বুদবুদ – মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ

মিছিলের সামনে পুত্তলিকাটা।ওটাকে পুড়িয়ে মারতে মনটা তীব্র আক্রমণাত্মক হয়ে গেল।ওটা পোড়াতে পারলে আকাশের মেঘ হতে পারবে।বাগানের ফুল হতে পারবে তুলু।স্কুলের সেই যে লম্বা ছুটি।আর কি ভাল্লাগে—-এভাবে? মনে পরে— সহপাঠী নীতিশ তাকে মেরেছিল স্কেল দিয়ে।কিন্তু, বেটাকে হাতে নাতে ধরাই গেলো না।করোনাতে মারা গেলো।আফসোসটা শরীরে গিরগির করছে।
আজ ইরাজ মামা বক্তৃতায় বলেছে,আজকের মিছিলে যে যাবে,তার মনের মকসুদ পুরা হবে।যা চাইবে,তা ই পাবে।
পুত্তলিকাটা তাই তার হাতেই নেয়।সবার সাথে গলা মেলায়।মনেও অসাধারন পুলক অনুভব করে।গলায় বেশ শক্তি অনুভব করে।সারাক্ষণ ওটার দিকে নজর থাকে,কখন মিছিলের শেষটা ধ্বনীত হয়।
সুরাইয়া ভ্যারাইটিজের সামনে গিয়ে মনে হলো ওটার দিকে জুতো ছুঁড়ে মারে।ভেঙ্গে তছনছ করে।কারন ওটাতে সব বিদেশি জিনিস।বিয়ে,গায়ে হলুদের সব কিছুই।
থাকুক।ইরাজ মামা বলেছে, আজকের দিনে জুতোটা মারতে পারলে মনের সব আশা পুরণ হবে।
পায়ের সেন্ডেলটা খুলতে গিয়েও থেমে যায়।মালিকের মেয়ে সুরাইয়া দোকানের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
হেসে ফেললো সুরাইয়া–কী ব্যাফার,হাতে জুতা ক্যান?

এই হাসিটাই গোলমাল বাঁধালো।
কতদিন পর দেখা।করোনার কারনে স্কুলটা বন্ধ। ইচ্ছে হচ্ছিল অনেক কথা বলে।কিন্তু মিছিলটাতো শেষ করতে হবে।পুত্তলিকাটা পোড়াতে হবে।নীতিশ্যার কথা মনে করে তাকে সমস্ত রাগ ঝেরে জুতো পেটা করতে হবে।কিন্তু সুরাইয়ার আজকের এই আবেদন কে পাত্তা  দিতে নেই।

ঠাস করে জিগ্যেস করেই বসে—কই যাও সুরাইয়া?ম্যালাদিনে দেখলাম।চারপাশ গভীর নীরিক্ষার পর বললো তুলু,তোমার ফেইসটা আরো সু্ন্দর হইছে।কই যাবা,কইলানা?
আমার গায়ে হলুদ, মঙ্গলবার।বিয়া ঠিক হইছে।
আরে ধুরর।কী—- কও?এত সহাল সহাল বিয়া ক্যান?আরে ইস্কুল খুইললা দিব।তাছাড়া তুমার বিয়ার বয়স হইছে নাহি?
তোমার মিছিল তো গ্যাছেগা।হিহিহি।
সত্যি। সবাই এগিয়েছে অনেক দূর।

পুত্তলিকা হাতে দৌড়াচ্ছে তুলু।
কত সু্ন্দর করে বানানো।বাবার পুরনো জুতো,ছোট ভাইয়ের লুঙ্গি,গরুর জন্য কেনা খড়, নিজের পুরনো পাঞ্জাবি,মায়ের রান্নাঘর থেকে মাটির পাতিল দিয়ে মাথা খাটিয়ে।পুতুল বানানো নিষেধ থাকা সত্বেও এটা তাকে বানাতে হয়েছে। কিন্তু সুরাইয়ার আজকের খবরটা মিথ্যা হয়ে যাবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top