বাজেট – অভিষেক সাহা

বাজারের থলি হাতে নিশিকান্তকে আসতে দেখে থমকে দাঁড়াল মদন। দুর্গা  পুজোর আর মাসখানেকও বাকি নেই। প্রতিবারই পুজোর সময় নিশিকান্ত পুজোর সময় বউ আর এখন ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে যায়। কখনও আন্দামান , কখনও কেদারনাথ, কখনও বেনারস। গতবছর তো সব ছাপিয়ে একেবারে গোল্ডেন টেম্পেল চলে গেছিল। করে তো একটা ছোট শাড়ির দোকান আর ওর বউটা  ছোট বাচ্চাদের টিউশনি , বাজেট সামলায় কী করে কে জানে!  এখন তো আবার কীসব লোন-টোন হয়েছে ,সেসব নিশ্চয়ই নিয়েছে!  এদিকে সারা বছর মুখে শুধু নেই নেই, আর  প্রতি বছর পুজো এলেই ব্যাগ গুছিয়ে ধা। যাওয়ার সময় কিচ্ছুটি বলে না, আর ফিরে এসে যেমন নিশিটা তেমন ওর বউটা রসিয়ে রসিয়ে সব আমাদের বলবে , কেমন উঁচু পাহাড়, কত সুন্দর গঙ্গা আরতি —- আরও কত কী! তা গেছিস যা না কে মানা  করেছে শুধু ফিরে এসে মাখন-চিনি ছড়িয়ে  আমাদের পরিবেশন করিস  কেনও! তুই তো ঘুরে করে এলি মজা, আর আমি সারা বছর বউ-ছেলের কাছে কুকথা শুনে ভোগ করি সাজা ! নিশিকান্তর থেকে সরে থাকতে হবে , না হলে এবছর কোথায় যাবে এক্ষুণি  রং লাগিয়ে বলতে শুরু করবে।

” ও ভাই মদন , কোথায় যাচ্ছ ! একটু দাঁড়াও , এক ভাঁড় চা খেয়ে যাও।” নিশির কাছে ধরা পড়ে গেল মদন।

” না, না, কোথায় আর যাব , যাবে তো তুমি, পুজো আসছে যে!” মনে যাই থাক ,একগাল হাসি মুখে বলল মদন।

” না ভাই এবার আর তেমন কোথাও নয়, গ্রামের বাড়ি যাব।” নিশি উত্তর দিল ।

” গ্রামের বাড়ি!”একটু অবাক হয়ে  মদন বলল ” তুমি তো কলকাতার ছেলে, জন্ম-কম্ম সব এখানে , তোমার আবার গ্রামের  বাড়ি কোথায়?” 

” এবার করোনা চলছে তো তাই বাজেট কমে গেছে।” কিছুটা হতাশ  হয়ে নিশি বলল।

” বাইরে বেড়াতে যাওয়ার বাজেট?” মদন প্রশ্ন করল।

” না ভাই , আমার বেড়াতে যাওয়ার নয় , আমার শ্বশুরবাড়ির পাড়ার ক্লাবের পুজোর বাজেট। প্রতিবার বিগ বাজেটে কেদার-বেনারস- স্বর্ণ মন্দির কত কিছু থিম  করে , আমরা তো প্রতি বছর  ওখানে গিয়ে সব  দেখি। এবার বাজেট এত কমে গেছে যে গ্রামের বাড়ি থিম  করেছে।”

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: