টুকিটাকি – লকডাউন – বন্য মাধব

টুকিটাকি - লকডাউন - বন্য মাধব

লকডাউন ঘোষনার আগের সপ্তাটি পুরোপুরি ঘরবন্দী থাকতে হলো, হালকা জ্বর, একটু কাশি, মনে হচ্ছিল বুকে যেন বেশ সর্দি জমে আছে, সিজন চেঞ্জের সময় এমনটা আমার হয়েই থাকে, সঙ্গে থাকে নাক দিয়ে অঝোরে জল ঝরা, এবারটা নেই এটা, এসব সময় কী করতে হয়, মানে ওষুধপত্র কী কী খাব সেসব মুখস্ত, সুতরাং দেরি না করেই প্যারাসিটামল আর কাফ সিরাপ চালিয়ে দিলাম, এখানে তখন করোনা আসবো আসবো করছে, দু’দিনে জ্বর কন্ট্রোলে এলেও কফটা কষ্ট দিতে লাগল, হেল্থ সুপারভাইজার গিন্নির পরামর্শে এ্যান্টিবায়োটিক শুরু করলাম, সকালে ডাঃ ভাইপোর এ্যাপ্রুভ্যাল আনতে গিয়ে মৃদু বকুনি খেলাম, ফলে বন্ধ হলো ওটা, একদিন ওয়েটের পরামর্শ মেনে নিলাম, নাহ সমস্যাটা গেলো না, ভাইপো ঐ ওষুধটা পাঁচদিন খাবার নির্দেশ দিল, এবার গেলো, সবার উৎকন্ঠা শেষ হলো, ভাইপোসহ সবার কড়া নির্দেশ ঘরবন্দী থাকার, অন্তত চোদ্দদিন!

এদিকে বাড়িতে তো অতিথি আছে, একমাত্র মেয়েকে সদ্যোজাত নাতিসহ গতমাসেই এনেছি,
বুমবুমের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ হলো, মেয়ে আবার রাজ্যের বড় হাসপাতালটির নার্স, তার আবার কড়া শাসন, হুম, চুপচাপ লেখালেখিই চললো।লেখালেখি চলছে বুমবুমকে নিয়ে, লেখালেখি চলছে রিপোর্টার গল্প সিরিজ, ভালবাসাই শেষশব্দ বইটার ফেসবুক থেকে মুছে যাওয়া প্রথম কুড়িটা কবিতা আবার পোষ্টও করে ফেললাম, আর এখন এইমুহূর্তে পুরো ফিট, চুটিয়ে ঘরের কাজ আর বুমবুমের সঙ্গে সময় কাটানো চলছে। আর ঘরবন্দী থাকার অভ্যেস তো আমার চিরদিনের, শেষ ঘরবন্দী
ছিলাম ‘১৩ সালে টানা ছ’মাস, বাইক দুর্ঘটনায় কোমর ও হাঁটু ভাঙার সময়, সুতরাং তার তুলনায় এ তো সামান্য ব্যাপার।
সবাই ভাল থাকুন, সরকারি নির্দেশ মেনে চলুন।

চলছিল বেশ, সেরে উঠেছি জ্বর তাড়িয়ে, একটু ঘাম হলে অবশ্য কাশি আসছিল, খুকখুক, তবুও চেপেচুপে চলেই যাচ্ছিলো, মুশকিলটা হলো মেয়ের জ্বর আসায়, দু’মাসের বাচ্চা মাকে ছেড়ে থাকেই না, ভাইপোকে ফোন করে প্যারাসিটামল খাওয়ালাম, ভাইপো আছে ঢাকুরিয়ার আমরিতে। রাতে একশোর কাছে জ্বরটা থাকলো, জামাইকে ফোন করলাম, ও আছে বি পি পোদ্দার হসপিটালে, নাইট সেরে পরের দিন এলো, স্পেশালিষ্ট কাউকে পাওয়া যাবে না, লকডাউনে চেম্বার বন্ধ, জামাই ওর পরিচিত ডাক্তারবাবুদের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক চালালো, পাঁচদিনের, সারলে ভালো নাহলে আইডি হাসপাতাল, করোনা!

হায়, বছর পাঁচেক আগে ডেঙ্গুর থাবা থেকে বাচ্চাটাকে ফিরিয়ে আনলাম, এখন আবার করোনা! ভয় ভয় একটা করলেও মন শক্ত করলাম, বললাম, আরে না না, ও সব কিছু নয়, সাধারন জ্বর, এখন তো ফ্লুয়ের সিজন, এইতো ক’দিন আগে আমার হলো, সেরে তো গেলো, তো? ভয় পাবার কিছু নেই।

সত্যি তাই হলো, ওষুধ শুরুর দু’দিনের মাথা থেকে আর জ্বর এলো না, চিন্তাটা কমতে লাগলো, দিশাও সাহস পেতে লাগলো, হতাশার ভাবটা সবার কাটতে থাকলো, পাঁচদিনের দিন মেয়ে আমার এক্কেবারে তাজা।

কিন্তু আমার ওপর রেসট্রিকসনগুলো আরো কঠোর হতে লাগলো, কাছেই বাজার, বাজারে যাওয়া বন্ধ হল, বাড়ির সামনে এক ছাত্রের মুদিখানা, ঐ পর্যন্ত আনাগোনা, যখন যেমন দরকার হয়, দু’তিনদিন ছাড়া ছাড়া যাই ওর দোকানে, বাড়িতে মাছ আসে, সব্জি আসে, বড় ভাইঝি একদিন মুরগী এনে দিল, বড়দা একদিন চাপাতা, দু’দিন জামাই গিয়ে বাজার এনে দিল, চলে যাচ্ছিল, কাজের দিদিও যোগ দিল, বাড়ি পাড়ায় হওয়ায় এখন আগের মতো দু’বেলাই আসে, কিন্তু বাচ্চা দেখার দিদি ট্রেন বন্ধ হবার দিন থেকেই আসা বন্ধ করেছে, আমাদের বাড়িতে থাকতে বললেও প্রথমে রাজি হয় নি, লকডাউনের মাঝে রাজি হলেও তখন আমরা আর রাজি হতে পারি নি, আমার ছুটি থাকায় বেশ সুবিধাই হলো, আমার নাতি কোল জুড়ে আছে, দিব্যি হাসিখুশি, সব কষ্ট যেন আমার নাতিই আনন্দে ভরে রেখেছে।

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: