কবিতা সম্পর্কে সামান্য কয়েকটি কথা //তৈমুর খান

sahityakaal.com

   প্রতিটি কবিতাই আমার কাছে আত্মজীবনের দহনের ভাষা হয়ে যায়। নিজস্ব অনুভূতি  প্রকাশের মাধ্যম হয়ে যায়। প্রকৃতির উপমাগুলিও এই দহন জাত প্রক্রিয়া থেকেই উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলিই সার্বিক শাশ্বতের কাছে মুক্তি পায়।

.

যা ছিল নিজের তা তখন অন্যের অনন্তের হয়ে ওঠে। জীবনকে যেমন অস্বীকার করতে পারি না, তেমনি নিজের বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতি ইঁট কাঠ পাথর স্টেশন কাগজ কুড়ানি মেয়ে মজুর খাটা ছেলে ভিখিরি দেখেও কবিতা লিখতে পারি না। বস্তুতান্ত্রিক বিবৃতি বর্ণনার মধ্যে কবিতাকে খুঁজে পাই না।

তবে যখন রক্তপাত মৃত্যু দেখে, ধর্ষণ বলাৎকার দেখে, শোষণ পীড়ন দেখে বাড়ি ফিরি, তখন এক ধরনের মানসিক ক্লেশ আমার অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে। বিক্রিয়া হয় লেখার মধ্যেও। লিও নার্দ কোহেন এই কারণেই হয়তো বলেছিলেন “poetry is just the evidence of life.If your life is burning well, poetry is just the ash.” সুতরাং কবিতায় কখনও মিথ্যে কথা লেখা যায় না। কবিতা চর্চা শৌখিন মজদুরি হতে পারে না।
.

           কিন্তু অবশ্যই কবিরা বলবেন কবিতা বহু রকমের হয়। সেটা হয় হয়তো। কিন্তু আমার ভালোবাসার কবিতা একমাত্র সেই কবিতাই যে কবিতায় কবির কোনও ছলনা নেই। যে কবিতা অন্তর দহনের ঘ্রাণে জারিত। যে কবিতা কবির আত্মমুক্তির সোপান। অনুভূতির ভাষা। হোক তা এলোমেলো, হোক তা ছক ভাঙা এক নতুন পথের সন্ধানী।

             অন্যের কষ্ট আত্মস্থ করে নিজের কষ্ট করে তোলা এবং তাকে আত্মক্ষরণের পর্যাপ্ত আলোয় উন্মোচন করতে পারাই আমি প্রকৃত কবিতা বলে মনে করি।

.

.

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *