বাস্তবের আয়না – ভাস্কর মাঝি

বাস্তবের আয়না   -   ভাস্কর মাঝি

পাঠ গ্রহণশেষ বাইরেআসতেই নিজ নিজকাজে বিচ্ছিন্ন হয়েছেবন্ধুজন,
একাই এগিয়েচলেছি গন্তব্যে।
গলি পথফেলে বড় রাস্তাধরতেই একটা অজানাআশঙ্কা মনের মধ্যবাসা বাধলো অন্ধকারসন্ধ্যায়।
অন্য অন্যদিনের তুলনায় জনসমাগম হাতে গোনারমত।
একাই হেঁটেচলেছি ফুটপাত ধরে, মাল বোঝাই যাত্রী বোঝাই চলমানবৈশাখী, দমকাহওয়ার মত হুশকরে পাশ কাটিয়েধূলো উড়িয়ে নিজগন্তব্যে এগিয়েচলেছে।
বেশ কিছুটাপথ ধূলো ঝড়েরসঙ্গে আমিও পেরিয়েএসেছি
ধূলিকনার মধ্যেদিয়ে ট্রাকের উজ্জ্বলআলোয় আবছা দেখতেপেলাম এক ঠেলাচালক কে।
 উর্ধ্বশ্বাসে নিজেরবাহনটা,কে নিয়েছুটে চলেছে।
কিছু বোঝারচেষ্টা করতেই চোখপড়ল ঠেলার উপরেপ্যাকেট বন্দিএক জীবন্ত লাশ।
দূর থেকেদেখে বোঝার উপায়নেই মানব শরীরনা কঙ্কাল।
প্রাণপাত করেছুটতে থাকা একমহিলা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ঠেলাটাকে এগিয়ে নিয়েযেতে চাইছে।
মহিলার পেছনপেছন এক ছোট্টশিশু অনবরত ছুটেচলেছে
ঠেলাটা,কেএগিয়ে নিয়ে যেতেসঙ্গ দিতে চাইলেওছোট্ট পা জোড়াসর্বশক্তি দিয়েওসংস্পর্শে আসতেপারছে না।
পুরো ঘটনাটাআমার চোখের সামনেছবির মত ঘুরছে।
আমি চাইলেওকিছুই করতে পারছিনা।
কোন একঅজানা হাত যেনআমাকে আকড়ে ধরেআছে। স্ট্যাচুর মতফুটপাত ঘিরে আমারউপস্থিতি।
হটাৎ বিপরীতদিক থেকে আসাএক ট্রাকের তির্যকহুইসেলে আমিকেঁপে উঠলাম।
দল ছুটেরমত চোখ,টাঠেলা টাকে উদ্দেশ্যকরে এগিয়ে চলেছে।
জীবন্ত লাশটাকেঘিরে থাকা সকলেরউপস্থিতি আমাকেবিচলিত করে তুললো।
চালকের এলোচুল, উত্তেজনার মুখমণ্ডলেমধ্যে চোখ দুটোতেতীক্ষ্ণ নজর, আর মাঝে মাঝেহাত উঁচিয়ে সামনেথাকা মানুষের উদ্দেশ্যেআর্তির বার্তা , “তোমরা তফাত যা আমাকেযেতে হবে
মহিলার পরনেরবস্ত্র,টা যত্নেরএভাবে পরিবর্তন হয়েছেতার রং, হিসাবেরআঁচল শরীর ছেড়েবেহিসাবি পথেলুটিয়ে পড়েছে, খোলাচুল দীর্ঘদিনের অবহেলায়ইচ্ছে মত শরীরজুড়ে বিচরণ করছে।মাঝে মাঝে অপরিচ্ছন্নহাত দুটি চক্ষুযুগল হতে বারিধারাকে নিজ অঙ্গেবিলীন হতে সহতায়বদ্ধপরিকর নিজেরঅজান্তে।
পেছনে ছুটতেথাকা শিশুটি প্রাণঘাতের আশঙ্কা,কেজয় করে এগিয়েচলেছে।
শরীর জুড়েগোপন অঙ্গের লজ্জানিবারণের বস্ত্রটুকু ছাড়া আরকিছুই চোখে পড়লনা।
ফুটপাতের পারদনিম্নমুখী হতেশুরু করেছে তারইমাঝে কচি উলঙ্গপদ যুগল কোনবাধাই মানছে না, দিক পরিবর্তনের কোনচিহ্ন তার মধ্যেনেই। রাস্তার ধূলোঝড়ট্রাকের উজ্জ্বলআলোয় তার শরীরজুড়ে জানান দিচ্ছে।
আমার পদযুগল ক্লান্ত হলেওবাস্তব ছবি এগিয়েচলেছে আশার বিজয়পতাকা উড়িয়ে অদৃশ্যমানপ্রভুর সওয়ারির পদতলে।
জন সমাগমেধীরে ধীরে লুপ্তহল ছবি , ঠেলাসওয়ারির আর্তিরআওয়াজ দূর হতেআমার শ্রবণ দারেখেলা করে চলেছে।
আজ অনেকগুলোদিন পেরিয়েএলেও,
রং তুলিরবাস্তব ছবি আমাররঙ্গিন ক্যানভাসে ধরাদেয়। আমার সত্তাকে বিচলিত করে, পোশাকি রাস্তায় আমারউলঙ্গ চিত্র আমাকেস্থির হতে দেয়না।
অন্ধকার রাতেরল্যাম্প পোস্টেরসল্প আলোয় আমিবার বার ফিরেযাই বাস্তবের পটভূমিতে।
বিদ:- ছবিটা যে এঁকেছেসে একজন ক্যানসারআক্রান্ত, তারচিকিৎসা চলছেআপাতত।
কঠিন সময়েরমধ্যে দিয়ে এইছবি সে এঁকেছে
তার ছবিরঅনুপ্রেরণায় আমারএই প্রয়াস।

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: