জন্ম নেবে : রণেশ রায়

মহাকাশের ছায়াপথ ধরে আমি হেঁটে চলি

জীবন পথে যাত্রা আমার অবিরাম

পথিক আমি, আমি চলি আর চলি, হেঁটে চলি

আমার মাতৃভূমির হৃদয় ধরে

পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে গমন আমার

আটলান্টিক থেকে ভূমধ্য সাগর হয়ে ভারত মহাসাগর

নাইজেরিয়া থেকে আফগানিস্থান হয়ে চীন

কন্যাকুমারীর সাগর থেকে কাশ্মীর উপত্যকা

বঙ্গোপসাগরের তট বেয়ে হিমালয় পাহাড়

মনিপুর থেকে এই বাংলা হয়ে মহারাষ্ট্র

ভোরের উদয়ের পথ ধরে দিনশেষে সূর্যাস্তের পথে

রাতের আঁধার পেরিয়ে ঊষার আলো যখন ফোটে

সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে পর্বতের তুষার পথে

শস্য ক্ষেত ধরে শহরে বন্দরে

বনানীর সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে জনকলরবে

আমার পথ চলা আদি থেকে অন্তে।

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, অন্ধকার গভীর হয়

পূর্ণিমার রাতে চাঁদ ফেরার আজ

রবির দেখা নেই রাত শেষে উদয়ের পথে

সবুজ বনানী ধূসর সভ্যতার নিষ্ঠুর বর্বরতায়

জীবনের দীপ নিভু নিভু, সন্ধ্যাদীপ জ্বলে না আর

পাখিরা কুলায় ফেরে, শোনা যায় না ভৈরোর গান

স্রোত হারা নদী, সে মেলে না সাগরে

পাহাড়ের কোল ধরে  ঝর্ণা নামে না কুলু কুলু রবে

তাও আমি হেঁটে চলি, পথিক আমি চলি পথ ধরে

হাজার হাজার মাইল অজানা পথে চলা আমার

আমি চলি চড়াই উৎরাই ধরে উজানে দাঁড় বেয়ে।

মাস্তুলবিহীন জাহাজ ভেসে চলে সমুদ্র স্রোতে

ভিড়বে এসে বন্দর পাড়ে ব্যাপারীর বোঝা নিয়ে

দিন শেষে সব লেন দেন শেষ এ জীবনে 

প্রকৃতির রোষে বন্ধ আজ জীবন স্পন্দন 

দুজন বসে মুখোমুখি, আমি আর আমার ভবিতব্য 

জানি না কোথায় শেষ আমার এ যাত্রা।

তবু আমি চলি, শেষ নয় আমার পথ চলা 

অতীত অন্ধকার পেরিয়ে আমি চলি আলোর পথে 

বর্তমানের সন্ধিক্ষণে আমার পথ চলা 

নিশান হাতে আমি ভবিষ্যতের অভিমুখী 

চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সে বন্ধুর পথে

পর্বত শিখর মুখে আমার যাত্রা 

আমি হাঁটি আর হাঁটি হেঁটে চলি নিশান হাতে 

রাত শেষে আঁধার পেরিয়ে উদয়ের পথে 

মিলব আমি পাহাড় চূড়ায় প্রিয়তমা সুকন্যার সাথে

মুখোমুখি একান্তে আমি আর সুকন্যা আমার 

সে আমায় জানায় দৃঢ় প্রত্যয়ে 

যেতে হবে আরও অনেক পথ 

বন্ধ করো না চলা তোমার 

আমিও তোমার সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে 

নতুন সূর্য উঠবে ওই নীল আকাশে 

জন্ম নেবে সে নতুন শিশু নব দিগন্তে।

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: