উদিয়মান সূর্যের দেশে – সুদীপ ঘোষাল

আমাদর ছোটবেলার বন্ধু বিশু একবার জাপান দেশ ভ্রমণ করার আবেদন করল বন্ধু কমিটিকে। রমেন বললো, খরচ অনেক। আদৃজা বললো, এক একজনের বিমানে আসা যাওয়া আশি হাজার টাকা ভাড়া লাগবে। বিশু বললো, আমাদের বন্ধু কোঅপরাটিভে অনেক টাকা জমেছে।

পাঁচবছর কোথাও যায় নি। এবার টাকাগুলো ভ্রমণে খরচ হবে আর বাকিটা দান করা হবে, গরীবদের, ফিরে এসে।বিশুর মুখের উপর আমরা কেউ কথা বলি না। তার কথাই ফাইনাল হলো। আদৃজা, রমেন, বিরাজুল, বিশু ও আমি দমদমে পৌঁছে গেলাম এক শুভদিন দেখে সকালবেলা। অবশ্য আগে থেকে ভ্রমণ সংক্রান্ত ভিসা সমস্যা ও আনুষঙ্গিক আইনি কাজ মিটিয়ে নিয়েছে বিশু।

বিশু লাগেজগুলো একসঙ্গে বিমানবন্দরে ট্রলারে চাপিয়ে পৌঁছে গেল ওয়েটিং রুমে। চেকিং পর্ব সেরে আমরা নিশ্রাম নিচ্ছি। হঠাৎ গোপাল ভিন্ডার সঙ্গে দেখা। আমাদের রাজস্থানী বন্ধু। একসাথে আমরা মেসে ভাড়া থাকতাম কলকাতার আমহার্ষ্ট স্ট্রীটে। গলির ভেতরে ভাঙ্গাচোরা, স্যাঁতসেতে এক ভুতুড়ে বাড়িতে আমরা থাকতাম কয়েকজন বন্ধু। গোপাল বললো, ক্যায়সা হো তুমলোগ?

বিশু বললো, বাড়িয়া ভাইয়া। আপলোগ ঠিক হো তো।

গোপাল আমাদের সকলকে কফি খাওয়ালো। কফি পানের পরে বিদায়পর্ব। আমাদের বিমান ছাড়ার সময় হয়েছে। গোপাল এখানে কাজ করে। সে সবকিছু ঠিকমত বলে আমাদের অসুবিধা দূর করলো।

বিমানে আদৃজা বিশুকে ভিসা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানতে চাইলো। বিশু বললো,ভারতীয়দের ভিসা লাগে ইউরোপীয় দেশগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে। আশা করি সবদেশেরই হয়ত লাগে।

ভিসা-মুক্ত বা আগমনের পর ৪৯ টি দেশে ভিসা প্রাপ্তির ভিত্তিতে বৈশ্বিকভাবে ভ্রমণ স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান ভালো। ভারতীয়রা বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে পাড়ি জমায় বিশেষভাবে ইউরোপ-আমেরিকাতে, সেইজন্যে ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ইউরোপ-আমেরিকা ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করা আছে। ৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখ থেকে ভারতীয় টুরিস্ট এবং ব্যবসায়ীরা বা চিকিৎসা সেবা নিতে ইচ্ছুক মানুষরা রাশিয়াতে ভিসা ছাড়াই যেতে পারবে।

ভারতীয় ভ্রমণকারীদের ভূটান এবং নেপাল ছাড়া অন্য রাষ্ট্রে ভ্রমণকালে অপরিশোধযোগ্য কাজে লিপ্ত হতে হলে একটা ভিসা বা কাজের স্বীকৃতিপত্র নিতে হয়। রাজ্যের বাসিন্দা নয় এমন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এইসব রাজ্যে ভ্রমণকালে ইনার লাইন পারমিট (ILP) নিতে হয়। আইএলপি অনলাইন বা এইসব রাজ্যের বিমানবন্দর সমূহ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।বিরাজুল বললো, এত খুঁটিনাটি আমরা জানতে পারি না কেন?

বিশু বললো, জানতে হয় না হলে পিছিয়ে পড়তে হয়।

আমরা জাপানের টোকিও -র চিবা বিমানবন্দরে নেমে একটা গাড়িতে করে খোঁজ নিয়ে চলে এলাম হোটেলে। বিশাল হোটেল তেমনই তার সুব্যবস্থা।

রমেন বলল উদীয়মান সূর্যের দেশে আমরা এলাম। এ আমার কল্পনার বাইরে ছিলো। বিরাজুল ও আদৃজা বললো, খুব ঘুরবো কয়েকদিন। আমি বললাম, জাপান দেশের বিবরণ কিছু দিতে পারবি। আসার আগে পড়াশুনা করেছিস কিছু। বিরাজুল বললো, জানি অল্প। তবে বিশু আছে। ও একাই একশ। আমরা সকলে বললাম, তা বটে তা বটে। একদম হককথা কইছে বিরাজুল। বিশু বললো, পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হল জাপান ।

এই দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর, চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার পূর্ব দিকে উত্তরে ওখোৎস্ক সাগর থেকে দক্ষিণ পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান পর্যন্ত প্রসারিত। যে কাঞ্জি অনুসারে জাপানের নামটি এসেছে, সেটির অর্থ “সূর্য উৎস”। জাপানকে প্রায়শই “উদীয়মান সূর্যের দেশ” বলে অভিহিত করা হয়।জাপান একটি যৌগিক আগ্নেয়গিরীয় দ্বীপমালা। এই দ্বীপমালাটি ৬,৮৫২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জাপানের বৃহত্তম চারটি দ্বীপ হল হোনশু, হোক্কাইদো, ক্যুশু ও শিকোকু।

এই চারটি দ্বীপ জাপানের মোট ভূখণ্ডের ৯৭% এলাকা নিয়ে গঠিত। জাপানের জনসংখ্যা ১২৬ মিলিয়ন। জনসংখ্যার হিসেবে এটি বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। জাপানের রাজধানী টোকিও শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৯.১ মিলিয়ন। এই শহরটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার ২য় বৃহত্তম মূল শহর। টোকিও ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন রাজ্য নিয়ে গঠিত বৃহত্তর টোকিও অঞ্চলের জনসংখ্যা ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম মহানগরীয় অর্থনীতি।

আমি বললাম, প্রেমেন্দ্র মিত্রের ঘনাদা সাগালিন দ্বীপের কথা বলেছিলেন। মনে আছে তোর বিশু। বিশু বললো, জাপানের সাগালিন এবং ওহোতস্ক সমুদ্র দ্বারা সাখালিনটি ধুয়ে ফেলা হয়, এটি জাপান থেকে লা পেরুজের তলদেশে তাতার তীর দ্বারা মহাদেশ থেকে পৃথক হয়। সাখালিনের মোট এলাকা 76 হাজার বর্গ কিমি। এবং ফর্ম, এটি একটি মাছ অনুরূপ, এশিয়ার তীরে বরাবর প্রসারিত। দ্বীপটির দক্ষিণে, পাহাড়গুলি আয়ত্ত করে,

উত্তরের কাছে, তাদের নিম্নভূমি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, এবং শুধুমাত্র শ্মিট্ট উপদ্বীপে, সাখালিনের চূড়ান্ত উত্তর দিকটি হ’ল পাহাড়ের শিখরগুলি আবার দৃশ্যমান। যেমন একটি জটিল ত্রাণ, পাশাপাশি সমুদ্র এবং সমুদ্রের নিকটবর্তী, উদ্ভিদ এবং প্রাণী বিশ্বের মৌলিকত্ব নির্ধারিত।সাখালিন বৃহত্তম রাশিয়ান দ্বীপ। জাপানীরা এই দ্বীপটি করাফুতোকে উপভোগ করে, যার অর্থ “ঈশ্বরের ভূমি মুখ।”

দ্বীপটি 1643 সালে ডাচম্যান দে ভ্রিসের আবিষ্কৃত হয়েছিল। এবং দীর্ঘদিন ধরে, সাখালিনকে উপদ্বীপ বলে মনে করা হয়েছিল। সম্ভাব্য কারণ দ্বীপটি মূল ভূখন্ড থেকে পৃথক হওয়ার স্রোত শীতে ঠান্ডা হয়।জাপানের সাগালিন এবং ওহোতস্ক সমুদ্র দ্বারা সাখালিনটি ধুয়ে ফেলা হয়, এটি জাপান থেকে লা পেরুজের তলদেশে তাতার তীর দ্বারা মহাদেশ থেকে পৃথক হয়। সাখালিনের মোট এলাকা 76 হাজার বর্গ কিমি।

এবং ফর্ম, এটি একটি মাছ অনুরূপ, এশিয়ার তীরে বরাবর প্রসারিত। দ্বীপটির দক্ষিণে, পাহাড়গুলি আয়ত্ত করে, উত্তরের কাছে, তাদের নিম্নভূমি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, এবং শুধুমাত্র শ্মিট্ট উপদ্বীপে, সাখালিনের চূড়ান্ত উত্তর দিকটি হ’ল পাহাড়ের শিখরগুলি আবার দৃশ্যমান। যেমন একটি জটিল ত্রাণ, পাশাপাশি সমুদ্র এবং সমুদ্রের নিকটবর্তী, উদ্ভিদ এবং প্রাণী বিশ্বের মৌলিকত্ব নির্ধারিত।কারণ সাখালিন তাহা তার প্রজাতি বৈচিত্র্যের মধ্যে রাশিয়াতে সবচেয়ে ধনী। নিজের জন্য বিচারক – দ্বীপে প্রায় ২00 টি প্রজাতির গাছ ও ঝর্ণা বেড়ে যায়।

সখালিনের প্রধান গাছটি জিমেইলিন লার্চ। অন্যান্য ধরনের গাছগুলি খুব কমই প্রতিনিধিত্ব করা হয়: পাতলা লেইড লার্চ, আইয়ানস্কি স্প্রুস, সখালিন ফির। হোয়াইট এবং পাথর birches, aspens, সুগন্ধি poplars, শিশির উইল, জাপানি elms, হলুদ ম্যাপেল, এবং alder hardwoods মধ্যে prevail।সাখালিন ফল এবং বেরিতে সমৃদ্ধ।

চেরি, ক্যারাট, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি, রেডবেরি এবং ক্র্যানবেরি এখানে বেড়ে যায়। এবং দ্বীপের দক্ষিণে এক অনন্য প্রাকৃতিক সমন্বয় পালন করতে পারে: সাখাওয়ালীন বাঁশের ঝোপঝাড় দ্বারা বেষ্টিত একটি শঙ্কু বন। এই ধরনের ইউনিয়ন বিশ্বের অন্য কোথাও দেখা যায় না। বাঁশ, অবশ্যই, এখানে উচ্চ নয়, তবে এর ঝড় আসলে সবচেয়ে দুর্বল, যেহেতু ইলাস্টিক টুকরাগুলি সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ভাবে আটকে থাকে এবং ছুরিগুলির মত তীক্ষ্ণ পাতাগুলি সহজে ত্বকে কাটাতে পারে।

দুর্ভাগ্যবশত, গত কয়েক বছরে সাখালিনের প্রাণীরা উল্লেখযোগ্যভাবে দরিদ্র হয়ে পড়েছে। একবার দ্বীপে, ঘুর্ণিমান হরিণ চারপাশে লাফিয়ে পড়েছিল এবং বন্য ডোরা তাদের কান্না দিয়ে পার্শ্ববর্তী বনগুলিকে পড়েছিল। না যারা অন্য বা বাকি আছে। পরে এল্ক এবং লাল হরিণ বিনষ্ট হয়।

শেষ শতাব্দীর মাঝামাঝি বর্ধমান বনজনিত কারণে, সযোগ্য এবং র্যাকুন কুকুর অদৃশ্য হয়ে যায়। পর্বত ভেড়া এবং নদী otters চিরতরে দ্বীপ ছেড়ে। এক স্টাফ নেকড়ে, একবার একবার সাখালিনে ভডিভিশগো, যাদুঘরে একাকী একাকী। সমুদ্রের নিকটবর্তী, উদ্ভিদ এবং প্রাণী বিশ্বের মৌলিকত্ব নির্ধারিত। আমাদের ক্যাপটেন বিশু আরও বললেন, টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলির একটি। এর আয়তন প্রায় ২৪০ বর্গকিলোমিটার।

মূল শহরে প্রায় ৯০ লক্ষ লোকের বাস। বৃহত্তর টোকিও মহানগর এলাকাতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ লোকের বাস, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ; এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল বৃহত্তর মহানগর এলাকা।টোকিও থেকে বন্দরনগরী ইয়াকোহমা পর্যন্ত অঞ্চলটি অবিচ্ছিন্নভাবে জন-অধ্যুষিত বলে কিছু বিশেষজ্ঞ টোকিও ইয়োকোহামাকে একটিমাত্র মহানগর এলাকা হিসেবে গণ্য করেন, যার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ। জাপান হচ্ছে একটি দ্বীপদেশ যা মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। এখানকার মানুষ সবসময় প্রচুর সীফুড খাওয়ার সুবিধা গ্রহণ করেছে।

এটি কিছু খাদ্যবিদদের মতামত যে জাপানি খাদ্য সর্বদা উপর নির্ভর করে প্রধানত শষ্যের উপর সাথে থাকে শাকসব্জি বা সামুদ্রিক আগাছা, দ্বিতীয়ত পাখিজাত মাংস এবং সামান্য পরিমাণ লাল মাংস। বৌদ্ধধর্ম প্রসার লাভের আগ থেকেই জাপানে মাংস গ্রহণের এই অনীহা ভাব ছিলো। ইদো যুগে ইয়োতসুশি বা চারপেয়ে জন্তু খাওয়া নিষিদ্ধ ছিলো। এই সত্ত্বেও জাপানে লাল মাংস ভোজন সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়নি। গৃহপালিত পশুদের বিপরীতে বন্য খেলা খাওয়া মেনে নেওয়া হয়েছিলো।

বিশেষ করে ফাঁদ পেতে খরগোশ শিকারের জন্য এমন শব্দ (ওয়া) ব্যবহার হতো যা সাধারণত একটি পাখির জন্য সংরক্ষিত শব্দ। সাধারণ খাদ্যদ্রব্যগুলির ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে জাপানী পরিবারের প্রক্রিয়াকৃত খাবারগুলি র ব্যবহার আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কিয়োটো সবজি বা কিয়াইয়াই জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং বিভিন্ন ধরনের কিয়োটো সবজির ব্যবহার আবারো ফিরে আসছে। বিশুর কাছে জাপানের কথা শুনে আমাদের একটা মোটামুটি ধারণা হলো। টোকিও ঘোরার ব্যাবস্থা করলো বিরাজুল। সে গাড়ি ঠিক করে আসার পরে আমরা সকলে খেয়ে শুয়ে পড়লাম। সকালে আমরা একজন গাইডকে পেয়েছি। তিনি একটু আধটু বাংলা জানেন।

তিনি বললেন যা সেটি আমরা ভালো বাংলাতেই বলব।তিনি বললেন, মূল টোকিও শহরটি ২৩টি বিশেষ প্রশাসনিক এলাকা নিয়ে গঠিত। জাপানের রাজকীয় প্রাসাদটি টোকিও শহরের হৃৎকেন্দ্রে অবস্থিত। প্রাসাদটি পাথরের প্রাচীর, পরিখা ও প্রশস্ত বাগান দিয়ে পরিবেষ্টিত। রাজপ্রাসাদের পূর্ব-দিক সংলগ্ন বর্ণিল মারুনোউচি এলাকাটি জাপানি ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি প্রধান কেন্দ্র।

প্রাসাদের দক্ষিণে আছে কাসমিগাসেকি এলাকাটি, যেখানে বহু জাতীয় পর্যায়ের সরকারী কার্যালয় অবস্থিত। তার পশ্চিমে রয়েছে নাকতোচো উঁচু এলাকা, যেখানে জাপানের জাতীয় দিয়েত বা সংসদ ভবনটি অধিষ্ঠিত। টোকিওতে কোনও কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকা নেই।

শহরটি অনেকগুলি গুচ্ছ গুচ্ছ শহুরে এলাকা নিয়ে গঠিত; এই এলাকাগুলি মূলত রেল স্টেশনগুলিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে, যেখানে দোকান, বিপণীবীথি, হোটেল, ব্যবসায়িক কার্যালয় ভবন এবং রেস্তোরাঁগুলি ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে অবস্থান করছে।

এই গুচ্ছগুলির মাঝে মাঝে অপেক্ষাকৃত কম ভবনবিশিষ্ট অনাধুনিক এলাকাগুলি অবস্থিত, যদিও এগুলিতেও একই ধরনের ভবনের দেখা মেলে। টোকিওর ভবনগুলি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এখানে এখনও প্রাচীন জাপানি কাঠের বাড়ির দেখা মেলে, যদিও এদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এছাড়া এখানে মেইজি পর্বে (১৮৬৮-১৯১২) নির্মিত অনেক পাথর ও ইটের তৈরি ভবন আছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে শহরে কংক্রিট ও ইস্পাত দিয়ে অনেক গগনচুম্বী অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়।

শহরকেন্দ্রের পূর্বভাগে অবস্থিত আলোয় ঝলমল করা গিনজা নামক কেনাকাটার এলাকাটি বিশ্বখ্যাত। রাজপ্রাসাদের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত কান্দা এলাকাটিতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়, বইয়ের দোকান ও প্রকাশনী অবস্থিত। টোকিওর নগর-উদ্যানগুলি ইউরোপ-আমেরিকার মত বড় না হলেও সংখ্যায় প্রচুর এবং এগুলিতে প্রায়ই মনোরম সুদৃশ্য বাগান থাকে।

টোকিও জাপানের প্রধানতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। টোকিও শহরে অত্যাধুনিক জীবনধারার সাথে ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ ঘটেছে। এখানে নিয়নের আলোয় উদ্ভাসিত গগনস্পর্শী অট্টালিকা যেমন আছে, তেমনই আছে ঐতিহাসিক সব মন্দির।

সমৃদ্ধ মেইজি সিন্ত এর সুউচ্চ প্রবেশদ্বার এবং চারপাশ ঘিরে থাকা বৃক্ষশোভিত এলাকার জন্য পরিচিত। টোকিও জাদুঘর জাপান ও এশিয়ার ধ্রুপদী শিল্পকলা ও ইতিহাস বর্ণনাকারী অনেক প্রদর্শনী আছে। একই এলাকাতে একটি বিজ্ঞান জাদুঘর, একটি চিড়িয়াখানা এবং দুইটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকলা জাদুঘর অবস্থিত।

রাজপ্রাসাদের আশেপাশেও বেশ কিছু বিজ্ঞান ও শিল্পকলা জাদুঘর আছে। এছাড়া শহর জুড়েই অন্যান্য আরও অনেক ধরনের জাদুঘর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পুনর্নির্মিত নাট্যমঞ্চ পরিদর্শন করা সম্ভব।

টোকিওর নাট্যশালাগুলিতে নিয়মিতভাবে ঐতিহ্যবাহী কাবুকি নাটকের পাশাপাশি আধুনিক নাটক পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ঐকতান, গীতিনাট্য, ইত্যাদি পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীত ও নৃত্যকলা সর্বদাই পরিবেশিত হয়। এদের মধ্যে বিশ্বববিদ্যালয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গাইড বললেন, এলাকার পুরাতন, সরু রাস্তাগুলি দিয়ে হাঁটলে দোকানপাট, -পরিহিতা নারী ও ৭ম শতকে নির্মিত চোখে পড়বে।

এর বিপরীতে এলাকাতে গেলে উদ্দাম উচ্ছ্বল নৈশক্লাব ও গান গাওয়ার বার দেখা যাবে। এলাকায় পাওয়া যাবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির দোকানের সমাহার। মদ্যপান করার জন্য ইজিকায়া নামের ঘরোয়া জাপানি ধাঁচের পাবগুলি টোকিওর সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শহরের কেন্দ্রের কাছে আছে যেটি টুনা মাছের নিলামের জন্য বিখ্যাত।

সুউচ্চ নামক স্থাপনার শীর্ষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পর্যবেক্ষণ মঞ্চ থেকে গোটা টোকিও শহরের বিস্তৃত পরিদৃশ্য অবলোকন করা সম্ভব। টোকিওর খাবারের দোকানগুলি সবসময়ই জমজমাট থাকে। ও এলাকাতে গেলে হালের কিশোর-কিশোরীদের পোশাকশৈলী সম্বন্ধে ভাল ধারণা পাওয়া যায়।

টোকিও জাপানের পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র। এছাড়া এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিবহন কেন্দ্র। বৈদ্যুতিক রেল, পাতালরেল, বাস ও মহাসড়কের এক ঘনসন্নিবিষ্ট জালিকা টোকিওর সেবায় নিয়োজিত। রেল সমগ্র জাপানের জন্য কেন্দ্রীয় রেল স্টেশন।আমরা হিকারি এক্সপ্রেস নামে উচ্চগতিসম্পন্ন রেলগাড়িতে চাপলাম। এখান দিয়ে যাওয়া যায় টোকিও থেকে উত্তর জাপান অভিমুখী সমস্ত রেললাইনগুলি,’ উয়েনো’ এসে মিলেছে। অন্যদিকে হনশু এবং টোকিওর পশ্চিমের শহরতলী থেকে আগত রেলগাড়িগুলির শেষ গন্তব্যস্থল পর্যন্ত।

আমরা ঘুরছি আর গাইডের গল্প শুনছি, কিছু বেসরকারী মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক রেলপথ নগরে পরিবহন সেবা দান করে। টোকিওর, চিবা বন্দর শহরে অবস্থিত। অন্যদিকে টোকিও উপসাগরের কাছে অবস্থান আভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন সেবা প্রদান করে।টোকিও সারা বছরই ব্যস্ত থাকে। জানুয়ারির ১ তারিখে গ্রেগরিয়ান মতে নববর্ষ উদযাপন করা হয়; এসময় সমাধিমন্দিরগুলিতে অনেক তীর্থযাত্রীর ভিড় হয়। এপ্রিলে সারা টোকিও শহর জুড়ে চেরি পালিত হয়। মে মাসে উৎসব পালিত হয়, যেখানে বহনযোগ্য সমাধির শোভাযাত্রা হয়।

জুলাই মাসে সুমিদা নদীর আতশবাজি উৎসব হয়। আগস্ট মাসে ওবোন নামে একটি বৌদ্ধ ছুটির দিবসে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়। একই মাসে উৎসবে কোয়েঞ্জি রেলস্টেশনের আশেপাশে শোভাযাত্রা-মিছিলের আয়োজন করা হয়।২০১৪ সালে নামক পর্যটকদের সহায়তাকারী ওয়েবসাইটে “স্থানীয়দের সাহায্যদানকারী মনোভাব”, “নৈশজীবন”, “কেনাকাটা”, “স্থানীয় গণপরিবহন” এবং “রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা”-র ক্ষেত্রে “শ্রেষ্ঠ সামগ্রিক অনুভূতি। গাইড বয় আমাদের সাখালিনের বনভূমির কথাও শোনালেন।

সাখালিনের বনভূমিগুলির বৈশিষ্টসূচক প্রতিনিধিরা প্রধান ভূখণ্ডের প্রাণী, চরিত্রগত ও দুধ চাষের দুধঃ এইগুলি অনেকগুলি ভেজাল এবং তরমুজ। দ্বীপের দক্ষিণে কলাম পাওয়া যায়। এই প্রাণী জাপান থেকে আনা হয়েছিল, কিন্তু তাদের সংখ্যা এত ছোট।সাখালিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রবল শত্রু বাদামী ভালুক। এই দৈত্যগুলির বৃদ্ধি দুই মিটার এবং ওজন – 500 কেজি পর্যন্ত পৌঁছায়। লাল, ধূসর এবং রৌপ্য-কালো বনের মধ্যে অনেক লাল শিয়াল আছে।

নদী প্লাবনভূমিতে সর্বত্র হরেস এবং গহ্বর পাওয়া যায়, আপনি নদী otters দেখতে পারেন। আমাদের গাইড আমাদের কৌতূহল দেখে হিমবাহ ও সাগালিন সম্পর্কে অনেক অজানা কথা বললেন। জাপান এসেছি বলে কি আর অন্য অজানা খবর শুনব না। হতেও তো পারে কোনদিন হিমবাহের সামনাসামনি হলাম। অতএব, “জানার কোন শেষ নাই “….কিন্তু সাখালিনের হরিণটি বেশিরভাগ পেঁচা দ্বারা পালিত হয়। বন্য দ্বীপ শুধুমাত্র উত্তর অংশে পাওয়া যায়। Srenely দ্বীপ এবং musk হরিণ প্রায় migrates। এটি রেড বুক তালিকাভুক্ত করা হয়।হিমবাহ হল বরফের বিরাট চলমান স্তুপ বা নদী।

সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে শীতকালে তুষার পড়ার হার গ্রীষ্মে গলনের হারের চেয়ে বেশি হলে পাহাড়ের উপরে তুষার জমতে শুরু করে এবং জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়। এই বরফজমা এলাকাটিকে বরফক্ষেত্র (Ice field) বলে। যখন এই জমা বরফ নিজের ওজনের ভারে এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে ধীরগতিতে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে, তখন তাকে হিমবাহ বলে।

তবে জমা বরফ এত পুরু হয় এবং এর নিম্নগতি এতই ধীর যে তাকে স্থিরই মনে হয়।বিশু হিমবাহ সম্পর্কে কিছুকথা বললো, ভারতের উত্তরে পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালাতে অবস্থিত গ্রেট বালটোরা পৃথিবীর দীর্ঘতম হিমবাহ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় আটান্ন কিলোমিটার। হিমালয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গের কাছে রংবুক ও কাশৃঙ্গ হিমবাহ অবস্থিত। অস্ট্রিয়া-ইতালি সীমান্তে আল্পস পর্বতমালার সিমিলাউন হিমবাহে উনিশশো একানব্বই সালে একজন মানুষের অবিকৃত দেহের সন্ধান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় দেহটি প্রায় পাঁচহাজার বছর সেখানে সমাহিত হয়ে ছিল।হিমবাহ ও সাকালিনের বর্ণনা শুনে আমাদের আশ্চর্য অনুভূতি হল।

পৃথিবী একটা ছোট গ্রহ। তার সব খবর জানা কঠিন। আর মহাকাশ বা ব্রম্ভান্ডের কথা বাদই দিলাম। অসীম এই মহাকাশ। কত বিচিত্র। তার কিছুই কি আমরা জানি? নিজেকে খুব বোকা লাগে যখন জ্ঞানের অহংকারে মত্ত হয়ে আস্ফালন করি ডাঁহা আহাম্মক আমরা।

প্রথমে প্রশ্ন হচ্ছে তাঁত বলতে কি বুঝি? তার অংশগুলির নাম ও পরিচয় জানতে ইচ্ছে করে। পানুহাটে আমি তাঁত দেখেছি। দেখে মনে প্রশ্ন জেগেছে তাঁত যন্ত্রের বিভিন্ন অংশের নাম কি?

তাঁত হচ্ছে এক ধরণের যন্ত্র যা দিয়ে তুলা বা তুলা হতে উৎপন্ন সুতো থেকে কাপড় বানানো যায়। বাংলার অনেক জায়গায় তাঁতশিল্প দেখা যায়। কাটোয়ার তাঁত,শান্তিপুরি তাঁত, সিঙ্গিগ্রামের তাঁত, ঘোড়ানাশ মুস্থুললর তাঁত আমাদের কাছাকাছি। তাছাড়া বাংলার অনেক গ্রামে তাঁতশিল্প আছে। আমরা তার কতটুকু জানি? এবার আলোচনা করব তাঁতের প্রকারভেদ।

তাঁত বিভন্ন রকমের হতে পারে। খুব ছোট আকারের হাতে বহন যোগ্য তাঁত থেকে শুরু করে বিশাল আকৃতির স্থির তাঁত দেখা যায়। আধুনিক বস্ত্র কারখানা গুলোতে স্বয়ংক্রিয় তাঁত ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

সাধারণত তাঁত নামক যন্ত্রটিতে সুতা কুণ্ডলী আকারে টানটান করে ঢুকিয়ে দেয়া থাকে। লম্বালম্বি সুতাগুলিকে “টানা” এবং আড়াআড়ি সুতাগুলিকে “পোড়েন” বলা হয়।

যখন তাঁত চালু করা হয় তখন নির্দিষ্ট সাজ অনুসারে সুতা টেনে নেয়া হয় এবং সেলাই করা হয়। তাঁতের আকার এবং এর ভেতরের কলা কৌশল বিভিন্ন রকমের হতে পারে। বাংলা তাঁত যন্ত্রে ঝোলানো হাতল টেনে সুতো জড়ানো মাকু (spindle) আড়াআড়ি ছোটানো হয়। মাকু ছাড়াও তাঁতযন্ত্রের অন্যান্য প্রধান অঙ্গগুলি হল – “শানা”, “দক্তি” ও “নরাজ”। শানার কাজ হল টানা সুতার খেইগুলিকে পরস্পর পাশাপাশি নিজ নিজ স্থানে রেখে টানাকে নির্দিষ্ট প্রস্থ বরাবর ছড়িয়ে রাখা।

শানার সাহায্যেই কাপড় বোনার সময় প্রত্যেকটি পোড়েনকে ঘা দিয়ে পরপর বসানো হয়। শানাকে শক্ত করে রাখার কাঠামো হল দক্তি। একখানি ভারী ও সোজা চওড়া কাঠে নালী কেটে শানা বসানো হয় আর তার পাশ দিয়ে কাঠের উপর দিয়ে মাকু যাতায়াত করে। শানাটিকে ঠিক জায়গায় রাখার জন্য তাঁর উপরে চাপা দেওয়ার জন্য যে নালা-কাটা কাঠ বসানো হয় তাঁর নাম “মুঠ-কাঠ”। শানা ধরে রাখার এই দুখানি কাঠ একটি কাঠামোতে আটকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই সমগ্র ব্যবস্থাযুক্ত যন্ত্রটির নাম “দক্তি”।

শানায় গাঁথা আবশ্যকমত প্রস্থ অনুযায়ী টানাটিকে একটি গোলাকার কাঠের উপর জড়িয়ে রাখা হয়, একে বলে টানার “নরাজ”। আর তাঁতি যেখানে বসে তাঁত বোনেন, সেখানে তাঁর কোলেও একটী নরাজ থাকে- তাঁর নাম “কোল-নরাজ”। টানার নরাজের কাজ হল টানার সুতাকে টেনে ধরে রাখা আর কোল-নরাজের কাজ হল কাপড় বোনার পর কাপড়কে গুটিয়ে রাখা।

“তাঁত বোনা” শব্দ কটি এসেছে “তন্তু বয়ন” থেকে। তাঁত বোনা যার পেশা সে হল তন্তুবায় বা তাঁতী। আর এই তাঁতের উপর যারা বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে তাদেরকে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়।

তাঁত শিল্পের ইতিহাস সঠিক বলা মুশকিল ইতিহাস থেকে জানা যায়, আদি বসাক সম্প্রদায়ের তাঁতিরাই হচ্ছে আদি তাঁতি অর্থাৎ আদিকাল থেকেই এরা তন্তুবায়ী গোত্রের লোক। এদেরকে এক শ্রেণীর যাযাবর বলা চলে- শুরুতে এরা সিন্ধু অববাহিকা থেকে পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদে এসে তাঁতের কাজ শুরু করেন।

কিন্তু সেখানকার আবহাওয়া শাড়ির মান ভালো হচ্ছে না দেখে তারা নতুন জায়গার সন্ধানে বের হয়ে পড়েন, চলে আসেন বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে। সেখানেও আবহাওয়া অনেকাংশে প্রতিকূল দেখে বসাকরা দু’দলে ভাগ হয়ে একদল চলে আসে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, অন্যদল ঢাকার ধামরাইয়ে।

তবে এদের কিছু অংশ সিল্কের কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজশাহীতেই থেকে যায়। ধামরাইয়ে কাজ শুরু করতে না করতেই বসাকরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে ভাগ হয়ে অনেক বসাক চলে যান প্রতিবেশী দেশের চোহাট্টা অঞ্চলে। এর পর থেকে বসাক তাঁতিরা চৌহাট্টা ও ধামরাইয়া’ এ দু’গ্রুপে স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

তাঁত শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে আরো জানা যায় যে তাঁত শিল্প মনিপুরীরা অনেক আদিকাল থেকে এই বস্ত্র তৈরি করে আসছে মনিপুরীদের বস্ত্র তৈরির তাঁতকল বা মেশিন প্রধানত তিন প্রকার যেমন, কোমরে বাঁধা তাঁত, হ্যান্ডলুম তাঁত ও থোয়াং। এই তাঁতগুলো দিয়ে সাধারণত টেবিল ক্লথ, স্কার্ফ, লেডিস চাদর, শাড়ি, তোয়ালে, মাফলার, গামছা, মশারী, ইত্যাদি ছোট কাপড় তৈরি হয়।

প্রধানত নিজেদের তৈরি পোশাক দ্বারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতেই মনিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে তাঁত শিল্পে নির্মিত সামগ্রী বাঙালি সমাজে নন্দিত ও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে নকশা করা ১২ হাত মনিপুরী শাড়ি, নকশি ওড়না, মনোহারী ডিজাইনের শীতের চাদর বাঙালি মহিলাদের সৌখিন পরিধেয় হয়ে ওঠে।

তবে এই শিল্প কিভাবে বিকাশ লাভ করে সেই ঘটনাবলী বিশেষ আকর্ষণীয়৷ কুটির শিল্প হিসাবে হস্তচালিত তাঁত শিল্প ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পূর্বকালে কেবল দেশেই নয় বহির্বাণিজ্যেও বিশেষ স্থান দখল করেছিল৷ বংশ পরস্পরায় দক্ষতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে বয়ন উৎকর্ষতায় তাঁতিরা সৃষ্টি করেছিল এক অনন্য স্থান৷ তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট ‘‘নরসিন্দির শেখের মাঠ’’ গ্রামে গড়ে উঠেছিল যা ‘‘বাবুর হাট’’ নামে পরিচিত ছিল৷ অবিভক্ত বঙ্গদেশের বিভিন্ন স্থানে হস্ত চালিত তাঁতে কাপড় বোনা হলেও বাণিজ্যিকভাবে শেখের চরের কাপড়ের সমকক্ষ কেউ ছিল না। সুলতানি ও মোঘল যুগের উত্তরাধিকারী হিসাবে এখানকার তাঁতিদের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা।

তাঁদের রং, নকশা ও বনন পদ্ধতি অন্যান্য সমস্ত এলাকা থেকে আলাদা। এক সময় এদের পূর্বপুরুষরাই জগদ্বিখ্যাত মসলিন, জামদানি ও মিহি সুতি বস্ত্র তৈরি করে সারা বিশ্বে বাংলা তথা ভারতবর্ষের গৌরব বৃদ্ধি করেছিল। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে অসম কর গ্রহণ, তাঁতের ওপর আরোপিত নানা বিধি নিষেধ এবং ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের জন্য ভারতীয় তাঁত শিল্পের সর্বনাশ ঘটে।

এরপর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ও এই শিল্পের বিকাশের জন্য বিশেষ কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। বাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ এই অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলেছে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির ফলে নানা ডিজাইনের , নানা রঙের, নানা ধরণের কাপড়ের ভারতীয় বাজারে অবাধ প্রবেশের ফলে তাঁত শিল্পীরা আরো সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ভারতীয় তাঁত শিল্পের অবনতির অন্যতম প্ৰধান কারণ হলো কারখানায় তৈরি কাপড়ের ব্যাপক বিস্তৃতি, সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এইসব বস্ত্রের মান ও গুণ তুলনামূলকভাবে উন্নত। এই কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে যে ব্যাবসায়িক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রয়োজন তা তাঁত শিল্পীরা পাচ্ছেন না।

এই পেশার সাথে জড়িত মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো ব্যাবস্থা নেই। পরিবর্তিত রুচি ও পছন্দের সাথে সঙ্গতি রেখে তাঁত বস্ত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ তাঁতি সমাজের কাছে নেই ফলে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সেই সনাতনী মানের কাপড় উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থা তাঁত শিল্পের বিকাশের পথে প্রধানতম অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে।

তাঁত শিল্প নিয়ে এতক্ষন যা যা আলোচনা করলাম তা সমস্তই তথ্যভিত্তিক। তাঁত শিল্পের প্রকৃত অবস্থা জানতে হলে বাংলার এমন জায়গায় যাওয়া প্রয়োজন যেখানের মানুষরা এখনও তাঁত শিল্পের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের দুই স্থানের তাঁত বিখ্যাত- ধনেখালি ও শান্তিপুর।

ধনেখালি, নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় তাঁত, বালুচরি আর তসর-এর হাজারো বৈঢিত্র্য, যেমন রং তেমনি তার বাহার। তবে তাঁতের শাড়ির কদরই যেন সবথেকে বেশি। হুগলি জেলার এই অঞ্চলের কারিগররা নানা সুতোর নিপুণ বুননে তাঁতের শাড়িকে যেভাবে তৈরি করেন তা এক কথায় অনবদ্য।

কিন্তু এই কাজ করতে করতে আজ তাদের জীবনই রংহীন হয়ে পড়েছে। এনাদের কথা বলতে গেলেসেই পুরোনো কথাই বলতে হবে আবার। সময় হয়তো অনেকটাই বদলেছে কিন্তু ধনেখালির তাঁতশিল্প ও তাঁতিদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

ধনেখালি ও মামুদপুর, পাশাপাশি এই দুই এলাকাকে নিয়ে মোট চারটি তাঁত সমবায় রয়েছে তাঁতিদের। এক সময় প্রতিটি সমবায়ে চারশোজনেরও বেশি তাঁতি কাজ করতেন। তাদের সবরকম সহায়তা এই সমবায়গুলি থেকেই করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এই সব সমবায়ে তাঁতির সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। নতুন প্রজন্ম আর এই শিল্পে আসছে না।

পুরোনোরাও যারা আছেন তারা অনেকে ছেড়ে যাচ্ছেন, আর যারা আছেন তারা মনে করছেন এই শিল্পে থেকে প্রাপ্য মূল্য তারা পাচ্ছেন না। তাদের দাবি যে একটা শাড়ি বুনে তারা ১০০ টাকা পান কিন্তু তা দিয়ে সংসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই কোনো তাঁতিই আর চাইছেন না যে তাদের সন্তানরা এই শিল্পে আসুক।

আর তাঁতিরা এখন সমবায়গুলি থেকে সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছেননা, ফলে ধনেখালির তাঁত ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আশার কথা হলো নানা সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে তাঁতিদের জন্য। সেই সুদিনের আশায় বুক বাধছে নয়া প্রজন্মের তাঁতিরা।

বাংলার আর এক তাঁত শিল্পের পীঠস্থান শান্তিপুর, তাঁত শিল্পের জন্য যার প্রসিদ্ধি সারা ভারত তথা সারা বিশ্ব জুড়ে। প্রথমেই শান্তিপুরের তাঁত শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে কিছু জানা প্রয়োজন। মোঘল আমলেই সর্বপ্রথম শান্তিপুরের উৎকৃষ্ট তাঁতের কাপড় সারা ভারত জুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করে। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ও এই শিল্পের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। শান্তিপুরের তাঁত নিয়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও আগ্রহী ছিল, তাদের আমলে বছরে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড মূল্যের তাঁত বস্ত্র রপ্তানি করা হতো।

তবে এই শিল্প কিভাবে বিকাশ লাভ করে সেই ঘটনাবলী বিশেষ আকর্ষণীয় ৷ কুটির শিল্প হিসাবে হস্তচালিত তাঁত শিল্প ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পূর্বকালে কেবল দেশেই নয় বহির্বাণিজ্যেও বিশেষ স্থান দখল করেছিল ৷ বংশ পরস্পরায় দক্ষতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে বয়ন উৎকর্ষতায় তাঁতিরা সৃষ্টি করেছিল এক অনন্য স্থান ৷ দেশের সর্ববৃহৎ কাপড়ের হাট ‘‘নরসিন্দির শেখের মাঠ’’ গ্রামে গড়ে উঠেছিল যা ‘‘বাবুর হাট’’ নামে পরিচিত ৷

দেশের বিভিন্ন স্থানে হস্ত চালিত তাঁতে কাপড় বোনা হলেও বাণিজ্যিকভাবে শেখের চরের কাপড়ের সমকক্ষ কেউ নেই । সুলতানি ও মোগল যুগের উত্তরাধিকারী হিসাবে এখানকার তাঁতিদের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা ।

তাদের রং , নকশা ও বনন পদ্ধতি অন্যান্য সমস্ত এলাকা থেকে আলাদা । এক সময় এদের পূর্বপুরুষরাই জগদ্বিখ্যাত মসলিন , জামদানি ও মিহি সুতি বস্ত্র তৈরি করে সারা বিশ্বে বাংলা তথা ভারতবর্ষের গৌরব বৃদ্ধি করেছিল । কিন্তু ব্রিটিশ আমলে অসম কর গ্রহণ , তাঁতের ওপর আরোপিত নানা বিধি নিষেধ এবং ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের জন্য ভারতীয় তাঁত শিল্পের সর্বনাশ ঘটে ।

এরপর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ও এই শিল্পের বিকাশের জন্য বিশেষ কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি । বাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ এই অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলেছে । মুক্ত বাজার অর্থনীতির ফলে নানা ডিজাইনের , নানা রঙের , নানা ধরণের কাপড়ের ভারতীয় বাজারে অবাধ প্রবেশের ফলে তাঁত শিল্পীরা আরো সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ।

ভারতীয় তাঁত শিল্পের অবনতির অন্যতম প্ৰধান কারণ হলো কারখানায় তৈরি কাপড়ের ব্যাপক বিস্তৃতি , সুপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এইসব বস্ত্রের মান ও গুণ তুলনামূলকভাবে উন্নত । এই কাপড়ের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে যে ব্যাবসায়িক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রয়োজন তা তাঁত শিল্পীরা পাচ্ছেন না । এই পেশার সাথে জড়িত মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাগত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কোনো ব্যাবস্থা নেই ।

পরিবর্তিত রুচি ও পছন্দের সাথে সঙ্গতি রেখে তাঁত বস্ত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন , কিন্তু তার জন্য প্রয়োজনীয় সামর্থ তাঁতি সমাজের কাছে নেই ফলে তারা সনাতন পদ্ধতিতে সেই সনাতনী মানের কাপড় উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন । এই অবস্থা তাঁত শিল্পের বিকাশের পথে প্রধানতম অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে ।

তাঁত শিল্প নিয়ে এতক্ষন যা যা আলোচনা করলাম তা সমস্তই তথ্যভিত্তিক । তাঁত শিল্পের প্রকৃত অবস্থা জানতে হলে বাংলার এমন জায়গায় যাওয়া প্রয়োজন যেখানের মানুষরা এখনও তাঁত শিল্পের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত । চলুন তাহলে যাওয়া যাক সেইসব জায়গায় ।

ধনেখালি নাম শুনলেই মনে পড়ে যায় তাঁত , বালুচরি আর তসর-এর হাজারো বৈঢিত্র্য , যেমন রং তেমনি তার বাহার । তবে তাঁতের শাড়ির কদরই যেন সবথেকে বেশি । হুগলি জেলার এই অঞ্চলের কারিগররা নানা সুতোর নিপুণ বুননে তাঁতের শাড়িকে যেভাবে তৈরি করেন তা এক কথায় অনবদ্য । কিন্তু এই কাজ করতে করতে আজ তাদের জীবনই রংহীন হয়ে পড়েছে । এনাদের কথা বলতে গেলেসেই পুরোনো কথাই বলতে হবে আবার । সময় হয়তো অনেকটাই বদলেছে কিন্তু ধনেখালির তাঁতশিল্প ও তাঁতিদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি ।

ধনেখালি ও মামুদপুর , পাশাপাশি এই দুই এলাকাকে নিয়ে মোট চারটি তাঁত সমবায় রয়েছে তাঁতিদের । এক সময় প্রতিটি সমবায়ে চারশোজনেরও বেশি তাঁতি কাজ করতেন । তাদের সবরকম সহায়তা এই সমবায়গুলি থেকেই করা হতো । কিন্তু বর্তমানে এই সব সমবায়ে তাঁতির সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে । নতুন প্রজন্ম আর এই শিল্পে আসছে না । পুরোনোরাও যারা আছেন তারা অনেকে ছেড়ে যাচ্ছেন , আর যারা আছেন তারা মনে করছেন এই শিল্পে থেকে প্রাপ্য মূল্য তারা পাচ্ছেন না ।

তাদের দাবি যে একটা শাড়ি বুনে তারা ১০০ টাকা পান কিন্তু তা দিয়ে সংসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই কোনো তাঁতিই আর চাইছেন না যে তাদের সন্তানরা এই শিল্পে আসুক । আর তাঁতিরা এখন সমবায়গুলি থেকে সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছেননা , ফলে ধনেখালির তাঁত ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে । তবে আশার কথা হলো নানা সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে তাঁতিদের জন্য । সেই সুদিনের আশায় বুক বাধছে নয়া প্রজন্মের তাঁতিরা।

যারা বাইরে কাজ করতে গেছে তারা পরিযায়ী শ্রমিক তারা ঘর ভাড়া ছেড়ে দিয়ে হয়তো বাড়ি আসবো বলে রাস্তায় বেরিয়েছে বেরিয়ে দেখে যানবাহন বন্ধ লকডাউন এ কোন যানবাহন নেই সাইকেল কিনে তারা দিনের পর দিন সাইকেল চালিয়ে কেউ পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মাঝ পথে কত পরিচয় মরে গেছে তার হিসাব রাখে কে?

একদল শ্রমিক দল বেঁধে হাঁটছিল বাড়ি ফিরবে বলে। তারা ক্লান্ত হয়ে 16 লাইনের উপর হঠাৎ একটা ট্রেন এসে তাদের উপর দিয়ে চলে গেল 16 জন পরিযায়ী মারা গেল। আর কিছু ক্ষত বিক্ষত হল।

আরো কত পরিশ্রমিক কেউ কাজ করে আসছে কাঁধে করে নিয়ে আসছে ছেলে-মেয়েদের তারপরে মালপত্র হয়তো রিকশায় আনছে হেঁটে আসছে তারা এই ভাবে কতজন পথে মারা যাচ্ছে কেউ বাড়ি ফেরার আশায় হয়তো বাড়ি ফিরছি কিন্তু বাড়ি ফিরেও সেই কোয়ারান্টাইন 14 দিনে কোয়ারান্টিনে থেকে হয়তো পজিটিভ মরে যাচ্ছে আবার কেউবা বেঁচেও যাচ্ছে।।

হাজারে হাজারে পরিশ্রমী যখন মারা যাচ্ছে তখন সরকার থেকে সিদ্ধান্ত হলো এবার ট্রেন চলবে পরিযায়ী শ্রমিকদের আনার জন্য তাদের জন্য ট্রেন চালু হলো কিন্তু সবাই তো তা জানেনা মাঝপথে যারা আছে তারা তো ট্রেনের খবর রাখে না তারা হেঁটে চলেছে হাঁটতে হাঁটতে তো লাইনে বিশ্রাম নিচ্ছে আর তখনই তাদের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে ট্রেন তারা কাটা পড়ছে সেই ট্রেনে।

পরিযায়ী যারা তারা ফিরবার চেষ্টা করছে এবং ফিরতে গিয়ে যখন যানবাহন পাচ্ছে না তখন হেঁটে চলে আসছে সাইকেলে আসছে।রতন কেরালায় থাকে সে অনেকদিন আগে থেকেই আছে কিন্তু আসবার সময় সাইকেল না পাওয়ায় খুঁজে খুঁজে বেড়াচ্ছে কোথায় একটা সাইকেল পাওয়া যায় হঠাৎ একটা দোকানের সামনে সাইকেল গুলো দেখে চারদিক নিজে দেখে বাধ্য হয়ে চুরি করল সে একটা চিঠি রেখে গেল সরি কিছু মনে করবেন না আমার কোন উপায় না থাকায় আমি সাইকেলটা চুরি করলাম।

এখন সরকারের নির্দেশক্রমে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ট্রেন চালু হয়েছে বাস কিছু কিছু চালু হয়েছে কিন্তু দুমাস অব্দি কোনো যানবাহন ছিল না সেই দুমাসে পরিচয় শ্রমিকদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না ।

তাদের কষ্ট দেখে প্রত্যেক রাজ্য সরকার যানবাহনের ব্যবস্থা করেছে এবং নিজের খরচে তাদের নিয়ে এসেছে এসে নিজের জায়গায় 14 দিন কোয়ারান্টিনে রেখেছে তারপর তাদের বাড়ি যেতে দিয়েছে।

এখনো পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে তাতে বিজ্ঞানীরা বলছে এটা বাতাসে এই ধরনের সংক্রমণ বাতাসে ছড়ায় না মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় অতএব মানুষের যে চেইন শিকল সেটাকে বন্ধ করতে হবে লকডাউন এর মাধ্যমে যদি কিছু লোক যদি ঘরে থাকে তাহলে এই চেনটা ভাঙ্গা যাবে এবং তার ফলে রোগের সংক্রমণ আটকানো যাবে। কিন্তু যথাযথ লকডাউন সকলে না মানায় এই আক্রান্ত কিন্তু দিনে দিনে বেড়েই চলেছে জানিনা কেউ এর ভবিষ্যৎ কি।

কর্ণাটকের এখনো পর্যন্ত কোন টিকা আবিষ্কৃত হয়নি কোনো ওষুধ নেই শুধুমাত্র নিয়ম ভালো করে হাত ধুতে হবে বারেবারে হাত ধুতে হবে মাক্স দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে রাখতে হবে হাতে গ্লাভস পড়তে হবে এবং নিজেকে সতর্ক থাকতে হবে হাঁচি-কাশি যাদের আছে তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কোনো রকমেই জানো মানুষের সেই সর্দির ড্রপলেট অন্য কোন মাধ্যমে পরিবাহিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

কিন্তু ভারতবর্ষে 70 পারসেন্ট মানুষ কৃষিজীবী তারা চাষের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে তারা লেখাপড়া কম জানে তাহলে এই নীতি মানতে তাদের কতটা অসুবিধা হবে সেটা আন্দাজ করা যাচ্ছে। আজ অংশুমান খবরে শুনছেন, মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি দল আমফানের ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে পশ্চিমবঙ্গে যাবে। আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর ক্ষয়ক্ষতি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ক্যাবিনেট সচিব নেতৃত্বে একপ্রস্থ বৈঠক করেছে জাতীয় সঙ্কট ব্যবস্থাপনা কমিটি ।

বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব বলেছেন, ‘‌রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ পরিষেবা, পানীয় জল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে।’‌ তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যকে ১০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সেনা রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুনর্গঠনের কাজ করে চলেছে। প্রয়োজনে আরও বেশি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যকে দেওয়ার জন্য যথে‌ষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রেখেছে কেন্দ্র সরকার।

এদিনের ভিডিও–‌বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব । তিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করেছেন। জানিয়েছেন, জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলছে। সেইসঙ্গে সেনা ও এনডিআরএফ–‌সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এই নিয়ে গত ৫ দিনে চতুর্থবার বৈঠক করল কমিটি।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় আমফান রাজ্যে আছড়ে পড়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে গত শুক্রবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী । রাজ্যে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখার পর প্রাথমিকভাবে ১০০০ কোটি টাকা সাহায্য ঘোষণা করেন তিনি। আরও জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন করে কেন্দ্রের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠালে আরও সাহায্য করা হবে।

মহাকাল এবার হয়ত পৃথিবী ধ্বংস করার পথে,নব সৃষ্টির আশায়।

সুদীপ ঘোষাল নন্দন পাড়া খাজুরদিহি পূর্ব বর্ধমান 713150

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: