প্রতিটা নুন বাতাসে // মাধব মন্ডল

প্রতিটা নুন বাতাসে  //  মাধব মন্ডল


আশ শ্যাওড়া (২৬ – ৫০)


…….দড়ি প্যাঁচ ……
২৬
বিলিয়ে দেওয়া এ জীবন
কত গাছ কত পাখি কত মহরৎ
দ্যাখে ধীরস্থির,মায়া বদ্ধ
শেকড় চালায়,গান বাঁধে
যেমন তেমন ঘন্টা মিনিট
সব হায় খাপছাড়া নির্মিত
পিঠ চাপড়ানো
বৃক্ষে চড়া
নামবার পথ খোঁজা ব্যর্থ,হায়!
আয় আয় সোনা সোনা মধু মধু
গিলে গিলে গিলি গিলি প্রেম রসে টোঁসা ভরা
বেলজ্জাটে সে ,প্যাঁপড়া-গেলা সে
বর্জ্য গন্ধে ভূরভূর বাসমতী,বাঁশকাঠি।
পায়খানা আর চান ঘরে,আয়না চোখেতে
আনুভূমিকতা মানে জল ছবি,ছায়া চিত্র।
……প্যাঁপড়া-গেলা……..
২৭
বিদ্যাধরীর প্রতিটা নুন বাতাসে
খামচা খামচা ছড়ানো উঁচু নীচু স্বর।
পালিত দিবসগুলো তোলা গ্লাস বাটি
ভিন্ন সাজগোজ
কথাতে সানঘর ফেরৎ মুরগী কাটা বঁটি।
এঁটোকাঁটা মিনিট সেকেন্ড
হেঁড়ে গলা,মিহি ধানাই পানাই
থেঁতলানো আত্ম-সমর্পন
শাঁখচূড় বিষে গিলিগিলি হকাস ফোকাস।
কচি কচি মধু মধু!
কুত্তা জিভের নোলা
ঠিক অনুভবে প্রেম
হিমালয় এনে পোঁতে
সাইক্লোনে যোগযোগ ভাঙে।
সেকেন্ড সেকেন্ড ফোন-মধু
ভূত্বক চিরে অন্তিম পাতালে।
আ্শ শ্যাওড়ায় হুবহু রোদ,আলো 
ঈগলের চোখে ক্ষীপ্রতা,ডানা চটপটে।
গিলিগিলি হকাস ফোকাস
২৮
ধমনী মজ্জা শিরা হাড়ে কত কত প্রেম
ছায়া ছায়া দিনকালে ভূত্বকে মানুষ মানুষী
হৃদয়ে হৃদয় প্রবেশ করায়।
বিদ্যাধরীর একা এক কুরূপা কুমীরে
প্রতিরাতে নির্জলা উপবাসে
ঘুমের প্রকোপে হাই তোলে।
কত ভয় ভীতি জমা হলে 
অখন্ড বেহুলা হয় নির্মিত
বেলজ্জাটে করে তাকে এ মানুষে
আর পরম প্রেমময়!
মেঘে মেঘে দিন গেল
অসভ্য সুসভ্য সমাজ জীবনে
প্রেম তবু আজো হয় কত সেন্টারে।
বই খাতা চিরকুট,বাঁকে ঠোঁট
লজ্জা লজ্জা, শরীর আগুন বাঘ
পলকে পলকে শিহরণ!
আশ শ্যাওড়ায় আর 
আসল ঈগলে
বৃদ্ধ প্রপিতামহ,আহ্লাদে আপ্যায়ণে
কিছু কিছু গলা প্রেম অবয়বে আনে।
…….গলা প্রেম……..
২৯
বোধ বুদ্ধির পাকানো সলতে
পঞ্চ প্রদীপ ভরপেট তেলে ছোপা
বস্ত্তত আগুনটা শুধু ছেঁড়া ছেঁড়া।
কাল রাতে ঝাঁজে তর্ক ফেটেছে
কী পেতে চাইল তারা,সাইক্লোন বেগ 
সানাই পুড়েছে,পোড়ে লাল বেনারসী।
ঘরদোর বিবাহ আসর
শাঁখচূড় বিষে ছিন্ন ভিন্ন
ঘর হয় ঘরত্যাগী।
মাংসচাষীরা শুধু সিনেমায়
লম্ফঝম্ফ হুমকি ধুমকি
প্রদীপ জ্বালাবে আ্শ শ্যাওড়া কি?
একসঙ্গে কত সঙ্গী
নিতি নৃত্য ফুটো হয় মন
রাক্ষস স্বভাব তোর।
গুহ্যদ্বার লাল ঝাল
ভেজাল সার্বজনীনতা
কালরাত্রি এসে ছক্কা হাঁকায়।
শুয়োরের দাঁত তো ধারালো 
শরীর শুধু শরীরে
বিন্দু বিন্দু এঁটো ঘাম ঝরে।
…..কালরাত্রি….
৩০
বাঁধ ভেঙে গেল
সোঁদরী গরাণ গেঁওয়ারা ভূত্বকে
জলসীমায় চেরাপঞ্জী।
এত মাছরাঙা, পানকৌড়ি
বছর বছর গৌরচন্দ্রিকা
খিচুড়ী গন্ধ,ম ম।
মানুষেরা বিক্রি হয়
মানুষী বিষাদে
অসময়ে বাঘেরা বেড়াল।
আ্শ শ্যাওড়া ধীরস্থির
গাছেদের মধ্যে থাকা গাছেরা
তাকাচ্ছে বিস্ময়ে।
ক্ষমতাবানেরা লাফায় তড়াং
পঞ্চ-মকার আসর বসিয়ে
রান্না বা কাঁচা ডাঁসা গেলে।
কেউ কেউ কবিবাবু
পি সি সরকার মায়াজাল
শুধু শুধু আমি তুমি করে।

……মাছরাঙা….
৩১
অনেকটা পথ মানুষ মানুষী একা হাঁটে
পথ-বাঁকে শুয়োর শুয়োরী
নাচ উল্লাস
কী কৌশল শিখে নেয় মানুষ এখানে?
অগুরুর প্রান্ত সীমায় নিলাম নিলাম
অমরত্ব বৈভব,অমরত্ব বৈভব 
প্রতিভা পরিশ্রমে কেউ কেউ জয়ী।
নোতুন ঘরের ভিতে লকলকে পুঁইশাক
বর্ষাতে চুনোমাছে চচ্চড়ি
শিকে ছেঁড়ে বাসা বাঁধে ভালবাসা।
চাঁদের সঙ্গে মিল খায় চাঁদ
শুয়োর চেনে শুয়োরী কোল
প্যাঁকড় প্যাঁকড় গেলা সার হয়।
আ্শ শ্যাওড়ার প্রলাপ আলাপ নেই
অবশ্যম্ভাবী ছুটে আসে
ঘুঁটে কুড়ুনীর দোরে,তাকে চোখ দেয়।
বাঁশ উদ্যানে শাঁখচূড় চুপ
বিষের জ্বলুনি স্থিমিত তার
ঘাস ফড়িং খেলে তার সাথে।
……অমরত্ব ……
৩২
মায়া চোখে দাঁড়ালে কিশোর কিশোরী
খলবল খলবল কত যে কথার লাফালাফি
প্রেমে সোনা রুপো তামার তক্তা সাজানো।
কিংবা আমড়া গাছে হাতেখড়ি হল
কিংবা সে আয়লা আয়লা
কেউ কেউ আশ্রিত ঘুঘনিওলার কোলে।
রেজওয়ানি চালটা কারো
কেউ কেউ মনোবিদ ভালবাসে
ওষুধি আবেশে আশ শ্যাওড়ার যত্ন।
কেউ কেউ পিতৃ-মাতৃ ঋণ
প্রথম সুযোগে শোধে
ছড়াছড়ি নিউজ চ্যানেল।
…..মায়া চোখে…..
৩৩
কিছু কিছু ভুলে যাওয়ায়
ঠিক ঠিক বলে দেওয়াল টিকটিকি
নিজেকে সাঁটাই চড় ঘুঁসি কিল।
কিছু কিছু ভুলভুলাইয়া
মিষ্টিমধুর সাইক্লোন
মার খেয়ে মারা পড়ে পিঁপড়েরা।
মৃত্যু কাঁথাতে কত ভয় ভীতি
গড়াগড়ি খাই বারবার
ঈশ্বর পেয়ে যান নোতুন বোতল।
বোতল ভরা স্বপ্ন জালিকা
দুঃস্বপ্নে আবিষ্ট চোখ
হুড়োহুড়ি পড়ে আত্ম প্রমাণে।
আ্শ শ্যাওড়ার আফিম ব্যবসা নেই
ভুলভুলাইয়ায় দেশী বিদেশীর ফাঁদ
মিলিয়ন পাউন্ড ফকটে দিতে চায়।
ভুলে যায় পুঁইশাক লতা
শুয়োরের কুছ পরোয়াতে
রসালো ডাগর কচুমূল খোঁজা।
…ভুলভুলাইয়া..
৩৪
পুরুষ্ট ঠোঁটের ভেতর ধর্মগুরুর হাসি
দেখে আহা, ভেতরে ঢুঁ মারে আফিম-ধর্ম 
সত্যি বলতে,বসত্তত,বয়রা কালা হচ্ছি।
প্যাঁকড় প্যাঁকড় গিলে শুয়োর শরীর
মাগনা দিচ্ছি হাত ভর্তি খা, খানা
ফাটার কপালে জমাট বাঁধে রক্ত।
এবার কি মরা গাছে পাতা গজানোর শুরু?
আজকাল রাতের আলোতে বৃষ্টি ভিজছি কত
প্রখর আত্ম বিশ্বাসে জেগেছে আফিম।
বোবা কালা আজ শত্রু যুক্ত
প্রতিপক্ষরা প্রেম কাড়ে বারবার 
ভাঙা ভাঙা প্রেম চোখের রক্তে জুড়ি।
হাহাকার আ্শ শ্যাওড়ায় নেই
কাঁপা হাত নগ্ন ওষুধে বারবার
তোমার পেঁচানো যেন শেষবার মারে।
আমি মরে গেলে আর ছুঁয়ো নাকো
ডোমদের নিযুক্ত করে যাব
ফেলে দেবে কোন এক হাসপাতালে,মর্গে।
..হাসপাতালে,মর্গে…
৩৫
এক স্কুল প্রেম ছড়ালাম
পাড়াতেও তাই
তবু কোন ছাপছোপ নেই
নেই কোনো ইশারা পূর্বাভাস।
ওপাড়া এপাড়া
এস্কুল ওস্কুল
প্রত্যেকটা ফুলের কুঁড়ি
সিগারেটের গন্ধে কোঁকড়ানো।
মহাঘোর মহাঘোর এ কালের কালে
জাঁকিয়ে বসল ভাবের শরীরে
হে আশ শ্যাওড়া
সিগারেট ছেঁড়ে কোটে পালস্ রেট শিরা।
আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়
গোলাপ পাপড়ি ওড়ে
কারো কারো চোখের রক্ত ঝরে 
কেউ মাতে অনাবশ্যক দোষারোপে।
…মহাঘোর মহাঘোর…
৩৬
না শিখতে চাওয়ার উল্লাসে
সোচ্চার বক্তব্য
তুই কোন ছার 
কালিদাসও অবরুদ্ধ!
ভূত্বকের প্রাণিদের কপাল লিখিয়ে
নিতি নৃত্যে অতিরিক্ত আয় খোঁজে
অংকবিদের উল্লম্ফক মাপাজোকা
জলদি জলদি লাভের হিসাব শব্দ মুখোশে।
এই সব দেখে কবিদের কবি 
বোধকরি শাঁখচূড় বিষে ঘন কুয়াশায়
শেষ টান মেরে ,হায় 
ট্রামে পিষে মরে।
আশ শ্যাওড়ার কঠিন ভূমিকা
বিষ বাষ্প নাসিকা মূলে
নিরপেক্ষ কলামে
অনাবশ্যক হাস্য পেষণ করে।
…..বিষ বাষ্প…
৩৭
স্মৃতি বিস্মৃতি লক্ষ লক্ষ
বুভুক্ষু নদীর মাংসে
আমার সমাধি ফুঁড়ে
আ্শ শ্যাওড়া দন্ডবান।
প্রতিটি পাতার আবডালে
যুবক যুবতী লাশ
আফোটা কিশোর কিশোরীর
রক্ত গড়ানো ভেজা চোখ।
কারো কারো পাথরের রাগ
বরফ জমাট, বরফ জমাট
লুটপাট হয়েছিল সাংসারিক খরচ
দাদাদের চাঁদার মোড়কে।
হুলুস্থুল সরণি
শুকায় স্নায়ু
সন্তানের কান্না ছুট।
পোষাকের কত গুণ!
…পোষাকের গুণ….
৩৮
তুই তো বললি পাগলা ঝোরা হবার কথা
মাথা নাচাচ্ছি যেই
নাম না জানা বুনোলতার ফুল
নাচল তোমার চোখে।
শিউরে উঠি
শেকড় ধরে মারলি হ্যাঁচকা টান
বাপরে বাপ! সেখান থেকেই
আমিও এক পাগলা ঝোরা।
আরে তুই পালালি কোথায় ?
দূর থেকে তুই ব্যঙ্গ ছুঁড়িস
আর তাকাস পিটিস পিটি
তা তোকে তা মানায়, মানায়।
আমি হলাম নাবাল জমির আবাদ
আমার মধ্যে বাঁশিতে সুর তোলে
দশ লক্ষ মাতাল।
নিকট গাছে দোয়েল ফিঙে
শরীরের লোম জাগে
বাইরে ছোটে রাত বৃষ্টি
চল ভিজি আয় আশ শ্যাওড়ার
শীর্ষমুকুলে।
….পাগলা ঝোরা….
৩৯
মৃত্যুর খাঁজে খাঁজে 
কত না কত সংশোধনী
শ্রমিক মৌমাছি শুধু
সেবা বিলি করে।
আমার আমিতে ছিঃ দিয়েছি
ছি ছি করে ভরিয়েছি ফুলের কানটি।
হে আশ শ্যাওড়া
হিসেবের ভালবাসা শুধু
আমৃত্যু আমৃত্যু।
কত কথা বলেছিল মানুষ মানুষী
পাট পাট করে রাখা 
মৃত্যু কেন বিলম্বিত?
আশপাশে ঘোরে কত পাখি
মেঘ ছায়া, জল ছায়া
মৃত্যু উদ্যানে আজো প্রেম প্রাণিদের
দুচোখ ফেটে রক্ত গড়াগড়ি।
ক্লাস থ্রির বাচ্চাটা গতকাল
শীর্ষমুকুল হতে চেয়েছিল
তোমাকে ছাড়া বাঁচব নাতো
ছোট এক হাত চিরকুটে।
…শীর্ষমুকুল.
৪০
চলতে চলতে কখন যে তোর মেঘ বাড়ি
কি বলব? 
হিঁচড়ে টেনে বসাস
আরাম সোফা
বসিয়ে তুই
আগুন আনতে গেলি।
আগুন এনে আগুন খেলি
বোকার হদ্দ পাগলা চন্ডী আমি
মালুম পেলাম আগুন পাখি কী।
পুড়তে পুড়তে নদীর কাছে গেলাম
হা নদী তোর জল শুকিয়ে পাঁক
কোথায় জুড়াই বল।
শ্মশানের ডাক শুনি
শকুন পাখি শিশু কবি তো
তার কর্কশ গান শুনে
না পোড়া লাশ কাঁদল কত।
দগদগে সব ক্ষত
বর্ষা ভেজা রজনীগন্ধার বাস
কান্না বাড়ায় আরো
ঝাপসা চোখ,আশ শ্যাওড়া
আমৃত্যু হাত ধরো।
..আগুন পাখি .
৪১
কল কল করে শোষে বীজকণা
কণা কণা জল
মাথা ঢাকো ব্রাহ্ম মিনিট
চোখের রক্ত মোছ।
সুপ্তিদশার পর 
ফুলের গাছ মগ্ন ধ্যানে
ভূত্বকে এবার হোক মোচ্ছব
তৃষ্ণা মেটাও আশ শ্যাওড়ায়।
মরসুম ফিরে এল
কবিরা উল্লসিত।
মাঝে মাঝে
মাঝ রাতে রোদ খেলা করে।
শুধু দুর্ধর্ষ চাঁদ 
ইশারা পাঠায় প্রতিটা ভিটেয় —
নড়াচড়া করে বীজ 
মাতৃ আদেশে।
…..বীজকণা…
৪২
হাজার বছর তোর কাছে বাঁচতে চেয়েছি
তুই বললি – মাথা খারাপ !
এই জন্মই শেষ।
আমাকে নিয়ে বিরোধ
শ্যাম রাখি কূল রাখি
কূল রাখি শ্যাম রাখি
করতে করতে একদিন
বলে ফেললি বিদায়।
কিন্তু তোর কথারা 
ফেলে যাওয়া টুকরো পুঁথি
আশ শ্যাওড়া-শিকড়ে।
তুই কী আজও 
ধড়মড় করে
মধ্য দুপুরে জল চেয়ে খাস
সহযাত্রীর সাহসে সাহসে?
…সহযাত্রী……
৪৩
কোথায় গেলি? এইতো আমি
ফুল দিয়ে সব ঢাকা
মামড়ি ওঠা ঘা।
তোর হাতের আদর 
পিঁপড়ে চলুক গায়ে
উষ্ণতা পাক নাড়ি।
ঘায়ের মধ্যে
শির শির সুড়সুড়ি
পাঁক রক্ত ছুটুক।
কোথায় গেলি?
ভুলে মারলি কী বলতিস–
আমি না তোর জন্ম-জন্মান্তর!
আশ শ্যাওড়ার কাছে বলে
পিছন ফিরে আছিস!
মামড়ি কড়কড়ায়।
..পাঁক রক্ত..
৪৪
ছক্কা হাঁকিয়ে জানালার কাঁচ
ভেঙে দিলে সন্ন্যাস ব্রত নিও
কেননা ঘরের মধ্যে ঘর অার নেই।
বেলাশেষে খবর রটল 
কে যেন ঘর পালাল কার সাথে
নিচু করে দেয় মাথা 
সন্তান, শাঁখচূড় বিষ চেটে।
অশরীরী প্রাণিদের মত
চলাফেরা
চোয়াল বসাল 
স্বঘোষিত নবদম্পতি।
কাল রাতে গাঁজার আড্ডা
বসেনি তো খালপাড়ে
সবাই ছিল তো নাম সংকীর্তনে।
খাঁজে খোঁজে চেয়েছিল লংকা ব্যাপারী
সোজা সাপ্টা আশ শ্যাওড়া
নির্মোহ সংসারী।
…..নির্মোহ…….. 
৪৫
রোজ রোজ 
মামা ভাগিনার খালে
নোনা জল মাখামাখি খেলে।
কত স্মৃতি বিস্মৃতির
মহড়া চলছে
ঐ বাঘমারি, হাজারি পাড়া
টলমলে সাঁকো
আমাকে ডাকছে আজো।
পেঁকো রাস্তা আছাড় বাঁধা দুএকটা 
হি হি হাসির নোনা বাতাস
আশ শ্যাওড়া আশ শ্যাওড়া।
ছেঁওড় কটা, দাঁড়াস, ব্যাঙ
ছোট মাছ কিলবিল
আজো ঘিলুতে ঠাসবুনন।
বিদ্যাধরী তোর শরীরে
বুড়ো আঙুলের ছাপ রেখে
হাই স্কুলে আলতো ঢোকা।
—-ঠাসবুনন—-
৪৬
দমভর গান হত
প্রথম সকালে
অনেকটা বছরের
অনেকটা সেকেন্ড কেটে গেল।
তোর তো এখন জাগতে কষ্ট।
ভাললাগা কিছু ছবি
দামী অ্যালবামে
তোর কী এসব ছিল
খড় গাদা অভিসারে?
খন্ড খন্ড প্রেম গাদা করি।
সকাল বিকাল শরীর ঘাঁটিয়ে
কিছু কিছু দরকারী টাকা
একে ভালবাসা ভেবে
গর্ভনাশের ট্যাবলেট খেলি।
এখনও টানে বিপরীত লিঙ্গেরা।
আশ শ্যাওড়া আশ শ্যাওড়া
কার কার চোখ ফোলা ফোলা
রক্ত টলমলায়
রক্ত ছুটছে জীবন জ্যোৎস্নায়।
ভালবাসা, প্রেম রক্ত মোছনা !
…ভালবাসা……
৪৭
কারো কারো ভালবাসা
অধিকার জারি
শুধু শুধু হাঁকড়ে অাঁকড়ে থাকা।
ঠোঁট দিলে 
ঠোঁট সরে যায় 
পাখিরাও এমন করে না।
বোধকরি এজন্যেই
মানুষ মানুষী
ঘরের মধ্যে ঘর তোলে।
বিশল্যকরণী বিশল্যকরণী
সমাজ মধ্যে
সমাজ তোকে ডেকে অানে।
দুধকলা খেয়ে
নাদুসনুদুস
তারপর বিভীষণ রোগ ধরে।
অায় করা কেউ জানতে চেয়েছে
বাজারের থলে ফাঁকা কেন
কেন খালি হাতে ঢুকি ঘরে।
অাশ শ্যাওড়া চেয়ে দেখে
ঠোঁট শুধু চায় ঠোঁট কোণে
নিরাশ্রয়ে আশ্রয়।
.আশ্রয়.
৪৮
সেই যে ছেলেটা লোক হবার তাগিদে
উঁকি মারে সমাজে সমাজে।
গান গাইছিল গাছ পাতা
হঠাৎ ফাটতে থাকে গুলি
স্কুল শিশু কান্না জোড়ে।
জল বিস্বাদ হয়ে গেল।
জল-পুলিস সাপ্টে ধরে
মরিচঝাঁপির নৌকো
গামছা কাঁধে মানুষ মানুষী
অদ্ভূত দ্রুততায় গ্রামে রাস্তায়।
আশ শ্যাওড়ার ঝোপে
কিশোরের চোখে বিস্ময়
ওরা কী বাগদি পাড়া যাবে?
কেউ কেউ লাশ হয়
বিদ্যাধরীর কুমীরের উল্লাস
স্বপ্নের বাস্তব স্মৃতি ঘোর
আজো পাঁচদিকে ঘোরে ফেরে।
সেই যে ছেলেটা আজো দেখে……
..ছেলেটা….
৪৯
ভোঁদড় বুদ্ধি ঘিলু চাগাচ্ছে
ভড়ং ভড়ং ঝনাৎ ভড়ং 
রঙ মাখা মুখ কাকে খোঁজে!
জ্যোৎস্না খাওয়া কালো ছোপা গরু
মাঝে মাঝে দু`তিন দিন হাওয়া
ভর চাগানো ঘর না করা দিদি
হদিস মেলায় তার।
ছোটবেলার আশ শ্যাওড়া
বিদ্যাধরীর চর
স্বপ্ন খোদাই করেছিল ভোঁদড় কপালে
ভিক্ষা পাত্র 
অনুগ্রহ ঘোরে পাঁচপাশ।
মৃত্যু লগ্নে জন্ম আমার
শুয়োর বাঁচা বাঁচছি
এদিক থেকে ওদিক থেকে
ব্যাঙের লাথি খাচ্ছি।
–ভোঁদড়—
৫০
(১)
হে আশ শ্যাওড়া
ভূত্বক আবাসী
ক্ষমা কর হাঁটু মুড়ে বসতে পারি না।
হে আমার নিজস্বী
তুমি দ্বিখন্ড হও
আমি ঘিলু ফেলে তোমার মধ্যে ঢুকি।
দিন নেই রাত নেই 
পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে 
তোমার শরীরে আমাকে গাঁথলে 
উষ্ণতা কাড়, হাঁটুতে ফাটল
কাড়লে কোমর . 
ক্ষমা কর হে আশ শ্যাওড়া
বেশি বেশি দাঁড়াতে পারিনা।
হে আমার তিনকাল
আমি পথ মাড়াচ্ছি
আর তুমি কাকে কাকে লেলিয়েছো?
এত ভালবাসো
হে আশ শ্যাওড়া !
ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল লোক লৌকিকতা
তোমার চওড়া হাসি দৈর্ঘ্যে বাড়ল শুধু।
(২)
কিসে কিসে কী কী হল
এ বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা
হে আশ শ্যাওড়া
তোমার শীর্ষে চাপাচ্ছি এই
এমনিতে আমি বা আমরা না ঘরকা না ঘাটকা।
যার তার গুলি এফোঁড় ওফোঁড়
পাঁজরা বা শিরদাঁড়া 
জীবন্ত লাশ নিজেরাই পাহারায় থাকি।
ভ্রষ্ট কবিরা কালরাতে
বাঁশ উদ্যানে ধরেছিল তোকে
সাতাশ মিনিটও কাটেনি
হে আশ শ্যাওড়া
বাহ্যি বমিতে মরে সব লেখালেখি।
হে আশ শ্যাওড়া
কি ঘিলু দিলিরে প্রতিটা লাশেরে
চাঁদ তারা এক করে ফু মন্তরে ছু মন্তরে
সেই বাল্মিকী যুগ থেকে।
(৩)
কি এক ঘোরে বেঁধে রাখলি
বারবার শুধু পিপাসায় মরি
জল কেড়ে হাড়ে মাসে ভরালি এ পেট
শুয়োরের চর্বিরা শরীরে লেপ্টে
বল তুই আর কি কি চাস
হে আশ শ্যাওড়া
কেড়েই তো নিলি অকালে বাপকে!
ষাঁড় করে শহরে ছাড়লি
ঘাস পাতা কে যোগাবে?
কোথাও কী রেখেছিলি
কুমারীর প্রেম একফোঁটা!
ভ্রষ্ট নষ্ট সব ছাইপাঁশে ঠাসা
হে আশ শ্যাওড়া
হাজার বছর শ্বাস দিলি শুধু!
প্রশংসায় সপ্তমুখী
ভূত্বকে সবাই
কিন্তু তাতে কি হল? 
হে আশ শ্যাওড়া
আঙুল ফুলল কিনা জান?
নটে হয়ে মুড়োলাম শুধু।
হাওয়ার মধু হাওয়ারা খেল।
(৪)
সাতাশ বছর
সাতাশ লক্ষ ভাইরাসে
কুরে ঝুরে খেয়ে ফোঁপরা করল
আবার বাঁচালি আজ কিনা!
হে আশ শ্যাওড়া
একি তোর মতিভ্রম
নাকি কোন খেয়াল খেয়াল!
কেন তুই সেকেন্ড সেকেন্ড 
ছায়ার মতো স্পর্ধা নিস
তাল নেই তন্তর নেই
আমার ভেতর ঢুকিস বসিস
শুয়োরের চর্বির রস এত ভাল!
হে আশ শ্যাওড়া
খা খা চাট চাট চাটুম চাটুম ——–
ভিক্ষা পাত্রে
দানের রত্ন ঠাসা
এক—দুই—–সাত—-পাঁচ…..বারো
দিন—-রাত—–রাত—-দিন
সোনার বিছানা সোনার বিছানা 
হে আশ শ্যাওড়া
হে আশ শ্যাওড়া
চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে টপাস টপাস।
(৫)
জীবন্ত লাশ আমি, 
অন্ধকারের ঘর ছাড়ি, 
রোজ আবার ফিরি অন্ধকারেই, 
কী গভীর অনুরাগে
হে আশ শ্যাওড়া,
সন্তানও বদলা চায়!
শরীর পুড়ল, 
মনের আটচালাও, 
ঘরনী তাই মাড়াতে পারে বারবার ঘর, 
বারবার,
হে আশ শ্যাওড়া,
চোখের রক্তে জুড়ি ভাঙা ভাঙা ঘর।
আমার তো ঘর ঘর খিদে,
ঘর ছেড়ে আবার ফিরেছি ঘরে, 
বারবার,
হে আশ শ্যাওড়া,
রফার আগুনে পুড়ি,
পোড়ে না শুধু ছায়ারা!
রক্ত খেকোরা ওৎ পেতে থাকে।
(৬)
মাত্র পঞ্চাশটা চৈত্র কেটেছে, 
বাকী আরো ন’শো পঞ্চাশ, 
জীবন্ত লাশেদের পরম বাস্তবতা,
থিতু কর থিতু কর,
হে আশ শ্যাওড়া,
সাহসে সাহসে।
আগুনের আয়োজন কর,
পাপ বা পাপের ইশারা পোড়াও, 
সাইক্লোন ডেকে সব ছাই হিমালয় পার কর।
হে আশ শ্যাওড়া, 
খাল কাটো, 
জলাশয় ধারে বসো, 
ভূত্বকের অমৃত জল আনো, 
চোখের রক্ত মুছে দাও।
(৭)
বারবার মনীষী গঠিত পথ
ভেঙে ভেঙে ছত্রভঙ্গ
বালিশ ভিজেছে চোখের রক্তে, 
বুকে, পাঁচপাশ দলা দলা, 
হে আশ শ্যাওড়া
ঘুমও আসেনি ঘুমের ওষুধে,
উঠে বসি খন্ড খন্ড বুক জুড়ি।
নেশার ব্যাপারি নেশার ব্যাপারি
পাগল বাতিকে ধরা 
ছাপ মারে পিঠে মুখে 
হে আশ শ্যাওড়া
নিখাকি তুলোমুখীর জয়যাত্রা 
মুখেতে রক্ত ওঠে।
সবাই নিয়েছে টাকামুখী পথ,
গোল্লা খাওয়া, 
লাল দাগের ব্যাপারী, 
তারাও লক্ষ্মী পেল, 
হে আশ শ্যাওড়া
কোন অপরাধে ফাঁসি কাঠে আমি!
(৮)
কে কার বিয়েটা ভাঙে
গুলি খাই আমি
কার বউ ফাঁসি খায় মৃত্যু বিলাসে
নিতান্ত মৃত্যু বিলাসে
হে আশ শ্যাওড়া
কে কোথায় খুন হবে
জেল খাটি আমি
হামলে পড়ে হুমকি বাক্য
জ্যান্ত স্মৃতিরা আজো ঘোরে ফেরে
ঘাড়ের ওপর
শিশু সন্তান কাঁপে থরথর।
ভুল আশ্বাসে ভুলে, 
জন্ম জন্ম মৃত্যু মৃত্যু, 
পথের ধুলো মেখেছি গায়ে, 
আদুড় গায়ে গিলেছি বিষ,
শাঁখচূড়ে ভালবেসে
হে আশ শ্যাওড়া
ঘোর মহাঘোরে ঘুরছি ছুটছি।
হাতড়ে হাতড়ে পথ বার করি, 
হামাগুঁড়ি দিয়ে হাঁটি
হে আশ শ্যাওড়া
বারবার ফিরে ডাকে ঐ তো বিদ্যাধরী, 
শহরবাসের দগদগে ঘা টি, 
আবার ফিরে চায় জন্ম মাটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *