লাগে তাই করে। আমের শুকনো পাতাগুলো এক জায়গায় জড়ো করে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিতো। পরিষ্কার হতো তাড়াতাড়ি।
বাবা, মা কে অনুপমার মনে পরে না। দাদুর কাছে শুনেছে, সে যখন এক বছরের মেয়ে তখন তার বাবা রোড আ্যাক্সিডেন্টে মারা যান। মা তার এক বছর পরেই বাবার বাড়ি চলে যায়। মা তাকে নিয়ে যেতে চাইছিলো কিন্তু দাদু দেন নি। দাদু বলেছেন,ছেলের স্মৃতিটুকু তুমি নিয়ে যেও না বৌ মা। তাহলে আমি বাঁচবো না। আমার আর কেউ নেই ও ছাড়া। 
 
মা তারপর আর জোর করেন নি। একা চলে গিয়েছিলেন কাঁদতে কাঁদতে কোনো প্রতিবাদ না করে। তার মা নাকি এখন বিয়ে করেছে অনেক দূরে। মায়ের  মুখ অনুপমার মনে পরে না। তাই মায়ের  মায়া তাকে কাবু করতে পারে না। অনুপমা দেখতো,দাদু থাকে না বাড়িতে। তবু একটা ফর্সা, কটাপারা লোক ঠাকুমার ঘরে যায় প্রায়। তাকেও চকলেট দেয়। কিন্তু জানে না লোকটা কে? পাড়ার লোকেরা ওকে জিজ্ঞাসা করে। কিন্তু ও বলে,আমি জানি না। তখন সবাই মুখ টিপে হাসে। ভালো লাগে না তার। মনে মনে বলে,একদিন ঠাকুমাকে জিজ্ঞাসা করতেই হবে। কিন্তু ঠাকুমা যদি রেগে যায়।
একদিন দুপুর বেলা ঘুঙুর পরা হাঁসটা কেমন হেলেদুলে চলেছে। অনুপমার পিছনে পিছনে চলেছে হাঁসটা। তাকে এখন সরস্বতী ঠাকুরের মতো লাগছে। বাহন তার চলেছে সঙ্গে সঙ্গে।  ঘাটে শান বাঁধানো সিঁড়িতে সে বসে পরলো। আর হাঁসটা উড়ে গিয়ে পরলো জলে। ডুব দিয়ে তাকে খেলা দেখিয়ে চলেছে। 
সে জলে ঝুঁকে পরা গাছটার ডাল ধরে তুলে আনলো পানিফল। ছাড়িয়ে খেতে গিয়ে পানিফলের কাঁটা ফুটে গেলো। লাল এক ফোঁটা রক্ত চুঁইয়ে পরলো মাটিতে। পাশে চাঁদু এসে বললো,দে দে আঙুলটা দে। অনুপমার আঙুলটা মুখে নিয়ে চুষতে লাগলো। তার খুব সুড়সুড়ি পেলো। সে হাসতে লাগলো। রাজু বললো,জানিস না,মুখের লালায় ঘা পর্যন্ত ভালো হয়ে যায়। 
 
রাজু আঙুল ছাড়ছে না, খুব ভালো লাগছে। সেও জোর করছে না। একটা ভালো লাগা শিরশিরে ভাবে সে বিহ্বল। সে আঁচল থেকে কটা পাকা কুল দিলো রাজুকে, হাত ছাড়িয়ে। রাজু বললো,তোর সব সময় কাঁটা নিয়ে কাজ। কুলগাছেও কাঁটা থাকে। সে হাসতে হাসতে বললো,তুই তো আমার মিষ্টি কুল। তাইতো কাঁটা ভালোবাসি।
রাজু পাশের পাড়ায় থাকে। কিন্তু তার সঙ্গেই তার ভাব বেশি। রাজু বলে অপরূপাকে,আমার মাকে আমার বাবা রোজ মারধোর করে। মাথা ফাটিয়ে দেয়। বড়ো হয়ে আমি এর শোধ নেবো। অনুপমা বলে,ওসব বলতে নেই। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। রাজু বলে,কিচ্ছু ঠিক হবে না। একটা রাক্ষস আমার ভেতরে আছে। তবু আমি আমার বাবাকে ভালোবাসি। তুই আমার থেকে সাবধানে থাকিস। রাক্ষসটা কখন জেগে উঠবে আমিও জানি না।
অনুপমার ভয় হয়। তার মনে পরে, রাজু আর চাঁদু তার দশজন বন্ধু, পুজো বাড়ির শ্যাওলা পড়া দেয়াল ঘেঁষে বসতো। পিঠে সবুজ ছাপ পরে যেতো। পুরোনো কারুকার্যের মুগ্ধতা ছাড়িয়ে ভালোবাসার গান বিরাট বাড়িতে প্রতিধ্বনি শোনাতো। বন্ধুদের মধ্যে চারজন মেয়ে ছিলো। দেবীকা বলতো, বন্ধু শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ করিস না। ভালো শোনায় না।  কোনোদিন রাজু তাদের মেয়ে মনে করেনি। বন্ধু তো বন্ধুই। তার আবার ছেলে আর মেয়ে কি?বলতো রাজু।
একই কাপে তারা কফি খেতো পুজো বাড়ির পাশের কফি হাউসে । ভাগে কম হলে রূপসী বলে বন্ধুটা রাস্তায় লোকের মাঝে  দীনেশকে ফেলে মারতো খুব।তাদের বন্ধুদল বিপদে,আপদে কাজ করতো গ্রামে। তাই তাদের অনেকেই সম্মান দিতো।  আর আদরের এই মার খেতেই দুষ্টুমি করে তার ভাগেরটা কম রাখতো। অভিভাবকরা কোনোদিন ছেলে মেয়েদের মেলামেশায় বাধা দিতেন না। দরজা ঘাটের বাঁধানো ঘাটে পানকৌড়ি আর মাছরাঙার কলা কৌশল দেখে পার হয়ে যেতো অবাধ্য সময়।
অন্ধকারে ফুটে উঠতো কালীতলার সার দেওয়া প্রদীপ। ঘরে ঘরে বেজে উঠতো শঙ্খধ্বনি। হাতগুলো অজান্তে চলে যেতো কপালে। তারপর হাত পা ধুয়ে ভাইবোন একসাথে বসে সরব পাঠের প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে যেতো পাড়া জুড়ে। কিন্তু অনুপমার ভাইবোন ছিলো না। সে চুপচাপ পড়তো। নীরব পাঠ। আর তার ফলে তার মনে ভেসে উঠতো রাজুর মুখ। বইয়ের পাতা জুড়ে প্রেমের খেলা।
কে কত জোরে পড়তে পারে,পাড়ায় প্রতিযোগীতা চলতো। একবার অতনুদের বাড়ি পড়তে গেছিলো অনুপমা মাটির দোতলা ঘরে। বুলু কাকা বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি শুনতে পেলেন অতনু পড়ছে, ন্যাটিওনাল মানে জাতীয়, ন্যাটিওনাল মানে জাতীয়। ঘরে ঢুকে কাকা বললেন,ন্যাটিওনাল নয় ওটা ন্যাশনাল। ঠিক করে পড়। অতনু জোরে পড়ছে বলে উচ্চারণটা ঠিক হলো। এই অতনু সেদিন বুলুকাকা যাওয়ার পরে তার পাশে বসে পড়ছিলো। আর বারবার তার হাঁটুতে সুড়সুড়ি দিচ্ছিলো। তারপর একটা আঙুল তার প্যান্টের ফাঁক দিয়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো যোনীপথে। খুব ভালো লাগছিলো। কিন্তু একটা অপরাধবোধ কাজ করছিলো ভিতরে।  পড়া হয়ে গেলে সে চলে এলো নীচে।
তারপর পড়া হয়ে গেলে একান্নবর্তী পরিবারের সবাই উঠোনে খেতে বসলো।অনুপমা দেখলো, কি সুন্দর পরিবেশে অতনু বড়ো হচ্ছে। রাজুর বাড়ি যদি এই পাড়ায় হতো, তাহলে বেশ হতো।  আলাদা করে কোনো শিশুকে খাওয়া শিখতে হতো না,জোর করতে হতো না। সবার খাওয়া দেখে ধীরে শিখে যেতো নিজে খাওয়ার কায়দা।পরের দিন রাজুকে গল্প বললো। অতনুদের বাড়িতে পড়তে যাওয়ার গল্প। কিন্তু আঙুলের কথা বলতে পারে নি লজ্জায়।
রাজু শুনে বলতো, আমাদের কাকার মেয়ে, ছেলে সবাই পড়তে আসে আমাদের বাড়িতে। আমরা শুই সবাই একসাথে। কাকার মেয়ের সাথে মারামারি করি। শোওয়ার পালা আরও মজাদার। বড় লেপে তিন ভাই,বোনের  ঢাকা। কেউ একটু বেশি টানলেই খেলা শুরু হয়ে যেতো রাতে। কোনো কোনো দিন ভোরে। মা আরও ভোরে উঠে  শীতকালে নিয়ে রাখতেন জিরেন কাঠের খেজুর রস। 
 সকালে উঠেই খেজুর রস। সেই দিনগুলো আর কি ফিরবে? বড় মন খারাপ হয় বড়ো হয়ে যেতো রাজুর।রাজুর গল্প শুনে অনুপমার অপরাধবোধ কমে যেতো। সে ভাবতো,তাহলে রাজুও কাকার মেয়ের সাথে এরকম করে। ওর তো নিজের কাকা নেই। পাড়ার কাকা হবে হয়তো। তাহলে রাজু তো সব কথাই বলে। ওগুলো বলে না কেন? ওসব বলতে নেই। সে ভাবে,চিরকাল ছেলে মেয়েরা গোপন করে যায় ভালোলাগার কিছু মূহুর্ত। এগুলো হয়তো বলতে নেই। আকাশ পাতাল চিন্তা করেও হিসেব মেলাতে পারে না অনুপমার মতো  কিশোরী মেয়েরা।
তারা একসাথে ঘুরতো।অনুপমারা খেলতো নানারকমের খেলা। চু কিত-কিত,কবাডি,সাতগুটি,ঘুরি ওড়ানো,ক্রিকেট,ব্যাডমিন্টন ও আরও কত কি। বন্ধুরা জড়ো হলে,এলাটিং,বেলাটিং  সই লো,যদু মাষ্টার কইলো…, তারপর আইশ,বাইশ কত কি। হাততালি দিয়ে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে খেলতাম,কাটুরিস,চায়না প্লিজ,মেম সাব, মেইন আপ… । তারপরের কথা, খেলা ডুব দিয়েছে কোন অতলে জানিনা, অনুপমা বলতো, সব কথা পুরো মনে পরে না। ছেঁড়া, ছেঁড়া স্মৃতিগুলো হৃদয়ের পদ্মপুকুরে ভেসে উঠেই ডুব দেয়, আর হারিয়ে যায় ব্যস্ত সময় সংসারে। সেখানে আবেগ মানে ছেলেখেলা পাগলামি। 
তবু তার মনে হয়, এরকম পাগলের সংখ্যা আরও বাড়ুক। বাড়লে পাওনাটা মন্দ হয় না। ভালো পরিবেশে মানুষ হয়েছে অনুপমা ও রাজু। সেই রাজুর মনে কি করে রাক্ষস ঢুকলো বুঝতে পারে না অপরূপা। সে ভাবে,মানুষ হয়তো পাল্টে যায় পরিস্থিতির চাপে । যে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে হয়ে যায় ডাকাত। আর যে সংসারী হয়ে সুখে থাকতে চায় সে হয়ে যায় খেলার পুতুল, রূপাগাছির অপরূপা বেশ্যা।
 
 
চলবে  ——

 

 

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: