একবার, শুধু আর একবার (স্মৃতির পাতা থেকে) // সুবীর কুমার রায়

smritisahitya.com

পদ্মপুকুর থেকে বাবা বদলি হয়ে, ‘চেঙ্গাইল’ নামে একটা রেলওয়ে স্টেশনে চলে যান। প্রথমে ওখানে কোন কোয়ার্টার্স না পাওয়ায়, গঙ্গার ধারে “চক্কাশী” নামে একটা গ্রামে, বাড়ি ভাড়া নিয়ে আমাদের কিছুদিন থাকতে হয়েছিল। আজকের মতো সে সময়ে মায়ের পেট থেকে পড়েই, স্কুলে ভর্তি হওয়ার রেওয়াজ ছিল না, আর তাই তখনও আমার স্কুলের পাঠ শুরুই হয়নি। এই চক্কাশী গ্রামের বিশেষ কিছু, আমার মনে পড়ে না।

.

.

রেলওয়ে স্টেশন থেকে চক্কাশীর পথে, অনেকটা পথ একটা ইঁটের পাঁচিল মতো ছিল। মাটি থেকে তিন-চার ফুট উঁচু। হয়তো কোন চটকলের জমির সীমানা, ইঁটের পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। দু’পাশে ছোট লতা পাতার জঙ্গল, হলুদ রঙের বুনো ফুলগাছে ভরা। সকলে সেই পাঁচিলের ওপর দিয়ে অনেকটা পথ গিয়ে, আবার মাটির রাস্তায় নামতো। আমাদের বাড়ির খুব কাছ দিয়ে গঙ্গা বয়ে গেলেও, আমার সেখানে একা যাওয়ার হুকুম ছিল না।

.

.

একটা রাতের কথা মনে পড়ে। সেদিন, সারাদিন খুব বৃষ্টি হয়েছে। গভীর রাতে আমাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলা হলো। কারণটা এতদিন পরে আর মনে করতে পারি না, তবে আশপাশের সব বাড়ির লোকেরা, বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে এসে খুব চিৎকার চ্যাঁচামেচি করছিল। সম্ভবত গঙ্গার বানের জল বাড়ির খুব কাছে চলে এসেছিল। আর একদিন গঙ্গার ধার থেকে খুব বড় একটা কাঁকড়া ধরে এনেছিলাম।

.

.

কাঁকড়াটার কী হয়েছিল মনে নেই, তবে গঙ্গার ধারে একা যাওয়ার জন্য, বাবার কাছে খুব বকুনি খেতে হয়েছিল। এই কুঁড়েঘর সম বাড়িতে, এক বৃষ্টির রাতে, বাবা অনেক চেষ্টার পর, একটা বিশাল গোখরো সাপ মারেন। সন্ধ্যার পর সেটাকে বাড়ির দালানে দেখা গেছিল। রাতে বাবা স্টেশন থেকে ফিরে, মা’র কাছে সাপের কথা শুনে, ঘুঁটের বস্তার নীচ থেকে তাকে আবিস্কার করেন।

.

.

এরপর আমরা চেঙ্গাইল রেলওয়ে কোয়র্টার্সে চলে আসি। বর্তমান চেঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশন, আগের জায়গায় আর নেই। খানিকটা এগিয়ে গিয়ে নতুন স্টেশন, নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এখানে আসার কয়েক মাস পরে, আমি প্রাথমিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হই। সে দিনটার কথা আজও বেশ মনে পড়ে। বাবা চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি করাবার জন্য, আমাকে নিয়ে স্কুলে গেলেন। প্রধান শিক্ষকের নাম ছিল, শ্রী যোগেন্দ্র নাথ হোড়। ভদ্রলোককে দেখতে অনেকটা মহাত্মা গান্ধীর মতো। তিনি আমাকে মুখে মুখে পঁচিশকে পাঁচ দিয়ে ভাগ করতে বললেন।
মা’র দৌলতে এর থেকে অনেক বড় বড় গুণ-ভাগ, আমার কাছে কোন সমস্যা ছিল না। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলাম, “ভাগফল পাঁচ”। উনি বেশ জোর গলায় বললেন— “ভাগফল পাঁচ”? এবার আমি একটু নরম গলায় উত্তর দিলাম, “হ্যাঁ স্যার”। উনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ভাগফল পাঁচ”? এবার তাঁর কন্ঠস্বর আরও এক পর্দা চড়া। আমি মিনমিন্ করে জবাব দিলাম, “ভাগফল চার, ভাগশেষ পাঁচ”। উনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে, বাবাকে পরামর্শ দিলেন— “একে তৃতীয় শ্রেণীতেই ভর্তি করে দিন। অল্প বয়স, চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি না করাই ভালো”। বাবাও সুবোধ বালকের মতো সম্মতি জানিয়ে, আমাকে তৃতীয় শ্রেণীতেই ভর্তি করে দিলেন।

.

.

বাবার ছিল এই এক দোষ। কেউ কিছু পরামর্শ দিলে, সহজেই তা মেনে নিতেন। পরবর্তীকালেও দেখেছি, আমাদের নিয়ে জামা প্যান্ট্ কিনতে দোকানে গিয়েও, সেই একই ব্যাপার। দু’চারটে জামা বা প্যান্ট্ দেখিয়েই দোকানদার বললো, ”এটা নিন, এই জামাটা বেশ ভালো”। ব্যাস, সেটার রঙ লাল হোক, নীল হোক, আমাদের পছন্দ হোক বা না হোক, বাবা বলে বসলেন, “এটাই নিয়ে নে, দোকানদার তো বলছে এটা ভালো”।

.

.

তাকে বেশি পরিশ্রম করতে না হওয়ায়, এবং এইরকম একটা বিদঘুটে রঙের জামা বা প্যান্ট্, এত সহজে বিক্রির ব্যবস্থা হওয়ায়, দোকানদাও বেজায় খুশি। আমাদের পছন্দ, অপছন্দ সেখানে গৌণ ছিল। মুখ্য ছিল দোকানদারের পছন্দ। ফলে আপ রুচিমে খানা, দোকানদারের রুচিমে পরনা, আপ্ত বাক্য শিরোধার্য করে, দোকানদারের গছানো জামা বা প্যান্ট্, বেজার মুখে বগলদাবা করে, বাসায় ফিরতে হয়েছে।

.

.

যাহোক্, শুরু হলো স্কুল জীবন। কিন্তু বিধাতা বোধহয় আর সকলের মতো, আমার নিয়মিত স্কুল যাওয়ার ইচ্ছা, ভালো চোখে দেখলেন না। তাই স্কুলে যাবার প্রথম শুভ দিনটাই, কী কারণে যেন স্কুল কামাই হলো। ফলে সারা জীবন স্কুল, কলেজ পালানো, আমার পিছন ছাড়লো না। মনে পড়ে, হাতে বই, স্লেট্, পেনশিল ও একটা চটের আসন নিয়ে স্কুলে যেতাম। মাটির ঘরে খড়ের ছাউনি, মাটির মেঝেতে আসন পেতে বসা। জানি না ওই স্কুল বাড়ি দেখেই, “আমার মাটির ঘরে বাঁশের খুঁটি মা, তাও পারি না খড় জোটাতে” লেখা হয়েছিল কী না। তবে বৃষ্টিতে খড় ভেদ করে, ঘরে জল যথেষ্টই পড়তো।

.

.

আজ যেমন ছোট ছোট পরিবারে, ছোট বাচ্চাদের হাতেও মা-বাবাকে টাকা পয়সা দিতে, বা সাধ্যের বাইরেও ভালো ভালো টিফিন দিতে দেখি, আমাদের সময় সে চল্ ছিল না। আমার বাড়িতে তো ছিলই না। কাছেই স্কুল হওয়ায়, টিফিনের সময় বাড়ি এসে টিফিন খাওয়ার নির্দেশ ছিল। স্কুলের পাশেই একটা ছোট্ট দোকানে ডালমুট, কোকো লজেন্স্, নারকেল লজেন্স্, লাল তুলো ইত্যাদি, দুনিয়ার সব শ্রেষ্ঠ খাবার বিক্রি হতো।

.

.

কিছু কিছু ছেলেমেয়ে, সেসব অমৃত কিনে খেতও। আমার ভাগ্যে সে সুযোগ, কোন দিন জুটতো না। প্রতিদিন লোলুপ দৃষ্টিতে সে সব দৃশ্য দেখে, বাড়ির পথ ধরতাম। বাড়ি এসে রুটি তরকারি, বা ওই জাতীয় কোন খাবার, অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেতে হতো। টিফিন খেয়ে আবার স্কুলের পথ ধরা। তবে ওই অল্প সময়ের মধ্যেও, ভালো কিছু লোভনীয় খাবারের খোঁজে, এ কৌটো ও কৌটো খুলে খুলে দেখতাম। সবকিছু আজ আর মনে পড়ে না, তবে দু’একটা ঘটনার কথা বলতে খুব ইচ্ছা করছে।

.

.

একদিন টিফিনের সময় বাড়ি এসে দেখলাম, রান্নাঘরে ঝুড়িচাপা দেওয়া কী একটা রয়েছে। সুযোগ বুঝে ঝুড়িটা একটু ফাঁক করে হাত ঢুকিয়ে, নরম মতো কিছুর স্পর্শ পেলাম। কোনদিকে না তাকিয়ে, কোন কিছু না ভেবে, খানিকটা নিয়ে মুখে পুরেই, থু থু করে ফেলে দিলাম। আসলে ঝুড়ির নীচে খোলা ছাড়ানো কুচো চিংড়ির দল, হলুদ মেখে কড়ার গরম তেলে স্নান করার অপেক্ষায় ছিল।

.

.

আর একদিন স্কুল থেকে টিফিনের সময় এসে প্রথম কৌটোটা খুলেই, অমৃতের সন্ধান পেলাম। অন্যান্য দিন এ কৌটো ও কৌটো খুলে ডাল, সরষে, তেজপাতা ইত্যাদি দেখতে দেখতেই, মা টিফিন খেতে দিয়ে দিতেন, এবং তারপরেই স্কুলে যাবার পালা। আজ কার মুখ দেখে উঠেছি জানি না, প্রথম কৌটোতেই অমৃত।

.

.

আমার অতি প্রিয়, মিল্ক পাউডার। ঝপ্ করে মুঠো করে তুলেই মুখে পুরে দিলাম। গোটা মুখ জ্বালা করে গরম হয়ে গেল। ঘরের মধ্যেই থুথু ফেলে, কষ্টের হাত থেকে বাঁচবার চেষ্টা করলাম। মা এসে পিঠে দু’ঘা বসিয়ে মুখ ধুয়ে দিয়ে, জল খেতে বললেন। ওটা মিল্ক পাউডার ছিল না, ছিল কাপড় কাচার সোডা।

.

.

সেদিন স্কুলে যাবার সময় শুনে গেছি তালের বড়া হবে। তালের বড়ায় নন্দর আগ্রহ থাকলেও, আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, কারণ তাল আমি খাই না। টিফিনে বাড়ি এসে মিটসেফের ডালা খুলেই দেখি ছ’ছটা কলা। একটা কলা খেয়ে বেশ ভালো লাগলো। খোলাটা পকেটে রেখে, আর একটা চটপট্ খোলা ছাড়িয়ে মেরে দিলাম।

.

.

খোলা পকেটে রেখে, ভালো ছেলের মতো টিফিন খেয়ে স্কুলে ফিরে যাবার আগে হঠাৎ মনে হলো, আমি স্কুল থেকে টিফিনে আসার পর কলা উধাও হলে, সকলের আমাকেই সন্দেহ হবে। তার থেকে সব ক’টা কলা খেয়ে নিলে, কলা ছিল কী না, কেউ বুঝতেই পারবে না। সেই মতো বাকি চারটে কলা সযত্নে পকেটস্থ করে, স্কুলে যাবার পথেই শেষ করে দিলাম। কিন্তু বাড়ির সবাই আমার মতো চতুর না হওয়ায়, সহজেই ধরা পড়ে গেলাম।

.

.

মিটসেফের বেশ খানিকটা ওপরে, একটা লম্বা কাঠের তাক ছিল। সেই তাকে বেশ বড় বড় তিন-চারটে কাচের বয়মে, মধু রাখা থাকতো। মধু খাওয়া ভালো, খেতেও ভালো, এবং মধু খেলে সর্দিকাশির ধাত হয় না, এই ধারণায় বাবা মধু কিনে ওখানে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন। একদিন স্কুল থেকে টিফিনের সময় এসে, মিটসেফের ওপরে উঠে মধুর বয়ম পাড়তে গিয়ে বুঝলাম, ওখানে আমার নাগাল পাওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই।

.

.

ওখানে হাত পাওয়ার জন্য আমাকে, আরও অন্তত পাঁচ-সাত বছর অপেক্ষা করতে হবে। মিটসেফের ওপরে তেলের বড় বড় টিনে, যেসব টিনে এখন ট্রেনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে, চাল, মুড়ি, ইত্যাদি রাখা হতো। টিনের ওপরে উঠে, বুড়ো আঙ্গুলের ওপর ভর দিয়ে উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে, কোন মতে বয়মের নাগাল পেলাম। টলমল পায়ে একটা বয়ম থেকে চুমুক দিয়ে মধু খেতে গিয়ে, গোটা জামা প্যান্ট্ বেয়ে মধু পড়তে শুরু করলো। গায়ে হাতেও কম মধু মাখামাখি হলো না। আজও আমার দেহের চামড়া বেশ ভালো, হয়তো সেদিনের সেই মধুস্নান করারই সুফল।

.

.

পরের বছর আমার ছোটবোন, একই স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে, ফুচকান ও গণেশ নামে দু’জন অত্যাশ্চর্য বন্ধুর সংস্পর্শে আসে। গণেশের ঠোঁটটা কাটা ছিল বলে, সে ঠোঁটকাটা গণেশ নামেই খ্যাত ছিল। আর সবসময় খাঁকি হাফপ্যান্ট পরে থাকা, ফুচকান যে কী ধরণের নাম জানার খুব আগ্রহ থাকলেও, বাদা নামক চালনির ফুচকান নামক ছুঁচের নাম রহস্য নিয়ে মাথা ঘামানোর সাহস হয়নি।

.

.

বাড়ির সকলে ফুচকানকে নিয়ে খুব হাসি-মস্করা করতো। আমার ছোটভাই আবার ফুচকানকে সংক্ষেপে ফুচু বলতে, এবং ছোটবোনকে ফুচু বলে ডাকতে শুরু করে। আজ এই বুড়ো বয়সেও সে ওকে ফুচু বলেই ডাকে। রোজ আমরা দু’জনে স্লেট, পেনসিল, বই, আসন, ও স্লেট মোছার জল ন্যাকড়া নিয়ে স্কুলে যেতাম। প্রধান শিক্ষক বাড়ি ফেরার পথে, মাঝেমাঝে আমাদের বাড়ি হয়ে যেতেন।

.

.

আমাদের তিনি খুব স্নেহ করতেন। ভদ্রলোকের এক পাগলাটে ভাইপো ছিল। সে মাঝেমাঝেই স্কুলে এসে, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খুব বিরক্ত করতো। হেড মাষ্টারমশাই নিজেও তার প্রতি অত্যন্ত বিরূপ ছিলেন। একদিন স্কুলের মধ্যেই তাকে বেত দিয়ে খুব মারধর করার পর, তার স্কুল পরিদর্শন করা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেক পরে, বড় হয়ে তাকে ট্রেনের কামরায় লজেন্স্ বিক্রি করতে দেখেছি।

.

.

আমাদের কোয়ার্টার্সের সামনে একটা প্রাচীন অশ্বথ গাছ ছিল। বিরাট গাছটা তার বিশাল কান্ড ও মোটামোটা ডালপালা নিয়ে, পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকতো। গাছটার ঠিক সামনেই রেলের ঝিল। গাছের বাঁপাশে, স্টেশনে যাবার পথের ধারে, টিনের গোয়াল ঘরে, আমাদের গরু থাকতো। গাছটার খুব উচুতে একটা মোটা ডাল থেকে, খুব মোটামোটা দড়ি ঝুলিয়ে, একটা কাঠের তক্তা বেঁধে, বাবা একটা দোলনা তৈরি করে দিয়েছিলেন। তাতে আমরা তো দোল খেতামই, স্টেশনের অন্যান্য কর্মীরাও, অবসর সময় দোল খেতেন। রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের পথে, অনেকেই তাতে দোল খেয়ে আনন্দ পেতেন।

.

.

আমার অভ্যাস ছিল, ফাঁকা দোলনাটাকে জোরে জোরে ঠেলে দোলানো। ফাঁকা দোলনাটা অনেক দূরে ঝিলের জলের ওপর দিয়ে গিয়ে, আবার আমাদের কোয়ার্টার্সের কাছে ফিরে আসতো। এইভাবে ওটাকে খুব জোরে জোরে দুলিয়ে, ছুটে গিয়ে কাঠের তক্তা ধরে পা মুড়ে ঝুলে পড়া। এইভাবে একা একা কারো সাহায্য ছাড়াই, খুব জোরে দোল খেয়ে অনেক উচুতে উঠে, ঝিলের মাঝখানে চলে যাওয়া যেত। মা প্রায়ই এই ব্যাপারটা নিয়ে বকাবকি করতেন। এই প্রক্রিয়ায় দোল খাওয়ার মধ্যে তিনি কোন বিপদের গন্ধ পেতেন।

.

.

একদিন ফাঁকা দোলনাটাকে ওই ভাবে ঠেলে ঠেলে বেশ জোরে দুলিয়ে, সবে ছুটে উঠতে যাব, এমন সময় মা এসে চ্যাঁচামেচি শুরু করে দিলেন। সবজান্তা আমি পিছন ফিরে হাত নেড়ে, এইভাবে দোল খাওয়ার সুবিধা বোঝাতে শুরু করলাম। আর ঠিক তখনই দোলনাটা ঝিলের দিক থেকে ফিরে এসে, সজোরে আমার মাথায় আঘাত করলো। মাথা ফেটে রক্তারক্তি কান্ড।

.

.

বাবা ফিরে এসে সব শুনে, দোলনাটা দড়িতে পাকিয়ে গোয়াল ঘরের টিনের চালে তুলে দিলেন। কিন্তু দোলনাটা এত লোকের প্রিয় ছিল, যে তাদের দোল খাওয়ার জন্য টিনের চাল থেকে নামানো হতো, এবং আমিও সে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতাম না।

.

.

আজ বড় ইচ্ছা করে ছেলেবেলার সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে। অনেক শাসনের বেড়াজালে পরাধীন সে জীবন, তবু সে অনেক ভালো ছিল। সবাইকে নিয়ে একসাথে যদি দু’-চারটে দিন, অন্তত একটা দিনও কাটাতে পারতাম।

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *