জীবন থেকে নেওয়া – মোঃ রায়হান কাজী

জীবন থেকে নেওয়া - মোঃ রায়হান কাজী



আমি গ্রামের মধ্যেবিও ঘরের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই
আমি বাবার সাথে ঘুরাঘুরি করতাম।বাবা পেশায় সরকারি চাকরিজীবী ছিলো। তার পাশাপাশি জায়গা জমিনের ম্যাপ বিক্রি  করত আবার আমিনের কাজ ও করত।

যার কারনে অনেক সময় অনেক জায়গায় যাওয়া হত। সে সুবাদে অনেক যায়গা যেতাম।অনেক লোকজনের সাথে পরিচয় হয়তো। 

একজন রিকশা ডাইভার ছিল যার নাম ইশাক।ওনাকে আমি কাকা বলেই ডাকতাম।তো বাবা যখনোই বলতো তিনি ঠিক ঐই সময় এসে হাজির হতো।এভাবেই কাটতে তাকলো দিন।

তখনো আমি জানতাম না বাহিরের জগৎ সম্পর্কে।হঠাৎ বুঝতে পারলাম বাবা দুইটা বিয়ে করছে।তো তখন আমরা ছিলাম দুই ভাই পরে আরেক ভাই হয়ছিল।আর ওনারা ছিল একভাই দুবোন।

কিছু দিন পর দেখলাম আমার বড় ভাই মানে (বাবার আগে বিবাহিত করা স্ত্রী ছেলে) আমার বড় যে ওনাকে আমি ছোট ভাইয়া বলে ডাকতাম ওর সাথে সবসময় খারাপ ব্যবহার করত।

একদিন তো ছোট ভাইয়া ওজু করতে গেলে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয়।তারপরও মা তেমন কিছু বলে নাই। এভাবেই চলতে থাকলো দিন।

অন্য একদিন,আমি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি তো শুক্রবার ছিল।আমি বাবাকে বললাম আমাকে টাকা দাও আমি আইসক্রিম খাবো। তখন বাবা গোসল করছিল তাই বাবাকে বলে আমি ওনার পকেট থেকে বিশ টাকা নেই।
হঠাৎ বড় ভাইয়া আমি টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় শুধু একটা চড় মারে। যার জন্য মা আবার বকাবকি করে। বকাবকি করার কারনে মাকে গিয়ে চোখের মধ্যে ঘুসি মারে। পরে মা মাটিতে পরে যায়।

তারপর থেকেই মা একচোখে ভালো করে দেখেনা।
তো মা ওকে কিছু বলতোনা শুধু নামাজ পড়ে কান্না করতো। 
এভাবেই চলছিল দিন।যখন এসএসসি পরীক্ষা দিলাম তখন বাবা আমাকে ঢাকায়  ভর্তি করতে চায়।কিন্তু ওরা তিন ভাইবোন মিলে তা করতে দেয় না।তারপর থেকেই ওরা আমাকে সবসময় হত্যা করতে চাইতো।একদিন তো আমাকে বড় ভাইয়া পানিতে ফালিয়ে মরে ফেলতে চাইছিল।
এভাবেই ওনারা তিনজন মিলে আমার নামে সাথে মিথ্যা কথা বলতো।সাথে আমরা ভাইদের নামেও।ছোট ভাইয়ার তো পড়ালেখায় বন্ধ করে দেয় ওরা একসাথে হয়ে। বাবাকে মানা করে যেন ভাইয়াকে রেজিষ্ট্রেশনের টাকা না দেয়। তারপর আর ছোট ভাইয়া পড়াশোনা করে না।
এরপর থেকেই একেরপর এক মিথ্যা কথা বলতে শুরু করে ওর তিনজন মিলে। আমাকে মারার হুমকি পর্যন্ত দিত।
একদিন বড় ভাইয়াকে বিয়া করাতে যাই।তখন মেয়েটাকে সবাই পছন্দ করে। কিন্তু আমার আপু সব জায়গাই ঝগড়া বাড়ানোর জন্য প্রস্তুুত থাকতো।তো খুব স্বাভাবিক তিনি ওইখানে মেয়ের নামে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন।পরে ওনারা আমাদেরকে খাইয়ে বলে আসতে পারেন। ফলে আমরা চরম অপমানিত হয়।
পরে এসব নিয়ে এলাকায় বড় ভাইয়াকে মারতে যায় আমার এক চাচাত ভাই আর অন্য একটা লোক। পড়ে আমিও ওনাকে মাড়াতে গেলে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তার দুই মাস পরে বড় ভাইয়াকে বিয়ে করাই।বিয়ে করার পর প্রথম কিছুদিন ভালে থাকলেও পরবর্তীতে ঝগড়াঝাটি শুরু করে।তারজন্য আমি মাঝে মাঝে ডাকদিতাম একারণে ওনি আমাকে মারার জন্য যেখানেই যাইতাম সেখানে ছেলেদের দিয়ে আমার সাথে ঝগড়া লাগাইতো। এভাবেই অনেক কষ্টে দিন কাঁটায়তে লাগলাম।মাঝে মাঝে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিত যার কারণে আমিও বিবাদে জড়িয়ে পড়তাম। 
তাদের মধ্যে বড় হওয়া সত্বেও হিংসা এটুকুও পরিমান কমলো না। বরং দিনদিন বাড়তেই থাকলো ।

.

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: