টুকিটাকি // ছোটবেলা – ১৩ // বন্য মাধব

 

টুকিটাকি // ছোটবেলা - ১৩ // বন্য মাধব
গরমের দুপুরে অপেক্ষা করতাম এই বুঝি বরফ ব্যাপারি হাঁক মারল! গলার জোরও ছিল তার, খদ্দের-পয়েন্টে হাঁকের জোর অটোমেটিক বেড়ে যেত। গেলাস আর পয়সা নিয়ে একছুট্টে চলে যেতাম তার কাছে, কলতলায়, আমাদের ঘেরের মাথায়। রঙিন বরফ গোটা তিনেক কিনে একটাকে  চুষতে চুষতে চলে আসতাম। তখন এক একটার দাম ছিল দশ পয়সা। তবে নারকেল দেওয়া বরফের দাম বেশি ছিল, আমরা পয়সা থাকলে মাঝে মধ্যে দু’একটা খেতাম চার আনা দাম দিয়ে। রঙিন বরফ খেলে জিভ আর ঠোঁট রঙিন হয়ে উঠতো। আর রামপুর হাটে গেলেও কিছু না হোক একটা বরফ খাওয়া চাই-ই।
 
আমাদের আর একটা প্রিয় খাদ্য ছিল আঁখ। হাঁটু দিয়ে আস্ত আঁখ ভেঙে টুকরো টুকরো করে দাঁত দিয়ে ছাড়িয়ে সবাই মিলেঝুলে মজাসে খেতাম। আর খেতাম হরির লুটের বাতাসা। সে আর এক মজা! সন্ধ্যেবেলা মানতের বাতাসা হয় বনবিবি তলায় না হলে গোলার সামনে উঠোনে লুট দেওয়া হতো প্রায়ই। লুটের সময় ডাক পড়ত বাচ্চাদের। যে য’টা কুড়োবে ত’টা তার। তবে একেবারে ছোটরা একটাও পেত না, শুরু হত ভ্যাঁ। আমরাই তাদের দু’য়েকটা দিতাম। তবেই চুপ করতো তারা।
 
আমাদের পাড়ায় নিষিদ্ধ জিনিসও তৈরি হতো, চোলাই মদ আর তাড়ি। বড়দের অনুপস্থিতিতে সে দু’টি বস্তু চেঁখেটেঁখে দেখেছি একটু। চোলাই গলায় ঢেলে দেখি, গলা জ্বলে যাচ্ছে আর তাড়িটা তো বিশ্রি দুর্গন্ধের। যে খায় সে এর মর্ম বোঝে। সরস্বতী পুজোর বিসর্জনে সিদ্ধি খেত বড়রা। আমরাও চেঁখেছি, মোটেও ভাল লাগে নি। পাটকাঠিতে আগুন লাগিয়ে সিগারেটের মত টান দিতাম। ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের হলকা ঢুকতো মুখে, ঠোঁট জ্বলতো, ধোঁয়ায় জোর কাশিও আসতো। তাতেও মজা!
(চলবে)

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *