তৈমুর খানের তিনটি কবিতা

212

            কাঁপন

         _________

একটি কাঁপন লিখি

কাঁপন কি লেখা যায়  ?

হুহু শব্দের কাছে দীর্ঘশ্বাস রাখি

দীর্ঘশ্বাস কি রাখা যায়  ?

 

যারা গোপন আলো জ্বালে

নিজেদের মুখ দেখবে বলে

আয়নার সামনে দাঁড়ায়

আমি তাদেরই কেউ হই

 

বাদাম ভাজা খাইনি কোনওদিন

যাইনি গড়ের মাঠে

মাটির দাওয়ায় ভাঙা সূর্য পেলে

কুড়িয়ে নিয়েছি তপ্ত রোদের ঢেউ

 

বিষাদের স্বাদ যতই তেতো হোক

দুর্ভিক্ষে খেয়েছি তাই

ক্রীতদাসের মতো চাবুক খেয়ে

রাত জেগে বাজিয়েছি বাঁশি

 

আগুন আমার কাছে এসে

ভিজতে ভিজতে ফিরে গেছে

কথা চলে গেছে বহুদূর

 কাঁপন ঢেউ তুলেছে আকাশে

                 নিশিবেলায়

                ____________

পাখির মতো ক্লান্ত দিন

চলে যায়

 

যেতে যেতে ডাকে

ডাকার সংকেতে

নিভে যায় আলো

 

আঁধারের চুলগুলি জড়াই

প্রিয়ার মতোন চোখেমুখে

 

             আমার ঘর

           ____________

এখানে শহর নেই

মাটির বাড়ির দাওয়ায়

নিঃস্ব পিতার ছায়া পড়ে আছে

মায়ের নিকোনো উঠোনে বৃষ্টির দাগ

আমাদের কিশোরবেলা আজও ছুটোছুটি করে

 

অদূরে মাটির কলসি ঠাণ্ডা জল নিয়ে বসে আছে

পিপাসা পেলে যাই তার কাছে

পাতার জ্বালে সেদ্ধ হয় ভাত

নতুন ধানের গন্ধে ঘর ভরে আছে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *