ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) — সুদীপ ঘোষাল – পর্ব – ৪

ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) -- সুদীপ ঘোষাল - পর্ব - ৪
সে ছোটো থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী। কিন্তু সমাজ বাধা হয়ে দাঁড়ায়েছিলো। তাই সে লুকিয়ে সব কাজ করতো।বারো বছর বয়সে তার প্রথম গুরুর কাছে শিখতো বিভিন্ন শাস্ত্রের কথা। পড়ানোর সময় তার সদ্য জাগ্রত কুঁড়ি সদৃশ বুকে হাত রাখেন গুরু। তারপর বনের নিভৃতে কচি বয়সে তার উপর বলাৎকার হলো। লৌহশলাকা সম লিঙ্গদন্ডের প্রবেশে ছিন্ন যোনী রক্তাক্ত। তবু এ ঘটনা কাউকে বলেনি, রতি। কারণ তাহলে তার শিক্ষা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। গুরুর কাছে দিনের পর দিন ধর্ষিত তার দেহ,মন। একদিন বিরক্ত হয়ে সে অন্য গুরুর কাছে গেলো।
 তখন তার বয়স পনেরো বছর। বাড়িতে বাবা নেই। মারা গেছেন।মা বিবাহ দিতে চাইলেন। রতি মাকে বললেন,বিবাহের জন্য জন্ম আমার নয়। আমি পড়বো। মা জানতেন তার অন্তরের সব কথা। কিন্তু সেই মা কে হাসুখালির  ডাকাতরা একদিন ধরে নিয়ে গেলো কোথায়,কেউ জানে না। রতিও জানে না। তবু সে ভেঙ্গে পরে নি। মাত্র পনেরো বছর বয়সে রতি অনাথ হলো। কয়েক মাস পরে সে অন্য গুরুর কাছে থাকতো।আশ্রমের কাজ করে দিতো। আর তার বদলে গুরুদেব তাকে খেতে দিতো ও শিক্ষাদান করতো।
সে নতুন গুরুর কাছে গেলো ইচ্ছে করে। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলো গুরুর কাছে। আরও জানতে হবে তাকে সব গুপ্ত বিষয়ে। এবার রতি গুরুদেবকে সরাসরি বললেন,আমি গুপ্তশাস্ত্র সম্বন্ধে জানতে চাই। আমাকে শিক্ষাদান করুন দয়া করে। বশীকরণ,সম্মোহন,তৃপ্তকাম সমস্ত বিষয় আমাকে শেখান। গুরু বললেন,এই প্রথম আমি কোনো যুবতীর কাছে সোজাসাপটা কথা শুনলাম। এখন তোমার বয়স কুড়ি বছর। গুপ্তবিদ্যা তোমাকে শেখানো যেতে পারে।গুরু মহাখুশি হয়ে তাকে শিক্ষাদানে রাজী হলেন। তখন রতি সুন্দরী।
যৌন নির্যাতন বিষয়ে বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা তার আছে। কিন্তু ভালোলাগার সন্ধান এবার পেলো।  এবার সে আরও ভালো শিক্ষা পেলো। গুরু যখন বলেন কামশাস্ত্রের কথা তখন তার যোনীদেশ সিক্ত হয়ে ওঠে। রতি চায় গুরু যদি তার যোনীদেশ চোষণ করে তো ভালো হয়। কিন্তু বলে কি করে। যতই হোক গুরু। তখন সে গুরুকে আকর্ষিত করার জন্য গুরুর কাছে শেখা ষোলোকলা অস্ত্রের সাহায্য নিলো। এযে গুরুমারা বিদ্যা। গুরুর একজন বাইশ বছরের পুরুষ ছাত্র আছে। কিন্তু সে তো আনাড়ি,অমনোযোগী।
তাকে দিয়ে কাজ হবে না। গুরুর বয়স তিরিশ কি বত্রিশ বছর হবে। তারপর তিনি সুনুরি, অভিজ্ঞ পুরুষ। তাকেই প্রেমের শেকল পরাতে হবে। যথারীতি গুরুর শেখানো বিদ্যায় গুরু শেকল পরলেন।তার প্রেমে বাঁধা পরলেন।  একরাতে রতি গুরুর ঘরে ঢুকে তার  লিঙ্গ মুখে নিয়ে চুষে উত্থিত করলো।কিছুক্ষণ পরেই গুরু  রতির মুখ থেকে লিঙ্গ টেনে বার করে রতির সিক্ত  যোনীতে আমূল প্রবিষ্ট করলেন। রতি ভাবলেন,এবার পুরুষ পেয়েছি। শীৎকার ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত। গুরু অই অবস্থায় রতির কানের লতি কামড়ে ধরলেন। বুকের কালো বোঁটা কামড়ে আবার ছেড়ে দিলেন। রতি ভাবছে,বড্ড বেশি উত্তজিত হয়ে পরেছেন গুরু। আর কিছুক্ষণ পরেই স্বর্গের আনন্দ পাবো। কিন্তু ভুল ভেঙ্গে গেলো।
 গুরু বীর্যস্খলন করে বললেন,আমি ব্যর্থ হলাম। পারলাম না। আরও ধৈর্য্যের প্রয়োজন। বাড়াতে হবে ধারণশক্তি। রতি বিরক্ত হয়ে বলে উঠলেন,আপনার শিক্ষা কি তাহলে ব্যর্থ। গুরু বললেন,শিক্ষা ব্যর্থ নয়। আচরণ করা কঠিন। তারপর তোমার মতো সুন্দরী। তোমার মতো নারীর সমকক্ষ পাল্লাদার পুরুষ পাওয়া সহজ নয়। গুরুর কথা আজও সত্য। রতি স্বীকার করে, সে আজও মনের মত বির্যবান পুরুষের সন্ধান পায় নি। ধারণশক্তিধর পুরুষের সংখ্যা নিতান্তই লঘু। নিশ্চয় একদিন তার সন্ধান পাবো।
জনপতি গ্রামের ভোল পাল্টে গেলো এক নারীর আশীর্বাদে। রাজা মনে মনে ভাবছেন,এই নারীরত্নকে তিনি মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবেন। চার চারটি নারী সম্ভোগেও তার দেহ,আত্মা তৃপ্ত হয় নি। রাণীরা মধ্যপথে রাস্তা গুলিয়ে ফেলে।সঠিক শিক্ষার অভাব আর কি।রাজা মনে মনে ভাবছেন এইসব কথা। একটা রাতও রাজার ভালোভাবে পার হয় নি।
যৌন ইন্দ্রিয়সুখ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।  তিনি বিড় বিড় করছেন নিজের মনে মনে,প্রথম রাণীকে বললে চোষণ,মর্দন, লেহনে রাজী হয় না। শরীরের যে একটা ভাষা আছে তা পড়তে জানে না।  নিজেও সক্রিয় হয় না আবার হতেও দেয় না। দ্বিতীয়জন দুর্মুখ। তৃতীয়জন গল্প শোনায় বেশি, কাজের থেকে। আর চতুর্থজন ঘুম কাতুরে। তাকে মৃতদেহের মতো বোধ হয়। ঠান্ডা,বরফ,শীতল উলঙ্গ দেহ। পাশে থাকলেও স্পর্শে মন যায় না। রাজা ভাবে,এখানেই বাকী জীবনটা কাটানো যাবে। মনের মতো নারী পেয়েছি। স্বর্গ আর দূরে নেই মনে হচ্ছে।
এদিকে প্রধান পরামর্শদাতা ও পন্ডিত রাজাকে পরামর্শ দিলেন,বেশি ছটপট করবেন না। আমি একবার অই নারীকে দেখতে চাই। তার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাই। আপনি রাজী তো? রাজা বলেন,রাজী। কিন্তু  তার দেহআমি কাউকে স্পর্শ করতে দেবো না। যদি জানতে পারি,তার গর্দান যাবে। পন্ডিত রাজী হলেন। কিন্তু মনে তার অন্য ভাবনা।
এক গভীর চাঁদনী নিশিথে অমিয়ভূষণ ও রতিপ্রিয়া, হাসিমুখ অরণ্যে,উপস্থিত হলো। সেই অরণ্যে আর কেউ নেই। অমিয়ভূষণ শরীরচর্চা করেন। তার আজানুলম্বিত বাহু।দীর্ঘ আকারে,মনোমুগ্ধকর সম্ভাষণে রতিপ্রিয়া খুশি হলো।রতিপ্রিয়া বললো,আমি আপনাকে চিনেছি। আপনি আমার সেই আকাঙ্খিত পুরুষ। আসুন মিলিত হই। অমিয়ভূষণ বললেন,চারদিকে রাজার চর ঘোরঘুরি করছে। গর্দান যাবে আমার। রতিপ্রিয়া বললেন,আমি এই জঙ্গলের সব চিনি। এমন গভীর অরণ্যে আমরা ফুলশয্যা সাজাবো কেউ দেখতে পাবে না।
অমিয়ভূষণ বললেন,এটাই শেষ ফুলশয্যা হবে না তো? রতিপ্রিয়া বললেন,আপনি কি ভীত? তাহলে সম্পূর্ণ  যৌন সফলতা পাওয়া অসম্ভব। যৌনতার অর্থ শুধু দেহ নয়। চোখের চাহনি,গ্রীবা ভঙ্গিমা,পরস্পরের যৌন প্রলাপ, পোশাক,মন,প্রতীক্ষা,পরিণতি সবকিছুর উপর নির্ভর করে কাম সফলতা।
অমিয় বললেন,আমি ভীত নই। তবে কথার খেলাপ হবে। তোমার মত সুন্দরীর জন্য সবকিছুই করতে পারি। তারপর শয্যা তৈরি হলো। ফুলের নয়। ঝরা পাতার শয্যা। দুজনে উলঙ্গ হলো। অমিয়র দীর্ঘ লিঙ্গ রতি চুষতে শুরু করলো। অমিয় বললেন,ধীরে নারী। তোমার ওষ্ঠে আমার ওষ্ঠ। তোমার মাইযুগলের বৃন্ত কালো আঙ্গুর। আমি চোষণ করি। কুড়ি মিনিট কেটে গেলো। রতি পাগলীনি প্রায়। তারপর ধীরে ধীরে অমিয় যোনিদেশ দখল করলেন।
চর্ব্য,চোষ্য,লেহনের মাধ্যমে নারীর মন মাতানোর খেলায় পারদর্শী অমিয় রতিকে কামবাণে বিদ্ধ করলেন। রতির উপোসী যোনীদেশ। পাগলী রতি, ঠেলে ফেললেন অমিয়কে পাতার বিছানায় । অমিয় হাসিমুখে সব আদর গ্রহণ করলেন।বিলাপ করলেন,পাগলের মতো,আমাকে গর্দান দিতে হলেও আর দুঃখ নাই। আমি তৃপ্ত। তুমি কি তৃপ্ত নারী। অমিয় দেখলেন,রতি বলছেন,হ্যাঁ প্রিয়। তুমিই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। বলতে বলতেই আবার তিনি জড়িয়ে ধরলেন আশার পুরুষকে। তারপর শুয়ে থাকলেন অনেকক্ষণ। গোপনে অমিয় বললেন,তুমি রাজার আশ্রয়ে থাকো। আমি তোমাকে ঠিক সুখে রাখবো।
তারপর রতি রাজার আশ্রয়ে গেলেন গ্রামবাসীদের কাছে বিদায় নিয়ে। সবাই সাগ্রহে পৌঁছে দিলো সুন্দরী রতিকে।আজ সে সুন্দর পোশাক পরেছে। রাজা বললেন,কি করে হলো তোমার এত বেশভূষা। রতি বললেন,তোমার জন্য রাজা। আজ আমি পছন্দের পুরুষ পেয়েছি তাই। রাজা খুব খুশি হলেন। গ্রাম জুড়ে তোড়জোড় শুরু হলো খাওয়া আর নাচ, গানের।রাজা পন্ডিত অমিয়ভূষণকে বললেন,আপনি কি এমন মন্ত্র দিলেন যে রতি পাল্টে গেলো। অমিয় বললেন,আমি আপনার গুণকির্তন করেছি ওর কানে। তাতেই ওর পাগলির মত অবস্থা।  বিছানায় গেলে কি করবে এবার দেখুন।
যথারীতি রজনীকালে রাজা শয্যায় গেলেন। সেখানে অপেক্ষায় রতি। রতি প্রথমেই রাজাকে উলঙ্গ করলেন। তারপর দেখলেন, রাজামশাই ঘাঘরা তুলে লিঙ্গ প্রবেশ করালেন। তারপর বিলাপের সুরে বললেন, এবার দেখো তোমার কি দশা করি। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজা হাঁপিয়ে পরলেন। তারপর চিত হয়ে শুয়ে ঘুম। অমিয় একটি পাথরের বাটি রতির হাতে দিয়ে চলে গেলেন। রাজাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাইয়ে দিলেন দুধের সঙ্গে মেশানো ঘুমের বড়ি। রাজা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হলেন। তারপর অন্দরমহলের অন্য ঘরে রতি ও অমিয়ভূষণ উলঙ্গ হলেন। অমিয়ভূষণ রতিকে কোলে তুলে দাঁড়িয়ে রতিক্রিয়ায় মত্ত হাতির মতো লাফালেন। প্রায় অর্ধ রজনী পরে রতি চলে এলেন রাজার ঘরে। কেউ জানলো না গোপন কথা।
পরের দিন রাজা ওরতি বনে বনে ঘুরলেন। রাজার বায়নামত কাজ করলেন। রতি এদিক ওদিক দেখছেন কিন্তু অমিয়কে দেখতে পাচ্ছেন না। রাজা স্নানের ঘরে গেলে রতি অমিয়র ঘরে দেখলেন আর একজন সুন্দরী তন্বীকে আনন্দ দিতে ব্যস্ত তার সাধের নাগর। রতির রাগ হলো। রজনীকালে অমিয়র ঘরে দেখা হলে রতি বললেন,দিনে অই কন্যাটি কে ছিলো। অমিয় বললেন রাজার বড় রাণীর কন্যা এখানে থাকেন। তিনি বিয়ে করেন নি আমার জন্য। তারও শখ, চাহিদা মেটায় আমি। এই সময়টা তোমার। এসো রতি,আমরা মিলিত হই।
রতির ক্রোধ হলেও তা প্রকাশ করে নি। পরের দিন সে রাজাকে নিয়ে চলে গেলো বনে। সেখানে আসল কাম শাস্ত্র শেখালো রাজাকে। রাজা পুঁথির মধ্যে  সবকিছু লিপিবদ্ধ করার উপদেশ দিলেন রতিকে। রতির কথামত কাজ করে রাজা আনন্দ পেলেন অনেক বেশি। রতি পুরুষ তৈরির কাজে লেগে পরলো। শরীর পেরিয়ে এক ভালোবাসা তৈরি হলো রাজার প্রতি তার মনে।
সে ভাবলো,অমিয় অহংকারী, তাই অন্য নারীতে আসক্ত। কিন্তু রাজা তার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকে নিজের সবকিছু ভুলে গেছে। এ তো ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই নয়। রতিকে সবসময় রাজা চোখে চোখে রাখে। যত্ন করে। এত ভালোবাসা রতি আগে কখনও পায় নি। তাই রাজাকে নিজের মনের মত করার জন্য গুপ্তশিক্ষা দিতে শুরু করেছে।
প্রায় দুবছর পরে রতি রাজাকে যৌনবিদ্যায় সম্পূর্ণ পারদর্শী করে তুললো। অমিয়ভূষণকে তার আর প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাকে এখানে দেখতে সে চায় না। তার পাওয়া প্রথম শক্তিমান পুরুষ অন্যজনের হয়ে গেছে,অনেকের হয়ে গেছে এই নিষ্ঠুর সত্য সে কোনোমতেই সহ্য করতে পারে না। তাই সে রাজাকে বললো,অমিয়ভূষণকে তাড়াও। রাজা বললেন,ঠিক বলেছো তুমি। ওর জ্ঞান আমাকে মানুষ করতে পারে নি। আমি ওর গর্দান নেবো। রতি বললেন,ক্ষমা রাজার শ্রেষ্ঠ গুণ। তুমি ওকে তোমার প্রথম রাজধানীতে পাঠিয়ে দাও।
অমিয় ভূষণ চলে এলো রাজার চার রাণীর কাছে। সেখানে রাজার নির্দেশে প্রধান হিসাবে অস্থায়ীপদে নিযুক্ত হলো। রাণীদের প্রতি ভালোবাসা রাজার নেই। এবার অমিয়ভূষণের চোখ গেলো রাণীদের প্রতি। রাণীরা এখন উপোসী ছারপোকার মতো, সে মনে মনে বলে।
 প্রায় পাঁচ বছর যৌন সঙ্গম তাদের স্থগিত হয়ে আছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রথমে একরাতে সে বড় রাণীর কাছে গেলো। কাম শাস্ত্রে অমিয় পারদর্শী। রাণীকে ঘরে একা পেয়ে বললো,তুমি কি সুন্দরী। আজ পর্যন্ত তোমার মত সুন্দরী দেখি নাই। রাণী বিগলিত হয়ে বললো,তোমার মত সুপুরুষ আমার প্রয়োজন। অমিয় কামকেলি শুরু করে বললো,তুমি সুন্দরী। অথচ রাজা তোমাকে অবহেলা করে।

চলবে  ……

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: