বহুগামী — বন্য মাধব

বহুগামী    --   বন্য মাধব

এটা একরকমের রোগ বটে, কিছুতেই আমাকে স্থির থাকতে দেয় না, সবসময় ঘটরঘটর লটরপটর করবেই, মাঝেমধ্যে মনে হয় আমার ডাক্তার দেখানো দরকার, এর থেকে মুক্তি কই, সুযোগ এলেই, সুযোগ তৈরি করার সুযোগ এলেও, আবার ঝাঁপিয়ে পড়ি, পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়, গোপন কম্মটিও সারা হয়ে যায়, হুম, তারপর স্বস্তি ফেরে মনে, শরীরে। একটা অভিজ্ঞতাও তৈরি হয়েছে, কাকে হাত বাড়ালে পাওয়া যাবে আর কার ক্ষেত্রে একটু কসরৎ করতে হবে, আর কার ক্ষেত্রে অনিবার্য ছ্যাঁকা অপেক্ষা করছে, হুম, বুঝে ফেলি, যাকে বলে এক লহমায়, তাই।


আমার তো মনে হয় গোটা পৃথিবীটাই বহুগামীর একটা আখড়া, আবার ভাবি এটা হয়তো আমার আত্মপক্ষ সমর্থনে একটা ছেঁদো যুক্তি, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এই চক্কর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা শুরু করেছি, করলেই কি আর হয় নাকি? অতীত আমাকে ছাড়ছে না, মাঝেমধ্যে মনে হয় চেনা পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই, অনেক তো হলো, তারপর যে কে সেই, যেমন চলার তেমনই চলছে।


অসুখটা কবে বাসা বেঁধেছিল? অনেক অনেক ছোটবেলায়? মাঠে গরু চরাবার দিনগুলোতে? আশপাশের বড়দের কাজকারবারে? স্কুলে? কাগজে সিনেমার নায়িকার ফটো আর গসিপ দেখে আর পড়ে? মাঝেমধ্যে অবসর পেলে হাতড়ে বেড়াই , কোনো স্থিরবিন্দু খুঁজে পাই না, কোন ঘটনা আমাকে এই খাদে টেনে নামালো? নাকি এটা ইচ্ছাকৃত, নিজে নিজেই এমন হলাম? মাঝে মধ্যে নিজের ওপর রাগ হয় খুব, ছটপট করি, শান্তি মেলে না, অন্যের ওপরও আমার রাগ হয়, কারও ওপর কম, কারও ওপর বেশি, সবচেয়ে বেশি রাগ হয় সিল্কিদির ওপর, আবার মায়াও হয়, তখন কি আর এসব বুঝতাম ছাই! তবে সবসময় যে তার কথায় সায় দিতাম তাও নয়, তবুও একটা অদ্ভূত টান থাকতো, একটা সামান্য ইঙ্গিতেই কুত্তার মতো লেজ নাড়তে নাড়তে ছুটতাম তার কাছে।


বেশ চলছিল কাজ কারবার, হঠাৎ একদিন চোখে পড়ে গেল, ম্যাগো মা, সিল্কিদি আমার সঙ্গে যা করে, দেখি হাঁসার সঙ্গেও তাই করছে, একটু আড়াল রেখে কাঁপতে কাঁপতে সব দেখে চোখ ছানাবড়া, কত নালিশ করছেও, একটু ফোঁত ফোঁতও, মনে হচ্ছে অনেকদিন থেকে এসব চলছে, হুম, আর কারও সঙ্গেও সিল্কিদি এসব করে নাকি? ভোক্কাও মনে হয় ওর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, হুম, এত ঘুরঘুর করে এইজন্যে, একটা কষ্ট বোধ হতে লাগলো, আর ওদিকে আয়েস করে কম্ম সেরে হাঁসা বীরের মতো বেরিয়ে গেল, যেন আমার বুকের ওপর দিয়ে একটা আস্ত ট্রেন চলে গেল।


ঘষটাতে ঘষটাতে সিল্কিদির ঘরের দরজায়, তখনও আলুথালু হয়ে শুয়ে, একটু চমকে গেলেও সামলে নিয়ে দুহাত বাড়াল, আমি আর এগোলাম না, কাটা কাটাভাবে বললাম, আমি সব দেখেছি, তুই একটা খানকি……, আর তুই কি? কলির কেষ্ট? সিল্কিদির চোখে মুখে আগুন, বেইমান কোথাকার, লুকিয়ে লুকিয়ে আবার দেখছে! তুই পুরুষমানুষ? যা ভাগ, আমার সামনে আর কোনোদিনও আসবি না, যা শালা ভাগ, ভাগ।

ভেগেই এসেছিলাম, আর কোনোদিনও ওমুখো হই নি, এমনকি ওর বিয়েতেও যাই নি, সামনা সামনি হলে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেছি, নিজের ঘা নিজেই সারিয়েছি এবং খুব তাড়াতাড়ি, আমার কি ভালবাসার মেয়ের অভাব? যেটা অভাব, সেটা তো স্থায়িত্বের, কুছ পরোয়া নেহি, আমিই আমার নিয়ন্ত্রক, ফুল চাষ করেছি, গন্ধে এসো মাতো, যতক্ষণ, যতদিন পারো মাতামাতি করো, মধু শেষ হলে, গন্ধ শেষ হলে, পথ তো খোলা, যাও, যাও, যেখানে মন চায়, যাও, আমি বিন্ধ্যপর্বত হবো না, গালমন্দও করবো না, বরঞ্চ এই ভালো,ভালোবেসে আগমন, ভালোবেসে বিদায়, সবকিছুই দুদিনের, মন টানলে আবার এসো………

দিন চলছিলো এভাবেই, কিন্তু এই সম্পর্কগুলো মনে শান্তি আনতে পারছিল না, মনে হয় এগুলোর সেই ক্ষমতাই নেই, পথ খুঁজতে খুঁজতে এতটা সময় পেরিয়ে গেলো, অবশেষে উল্কির কাছে এসে থামলাম, একেবারে কি? তারমধ্যেও তো এখানে ওখানে ক্ষেপ খেটে আসছি, তবুও মনে হচ্ছে থামলাম, যা কোনোদিন হয় নি, উল্কির কাছে এলে, ওর কথা ভাবলে, সবকিছু নতুন করে শুরু করতে ইচ্ছে হয়, করিও, আবার হুমড়ি খাই, উল্কিই দাঁড় করিয়ে দেয় আবার, আমাকে সাহস জোগায়, অকপটে ওকে সব বলে ফেলি, চিৎকার করে বলিউল্কি আমি তোমার হয়ে বাঁচতে চাই, তোমার ভালোবাসার আগুনে আমাকে শুদ্ধ করো, শুদ্ধ করো উল্কি, ওর মায়া মায়া চোখ তুলে বলে, এই তো আমি, আছি তো তোমার সঙ্গে, তুমি ভালো থাকো, আরও আরও….., আমি ঝাঁপিয়ে পড়ি উল্কির আগুনে, নিজের মুক্তির স্বপ্ন দেখি……..

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: