তৈমুর খান এর দুটি কবিতা

shrutisahitya.com

নিজেরই বিশেষ্যপদ

কয়েকটি ছোবল শুধু , চারিপাশে ফণা দুলে ওঠে
ক্ষতগুলি ঢেকে রাখি
আরক্তিম সন্ধ্যায় তবু রক্ত ঝরে

নিজেরই বিশেষ্যপদ —  সামাজিক, ব্যাকরণ সম্মত
অথবা গৃহপালিত —
কেন সে আকাশে ওড়ে , অথবা কাঁপে বোধিকল্প জ্বরে ?

বিহ্বল পড়শির কাছে স্বপ্ন চায়
স্বপ্নে এক বাদামি শরীর
শরীরে স্রোতের ঢেউ
আর আরশিজলে নার্সিসিজম্  !

উপরন্তু প্রাচীন চাঁদ সহজিয়া জ্যোৎস্না বিলি করে
বোঝে না প্রবৃত্তিসাধ কেমন মৎস্য হয়ে
ডুব মারে জলে

কয়েকটি ছোবল শুধু ক্ষত করে রাখে
সমস্ত জীবনইচ্ছাকে…

নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ

খড়ের শব্দ ।  শীতের রাত । জ্যোৎস্না নেই  ।

গান ঝরছে ।  অন্ধকারের তীব্র গান   ।

ধারণার রাস্তা আগলে কুকুরগুলি দৌড়ে গেল   ।

হল্লা নামল পথের মোড়ে   ।
বিরক্তি আজ  । বন্ধ জানালা   ।

দুয়ারে সব মৃতমাছ ।  পর্দা ঠেলছে ।

আসছ কেন ? কে ডেকেছে  ?

ভূমণ্ডলের নষ্ট প্রলাপ দিব্যি হাসছে   ।

রাঙা চোখের কোনো ইশারা দেখছি না আর   ।
তালপাতারা বাঁশি বাজাচ্ছে   । গাছে গাছে ।

ঠাণ্ডা বাতাস হাতুড়ির মতো উঠছে নামছে  ।

শুনশান ঘুম ওই পালাল  । কুকুররগড় চলছে বেশ   ।
নিজেই নিজের আজ্ঞাবহ  । জানালা খুলি ।

আর কথার দোকান   । দোকানে এসেছে চেতনাকুমারী   ।

বেশ রূপসী   । ছলকাচ্ছে মৃদু গন্ধ  ।

কাতুকুতু  । হিহি হিহি   । লাফিয়ে নামছে শব্দগুলি  ।

এসবই খুব প্রাইভেসি   ।
ওই রক্ত ঝরল   । আবার সঙ্গম  । পরপর ।

পর্দা নামাও   দেখব না আর ।  অনুভূতির দোকান

বন্ধ   । চোখ ফিরুক চোখের কাছে  । বেশ অন্ধকার ।
কুকুরগুলি দৌড়ে গেল…..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *