তৈমুর খান এর দুটি কবিতা

smritisahitya.com

            ১ 

আমিও কি ছায়ার গান  ?

কালো জলে নিজেরই ছায়া পড়ে আছে

ঢেউগুলি কম্পনের মাত্রা গোনে

বিকেলের বার্ধক্য এখন স্নানে নামে

দুয়ার খুলে দিয়ে হাওয়া অলীক পর্দা ওড়ায়

.

.

কে গান শোনাবে আর  ?

হ্রেষারব চিন্ময় স্ট্যাচু হয়ে জাগে

দূরতর পাখির নকশায় মনে পড়ে কল্পনার কারুকাজ

রাস্তায় ধুলোর হাসি বয়ে নিয়ে যায় যুগান্তরের কালিদাস

বর্ষার ইংগিত বোঝে , ঘুরপাক খেতে থাকে প্রত্যয়ের হাঁস

.

.

ছায়াকে বিষণ্ণ লাগে খুব

আমিও কি ছায়ার গান  ?

ক্লান্তির দোচালা খুলে উদাসীন হাটে

আমারই বেচাকেনা শেষ হয়

আমারই পুরোনো দিন নতুন রোদের শাড়ি পরে

ভালোবেসে এখানেই বাসর সাজাই

বাসরে গানের মরীচিকা, লতানো পাথুরে ফুল

রঙিন অথচ সূক্ষ্ম পরকীয়া…

.

.

 

       ২

কেউকে বলি না এসব

.

.

সংকটের তীরে ময়ূরেরা নেমেছে আজ

আমরা নৌকা ভাসাইনি

আলোর যুগ ভেবে ভেবে অন্ধকারের পরির কাছে অলীক সমর্পণ

.

.

একটাও নতুন বাঁশি কিনিনি

বাজাবার ইচ্ছে নেই

তোড়জোড়ের পাঁয়চারি নেই

হুকুমনামার বিলোল উত্থান শুধু

চাবুক হাতে শাসনের ভয় দেখায়

.

.

কার দেশ ? কী শাসন  ?

মানবিক পর্যায়ের স্কুলগুলি ঘণ্টা দোলায়

কে দোলে তবে  ?

বেইজ্জতির দাসত্বে মুগ্ধ নরনারী পাখনা মেলে উড়ে যেতে থাকে

কোথায় যায় কেউ জানে না —

অনবদ্য ইতিকথার ভেতর সূর্য ডোবে

.

.

ধান ভানতে ভানতে চোখ ছলকায়

বসন্তের বারুদ জ্বলে ওঠে

নাচের মুদ্রাগুলি অপেক্ষার উঠোনে

ছায়াগানের মনস্তত্ত্ব কুড়িয়ে নেয়

.

.

আমাদের ঘরে ফেরা হয় না

চোখের ভাষাও কাজললিপ্ত

অস্পষ্ট তাকিয়ে থাকে

দূরে কোনও বিহ্বল অরণ্যের পাহাড়ে

নেমে আসে অন্ধকারের ধুলো

.

.

কেউকে বলি না এসব

নিজে নিজে নিজেরই মস্তিষ্ক খরচ করে

শূন্য বলের মতো গড়াতে থাকি…

.

.

.

.

 

তৈমুর খান, জন্ম ২৮ জানুয়ারি ১৯৬৭, বীরভূম জেলার রামপুরহাট ব্লকের পানিসাইল গ্রামে ।মূলত নব্বই দশকের কবি ।

প্রকাশিত গ্রন্থ :  কোথায় পা রাখি, বৃষ্টিতরু, খা শূন্য আমাকে খা, আয়নার ভেতর তু যন্ত্রণা, জ্বরের তাঁবুর নীচে বসন্তের ডাকঘর, একটা সাপ আর কুয়াশার সংলাপ, প্রত্নচরিত, নির্বাচিত কবিতা ইত্যাদি ।

.

.

পুরস্কার :কবিরুল ইসলাম স্মৃতি পুরস্কার, দৌড় সাহিত্য সম্মান ।

.

.

ঠিকানা :

তৈমুর খান, রামরামপুর (শান্তিপাড়া), রামপুরহাট, বীরভূম, পিন ৭৩১২২৪, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *