নীরবতারও কিছু শব্দ আছে

shrutisahitya.com

নির্ঘুম  // সীমা চক্রবর্তী 

.

কেন ঘুমহারা আমার দু’নয়ন,

 যেন রাত গেছে থেমে

 জানি না কতো রাত্রি জাগরণে

 চির নিদ্রা আসে নেমে।

 একটা একটা ভাঙতে সোপান

 হাঁপ ধরেছে বুকে

 থমকে যাওয়া সময় রেখে

 পথ হারিয়েছে বাঁকে।

 নিঝুম রাতে নিশ্চুপ হয়ে

 মিটিমিটি তারা গুনি

 বাক্যহীনতার বাক্য দিয়ে

 বাক্যের জাল বুনি।

 নীরবতারও কিছু শব্দ আছে,

 আছে অন্তহীন অবসাদ

 অন্ধকারের ঝিল্লি ফাঁকে

 হাসে নিষ্ঠুর বুড়ো চাঁদ।

 অসম ভাবনার দমকা ঝড়ে

 এলোমেলো সময়ের ধারাপাত

 হাজার তারার অবগুন্ঠনে

 ফাঁকি দিয়ে যায় রাত।

 অপলকে দেখি

 পৃথিবী কেমন ঘুমায় নিবিড় সুখে

 মহাকাশও ডোবে গভীর ঘুমে

 শুধু ঘুম নেই মোর চোখে।

.

স্বার্থপরতা  //  বটু কৃষ্ণ হালদার

.

আমরা নিয়ম গাড়ি, ভাঙ্গছি আমরাই

কে করবে প্রতিকার? স্বার্থের নেশায় মত্ত সবাই

প্রতিনিয়ত মরছে মানব, পৃথিবী মত্ত ধ্বংস লীলায়

চারপাশে শুধুই সন্ত্রাস, দেশ দশের কথা,

আপন স্বার্থে সবই ভুল

দুই হাতে লাল রক্ত মেখে সারা বিশ্ব মশগুল.

সন্তানেরা সব অনাচারী

মায়ের অশ্রু ভরা আঁখি, লজ্জায় মুখ ঢেকে মাতা

অন্যায় আর অসত্য দোসর, বলির নেশায় উন্মত্ত সবাই,

প্রতিকার করতে ভয় ভালো মানুষ সন্ত্রস্ত সদাই,

পবিত্র ধরার মাটি কলুষিত, মিথ্যার আস্ফালনে জয়

 অধর্ম, অবিচার নয় চিরস্থায়ী, একদিন মানবে পরাজয়.

.

 শিশুরা যায় স্কুলে // সব্যসাচী নজরুল

গাছে গাছে পাখি ডাকে হিমেল হাওয়া বইছে
বছরের প্রথমদিন সব শিশু পায় নতুন বই যে।

.

নতুন বইয়ের গন্ধে মেতে ভরে শিশুর মন
বই-খাতা আর কলমটাতে মাতে সারাক্ষণ।

.

পড়াতে খুব ব্যস্ত যে মা বাবার সময় কই
ব্যস্ততাতে সময় কাটে পড়তে সকল বই।

.

ব্যাগ ঝুলিয়ে খুব সকালে শিশুরা যায় স্কুলে
মন দিয়ে পড়তে হবে তা যায় না যেন ভুলে।

.

নতুন জামা জুতো পরে সুন্দর পরিপাটি সাজ
স্যার ম্যাডামে আদর করে দেখে বাড়ির কাজ।

.

স্কুল ছুটি হলে কি আনন্দ সকল শিশুর মনে
তাই রে নাই রে নাই সবাই ছোটে কাশবনে।

.

দেখে তাদের হাসি খুশি ঐ পাখপাখালি চুপ
পড়াশোনা করলে একদিন ঠিক বড় হবে খুব।

.

ঠিকঠাক পড়ালেখা করবে সব শিশুরা শোন
তবে আলোকিত মানুষ হবে সন্দেহ নাই কোন।

পরীক্ষায় ভাল ফল করা এটাই শিশুর শপথ
গড়তে শিশুর ভবিষ্যৎ স্কুল হবে নিরাপদ।

রচনাকাল :- ২০/১০/১৮,

.

অবনমন //    শ্যামল কুমার রায় 

.

.

       গভীর অবনমন সম্পর্কের!

যে সম্পর্কের গভীরতা ছিল বেশ,

আজ তা সমূলে নিঃশেষ ।

কারকতা ছিল একে অপরের তরে –

চোখের মণির মত আগলে রেখেছিলাম একে অপরে।

মনে পরে সেইসব দিনের কথা –

হাজারও ব্যাথা যন্ত্রণার পরেও উঁচু ছিল মাথা ।

অনটনের মধ্যেও ছিলাম সবাই বেশ !

হাতে হাত ধরে বহু পথ চলা,

ক্লান্তিহীন পথ পেরিয়ে সুখের মুখ দেখা ।

নতুন অতিথিও মানিয়ে নিয়েছিল বেশ !

সকলকে খুশি করতে সহে নিয়েছিল ক্লেশ !

    কিন্তু, শেষ রক্ষা হল কৈ আর ?

ভঙ্গুর কাচের মতো আজ ভেঙেচুরে সব একাকার ।

সম্পর্কের মাঝে আজ এক বড় পূর্ণছেদ !

পারস্পরিক তিক্ততা ঘটিয়েছে বিচ্ছেদ ।

শুনেছি , জীবন নাকি অনেক বড় !

দুঃসময়ও হবে না দীর্ঘতর ।

পৃথিবীর মত সহ্য গুণ নিয়ে চলছি তো তাই ,

নিকষ কালো অন্ধকারের পরে নতুন ভোর চাই ,

প্রভাতী ঐ রবির কিরণ ঘটাবে সব তিক্ততার অবসান ,

ছিন্ন হবে সব চক্রান্তের বেড়াজাল –

আত্মার পরম আত্মীয়ের সাথে মিলবে সকল ।

রবে না আর মলিনতার রেশ ,

কুচক্রীর চক্রান্ত ব্যর্থ অবশেষ ,

বাঁধ মানবে না  তখন চোখের জল –

পারস্পরিক ভুল স্বীকার করবে সকল ।

.

.

ভয় ভাবনার অবসানে  // বিশ্বনাথ পাল

.

ভয় ভাবনার অবসানে

                     আস্তে রাখি পা

হাই ওয়ে নয় মৃত্যূ  ওয়ে

                     যখন খুশী ঘা।

পথ যে  মোদের পূর্ণতা দেয়

                ঘরে রইতে নারি

বাড়ি থেকে বেড়িয়ে চোঁ চাঁ

                 কেন ছোটাব গাড়ি

আনাড়ি যারা পড়বে ঘাড়ে

                নয় তো বিধান ঠিক

মানতে হবে ট্রাফিক নিয়ম

              মানতে চারিদিক।।

.

    – 2-

.

হেড ফোন কানে  গুঁজে

                  রাস্তা পারাপার

ভয়ঙ্কর কু – অভ্যাস

                  ছাড় না এবার।

ফুলবাবু হতে গিয়ে

                   হেড-ফোন নিলে

যখন তখন পড়বে

                   তুমি মহা মুস্কিলে

সবিনয়ে তাই বলি আবার

ট্রেন লাইনে সেলফি তোলার

               নাই কোন দরকার।

.

স্বচ্ছ যা  // বিশ্বনাথ পাল 

সুন্দর তা

           তাই আমাদের ভাল

নির্মল যা

ভালো তা

           চাই যে আরও ভাল।

স্বাস্থ্য মতে

প্রলেপ ক্ষতে

               যদি দিতে চাও–

সবার আগে

নিজেই জেগে

                 পরিবেশ বাঁচাও।।

 দরাজ মনে সিরাজ সাঁই //   বিশ্বনাথ পাল 

বীরুৎ যেদিন বলল হেঁকে বৃক্ষ হব ভাই

লতাপাতা লুটিয়ে মাথা বললে হবে নাই।

বন মুলুকে বৃক্ষ হওয়া হয় কি সবার কাজ?

মন মুলুকের বাদশা হতে মন চাই যে দরাজ

দরাজ মনে সিরাজ সাঁই খুবলে দেখে বিবেক

 আসল নকল চিনতে গিয়ে দেন খুলে দেন ভেক।

ভেক পরাণ ই ভেক করোনি যাবে কত দূর আরি

নকল গানের সুর চরালে  পাবে নাকো  আর পার

আকাশ চুড়ো বট ছিল এক বলল মিহিন সুরে

বড়ো হওয়ার নেইকো বাধা, মন বাঁধ এক সুরে।

সব বাধারা তলিয়ে যাবে রইবে না আর কেউ

ইচ্ছে থাকলে বড়োই হবে যতই থাকুক ফেউ।।

.

নেশা হীন দিশা // বিশ্বনাথ পাল

মনের বনে

একাসনে

  খেলতে গেলাম যেই

বুদ্ধু ভুতুম

এবং হুতুম

  আনলো ডেকে ঘেই।

ঘেই শুধু নয়

ঘেউ মহাশয়

        সঙ্গে এল তাঁর

বললো ডেকে

এই   মুলুকে

          আমিই চমতকার

আমার জিম্মায়

আছে জবাই

       টুকুস ভুলের জের।

মন ভুলানো

দুখ লুকানো

        রহমত কী শের।।

দুয়ারে বসে

দুঃখের বশে

          যারা দারু খায়

তাদের জন্য

মন  জঘন্য

         বাঁচা ভীষণ দায়।

নেশা ভাঙ আর

চলবে না এবার

         সুস্থ ভাবে বাঁচো

মনের কোনে

প্রতিজ্ঞা এনে

      স্বস্তিতে আজ নাচো।

সুখের চেয়ে

স্বস্তি চেয়ে

        বাঁচতে যারা  চায়

তাদের পানে

স সম্মানে

       প্রণাম করি পায়।

নেশা মুক্ত

যদিও শক্ত

     তবুও ভারত হোক।

নেশাহীন মন

করুক শাসন

       ঘুচাক দুঃখ ভোগ।।

.

সায়ানাইড  //   মাধব মন্ডল

নিজেকে মৃত ভেবে আমাকে মারছো  নিজেকে জ্যান্ত ভেবে আমাকে জাগাচ্ছো! কী আশ্চর্য,তোর

তর্জনীর জিভে শেষকথা!

আমি আর অনুগামী কি ! দাসেরা  অনুগামী হয়?নিজের ঘিলুটা চামচে তুলি,আহা,নাচো নাচো কালো

মরা কাক!

আহা,আরো কাছে ডাকো,জানি ঠিক এবারে তোর লাথিটা সোওজা

তলপেটে,তবুও মাটিকে মা বলে

আঁকড়ানো যাবে না!

এ মাটির সব জয়ীদের মত তুইও,তবুও ওটা তোর মুখ না পাথর ! ক্লান্তিহীন বিষের অমৃত ছুঁড়িস,ঘাড়

ধাক্কাতে ধাক্কাতে চোখ তোর পাকা করমচা, চেটে খাই আমি!

আমার ছায়ারা বলে – মিথ্যে খাও কচি,স্বেচ্ছায় ঘর ছেঁড়ো ফের,আধ

ধোয়া জীবনের বাসি ঘাগুলো

যাক রক্তে ঘেমে,মড়াখেকো হোক শরীর!

চোখ ঠেসে ঘুম আসুক আমার,কান্না খাক বুকের বাঁদিক,তুই তো

জয়ী রে,তবে কেন চাস তুই  সায়ানাইড  !

.

বসন্ত // কলমে – সায়ন্তনের ইতিকথা

এখন শীতের সময়…

এখন থেকেই প্রকৃতি মা সাজতে শুরু করেছেন,

সামনেই বসন্ত উৎসব

ততটুকুই সময়,

তার মধ্যেই তৈরি করে নিতে হবে গাছের ফুল, ফুলের সুবাস…

গোলাপের চারা গুলোয় এবারে বেশি করেই কুয়াশা ঢাকা করতে হবে

কিংবা পাখির নতুন সাবকদের গায়ে পালক দিতে হবে তারাতারি..

নয়তো হিমেল হাওয়ায় প্রান যাবে..!

নতুন সাবকের জন্ম দিয়েছে কুকুর, বিড়াল আরও অনেকে…

যত্ন নিয়ে বড় করতে হবে ওদেরকেও..

সামনের বসন্তের মধ্যেই এতো কাজ সেরে ফেলতে হবে

শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে আনতে হবে বাতাসে ধীর গতি…

যৌবনের গানের সুর তুলতে হবে পাখিদের কন্ঠে

আগুন রাঙা রঙ মাখাতে হবে পলাশে

অলৌকিক মৃদু স্পর্শ আনতে হবে কৃষ্ণচূড়ায়…

এখন থেকেই গাঁদা গুলোয় রঙ নিয়েছে, কিছু বাহারি গাছেও ফুল ধরেছে..

গুটি থেকে এখনও প্রজাপতির বেরোনোর সময় হয়নি..

পুরানো পাতা ফেলে নতুন পাতা লাগাতে হবে গাছগুলোয়…

মধু সঞ্চয় করতে হবে ফুলে, ভ্রমরের জন্য..

কতো ফুল নিয়ে আসে বসন্ত লক্ষ্য করিনি কখনো

এবারে দেখবো চক্ষু মেলে, তুলবোনা একটাকো..

সারা বছর ছিল অগোছালো এলোমেলো..

এখন হবে গোছানো হবে সাজানো

নাগরিক কংক্রিটের জীবনে আনতে হবে পাপরির স্পর্শ…

তবু যদি থেকে যায় হৃদয়ে কিছু রঙ বাকি..

রাঙিয়ে নেব ফাগের ছোঁয়ায়,

কারণ আসতে চলেছে বসন্ত….

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *