ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) — সুদীপ ঘোষাল – পর্ব -৩

ঈশানী পাড়ের ইতিকথা (ঐতিহাসিক) -- সুদীপ ঘোষাল  -  পর্ব -৩
আমরা পড়তে যেতাম রেল লাইনের ওপাড়ে।
একদিন স্যার পড়াতে পড়াতে অনেক রাত হয়ে গেছে । প্রায় দশটা । বাড়ি ফিরতে হতো লাইনের পাশ দিয়ে ।
চারজনে  ভয়ে ভয়ে লাইনের পাশ দিয়ে হাঁটছি । একটা ট্রেন চলে গেলো বুক কাঁপিয়ে ।
অমাবস্যা র রাতে অন্ধকার হয় শুনেছি । কিন্তু তার থেকেও ঘন অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছি চারজন ।
হঠাৎ সামনে দেখি গলা থেকে মাথা পর্যন্ত কাটা একটা স্কন্ধ কাটা ভূত ।আমার আর অনুপের  হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে ।
ছোটো থেকেই বিশুর  সাহস বেশী । আমরা ভয়ে বু বু করছি । এমন সময় দেখলাম অনুপকে  কে যেনো ছুঁড়ে পাশের হাই ড্রেনে  ফেলে দিলো ।
বিশু দা হাঁক  দিয়ে বললেন, কে রে ভয় দেখাচ্ছিস । কিন্তু ভূত কোনো সাড়া না দিয়ে থপাস করে বসে পড়লো ।
রতন দা বললেন, কে তুমি, বসে পড়লে কেনো ?
তারপর লাইনের পাথর কুড়িয়ে যেই না মারতে যাবেন তখন ভূতটা কথা বললো ।
বললো,  আমি ভূত নই । আমি মানুষ ।
তারপর আমরা দেখলাম তার আপাদ মস্তক কালো জামা ও প্যান্ট দিয়ে ঢাকা ।
কালো জামার মাঝে সাদা গোল গোল ছাপ । ফলে অন্ধকারে আমরা সাদা ছাপ দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আর কিছু দেখা যাচ্ছে না । শুধু দেহ টা ভেসে যাচ্ছে ।
আমি  জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে অনুপকে ছুঁড়ে ফেললো কে ?
জয়া বললো, ভয় পেলে মানুষের আপৎকালীন হরমোন বের হয় । ফলে মানুষ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য লাফিয়ে পড়ে । জয়া পাশের গ্রামের মেয়ে। তাকে আমরা এগিয়ে দিয়ে আসতাম তাদের গ্রামে।
রতনদা বললেন, আর বসে পড়ে লোক টা  পেচ্ছাপ করছিলো ।আর আমরা মনে করেছি ভূত বসে পড়েছে ।
অনুপ ততক্ষণে ড্রেনের কাদা মেখে উঠে আসছে ভূত হয়ে ।
বাড়িতে গিয়ে বলার পরে সবাই  হেসে ফেলেছেন ।
তারপর ভালো মন্দে কেটে যায় সময়।
অপরের ভালো কাজে বাধা দিয়ে একদল বাঁদরের দল মজা পায়। ভালো কাজ দেখলেই তাদের মাথাব্যথা। তারা সমাজের ভালো দেখতে চায় না। কারণ তাহলে তাদের অসুবিধা। গোলেমালে তাদের অনেক কাজ সহজে হয়। গোলমাল পাকাতেই তাদের পাকামি প্রকট করে আনন্দ পায়। পৃথিবীর পাকে তাদের পাকামি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ভালো কাজ কিন্তু চিরদিন অমরত্ব  পেয়ে যায় মানুষের হৃদয়ে।সন্তুর ভাবনার পাশে বসে আছে চিরনবীনের দল।
জয়া দেখে নাতনিকে। আর ভাবে তার ছোটোবেলা ফিরে এসেছে নাতনির রূপ ধরে। এই ভাবেই চিরকাল প্রবাহ চলে জীবনের। সমুদ্রের ঢেউ এর মতো তালে তালে।
     চার
 সন্তু ঈশানী নদীর তীরে পূর্বে জনপতি বলে এক গ্রামের কথা বুড়ো হারুদাদুর কাছে শুনেছে।এক রাজার প্রেম কাহিনী।প্রায় পাঁচ শো বছর আগের কথা।অনেকে বলে আজব কাহিনী।কিন্তু সন্তু জানে ইতিহাস মিথ্যা বলে না।সবাই বসে আছে।দাদু বলে চলেছেন,
জনপতি গ্রামে রাজা এসেছেন। ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কোনো এক দেশের রাজাকে  দেখতে আশেপাশের গ্রামের লোক জড়ো হয়েছে। রাজা খুব খুশি। চারিদিকে রাজার জয়ধ্বনি দিচ্ছে সবাই। রাজা অভিবাদন গ্রহণ করছেন হাসিমুখে। অনেকে মাল্যদান করছে। হঠাৎ তার নজর গেলো এক স্বল্পবাস পরিহিতা
নারীর প্রতি। রাজা দেখলেন তার পরনে পোশাক প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ গায়ে দামী স্বর্ণঅলঙ্কার।প্রথমে রাজার ক্রোধ হলো। তারপর এক সেনা কে নির্দেশ দিলেন অই নারীকে সবার আড়ালে আনার জন্য। রাজার আদেশ পালিত হলো।  রাজা আড়ালে ডাকলেন রমণীকে,নির্জনে।কারণ লোকলজ্জা বলে একটা কথা আছে।
আড়ালে জিজ্ঞাসা করলেন,এই বেশে তুমি রাজাকে দেখতে এসেছো এত লোকের সামনে। তোমার সাহস তো কম নয়। রাজা দেখলেন,রমণী সুন্দরী। স্তনযুগল যেনো আহ্বান করছে তাকে,যৌনক্রিড়ায়। রমণী বললেন,আমার কাছে আজ পর্যন্ত নারী, পুরুষের ভেদ চোখে পরে নাই। তাই নারীর কাছে আর এক নারীর লজ্জা কিসের?
আমি যতজন পুরুষের সান্নিধ্যে এসেছি তারা সকলেই নপুংসক সমান।নিতান্তই কাপুরুষ।রাজা বললেন,তুমি নারী হয়ে এত নির্লজ্জ কেন? রাজা  বললেন,তোমার নাম? নারী বললো,রতিপ্রিয়া। সে আবার বললো, আপনার স্ত্রীসংখ্যা কতজন রাজন ?
রাজা বললেন,চারজন।কেন? রমণী বললেন,আপনি অভয় দিলে, বলি একটা কথা। রাজা বললেন,ভয় নেই। তোমার সাহস দেখে আমি খুশি। তোমার রূপেও আমি মুগ্ধ। চলো জঙ্গলে যাই।সেখানেই কথা বলা যাবে। রাজা প্রহরীদের সংবাদ প্রেরণ করে রতিকে নিয়ে আড়ালে এলেন।  জঙ্গলে গিয়ে রমণী বললেন, আপনি আপনার রাণীদের যৌন আনন্দ দিয়ে তৃপ্ত করতে পেরেছেন কি?রাজা বললেন,তোমার ভয় না হলে, পরীক্ষা করে দেখতে পারো সুন্দরী,তবে আমার মনে হয় আমি পুরোপুরি সফল নই। ।
 আমি নিজেকে তোমার নিকট সমর্পণ করছি। তুমি এই যৌনশাস্ত্র পড়েছো, অনুভব করেছো।তাই অন্য রমণীর থেকে তোমার ককাছে প্রত্যাশা আমার ববেশি। তোমার সব দায়ীত্ব আজ থেকে আমার হলো।তোমার সকল আশা পূরণ করবো আমি। রতি বললেন,আমি বহুবল্লভা। শুনুন রাজন আমার প্রেমিক উমাপদর কথা।
উমাপদ একবার আমার প্রেমে পরলেন। এতদিন গীতা,মহাভারত ঘাঁটাঘাঁটি করে ছাপান্ন বছর বয়সে নতুন করে এক সুন্দরী  নারীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন উমাপদ। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে বর্তমান। আবার জাঁহাবাজ স্ত্রীকে থোরাই তোয়াক্কা না করে কোন সাহসে তিনি এ কাজ করলেন।
গল্পটা মনে করুন তার মুখেই শুনছেন রাজন। আমি তার মতোই বর্ণনা করি আপনার সকাশে। আমি উমাপদ পাল। রাজার অন্যতম সেনাপতি। মাইনে নেহাৎ কম নয়। প্রায় ষাট হাজার মুদ্রার কাছাকাছি। তাছাড়া উপরি পাওনা বিশ হাজার মুদ্রার কাছাকাছি।
স্ত্রী বিষ খেয়েছেন। তাকে নিয়ে ছোটাছুটি করলো আত্মীয়স্বজন,পাড়ার লোকজন।প্রায় এক লাখ মুদ্রা খরচ করে তাকে বাঁচিয়ে আনা হলো। তা না হলে কারাগার বাস হত অবধারিত। পাড়ার লোক গালাগালি করলো। আমি সোজা সাপটা ছেলে মেয়েদের এক জায়গায় করে স্ত্রীকে বললাম,তোমার মরার প্রয়োজন নেই।
আমার মাইনে ষাট হাজার মুদ্রা প্রতি মাসে। সংসার খরচ বাবদ চল্লিশ আর জমানো বাবদ কুড়ি। মোট ষাট হাজার প্রতি মাসে তুলে দেবো তোমার হাতে। আর বেশি বিরক্ত করলে আমি এ বাড়িতে থাকবো না। আসবো না। আমার থাকার জায়গা আছে। গিন্নি তবু তেড়েমেরে বললো,তুমি সব ভুলে গেলে। অর্থই সব হলো। আমাদের ভালোবাসার কোনো দাম নেই। আমি কি করে বোঝাই, তোমাদের ভালোবাসা নিজেদের স্বার্থের জন্য।
আর আমার ভালোবাসার জন আমাকে ভালোবাসে স্বার্থহীনভাবে। আমার প্রতিটি অনুভবের কথা সে বোঝে। আমার আত্মার উত্তরণ ঘটিয়ে আমাকে উন্নত করে। সমাজের উচিত আমাদের প্রেমকে কুর্নিশ করা। তোমার মগজে এসব কথা ঢুকবে না। তোমরা পৃথিবীতে এসেছো খেতে,শুতে আর হাগতে। তারপর চলে যাবে ভিখারির মত খালি আত্মায়।
আর আমরা প্রেমিক যারা তারা মরবো আত্মার পূর্ণ দর্শনে। সেদিন থেকে গিন্নি চুপ করেই আছে। সে বলে,থাক তবু তো কাছে আছে। যা করছে করুক গো। মরুক গো। আবার পরক্ষণেই বলে,হাগো তোমার মনে এই ছিলো। এতদিনের সংসার, আর আমাদের ভুলে গেলে। আমি কি করে বোঝাই,আমি তোমাদের ভুলি নাই।
আমি শুধু একটু নিজের আত্মার উন্নয়ন ঘটাতে চাইছি। একটু শরীরের আনাচে কানাচে অতৃপ্ত আশা গুলোকে সাজাতে চাইছি। আমাকে একটু ভাসতে দাও, “আমাকে আমার মত থাকতে দাও”…
আর অন্য কিছু নয়। কদিনের অতিথি আমরা এই পৃথিবীতে। কেউ থাকবো না। তবু যতদিন আছি একটু আনন্দে থাকি। তুমি তোমার আনন্দ খুঁজে নাও,আমি আমার মত থাকি। এইটুকু ত্যাগস্বীকার করো। তুমি,আমি,ছেলে,মেয়ে কেউ কারো নই। বেঁচে থাকা অবস্থায় এটুকু বুঝতে দাও। মরে যাওয়ার পরে সমাজের লোক সবাই বলে,কেউ কারো নয় গো।
তবে বেঁচে থাকতে কেনো নয়। এই সত্য কথাটা কেন তুমি অস্বীকার করছো। কাউকে পর ভেবো না। আপনজনও কেউ নয়। শুধু দেওয়া নেওয়ার খেলা থেকে আমাকে দুদন্ড শান্তি দাও। রতি আমার জীবনে যে আনন্দ,রস,জ্ঞান এনেছেন তোমার ক্ষমতা নেই সেই স্তরে ওঠার। আমি দিবা,নিশি রতির প্রেমে আবিষ্ট।
তাহলে রাজন, বলুন কোন আনন্দ পেলে মানুষ বয়স মানে না। আত্মীয়স্বজন মানে না। বেরিয়ে আসে সংসারের শৃঙ্খল থেকে। রাজা বললেন,আমি সব শুনলাম। তুমি আজ থেকে শুধু আমার। আমাকে তোমার উপযুক্ত করে গড়ে তোলো। আমি আবার নতুন করে বাঁচতে চাই আনন্দে। শুধু আনন্দ। আর কিছু নয়।
কিশোরী বয়স থেকেই নরনারীর যৌন বিষয়ে আমি আগ্রহী। আমি কাম বিষয়ে গ্রন্থ লিখবো। আমার দীর্ঘ দিনের আশা।  সহজ,সরল করে,সাধারণ লোকের বোঝার মত করে । বাৎসায়নের কামশাস্ত্র, বা আরও প্রাচীন অনেক কামশাস্ত্র  থেকে নির্যাসটুকু নিয়ে সহজ সরল ভাষায় নতুন করে লিপিবদ্ধ করবো। আরও অনেক নতুন তথ্য যোগ করবো যাতে সকলে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। আর সেই কাম শাস্ত্রের নাম রাখবো,শরীর এক বাঁশী। এর জন্য  আপনার সাহায্য প্রার্থনা করি।
অর্থবল,মনোবল সকল কিছুই আপনার কাছে আশা করি পাবো। রাজা বললেন,নিশ্চয় পাবে রতি। রতি বললেন, আচ্ছা আপনি বলুন, আপনি একটিমাত্র স্ত্রীকেও  যৌনতৃপ্তি দিতে পেরেছেন কি?রাজা ভাবলেন,এই নারী বিদূষিও বটে। শুধুমাত্র সাধারণ যৌনবিলাসি নয়। তারপর রাজা বললেন,সেভাবে ভাবিনি কোনোদিন।তবে তোমার চিন্তনে,মননে আমি আনন্দিত এবং  আমি সহমত।
আমি তেমাকে অবশ্যই সাহায্য করবো।  রমণী রতিপ্রিয়া বললেন,আমি জানি চারটি স্ত্রীকে যৌনতৃপ্ত করা, এক ব্যস্ত রাজার পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের একসাথে নিয়ে কোনোদিন ভ্রমণ করেছেন কোনোদিন। অন্দরমহলে বন্দি থাকতে থাকতে তাদের মন প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে। তখন তাদের যৌনক্রিয়া এক যান্ত্রিক পদ্ধতি হয়ে ওঠে।  আমার প্রাণও এক জায়গায় থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। ভ্রমণ সফল কামের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
আমাকে কামতৃপ্ত করতে পারেনি কোনো পুরুষ আজ পর্যন্ত। তাই আমি স্বল্পবাসে থাকি। কাউকে যথার্থ পুরুষ বলে মনে করি না। তাই আমার ভয় নাই। এই দেখুন আমার স্তনযুগল। আপনাকে মিলনের আহ্বান জানায়।প্রাচীন যুগে স্তন অন্য দেহের মতো উন্মুক্ত থাকতো। তখন কোনো আপত্তি ছিলো না সমাজের।তাহলে আজ কেন?
রাজা কামে আসক্ত হয়ে পরলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করলেন।মনে মনে ভাবলেন,আমি রাজা। সহজে ধরা দিলে হবে না।  তাই তো  আমি রাজা। রমণী বললেন, আপনি প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই স্তনযুগল দেখেই অনেকের রেতঃপাত হয়ে যায়। কাপুরুষের মতো জড়িয়ে ধরে অনেকে। কিন্তু পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারে না।
ধর্ষকে ধর্ষণ করে নিজের অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য।পশুবৎ আচরণ তাদের। শতধিক তাদের। কিন্তু যে স্বামী, স্ত্রীকে অগ্নি স্বাক্ষী রেখে সকল সুখ দেবার পণ করে। সে যদি বাড়িতে এসে ফুলের বিছানায় রতিসুখ না দিতে পারে তবে সে তো ধর্ষেণরই নামান্তর।
তাই কোনো পুরুষকে আমি পুরুষ বলি না। রাজা খুব চিন্তিত হলেন। তিনি এ বিষয়ে কথা বলার আগে কয়েকদিন সময় চাইলেন। রতিপ্রিয়া বললেন,আপনি তো চলে যাবেন। রাজা আশ্বাস দিলেন,তোমাকে রতিতৃপ্ত করার আগে,তোমার সমস্ত ইচ্ছা আমি পূরণ করবো। প্রথম দর্শনেই আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
তাই তোমার গ্রন্থ প্রকাশের আগে আমি এ গ্রাম ছাড়বো না। তুমি লেখো নবীন কামশাস্ত্র চিরনবীনের জন্য। তারা যেনো তাদের ক্ষণিকের যৌবনের স্বাদ পায়।
মামূলি গন্ডি ছাড়িয়ে যৌনমিলন সফল হোক নারী পুরুষের। আমি তোমার কাছে বন্দি হয়ে থাকতে চাই প্রিয়া। রতি বললেন,তাহলে আপনার রাজপাট কিভাবে চলবে। রাজা বললেন,চলবে, আমি এখান থেকেই সমস্ত দেশ পরিচালনা করবো।আমার লোকবল আছে। সভায় অনেক রত্ন আছে।আমি তোমাকে আমার কাছে রাখতে চাই।তুমি কি রাজী?রতি বললেন,অবশ্যই রাজী।তবে কয়েকদিন সময় আমাকে দিন।
রাজা বললেন,তাই হবে।  তারপর দুজনেই স্বস্থানে গমণ করলেন। রাজা সেনাপতিকে নির্দেশ দিলেন,এখানে রাজপ্রাসাদ গড়ে তোলো। সমস্ত ব্যবস্থা এই গ্রামে করো। এটি আমার দ্বিতীয় রাজধানী হোক। রাজার নির্দেশে সেখানে গড়ে উঠলো বাজার,হাট,সড়ক,ব্রীজ সবকিছু। কেউ জানলো না, এক রমণীর রমনীয় আকর্ষণে রাজা বাঁধা পরেছেন। সেই রমণীর জন্য এই গ্রাম রাজার দ্বিতীয় রাজধানী হলো। কয়েক দিন পরে রাজা রতিপ্রিয়াকে প্রাসাদে আসতে বললেন।
রতিপ্রিয়া বললেন,আমার গ্রামের সকলে সুখে থাকলে আমি সুখি হবো এবং অপরকে সুখী করতে পারবো। রাজা আশ্বর্য হলেন। যে নারী পরের সুখে সুখী সে গ্রামের দেবীস্বরূপা। তাকে শত চুম্বনে সিক্ত করি। রাজা ভাবেন আর তার প্রধান পরামর্শদাতা ও সর্বশাস্ত্রে পারদর্শী অমিয়ভূষণের পরামর্শ মতো কাজ করেন।
অমিয় বলেন,এ রমণীকুলের শ্রেষ্ঠা রমণী। এনাকে সাবধানে বুঝতে হবে। খোলা তলোয়ার আনাড়ির হাতে গেলে কেটে,ছরে গিয়ে রক্তাক্ত হবার ভয় থাকে। তাই হে রাজন সাবধান।
রাজা অই গ্রামের সকলের জন্য সুখ,সুবিধার ব্যবস্থা করলেন। সকলের পাকা বাড়ি হলো। প্রত্যেক পরিবার পিছু দুজনে কাজ পেলো। গ্রামের সমস্ত পুকুরে মাছ চাষ হলো। কৃষিকাজ শুরু হলো আশেপাশের সমস্ত গ্রামে তোড়জোর করে। সকলকে রাজার ভান্ডার থেকে অর্থ সাহায্য করা হলো। কিছুদিনের মধ্যেই এলাকার উন্নয়ন বাড়তে লাগলো।
রতিপ্রিয়া বুঝতে পারলো না কি করে সব উল্টোপাল্টা হয়ে গেলো। গ্রামের আশেপাশে কোনো অভাবের ছাপ নেই। আজ তার মনের গোপন আশা পূরণ হয়েছে। সে একা তার আপনজনদের অভাব দূর করতে পারতো না। রাজা তার মনোবাসনা পূর্ণ করেছেন। রাজার কাছে সে কৃতজ্ঞ। এবার রাজাকে পরিতৃপ্ত করা তার কাজ। তার আত্মার উন্নয়ন ঘটানোও তার প্রধান কাজ। এ কাজ তাকে করতেই হবে।

চলবে  ————

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: