এক বৃষ্টি-বিঘ্নিত কুসুমপুর // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

এক বৃষ্টি-বিঘ্নিত কুসুমপুর   //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

অতিরিক্ত কথা বলা আর প্রসঙ্গ বদলে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘায়িত করে বাচনভঙ্গিতে  শান দেওয়া অরিন্দমের নিভৃত মুদ্রা দোষের একটা।
 কোথাও বৃষ্টি থমকে থমকে আবার কোথাও রিলিজ হওয়া রোদ্দুর পথচারীকে বিব্রত করে সুখটাকে ছো মেরে নিয়ে যায় আবরণহীন শব্দঝংকারে— অরিন্দমের কিছু যায় আসে না। সে সবসময়ই চরিত্র খোঁজে–পথচলতি মানুষদের ‘পথোপকথন’শুনে অন্তরবন্দি করে।
     সে লাফায় না। গুণমুগ্ধ হয়ে কথার ভাঁজে উত্তেজিত মানুষকে শান্ত হতে শেখায়। দর্শন নিয়ে পড়াশোনা না করেও দর্শনের[phylosophy] অনেকটাই পোশাক সম্ভারে লালিত তা্র হৃদয়-কাব্য।
  রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। প্রখর গ্রীষ্মের রোদ্দুর  যখন চাবুক মেরে মেরে ভরা শ্রাবণেও  গৃহস্হদের বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে বাধ্য করিয়েছে চাতক পাখির মত তখন ই বর্ষার ঝমঝমানি শাসন করছে রাস্তাঘাট, ট্রেন, বাস এবং কল্পনার জন্য শূন্য হাওয়া। পাড়ার উত্তেজিত কুকুরের দলও এলোমেলো।
 
 
    অরিন্দম দেখছে চরিত্রহীন দের শরীরী চরিত্র। সোনার দোকানে স্খলিত বিস্ফোরণ অব্যক্ত গরিমায় বিষাদ আর বিভ্রাটে অনাস্থা জানিয়েছে। জামাকাপড়ের
দোকানেও পাতলা পাতলা ভীড়। নিকষ অন্তর্ঘাতী মানুষরা কিপটেমি করার বাসনায় এ-দোকান ও-দোকান দাম করে করে দোকানদারের ধৈর্যের শান্ত লাজুক চাউনিকে যৌন ব্যক্তিত্বের আঁচড়ে যাচাই করে নিচ্ছে।
    চাউমিনের দোকানে ভাঙা বেঞ্চের ওপর বসে উঠতি যুবক যুবতী, তরুণ তরুণী দের উজ্জ্বল ঢলাঢলি যৌনকুহকের প্ররোচনায় নির্মূল হয়েও বিস্তৃত আয়তনে উৎকন্ঠায় টানটান। চা অলা চা তৈরি করে করে নিজের পরণের গেঞ্জিটাকেও স্বস্তি দিতে পারছে না। তখনিইছাতা মাথা দিয়ে দুজন যুবতী সুগন্ধি সাজের বশবর্তী হয়ে কিছু বলতে চায়  চাঅলাকে। জীবনীশক্তি পায় চা-দোকানদার।
 
 
   বেশ ভালই লাগে এ ঘণ বর্ষায়। তেলেভাজার দোকানে সস্তায় তেলেভাজা গুলো নিমেষে উধাও।
 ফাঁকে ফাঁকে চলে সিগারেটের সচেতন  ধোঁয়ার কুণ্ডলী। অরিন্দম বড়জোর কুড়ি-বাইশের যুবক।
 
 
 
     ফলে, প্রেম, অনুভূতি, অন্তর, শৈত্যপ্রবাহে জমাট অন্ধকারে খোঁড়াতে থাকে। অরিন্দম পথ খোঁজে।
 অনুষঙ্গ মেলে না। কমনীয়ভাবে বললেও কেউ শুনছে না তার প্রেম মাখা অন্তরের আবেদন।
  সবাই তপতপে বাসনায় প্রেম সাগরে ডুব সাঁতার কাটছে পাতলা পাতলা চোখের আঁশটে ছোঁয়ায়।
 
 
    বৃষ্টি থামছে না। শহর – গ্রাম অতিক্রম করে সকলেই অবচেতন প্রেমের বাঁশরি শোনার জন্য
 একটানা নৈতিকতা হারিয়ে ব্যতিক্রমী যেন।
 
  উলঙ্গ না হয়েও উলঙ্গতাকে উত্তেজিত করতে বিনা প্ররোচনায় এলোমেলো।
 
  ভাবটা–যদি কোনো চিল হঠাৎ একবার ছো মেরে নিয়ে যায় শূন্য হৃদয়টা কে। বড় ভালো লাগে।
  আহাঃ! বেচারা!
    অরিন্দম খুঁজে পায় মুখোশ ঢাকা ভদ্র চরিত্রের একঝাঁক পায়রা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *