টাকা – বন্য মাধব

banglastoryboard

আমার এক বন্ধু বাঁকুড়ার অজ পাড়াগাঁয়ে একটা স্কুলে টিচারি পেয়েছে, তবে তারা একখান জব্বর শর্ত দিয়েছে, স্কুল ফান্ডে হাফ লক্ষ টাকা ডোনেট করতে হবে, তা’ চাকরিবাকরির যা হাল, বন্ধুটি মরিয়া হয়ে টাকাটা জোগাড়ে নেমে পড়েছে, তো আমাকেও পাঁচটি হাজার জোগাড় করে দেবার কথা জানালো, আমি? হায়! বন্ধুদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে হাঘরে, সব্বাই জানে সে কথা, তবুও বললো।

.

.

একটা দৈনিক কাগজে সবে ঢুকেছি, এখানে যে এত নগণ্য টাকা দেয় আগে জানতাম না, জানছি আর চোখ ছানাবড়া হচ্ছে, অন্য কাজ না পেলে তো এটাও ছাড়া যাচ্ছে না, সকালে দু’বাড়িতে জনাচারেককে পড়াই, একটা বাড়ির অবস্থা ভালো, বাবা মা দু’জনেই ভালো সার্ভিস করে এ্যাডভান্স চাইলে দিলেও দিতে পারে, চেষ্টা করে দেখতে হবে, আর তো কেউ নেই টাকা দেবার, আর সবাই শোনামাত্রই ছায়াও মাড়াবে না।

.

.

পড়াতে গিয়ে মনুদিকে বললাম সব, পরে জানাবে জানালো, হুম তা’লে আর হয়েছে, অস্থির অস্থির মন নিয়ে পড়ানো শেষ করলাম, উঠতে যাচ্ছি মনুদি বললো, দুপুরে আয় একবার দেখি, কি করা যায়। আচ্ছা বলে বেরিয়ে এলাম, কিন্তু দুপুরে কেন? কালও তো আসবো, কাল নিলে হতো, আবার যদি মন পাল্টায়? পুরোটা দেবে তো? নাকি কিছুটা? নাকি সামান্য? কি জানি কি আছে পোড়া কপালে! ওলোটপালোট ভাবনা মাথায় খেলতে লাগলো।

.

.

কিন্তু টাকাটা তো আমার চাই, দেখাই যাক না কি হয়, একটার দিকে গেলাম, গেট খোলা, আওয়াজ পেয়ে ভেতর ঘর থেকে মনুদি বললো, ভাই, তালাটা দিয়ে আসিস, গলাটা একটু কাঁপা কাঁপা লাগলো, আচ্ছা, লাগিয়ে দিলাম, মনুদি ডাকলো আবার, ভাই, এঘরে আয়, গেলাম, ভোর দুপুরে জানালা বন্ধ, কম পাওয়ারের বাল্ব একটা জ্বলছে বটে, অস্বস্তি অস্বস্তি হতে লাগলো, মনুদি চাদর গায়ে শুয়ে, সেদিকে তাকিয়ে মনে হলো, মনুদির শরীর ফুটে উঠেছে, কিছু কি গায়ে নেই? আবার কেঁপে কেঁপে উঠছে যেন, মাথার পাশে বসতে বললো, বসলাম, বললাম, জ্বর নাকি?

.

.

হ্যাঁরে, আমার এমন হঠাৎ হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হয়, আবার এমনি এমনি সেরেও যায়, আজ আবার মাথাটা ঢিপ ঢিপ করছে, একটু হাত বুলিয়ে দিবি ভাই? মনুদি কাতরায়।

বললাম, এই তো ন’টায় দেখে গেলাম, সব ঠিক আছে, হঠাৎ এসব?

.

.

আর বলিস না বলে মনুদি মাথাটা আমার উরুর ওপর তুলে দেয়, দে ভাই, একটু হাত বুলিয়ে, কাঁপা হাতে মনুদির কপাল টিপতে লাগলাম, উঃ আঃ, কি আরাম, তোর কি নরম হাত বলতে বলতে মনুদি আমাকে আরও জাপ্টে ধরলো, বলল, ভাই কাঁধটা একটু দে ভাই আর শিরদাঁড়াটা, উঃ ফেটে গেল, মাগো বলেই বেড সুইচ টিপে আলো অফ করে দিলো, হাতটা ধরে কাঁধে নিয়ে গেল, বললো, তোর নরম হাতের চাপ দে ভাই, এক কাঁধ হয়ে গেলে আরেক কাঁধ ঘুরিয়ে দিলো, কাঁধ হয়ে গেলে শিরদাঁড়া, মাথা থেকে কোমর, মনুদি চাদর ফেলে উপুড় হয়ে আমার কোলে বুক তুলে দিয়েছে, ঠিকই ধরে ছিলাম মনুদির শরীরে চাদর ছাড়া কিছু নেই, বলছে, তোর জন্যে পুরো পাঁচটা হাজার রেডি করে রেখেছি, আমাকে সারিয়ে তুলে নিয়ে যাস, আবার অসুখ হলে, প্রায়ই আমার হয় রে, আসিস কেমন, এমন করে সারিয়ে দিস, আসবি তো?

.

.

হুম, আসতে হবে হয়তো, শিরদাঁড়া বরাবর হাত চলে যাচ্ছে নীচে, মনুদি বলছে, আরও একটু চাপ দে ভাই, কি কষ্ট, কি কষ্ট, নিচের দিকে নামতে শুরু হলেই – পাঁজরে চাপ, আরও আরও, ডানদিকে নাম, আরেকটু, আঃ, চেপে রাখ, বাঁদিকে যা, বলতেই থাকে, বলতেই থাকে, শিরদাঁড়ার মাঝবরাবর এলেও নির্দেশ আসে দু’পাশে নাম, তলপেটে গেলে আরও চাপ আরও নাম, উঃ আঃ, কি সুখ ইত্যাদি ইত্যাদি, শিরদাঁড়ার শেষে গেলে ঢাউস দুই পাছা পালিশ কর, তারপর উল্টোদিকেও, থাই, কাফ মাসল,  হাত পায়ের আঙুল, সব জায়গায় কাজ শেষ হতে ঘন্টা তিনেক লাগলো, মনুদির এবার অন্য যন্ত্রণা, বললাম, কি চাও তুমি?

.

.

মনুদি খিলখিল করে হেসে ওঠে, তার হাত আর শরীরও সাপের মত আমাকে পেঁচিয়ে ধরেছে, পেড়ে ফেলেছে বিছানায়, পটাপট মনুদি আমার শরীরকেও তার শরীরের মতই করে ফেললো, কিন্তু আমি তো আর আমি নেই, ছোবল পড়ছে ঠোঁটে গালে, সর্বত্র, বিজয়িনীর মত মনুদি আমার শরীরের ওপর, ছিঁড়েখুঁড়ে খাচ্ছে, কী তান্ডব কী তান্ডব! নিজেকে দাস ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারছি না, সমস্ত জ্বালা মিটিয়ে মনুদি আমার শরীরে এলিয়ে পড়লো, তার শিকার করা শেষ, খাওয়াও শেষ, এবার বিশ্রাম, ব্যাঘাতহীন বিশ্রাম চাই তার।

উঠে পড়লাম, ঝটপট ফ্রেস হয়ে টাকাটা নিলাম, মনুদি বললো, কাজ সেরে এখানে এসো, অনেক কথা আছে।

বললাম, ওরা আজ আসবে না?

.

.

মিষ্টি করে মনুদি হাসলো, আসলে কি আর আসতে বলতাম? ওরা ক’দিন আসবে না, এক সেট চাবি নিয়ে যাও, দেরি কর না কেমন? আচ্ছা বলে গেট লাগিয়ে রাস্তায় নামলাম, মনে হচ্ছে যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম, কিন্তু যে জীবনে জড়িয়ে পড়লাম তার থেকে কি কোনোদিনও মুক্তি পাবো? আমার কি অন্যপথ খোলা আছে আদৌ? আমার চাওয়া না চাওয়ায় কিছু কি যায় আসে?

আমি কোনোদিনও তো কোনোখানে নিয়ন্ত্রক হতে পারি নি, সব সময় তো পিছনের সারিতেই কেটে গেলো, এই দাসত্ব তো আমার জন্মগত, এমন ঘটনা তো আমার জীবনে এই প্রথমবার নয়, সে সব জায়গাতেও আমার ভূমিকা দাসের মতোই।

.

.

ভাবতে ভাবতে বন্ধুটির বাড়ি চলে এলাম, এই তোর শরীর খারাপ নাকি রে? মুখচোখ শুকনো শুকনো লাগছে, ও জানতে চাইলো, কি করে এত তাড়াতাড়ি টাকাটা জোগাড় করলি রে?

বললাম, শরীর ঠিক আছে, ঐ হলো আর কি! অত ভাবিস নে, কাজ মেটা। উঠে পড়লাম অফিস যাবো বলে।

.

.

কিন্তু অফিসের দিকে পা যাচ্ছে না, ভাবতে ভাবতে মেসে চলে এলাম, আয়নায় মুখ দেখে চমকে উঠলাম, ঠোঁটটা ফোলা ফোলা লাগছে যেন, ক্ষুধার্থ একটা মানুষ নিঃশেষ করে চেটেপুটে খেয়েছে, মুখ চোখ আরেকবার ভাল করে ধুয়ে ফেললাম, ভিজে গামছাটা মুখে চেপে রাখলাম, আঃ, আরাম! চোখ জুড়ে ঘুম নেমে আসছে……..

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: