দাগ – বন্য মাধব

dsfg453

ক’দিন ধরে শুধু মনটা কান্না কান্না করছে, কোনোকিছুই ভালো লাগছে না, জীবনে কিছু করে উঠতে না পারার হতাশা একেবারে পায়ু পর্যন্ত চেপে ধরেছে, খাওয়ায় মন নেই, শোওয়ায় আরাম নেই, হেগেও সুখ নেই, কোনোকিছুতেই সুখ নেই, শান্তিও নেই, এরমধ্যে আবার রেপের রিপোর্ট, ধ্যুৎতেরিকা ভালো লাগে না ছাই!

.

.

ছুটতেই হলো, সবার আগে খবর চাই, অন্ততঃ মিস না হয় যেন, সঙ্গে ফটোগ্রাফারও, প্রথমে থানা, খবরের সত্যতা জানতে জানতে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু হলো, তারও খুঁটিনাটি নিতে হলো, এসব ক্ষেত্রে সাবধানে রিপোর্ট করতে হয়, আইন মেনে, চিফ রিপোর্টার সেটা দেখে দ্যান, বলেন, ও হে বালক, এটা করো না ওটা করো না, বুঝলা কিছু? না বুঝে উপায় নেই, হাজার হোক চাকরি তো, দু’পয়সার হলও বা, গ্লেমারাস জব বলে কতা!

.

ফিরছি, ফটোগ্রাফার বললো, আচ্ছা, ছেলেরা কি রেপ হয়? কেস তো দেখি নি! 

হয় হয়, দাসদের কি হতো, এখনও দাসরা আছে, তাদের সঙ্গে একই কাজ হয়, শুধু অভিযোগ হয় না এই যা, আনমনে বললাম, কিছু ভালো লাগছে না ঘোড়ার ডিম!

.

অতীত আসছে, অতীত, কত ছোটো তখন, সিক্সে পড়ি, ঘটনাটা ঘটেছিল এই পোড়া জীবনে, আজ মনে পড়লো হঠাৎ, কেন পড়লো! এখন তো বারবার অতীত উড়ে আসে, আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে, হুম, মুক্তি নেই, সেবার মোচ্ছবের সময় ঘটনাটা ঘটেছিল, বাড়ি ভর্তি লোকজন, খামারে মেরাপ বাঁধা জায়গায় অষ্টপ্রহর হরিনাম  সংকীর্তন হচ্ছে, সারাদিন হই চই গেছে, যে যেখানে পারে ঘুমচ্ছে, ভেতর বারান্দায় চ্যাটাই এর ওপর বিছন পাতা দেখে শুয়ে পড়লাম।

 

.

ঘুম যখন ভাঙল, তখন কত রাত কে জানে! চারপাশটা অন্ধকার অন্ধকার, এখানে তো এতো অন্ধকার হবার কথা নয়, হুম পায়ের দিকে আড়াআড়ি কিছু একটা টাঙানো আছে দেখছি, এতে করে হালকা আলোর পুরোপুরি ঢোকা বন্ধ হয়েছে, একাই তো শুয়েছিলাম, কে রে বাবা, পটাপট চুমু খাচ্ছে, আর একটা হাত, এমা, কি অসভ্য রে বাবা, শরীরের গোপন বলে আর কিছু নেই, সারা শরীর জুড়ে একটা হাত খেলছে, খেয়াল করলাম আমার কোমরে প্যান্টুলও নেই, কে রে বাবা, অন্ধকারে কিছু বোঝার আগেই আমাকে এক টানে বুকে তুলে নিলো, দু’পায়ের ফাঁকে আমার কোমরটা রেখে চেপেও ধরলো, বাব্বারে কী চাপ, আমার জিনিসটা ফস করে কোথায় যেন ঢুকিয়ে নিলো, কর না হাঁদা কর কর, ফিসফিসিয়ে কথা এলো, আর আকুলি বিকুলি চাপ, আমার ঘুম পুরোপুরি চটকে গেলো, শরীর জেগে উঠলো, আরে এতো কানিদি!

.

মুখ ফসকে বেরিয়ে এলো, কানিদি তুই! মুখে হাত চলে এলো, চুপ, যা করতে বলছি কর না হাঁদা, শুধু উর্মির পোঁদে পোঁদে ঘোরা না! 

তুই বাজে, হিংসুটে, ফিসফিস করে বলি, বলে দেব সবাইকে।

.

ম্যালা ফ্যাচ ফ্যাচ না করে একটু সুখ দে না, পুরুষ মানুষ! বলিস তুই যাকে খুশি, তোকে ছাড়বোই না, যা বলি কর না, থামলি কেন!

আমি কানিদির বুক দু’টো গায়ের জোরে খামচে ধরলাম, তেমনি চাপ দিলাম শরীরে, উঃ আঃ করতে করতে কানিদি এলিয়ে পড়লো, তোর অনেকদিনের নজর না আমার ওপর! খোঁচা খাওয়া বাঘের মত কানিদিকে ছেঁড়েকুঁড়ে একশা করে দিলাম, কানিদি হাঁপাতে লাগলো, বাব্বা, তোর গায় এতো জোর! কানিদি সেদিন ভোর পর্যন্ত আমাকে দোলাইমালাই করে তবে রেহাই দিয়েছিলো, কিংবা বলা ভাল আমিই রেহাই পাবার জন্যে ভোরের অপেক্ষা করেছিলাম। 

.

ফটোগ্রাফারের ডাকে ডেড্রিম চটকে গেল, হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিলাম, রেপড মেয়েটির অবস্থা এখন স্থিতিশীল, অফিসে এসে কপিটা নামিয়ে দিলুম, চিফ লেখার নিরপেক্ষতার ধরণে খুশি, যাক, বাঁচা গেল।

.

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: