ভাঙ্গা বাড়ি ও সত্যি ভূতের গল্প : অসীম কুমার চট্টোপাধ্যায় ( ভবঘুরে )

ভাঙ্গাবাড়ির কথা শুনলেই কেমন যেন ভূতের গন্ধ পাওয়া যায় । যদিও এখন আর তেমন গা ছম ছম , শ্বাস রুদ্ধ করা ভূ তের দেখা পাওয়া যায় না । জোর করে ভয় দেখানো । ভয় তো লাগেই না উল্টে মনে হয় সব বোকা বোকা সাজানো ব্যাপার । কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে রুবেন বলল । অতসী বলল , আমিও তোর সাথে এক মত ।

সব বোগাস । ভূত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে যা হয় আর কি । অমল এক মুখ ধোয়া বাতাসে উড়িয়ে বলল , ভূতেরা তো তোর মত ছুটির পরে এক্সট্রা ক্লাস নেয় না । আর রুবেনের মত সাহিত্য চর্চাও করে না ।

কোথাও যে ওদের সম্পর্কে দু-চার কলম লিখবে সে রকম ব্যবস্থাও ভূতেরা করে নি । একরাশ বিরক্তি ছড়িয়ে কমল বলল , তোরা হঠাৎ ভূত নিয়ে পড়লি কেন ? কথা তো হচ্ছিল ভাঙ্গাবাড়ি নিয়ে । এর মধ্যে ভূত এল কোথা থেকে ? না , আসলে ভাঙ্গাবাড়ির কথা বললে মনে হয় ওটা একটা পরিতক্ত বাড়ি । বহু বছর মানুষজনের বাস নেই ।

আগাছার আঁতুর ঘর । দরজা জানলায় নিরলস আল্পনা এঁকে চলেছে লতানো গাছ । পিছিয়ে নেই মাকড়সা । জ্বাল বুনে বসে আছে শিকারের অপেক্ষায় । সামনে ধু ধু মাঠ কিংবা ঘন জঙ্গল । ভূতেদের থাকার পক্ষে এরকম বাড়িই তো উপযুক্ত । তার ওপর বাড়িটা যদি হয় নির্জনতার মাঝে ।

ভাঙ্গা পরিতক্ত বাড়ি পেলেই ওরা জবর দখল করে নেয় । ওদেরও তো জনসংখ্যা বাড়ছে । আমরা তখন ওই বাড়ির নাম করন করি ভূতের বাড়ি । এ সব তোদের মনের ভয় । ছোট থেকেই ভূত আর ভাঙ্গাবাড়ি এমন ভাবে গুলিয়ে ফেলেছিস যে ভাঙ্গাবাড়ি দেখলেই তোদের ভূতের কথা মাথায় আসে । আরে বাবা , ভূত টুত বলে কিছু নেই ।

বিজ্ঞানের যুগে এসব ইডিওটিক কথার কোনো মানে হয় না । যাকেই জিজ্ঞেস করবি সেই বলবে আমি দেখি নি । আমার অমুক কিংবা তমুক দেখেছে । আর বর্ণনাও সেই এক এবং অদ্বিতীয় । একটা কাজ করা যেতে পারে । সবাই বলল , কী ? আমাদের মধ্যে কেউ একজন মরে যদি ভূত হয় তাহলেই সব সমস্যার সমাধান । কী ভাবে ? ভেরি সিম্পিল ।

ভূত হয়ে এসে সে আমাদের ওয়ার্ল্ড অফ ডেথের পূর্ণ বিবরণ দেবে । আজ পর্যন্ত কোনো মানুষ ভুত হয়ে ফিরে এসে ভূতেদের জগৎ সম্পর্কে কিছু বলে নি । ওরা অনেকটা চীনাদের মত । চার দেওয়ালের মধ্যেই সব গোপন । বাইরের লোক কিছু জানতে পারে না । সবটাই আমাদের কল্পনা । অমল বলল , প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গপাধ্যায়ের সেই ছোট গল্পটা মনে আছে ? কোনটা ? গরম ভাত অথবা নিছক ভূতের গল্প ।

যেটা সিনেমা হয়েছিল ? হ্যা । রুবেন বলল , ভূত বিক্রির নামে প্রতারণা । কমল বলল , আমাদের অবস্থা ওই গল্পের গ্রামের লোকদের মত হবে না তো ? অমল জানতে চাইল , কী ভাবে ? যে মরবে সে তো বোতলে ঢুকে বন্দি হবে । না ।

কমলের স্পষ্ট কথা । তাহলে ? অতসীর প্রশ্ন । আমাদের গল্পে ভূত আসবে নির্দিষ্ট একটি জায়গায় । একটা ভাঙ্গাবাড়িতে । শুধু আমাদের জন্য । কারন আমাদের মধ্যেই তো একজন মরে ভূত হবে । ভূতেদের জগৎ সম্পর্কে সে আমাদের ডিটেইলসে সব কিছু বলবে । যদি সম্ভব হয় মোবাইলে ভিডিও করে আনবে । যাতে পরবর্তী কালে প্রমান স্বরূপ আমরা সেটা দাখিল করতে পারি ।

সেই সব বাস্তব ভূতের দেখা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রুবেন একটা বই লিখবে । আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেই বই বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র বই হয়ে উঠবে । অনুবাদ হবে বহু ভাষায় । বিশ্ব ব্যাপী ভূত গবেষণার একমাত্র রেফারেন্স বুক । সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পাবে এই বইয়ের লেখক মানে রুবেন এবং আমরা সবাই । এখন এই পুরস্কারের প্রাইজ মানি কত জানিস তো? কত ?

এগার লাখ । এর ওপর তো বই বিক্রির টাকা । পায়ের ওপর পা তুলে আমরা শুধু রয়েল্টি মানি দিয়েই ফুর্তি করে যাব । বুঝলি রুবেন , একগাদা হাজিবাজি লেখার কোনো মানে হয় না । একটা বই লিখবি । ব্যাস , বাকি জীবনটা নিজের মত কাটাও একদম স্বাধীন ভাবে । কমল বলল , কিন্তু মরবে কে ? দুই নম্বর হলো , তার ভাগের টাকাটা কী হবে ? অতসী বলল , কেন ওর বাড়ির লোক পাবে ।

তারা জানতে চাইবে না এটা কিসের টাকা ? বলবো যে ওর ভাগের টাকা । কিসের ভাগের ? বই বিক্রির আর পুরস্কারের । তা ওকে দিচ্ছ কেন ? তখন কী বলতে পারবি যে ও মরে ভূত হয়ে আমাদের ভূতেদের সম্পর্কে সব গোপন তথ্য দিয়ে দিয়েছে । সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই বইটা লেখা হয়েছে । না পারার কী আছে ? ওরে মাথা মোটা , তাহলে তো ওর বাড়ির লোক পুরো টাকাটাই দাবি করবে ।

গল্প যার টাকা তার । আর না দিলেই পুলিশে খবর দেবে । বলবে আমরা তিনজন মিলে ষড়যন্ত্র করে ওকে হত্যা করেছি । তাহলে ওর ভাগের টাকাটা আমরা তিনজনে ভাগ করে নেব । আর ভূতের| টাকা নিয়েই বা কী করবে ? ভুতেরা তো ক্যাশে বিশ্বাস করে না ,কাইন্ডে করে ।ঠিক আছে । সেটা পরে ভাবলেও চলবে । এখন বলো কে মরবে ? কমল বলল , আমার মতে টস করা হোক ।

টস তো দুজনের মধ্যে হয় । চার জনের মধ্যে টস না করে অন্য কিছু ভাবতে হবে । আচ্ছা , আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে । কী প্ল্যান ? চারটে কাগজের টুকরো নেব ।

একটার মধ্যে লেখা থাকবে আমি মরে ভূত হব । বাকিগুলো থাকবে ফাঁকা । এবার ভাঁজ করে বানাবো চারটে পুরিয়া । একটা ছোট কৌটোর ভেতর ভালো করে ঝাঁকিয়ে ফেলা হবে টেবিলের ওপর । আমরা একটা করে পুরিয়া নেব তুলে । যার পুরিয়ায় লেখা থাকবে , সেই মরবে । কি ভাবে মরবে ? আত্মহননের মাধ্যমে । তাহলে তো পুলিশ কেশ হয়ে যাবে ।

ছানবিন করতে গিয়ে ধরে ফেলবে আমাদের । যখন পুলিশ জানবে যে ওর মৃত্যুর কারন আমরা , তখন কী হবে বুঝতে পারছিস ? আমার মতে একটা ভাঙা বাড়িতে গিয়ে মরলে সবচেয়ে ভালো । তাতে ভূতের পক্ষে বাড়িটা চেনা সহজ হবে । সে তো হবে । বেড়াতে গিয়ে কোনো একজন যদি অপঘাতে মারা যায় তাহলে বাকিদের অবস্থা কী হয় সেটা কি বলে দিতে হবে ? তাহলে মৃত্যুটা হবে কী ভাবে ?

অতসী বলল , আমি বলি ? সবাই বলল , বল । যে মরবে সে বাদে বাকি তিনজনে আগে চলে যাবে ওই ভাঙ্গা বাড়িতে । এর দিন দশেক বাদে ও মরবে নিজের বাড়িতে । একটা সুইসাইড নোট লিখবে । তাতে লেখা থাকবে , আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় । আমার আর বাঁচতে ইচ্ছে করছে না ,তাই মরলাম । হয়ে গেল ।

কী হয়ে গেল? আরে পুলিশ তো জানতে চাইবে যে ও কেন বাঁচতে চাইছিল না । তারপর কেঁচো খুঁড়তে কেউটে । রুবেন বলল , আমার কিন্তু অতসীর প্ল্যানটা পছন্দ হয়েছে । শুধু আমার বাঁচতে ইচ্ছে করছে না কথাটা লেখার দরকার নেই । সবাই সম্মত হলো । আনা হল কাগজ । লেখা হল । বানানো হলো চারটে পুরিয়া । ছোট কৌটোয় ঝাঁকিয়ে ফেলা হল টেবিলে ।

চারজনে নিয়ে নিল চারটে পুরিয়া । কমলের পুরিয়াতে লেখা ছিল কথাটা । শর্ত অনুযায়ী কমল রাজি হলো মরতে । এবার ভাঙ্গাবাড়ি খোঁজার পালা । অমল বলল , বর্ধমানে আমার জানা একটা ভাঙ্গাবাড়ি আছে । জানা আছে মানে ছোটো কাকা বলেছে । ছোটো কাকার খুব বেড়াবার সখ । প্রচুর খোঁজ খবর রাখে । অফ বিট জায়গার প্রতি তার বেশি আকর্ষণ । এই জায়গাটা খুঁজে পেয়েছিল ছোটো কাকা ।

খুব ডেয়ারিং । একটা পার্টনারের অভাবে প্রোগ্রামটা পোস্টপন্ড করেছিল । তারপর শোন , যা বলছিলাম – গ্রামের নাম কমলপুর । বর্ধমান স্টেশন থেকে নেমে বাসে করে আসানসোল -ধানবাদ রোডের দিকে যাবো । বাসস্টপ মাটিয়ারি । ওখান থেকে রিকশায় নদীর বাঁধ ধরে সাত কিলোমিটার যেতে হবে ।

এরপর নদী পেরিয়ে দু কিলোমিটার হেঁটে গেলেই কমলপুর গ্রাম । ওখানে একটা ভাঙ্গাবাড়ি আছে । কোনো মানুষজন নেই । ফাঁকা গ্রাম । বিদ্যুৎ নেই । তবে চাপা কল আছে । কী অবস্থায় আছে জানি না । মিনারেল ওয়াটার কিনে নিয়ে যাওয়াই ভালো । শুধু জল কেন , রান্নার সরঞ্জাম এবং রসদ সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে । এক কথায় ট্রেকিংয়ে যেতে গেলে যা যা লাগে সব লাগবে । অমল , রুবেন আর অতসী এক শনিবার সকালে চেপে বসলো হাওড়া বর্ধমান লোকাল ট্রেনে ।

তিনজনেই পড়েছে ডেনিম কালারের জিনস আর জ্যাকেট । মাথায় ডেনিম কালারের টুপি । ওরা তিন জনই হাওড়ার নেচার লাভার্স ফোরামের সদস্য । রেজিস্টার্ড ফোরাম । সদস্য সংখ্যা একশ ত্রিশ । আঠারো থেকে আটাত্তর সব বয়সী নারী পুরুষ আছে । ফোরামের নিয়ম অনুযায়ী যখনই কোনো সদস্য এক্সপিডিশনে যাবে ফোরামের আই কার্ড অবশ্যই গলায় ঝুলাবে আর মেটালের লোগো জামার এমন জায়গায় লাগাতে হবে যাতে দূর থেকেও দেখা যায় ।

ডেনিম কালারের জিনস , জ্যাকেট এবং টুপি পড়াটাও বাধ্যতা মূলক । কারন অবশ্য আছে । একই রকম পোশাক লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে । তাছাড়া , বিপদে পড়লে ফোরাম সরকারি সহায়তায় সব রকম সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে । রুট ম্যাপটা তৈরি করে নিয়ে ছিল রুবেন । বাড়িটা খুঁজে পেতে খুব একটা অসুবিধা হয় নি । তবে রিকশায়ালা একটু অবাক হয়েছিল ।

গত দশ বছর যেখানে একটা মানুষও আসেনি ,সেখানে এই তিনজন থাকতে এসেছে । কমলপুর গ্রামটা কি বেড়াবার জায়গা ? আর ওই ভাঙা বাড়িটা তো ভুতের বাড়ি । সখ করে কেউ ভুতের বাড়িতে থাকতে আসে ? এরা কী পাগল ? জীবনের প্রতি এতটুকু মায়া নেই ? এত অল্প বয়সেই মরার ইচ্ছা । অনেক করে বুঝিয়েছিল কিন্তু কেউ কথা শোনে নি । বলেছিল , এর আগেও কয়েকজন ওই ভাঙ্গা বাড়িতে গেছিল । একজনও ফিরে আসতে পারে নি ।

লোকে বলে তারা নাকি ভুত হয়ে গেছে । তার কথা শুনে এরা হেসেছিল । হাসতে হাসতে বলেছিল , তোমরা গেঁয়ো লোকেরাই এই সব ভাবো । সে আর কী করবে ? ওদের নদীর ঘাটে পৌঁছে দিয়ে ফিরে গেল । কী সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ । এখানে রূপনারায়ণের তীব্রতা এবং নাব্যতা অনেক কম ।

অবশ্য বর্ষায় এই শান্ত স্নিগধ রূপ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে । বিষাক্ত সাপিনীর মত তার হিস্ হিস্ শব্দ । এঁকে বেঁকে উদ্যত ফনা তুলে ছাপিয়ে যায় দুকূল । তখন দেখা যায় জেলে ডিঙির আনাগোনা । রাত জেগে জাল ফেলে বসে থাকা । এসব কথা বলছিল নৌকোর মাঝি । অবাক সেও হয়েছে । আজকাল তো আর কেউ ঘাট পারাপার করে না । বন্ধ হয়ে গেছে ঘাটের ডাক ।

সে এক সময় ছিল যখন দিন ভোর ব্যস্ত থাকতো এই খেয়া ঘাট । প্রতি বুধবার বসত হাট । দূর দূর থেকে গোরুর গাড়ি বোঝাই হয়ে আসতো জিনিস পত্র । পারাপার হত নৌকায় । সারি বদ্ধ ভাবে নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে থাকতো নৌকো । ধান কাটা হয়ে গেলে নৌকো বোঝাই হয়ে আসতো খড়ের আটি । কোথা থেকে কী যে হয়ে গেল । শেষ হয়ে গেল পুরো একটা গ্রাম । থাকার মধ্যে তো ছিল সব মাটির বাড়ি ।

খড়ের চাল । কবে সে সব মিশে গেছে মাটির সাথে । ওই একটাই ছিল পাকা বাড়ি । ভেঙ্গে চুরে গেছে । কেউ বলে ভাঙা বাড়ি আবার কেউ বলে ভুতের বাড়ি । কিছুই তো নেই । তা কী করতে যাচ্ছ ওখানে ? বৃদ্ধ মাঝির কৌতূহলী প্রশ্ন । ভূত দেখতে । অতসীর উত্তর । তেনাদের নিয়ে ওসব কথা বলতে নেই । সতর্ক করলো বৃদ্ধ মাঝি । কেন , করলে কী হবে ? তোমাদের মত আর একবার চার বন্ধু এসেছিল । মানা করেছিলাম । শোনে নি ।

তারা কেউ ফিরে আসে নি । আমরা তো ভূতেদের সাথেই দেখা করতে চাই । ওদের নিয়েই তো একটা বই লিখবো । আমাদের এক বন্ধু কমল ভুত হয়ে আসবে ঠিক দশ দিন বাদে । তবে সে তো নতুন । অনেক কিছুই জানবে না । পুরনো ভুত পেলে সুবিধা হবে । তারা তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে । দারুন এক্সাইটিং ব্যাপার । থাকবে নাকি আমাদের সাথে ? আর কথা বাড়ায় নি বুড়ো মানুষটা ।

চুপচাপ ফিরে গেছে । দেখতে দেখতে দশদিন কেটে গেল । কমলের ভূতের দেখা নেই । প্রায় হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবে ঠিক করেছে । রুকস্যাক গোছানো কমপ্লিট । রাত্রি টুকু কাটিয়ে পরের দিন সকালে বাড়ির পথে । একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গেল রুবেনের । আর একটু শুয়ে থাকলো শব্দটার উৎস বোঝার জন্য । সামনের দরজায় আবার শব্দ । সাথে ডাক । হিম হয়ে গেল সমস্ত শরীর ।

গোঙানির শব্দ বেরিয়ে এল মুখ দিয়ে । জেগে উঠলো বাকি দুজন । ওরাও শুনেছে । পা টিপে টিপে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে দুটো রোমশ হাত দরজার কড়া নাড়াচ্ছে । লম্বা লম্বা নখ । কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছে না । একটু ভালো করে দেখলো । অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে নৌকোর মাঝি । হাত দুটো তার ।

এত লম্বা হাত মানুষের হয় না কি ? গল্পে পড়েছে ভূতেদের হাত হয় খুব লম্বা লম্বা । বাঁশের মত । কমলের গলা নকল করে ডাকছে । ভয়ে হাত পা ঢুকে যাচ্ছে পেটের ভেতর । এবার আরো জোরে শব্দ । কমলের ডাক হলো আরো জোরালো । দরজা খোল । আমি কমল । আমি এসে গেছি । ওরে বাবা , নৌকোর মাঝিটা আসলে ভূত !

এই ভুতটার সাথে ওরা এক নৌকায় গল্প করতে করতে এসেছে । তারমানে বিজ্ঞানের যুগেও ভূত আছে । ভূত তো মানুষের গলা নকল করে কথা বলতে পারে । এই ভূত ই তাদের নদী পার করে নিয়ে এসেছে । এবার এসেছে মেরে ফেলতে । ওদের আগে যে চারজন এসেছিল যাদের কথা নৌকোর মাঝি বলছিল ,তাদেরকে ওই মেরেছে এই ভাবে ।

বিনা অনুমতিতে ওদের বাড়িতে আসার শাস্তি । এবার অতসীদের পালা । আর ভাবতে পারছে না । থর থর করে কাঁপতে শুরু করলো তিন জনের শরীর । ভয়ে শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম । জ্ঞান হারিয়ে তিন জনেই পড়লো ঘরের ভেতর দরজার সামনে । তখনো হালকা শুনতে পারছে , দরজা খোল । আমি কমল ।

আমি ভুত হয়ে এসেছি। কমল কিন্তু মরে নি । এই জাতীয় বোকামি সে করবে না । তার খুব মজা লাগছিল । চুপ করে বসে ছিল দশদিন । ওদের চমকে দিতে দশ দিন পরে সে ফোন করেছিল তিন বন্ধুকে । তিনজনের সেল ফোনই বন্ধ । এতে সন্দেহ হয় কমলের । ভয় পেয়ে যায় সে । ভাবে ওদের কিছু হয় নি তো ?

নেচার লাভার্স ফোরামের সেক্রেটারিকে গিয়ে সব কথা খুলে বলে । জানায় তার আশঙ্কার কথা । লোকাল থানার সাহায্যে যোগাযোগ করা হয় বর্ধমান থানায় । কমল ,ফোরামের সেক্রেটারি এবং আরো কিছু সদস্য পুলিশের সাথে আসে । দরজা ভেঙ্গে উদ্ধার করা হয় ওদের তিনজনকে । পাঠানো হয় হাসপাতালে । শেষ পর্যন্ত যা খবর পাওয়া গেছে তাতে ওরা তিনজনেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ।

অসীম কুমার চট্টোপাধ্যায়

               

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: