তৈমুর খানের তিনটি কবিতা

Taimur Khan


বাসর 


একটা ছুরির মতো তীব্র উদ্ধত মুখ 
মৃত্যুর 
চারিপাশ ঘিরে দাঁড়াচ্ছে আমার 
আমি কখনও চুমু খাইনি ওকে 
কেঁপে উঠছে আমার কুমারী হৃদয় 


চতুঃসীমা অস্পষ্ট ধূসর 
কাউকে ডাকার ভাষা জানা নেই আর 
ফাঁকা হাতে কিছুটা শূন্যতা চেপে আছি 
শূন্য ভরা এপৃথিবী শুধু 
ডুবে গেছে চাঁদ 


সব মলিন কাগজগুলি উড়ছে কবিতার 
কেউ আর আমার কাছে থাকতে চাইছে না 
এই তবে অমোঘ বাসর? 
আমি একা, সেও একা অদ্ভুত সুন্দর! 



সিংহ গর্জন করছে 


               


সিংহ গর্জন করছে শুধু —
আমরা নিজের ভেতর 
নিজেই লুকিয়ে আছি   ।
হাত বাড়াচ্ছি না —
গলাখাকারি দিচ্ছি না —
যদিও ভয় পাচ্ছি 
উদ্ধারের আবেদন জানাচ্ছি না  ।


এখন দিন না রাত 
সূর্য উঠেছে না মেঘলা 
কিছুই বোঝা যাচ্ছে না  ! 


ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস পড়ছে কার  ? 


চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারছি না 
সে আমার আপনজন কিনা   !


একটি এলোমেলো 


ইচ্ছে নেই,ইচ্ছে নেই
কোথা গেল ইচ্ছেরা সব?
ফাঁকা হাত,উলঙ্গ মানুষে
ভরে গেল পাড়া,
দিনরাত শুধু কলরব !


কার বাঁশি কে বাজাল
কে কাকে ডাকতে এল
হাওয়ায় উড়ল গার্হস্থ্য শব
জল তুলল কলসি কলসি
কিছুই বলল না দিঘি
ঢেউ তুলে গেল হুলুস্থুল অভিভব


কানামাছি ভোঁ ভোঁ
বিশ্বাসের দরোজায়
কড়া নাড়ল অবিশ্বাস 
সম্ভবের গান থেমে গেল
সারাপাড়া দাপিয়ে বেড়াল অসম্ভব ।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *