এক অবিবাহিত পুরুষের কাহিনী – সবিতা কুইরী

আমি অবিবাহিত এক পুরুষ মানুষ ।সুঠাম দেহ বলিষ্ঠ চেহারা। না কেউ দেখে সহানুভূতি বা করুণা দেখাবে না আমাকে।হাত পা সব আছে।বিধাতা আমার শরীর গঠনে কোন অঙ্গের কার্পণ্য করেননি এতটুকু।
হরমোনের বিভেদ জনিত কারণে নারী পুরুষের গঠন ভিন্ন। আর এই কারণেই বোধহয় নারী পুরুষদের তুলনায় কিছুটা শারীরিকভাবে দুর্বল ।এই দুর্বলতার হেতু তাকে করুণা বা সহানুভূতি দেখানো যায় কিন্তু আমার সে সুযোগ ও নেই আমি যে পুরুষ।
পুরুষ শুধু নয় এক হতভাগ্য পুরুষ ।সমাজের কিছু কিছু মানুষের কাছে তামাসার পাত্র।
পথে আমার বাবা কাকার বয়সী মানুষের মুখেও বলতে শুনেছি “ঐ দেখ ঐ ছেলেটার বিয়ে হয়নি ওর বয়সী ছেলেমেয়েগুলোর কত বড় বড় বাচ্চা তারা সব ইস্কুলে যাচ্ছে”
কেউ বা বলে ওর ভাই বোনেরই ধাড়ি ধাড়ি ছেলেমেয়ে  বয়স কি কম নাকি এর।
কি জানি বাবা এদের কি যে মতি গতি বোঝা দায়।
এই সব কথা শুনতে শুনতে মাঝেমাঝে কোন খেয়ালে ডুবে যায় আমি।মনে পড়ে সেই রঙিন  দিনগুলির কথা
আমার ও সব ছিল প্রেম ছিল ভালোবাসা ছিল।হ্যাঁ খুব ভালোবাসতাম তাঁকে ।ভীষণ ভীষণ ভালোলাগা ।
ছোটখাটো একটা কাজের সুত্রে কোলকাতায় এসে তাঁকে প্রথম দেখি।এক দেখাতেই কেমন যেন হয়ে গেলাম আমি গোটা শরীর জুড়ে রোমাঞ্চিত হয়ে কাঁটা দিল।বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে।বুঝতে না পারার কারণ প্রেম ভালোবাসার কথাটা মাথায় আসছে না আমার। আসবেই বা কি করে সে যে একজনের বৌ এক ছোট্ট শিশুর জন্মদাত্রী।
কিন্তু আমিও তো বেসামাল কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারি না কারণ মনের ওপর লাগাম দেওয়ার ক্ষমতা যে স্বয়ং বিধাতারও নেই।তার প্রমাণ তো আমরা বিভিন্ন পৌরানিক কাহিনি বা ইতিহাসের পাতায় দেখেছি।
কোন কিছু র তোয়াক্কা না করে শুধু নিজের মন কে গুরুত্ব দিলাম আমি।ছুটে গেলাম তাঁর বাড়ি ।আস্তে আস্তে ভাব জমল আমাদের।ভালোবাসা হল ।একটা সুইচ টেপা ফোন ও আসল হাতে।তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটাত তিনি চরিত্রহীন নন কিন্ত মদ্যপ এবং কিছুটা নিষ্ঠুর প্রকৃতি সম্পন্ন আমার নিজের স্বার্থেই ইচ্ছে না থাকলেও বন্ধুত্ব ছিল।পুরুষালি ভাব জাহির করতেই স্ত্রী র ওপর নির্যাতন করতো।  এই কারণেই সে আমাকে বাঁচার খড়কুটো করে ভেসে যাওয়া থেকে বাঁচতে চেয়েছিল হয়তো।
নিয়মিত যোগাযোগ ফোনে।বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তাকে।জাতিগত পার্থক্যের কারণেই নিজের বাবা মা কে মানানোর একটা চেষ্টা চলছিল আমার তরফ থেকে।বাকি অসুবিধার কথাটাও ততটা সহজ ছিল না যদিও।তবে বাড়ির বড়  শান্ত নিঃস্বার্থ ছেলের এই আবদার মেনে নেবেন এটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আমার।
সব সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়ে এসেছি ব্যাপারটা তখনই একটা দমকা বাতাস যেন সব কিছু ওলট পালট করে দিল।
ব্যাপারটা তাঁর স্বামী এবং গ্রামের লোকের নজরে আসতেই শুধুমাত্র স্ত্রীলোক হওয়ার কারনেই কলঙ্কিত নারী আখ্যা পেল সে।সালিশি  সভা বসল গ্রামে।
বিচার হল তার চরম শাস্তি।ভালোবাসার মানুষটিকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করল তারা।চক্রান্ত করে ডেকে পাঠিয়ে এ কাজ তাঁকে দিয়ে ই করানোর পরিকল্পনা।
কিন্তু ফোনে আসল উদ্দেশ্য চাপা রাখেনি সে ভালোবেসেছিল যে তাই একপলক দেখার জন্য ছটপট করার মানুষ টিকে চোখের দেখা দেখতে না চেয়ে যাতে না যায় সেটাই বারবার আকুতি জানিয়েছিল আমাকে ।
আর দেখা সাক্ষাত হয়নি আমাদের।সেই অব্যক্ত যন্ত্রণায় এখন আমার সম্বল।জানি না সে কেমন  আছে? বা আদৌ আছে কিনা?

এখন আমার প্রশ্ন আপনাদের কাছে
1) ভালোবাসা কাকে বলে?
2)কাউকে ভালোবাসা কি পাপ?
3)সংসারে বাধা পড়লেই কি ভালোবাসা আর আসতে নেই?
4)বিবাহিত নারীরা কি বিয়ে হলেই নিজের অস্তিত্ব হারাবে?
5)বিয়ে না করাটাও কি অপরাধ?

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: