কবিতা // ছড়া

shrutisahitya.com



যতক্ষণ না // রণেশ রায়

পাড়ি দিতে সাগর
ডুবতে হয় বার বার
তবু ভেসে ওঠা আবার
যতক্ষন না পৌঁছাই ওপার
মুক্তির নিশান হাতে
সবাই মিলি নবপ্রভাতে
চড়াই উৎরাই বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায়
আধাঁর পেরিয়ে
সূর্যালোকে রাতের জ্যোৎস্নায়
আমরা মিলি আমাদের চেতনায়।

.

জ্বালো আলো  // সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

জাগো, জাগো বর্গি এলো দেশে

মগ্ন হয়ে না থেকে এসো ভালবেসে

বীজ পুঁতে বছর ভর সবুজ দাও এঁকে

কী লাভ আগুনে, তৃষ্ণা নানা ছেঁকে

চুকিয়ে নাও হিংসা আর কুয়াশা

জ্বালাও আলো থাকুক উচ্চাশা….

প্রতিধ্বনি উঠুক– আসুক আগুন্তক

সর্বস্ব হারিয়ে প্রকৃতিতে অক্সিজেন ব্রুক

খেলার মতো খেলো, যুদ্ধ নয় মোটেও

ঘৃণা নয়, আলো দেখাও আর বাঁচতে লেখাও

.

.

এই গোধূলি বেলায়  //  রণেশ রায়

আজের এই নিঝুম নিশুতিতে

শুনি বসন্তের গুঞ্জন বাতাসে

পাখির কলরব উদয়ের পথে

শরতের শুভ্র নীল আকাশে

শিশু মেঘ খেলা করে

মায়ের কোলে ডানা মেলে

গুটি গুটি পায়ে কৈশোর ফিরে আসে

খুঁজে ফেরে নক্ষত্র জগতে

নক্ষত্ররা গপ্প তর্ক তামাশায়

ছড়ার ছন্দ লয়ে

মেলে এসে চেতনায়

আজের এই গোধূলি বেলায়

আমরা বসে হুঁকো মুকে আড্ডার মজলিসে

কৈশোর উঁকি মারে প্রেমের আঙিনায়

যৌবন মেলে এসে আমার প্রত্যয়ে।

.

.

যতক্ষণ না তুমি আস //  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

যতক্ষণ তুমি ছিলে উদ্বাস্তু অগ্রাহ্য
বিক্ষোভ দানা বাঁধেনি শুনছো সাম্রাজ্য?

যতক্ষণ তুমি ছিলে না, হয় অসুবিধে

বৃষ্টি থামল না, মিটলো না খিদে

যতক্ষণ সিঁদুর খেলা হল না শেষ

গোধুলিই দেখালো দিগন্ত অবশেষ

যতক্ষণ স্বর্গ ছিল না, কেমন অস্থায়ী

সন্তান ‘মা’ বলবে কাকে হবে স্তন্যপায়ী?

স্মৃতি এল না ফিরে রাগে অনুরাগে

যতক্ষণ তুমি না আস কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে

.

.

স্বজন //   শ্যামল কুমার রায়

বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায় যারা,

স্বজন হারা হয় যে তারা ।

মণির মতো আগলে রেখেছি যারে –

কি করে আর ভুলি তারে ।

কর্ম ব্যস্ত জীবনে সময় বড়ই কম,

দাগ রেখে যাওয়ার জন্য পরিশ্রম হরদম।

.

.

পিড়িং পিড়িং – ৩৭  //  মাধব মন্ডল

দশ বিঘাতে লঙ্কা বাগান

লাল টুকটুক করে

একটা টিয়ে অবুঝ টিয়ে

খাবার জন্যে মরে।

ও টিয়ে তুই খেতে বসলে

পায়ে পড়বেই দড়ি

দড়ির ফাঁসে আটকে গিয়ে

খাবি গড়াগড়ি।

ও টিয়ে তুই করিস না লোভ

আয় রে খুকুর বাড়ি

খেতে দেব লাল লঙ্কা

না আসলে আড়ি।

.

.

পিড়িং পিড়িং-৩৮ // মাধব মন্ডল

ঘুমের পাখি ঘুমের পাখি

করছি তোকে ডাকাডাকি

আমার সোনা পড়ে ফাঁকি!

মিষ্টি সুরে গান গেয়ে যা

দুষ্টু চোখে ঘুম দিয়ে যা

দই সন্দেশ যা খেয়ে যা।

ঘুমোতে ঘুমোতে বলবে খুকু

আর করিস না ডাকাডুকু

ঘুম খাবে সে সবটুকু!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *