বই সন্দেশ

কুড়িকুড়ি -ছয় মানিক বৈরাগী


কুড়িকুড়ি -ছয় মানিক বৈরাগী

বই সন্দেশ কুড়িকুড়িছয়

মানিক বৈরাগী


সম্পর্কের স্বরলিপি

লেখকশুক্লা ইফতেখার

ধরনকবিতা

প্রচ্ছদমইনুল আলম

মূল্য১৩৪টাকা

প্রকাশকালফাল্গুন ১৪২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

প্রকাশককবিতা ভবন


কবি শুক্ল ইফতেখার আমার ফেইসবুক বন্ধু।তার সাথে কখনো দেখাসাক্ষাৎ হয়েছে কিনা মনে নেই।

তবে মাঝেমাঝে ফেইসবুকের ডাকবাক্সে চিরকুট চালাচালি হয়,তাও বেশিদিনের না।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি কাঠখোট্টা টাইপের অনেকটা অসামাজিক প্রকৃতির মানুষ। আমার সাথে গড়পড়তা লোকজনের সাথে বেশিদিন খাতির টেকে না।

ভার্সুয়াল ডাকবাক্সে কবি শুক্লা ইফতেখারের সাথে যে দিন চিঠি চালাচালি হচ্ছে তাতে তাকে আমার প্রথাগত নারী বা পুরুষ কিছুই মনে হয়নি।মনে হয়েছে সে একজন প্রথমে মানুষ তারপর কবি।

সম্পর্কের স্বরলিপি প্রকাশিত হবার পর তিনি আমার আগ্রহে বইটি কুরিয়ার করে। বইটি হাতে পেয়ে আমার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চুমু খেয়ে কাগজ কালির টকটক ঘ্রাণ নি তারপর খোলে আদর করি।

সম্পর্কের স্বরলিপি একমাস পরে দ্বিতীয় বার পড়ে মনেহল কবিতার কিতাব টি মানুষের চমৎকার এই অবসরে খবর দেয়া দরকার মনে করলাম।

কোন কিতাব যদি আমার মনে না ধরে পাঠবিরক্তি লাগে তা আমি কাউকে বলিনা।কিন্তু বিশ্বময় করোনা কালে মানুষ গৃহবন্দী হয়ে আছে, তো এমন সময় চমৎকার একটি কবিতার বইয়ের যদি পাঠক খোঁজ পায় কিনে পড়ে মন্দ কি।

এটি কবি শুক্লা ইফতেখার তার প্রথম কবিতা গ্রন্থ। তার যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস পর্যাষ চার ফর্মার বইতে কি সুন্দর করে বুনন করেছে না পড়লে বুঝাই যাবেনা।

একটা মানুষের  তার পঞ্চাশ ষাট বছর উমর প্রাপ্ত হওয়া আমার কাছে বিশাল ব্যাপার,তবে তার উমর কতো জানিনা।আবার উমর দিয়ে কাব্যবিচার করা ঠিক নয়।তবে  তিনি যদি আবার শিল্পের সমজদার শিল্পী হন তখন খোঁজ নিতে মন্দ কি।

মানুষটির সাথে  এই দুনিয়ার বহুরকম সৃষ্টির সাথে তার  দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে প্রকৃতি মনুষ্য সৃষ্ট সমাজ যাপনে কতো কিছুইনা সে দেখে। যিনি দেখেন তিনি দেখক আর একজন শিল্পী যখন এই দুনিয়া কে দর্শন করেন তিনি দর্শক। দেখা দর্শন শব্দদ্বয় সমার্থক হলেও স্থান কাল পাত্র ভেদে অর্থের ভিন্নতা বিরাজ করে। একজন লেখকের দেখা দর্শনের ভেতর দিয়ে যেতে যেতে তিনি  তার দেখা দর্শনের সারসংক্ষেপ মানুষের জন্য শব্দের বন্ধনে বাধন করেন তিনি লিখিত যুগের দার্শনিক। দর্শনের অন্যতম শিল্পরূপ হলো কবিতা। মুলত যিনি কবি তিনি দার্শনিকও  বস্তু সামাজিক অর্থনৈতিক রাষ্ট্র কাঠামোর সময়ে।


কবি শুক্লা তার শিক্ষকতা জীবন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, যাপিত জীবন,বিদেশবিভুঁইয়ের অভিজ্ঞতার দার্শনিক কাব্য বুননের উজ্জ্বল যাদুপংথি আমি আমার পাঠিকার জন্যে এখানে তুলে আনলাম।


আমার বিশ্বাস পাঠক পাঠিকা আপনারাসম্পর্কের স্বরলিপিকবিতা গ্রন্থ কিনে হতাশ হবেন না।

বইটির প্রকাশক কবিতা ভবন কে ধন্যবাদ দিতে হয় তারা শুক্লা ইফতেখার এর বইটি প্রকাশ করার জন্য।আর বইটির পরিবেশক অল্প সময়ে বই ব্যবসায় বিখ্যাত হওয়াবাতিঘর


আসুন এবার বইয়ের জাদুমন্ত্র গুলো দেখে নি।

##”আমি খন্ড থেকে অখন্ডের দিকে এগিয়ে যাই,

প্রতিদিন অখন্ডের সাধনায় খণ্ডকে ছাড়াই।

(আমি যখন মালা গাঁথি৯পৃষ্ঠা)

## ঝড় তো শেষ হলো বন্ধু,

এবার ঝরাপাতাদের গল্প বলো।

মর্মর হারায়ে ওরা মরমে মরে গেল।


(ঝড়১১ পৃষ্ঠা)

##”কুহেলিকার সাথে আমার সম্পর্কে আজ শুধুই কুহেলিকা,

জীবনবোধে আমরা ভাগ হয়ে গেছি।

আমরা ভূমি জরিপের দাগ হয়ে গেছি।

(কুহেলিকা ১৭পৃষ্ঠা)

## “ছেঁড়া বয়সকে রিফু করে করে চলি

সে আমার নিজস্ব রিফু।

ঝুঁকি নিয়েও উঁকি দেয়

দেহের গোপন দায্য রিপু।

(রিফু ২১পৃষ্ঠা)

## “কখনো  মানুষ একা হলে সব আড়াল যায় সরে সরে ;

কখনো মানুষ একা হলে ভুলগুলো থেকে দুঃখগুলো ঝরে পড়ে।

(এতদিন পর এলেই যখন ২২পৃষ্ঠা)

##
যতদিন তাপ ছিল, ততদিন ভাব ছিল।

অসহায় চেয়ে দেখি,সূর্যটা ডুবছিল।

( তাপ ২৮ পৃষ্ঠা)

##
আমরা এমন ভাগ হয়ে গেছি নিত্য জীবনপ্রান্তে।

আমরা এমন ভাগ হয়ে গেছি আতংকে আর আনন্দে।

( ভাগ হয়ে গেছি ৩২ পৃষ্ঠা)

##
অনেক কিছু ভুলে গেছি বলে

আজ আমি অনেক ভালোভাবে বেঁচে আছি

( বেঁচে আছি ৪৭ পৃষ্ঠা)

##
লুকানোর মধ্যে পালানো থাকে।

পালানোর সময়ও ছায়া তার দেহসত্তাকে ছাড়ে না– “

( আমি জেনে গেছি ৫৩ পৃষ্ঠা)

#
যেমানুষ অমৃতের সন্ধান করতে জানে না,

তার মৃত্যু অনিবার্য।

( নাট্যমঞ্চ, তোমাকে ৫৫ পৃষ্ঠা)

আপাতত হলো আমার ভালো লাগা ভাবিয়ে তোলা জাদুমন্ত্র পঙতি।

কবি শুক্লা ইফতেখারের কবিতা গ্রন্থে মোট আটান্ন টি কবিতা স্থান পেয়েছে। অনেক কবিতাকেই আমার জাদু বলে মনেহয়। পরিবেশ প্রকৃতি নিয়েও টি কবিতা স্থান পেয়েছে।


আমিসম্পর্কের স্বরলিপিকবিতা গ্রন্থ টির পাঠক প্রিয় হবে আশাবাদী। আরও আশাবাদী আগামীতে কবির হাতে দিয়ে আরও আরও অসাধারণ কবিতা লিখে আমাদের পাঠতৃষ্ণা জাগিয়ে তুলবে। আমিন।



ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: