কবি গোলাম রসুলের অন্যতম কাব্যগ্রন্থ “লাল হয়ে আছে রাগী আকাশ” সম্পর্কে কবি তৈমুর খান এর আলোচনা ।

লাল হয়ে আছে রাগী আকাশ
অবক্ষয়ী চেতনার স্বয়ংক্রিয় অভিযাপন 
__________________________________
 
 
” লাল হয়ে আছে রাগী আকাশ  ”  (এপ্রিল ২০১৬) গোলাম রসুলের কাব্যটি পড়তে পড়তে মনে হল, অবক্ষয়ী চেতনায় এক নরকের বিষাদময় চিত্রকল্পের ভেতর কবি আমাদের টেনে নিয়ে চলেছেন। বাস্তবিক এই পৃথিবীতে কবির স্বয়ংক্রিয় অভিযাপন।
 
বহুমুখী সত্তার জাগরণে এবং উপলব্ধির নৈঃশাব্দ্যিক ব্যাপ্তিতে মোচড় খেতে খেতে আমরা এক মহাজাগতিক অভ্যাস আয়ত্ত করে নিচ্ছি। কবি বলেছেন ” মৃত্যু নিয়ে আমার মনখারাপ করার অভ্যাস তাই আমি নরকের সন্ধ্যাকে স্মরণ করছি /  আমার স্মারকে ভারাক্রান্ত সূর্যের ছবি / আর নাম না জানা পূর্ণিমার চাঁদের পিঠে উঠে পৃথিবী দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলছে”   —  তখন ব্যক্তি নয়,
 
সামগ্রিক সত্তারই নরকবাসের ছবিটি ” রোগগ্রস্ত অন্ধকারে” পর্যাপ্ত হয়ে ওঠে। আর্থার রিম্বাউদ একটি প্রবন্ধে বলেছেন ”  I belive that I am in hell, therefore I am there.” এখানে সেই প্রতিধ্বনিই শোনা যায়। যখন কবি বারবার বলেন “আমার হৃদয় পাথরের মতো কষ্ট পাচ্ছে”   অথবা “বৃষ্টিমুখর মৃত্যু” নিয়ে কবি “প্রাচীনকালের একা” হয়ে হাহাকারের পীড়িত বাজনায় ডুবে যান।
 
এখানে হৃদয় নেই। অথবা হৃদয় মৃত। পৃথিবী যখন নরক, কবির চেতনাও বিলুপ্ত প্রাচীন ইনহিউম্যানের আকাঙ্ক্ষায় পর্যুদস্ত। দি মিথ্ অফ্ সিসিফাস-এ আলবার্ট কামু বলেছেন ” At the heart of all beauty lies something inhuman.”  গোলাম রসুলের কবিতায় একথারই রূপান্তর ঘটেছে “পৃথিবী এখন শীতল একগুচ্ছ ঘুমের মতো”
 
অথবা “আমাদের জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে ”  এই মানবতা শূন্য নরক দর্শনের ভেতর আমরা প্রাচীন আত্মারই মর্মরিত কান্নাকে উপলব্ধি করতে পারছি।
 
#
(গোলাম রসুল এর সঙ্গে কথা বলুন : 9051768388     )

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *