চিঠি — আমি বেঁচে আছি — যাকারিয়া আহমদ

banglastorynews.com

বটতলায় একলা বসে আছি। দুপুর বেলা। কড়া রোদ। তাই সামনে এগুতে পারছি না। ভাবলাম এই একাকি সময়টা তোর জন্য কাটিয়ে দিই। অনেকদিন হয়েগেছে তোর কাছে কোনো চিঠি লিখি নি নানান কারণে। চালে খড় নেই। ঘরে চাল নেই। 
মায়ের জলের কলসি ছিঁদ কেটে চোর নিয়েগেছে। এই সবের ব্যবস্থা করতে গিয়ে কে যেন তোকে চুরি করে নিয়েগেছে আমার মন থেকে। এখন কাগজে চিঠি লেখার বেশ প্রয়োজন পড়ে না। মোবাইলের কি-বোর্ড চাপতে চাপতে নোটবক্সে তৈরি করা যায় একটা চিঠি। প্রেরণ করতেও বাইরে পোস্টাফিসে যেতে হয় না। মেইল করলেই যথেষ্ট। 
তোর জ্ঞানে আছে আমি এখন ক্লাসে যাই না। শিক্ষা ব্যবস্থার হাল বেহাল। ব্যবসায়িক পদ্ধতির শিক্ষার্জনে মানুষ মানুষ হয়ে ওঠছে না। 
যাকগে এসব কথা! এখন কার দিকে চেয়ে ক্লাসে হা করে বসে থাকিস? এর জন্য তোকে স্যারের বেত্রাঘাত সইতে হয়? ক্লাস শেষে বাড়ি যেতে কি দেরি হয়? বাড়ির পথে পা মারতে মারতে এখন কার সঙ্গে গল্প করিস?
নাজুর মা, মানে তোর বড়ভাবী মায়ের কাছে নালিশ করে তোর ব্যাপারে? আমাকে কষ্ট না দিতে এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু ‘না’ বলেই দেবে এটা আমি জানি। কিন্তু এই ‘না’ আমাকে আরও বেশি কষ্ট দেবে। এজন্য বলি আমার কাছে একটা চিঠি লেখ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। 
যা পড়তে পড়তে তোর অবর্তমানটা আমার কেটে যায়। এই দেখ, “কেমন আছো রাহনূমা” একথাটি জিজ্ঞেস করতে ভুলেগেছি! আচ্ছা তুই কেমন আছিস? আশা করি ভালো আছিস? আমি বেঁচে আছি। তুই বেঁচে থাকবি বহুদিন। অবশেষে একটি কবিতা উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করি, যা আমাকে রোজ রোজ তোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কবি বলেন
“তুমি কি এখন পাথরের ঘরে থাকো? 
জানালার কাচে চোখের পানিতে ধু ধু জলছবি আঁকো? 
আমিও এখন জলের বেপারি, সই— 
ভাঙা বুকে বড় পুকুর খুঁড়েছি জল করে থৈথৈ। 
ঘাটে বসে থাকি নুড়ি ছুঁড়ি জলে ঢেউ গুণি দিনমান, 
কার চাঁদমুখ জেগে ওঠে জলে ভেঙে হয় খানখান! 
ভেঙেচুরে গিয়ে তবু আছি বেঁচে, দেখে যেয়ো একদিন— 
আমি বেঁচে আছি, তুমি আছো শারমিন?”
ইতি
তোর বেঁচে থাকা বন্ধু
যাকারিয়া আহমদ
১৪ মার্চ ২০২০ ঈসায়ি।
ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: