মহা শূন্যের সংলাপ — ফজলুল হক – পর্ব – ৮

মহা শূন্যের সংলাপ/ -- ফজলুল হক - পর্ব - ৮

ভোট প্রচারে দুপক্ষের কিছু বলিষ্ঠ লোক পাড়ায় আসছে ।তারা অবাঙালি ওরা নিয়মিত খদ্দের হয়ে ওঠে মেয়েগুলির তাদের উপদ্রব পরিচিত অনেকের আমি আতঙ্কিত বহু কষ্টে শোবার একটা ঘর হয়েছে সেই বাসাটি ছেড়ে দেবার নোটিস দেয়নি এখনো ; তবে যে কোনো দিন দিতে পারে
এমনটাই ঘটে এখানে আমি ঘরটি ছেড়ে দিলে ওরা সব সময় ব্যবহার করতে পারবে পছন্দ মতো মেয়ে আসবে, নিষিদ্ধ পল্লীর ছোঁয়াও বাঁচবে যাকে আমি নতুন মাসি বলে ডাকতাম ছোটবেলায় ,সে ঠিক করে দেয় , এই ঘরটা যেটা ওদের পল্লির কাছাকাছি


এখানে আসাটা দৈব যদিও ঈশ্বরে আমার বিশ্বাস নেই তবুও যেন আমি সব কিছু জানতে পারতাম এই রহস্যটাকে আমি দৈব বলছি সেই কয়েকটা মাস ক্ষুধায় ক্লান্তি আমাকে ঘিরে ধরত কিছুক্ষণের মধ্যে চারপাশ অন্ধকার মনে হত আমার নিজের দিকে তাকাতাম আমার গায়ের কালো চামড়ার সাথে অন্ধকার মিশে যাচ্ছে
অন্ধকার টা যেন অতিমাত্রায় ঘন আমার চিন্তা ভাবনা গ্রাস করে নিচ্ছে জীবনে কোনোদিন এমন অন্ধকার দেখিনি মাথা ক্রমাগত গুলিয়ে যাচ্ছে আরও বেশি করে অনুভব করলাম আমার ক্ষুধা পেয়েছে এটি বোধহয় আসল অন্ধকার যার বিরুদ্ধ আমার লড়াই শরীরের প্রতিটি রোমকূপ মানসিকভাবে পাগলের মতো আচরণ করছে


মনে পড়ল, তিনদিন লম্বা তিনটে রাত আমি কিছু খাইনি আবার জল খেলাম কুলি মজুরের কাজ করে তৃপ্তি ছিল কিন্তু ক্ষুধা নামক মহান অনুভূতির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতাম না সমস্যাটা হতো তখন যখন পর পর কয়েকদিন কাজ পেতাম না কলের জল ছাড়া আর তেমন খাবার না জুটলে আমরা ,আমি আর যে লোকটি আমাকে কাজের সন্ধ্যান দেয়, সে সবজি অলাদের সবজি ভ্যান রিক্সায় তুলে দিতাম তাদের অনিচ্ছা সত্তেও তারা যে টাকাটা দিত তাতে দুজনের পেট ভরবে না সে বলেছিল , ক্ষুধা থেকে বাঁচতে হলে পচুই খেতে হবে


আমি বিস্মিত হয়ে তার দিকে চেয়ে থাকি ।মনে হল ওই তরল খাবার পর আমার নাক দিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়া পচা লেবুর গন্ধ বের হতে থাকবে সে বলে , জানো, অনেক মাসের পর মাস আমি পচুই খেয়ে বেঁচে আছি আর এটাই ক্ষুধা নিবারণের উত্তম পন্থা আর আমি ভুলে যেতে পারি যে, আমি একজন মেধাবী ছাত্র ছিলাম , আর শহরের সব চেয়ে নামি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিলাম এসো আমরা সুরি খানায় যাই সেখানে বিচিত্র মানুষ তাদের আচরণ উপভোগ করতে পারবে


দ্বিধান্বিত হলেও মোটামুটি বেপরোয়া একটা ভাব আমাকে জোর করে টেনে নিয়ে যায় মদশালের জটলার মধ্যে ওদের মনোযোগে ব্যঘাত না ঘটিয়ে খোলা চত্বরের ওপর দিয়ে আড়াআড়ি এগিয়ে যাই পেছনে হালকা আলোর অভাস থাকায় গাঢ় ছায়ায় বসে আছে ওরা ওদের অভিব্যক্তিতে নিষ্ঠুর উপেক্ষা আমার দৃষ্টি এড়ালো না একজন মাঝ বয়সি নাচতে শুরু করেছে নিজের মতো করে কে একজন আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল তার পা টলছে তারপর আমন্ত্রণ জানানোর ভঙ্গিতে আমাদের দিকে হাত বাড়ায় আমার সাথের লোকটি আমার হাত ধরে টান দেয় পরের যা সব ঘটল তা একেবারে অপ্রত্যাশিত


আমার মস্তিষ্কে ভিন্ন রকম অনুভূতি দুর্গণ্ধযুক্ত ঘন তরলের ঢেকুর কেবল আমাকে বিব্রত করছিল আমার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এল ঝিমুনি আসছে চাতাল ঘিরে গাছের পাতাগুলো দেখে আতঙ্কিত হলাম অনেক উপরে মগডালের পাতাগুলো বাতাসের ঘায়ে যেন গুমড়ে কাঁদছে গাছপালার ভেতর দিয়ে দূরের এক চিলতে আকাশের দিকে তাকালাম , পুরোটাই কালচে আর ধূসর পেছনে চুঁইয়ে আসা গোলাপি রোদের আভাস ।যেন লজ্জা পেয়েছে আত্ম অবমাননার পর এমনটাই হয়ে থাকে নিজের কাছে নিজের এই লাঞ্ছনা তিরের ফলার মতো বিঁধছে আমার চোখ , কান , ক্রমে স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে আমি ছুটে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলাম আর টলতে টলতে রাস্তায় পা রাখি সে রাতটা আমাকে আশ্রয় দিয়েছিল বুড়ো বাড়ির পরিত্যক্ত বারান্দা সেখানে আমাকে পাহারা দিয়েছিল কয়েকটি কুকুর তাদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ


আর মহান পোড়ো বাড়িটির পবিত্র বারান্দাটি আমার প্রাণদাতা বলে বিশ্বাস করি কারণ সেখান থেকে নতুন মাসিকে আবার ফেলে আসা দিনগুলির মতো পেয়েছিলাম আর জানতে পেরেছিলাম যেদিন পল্লীতে আফজলকে নিয়ে গেছিলাম সেদিন কেন নতুন মাসি অশ্লীল ব্যবহার করেছিলেন সে যখন ভাঙা বারান্দায় আমার হাত ধরে টেনে তুলল, ভীষণ ভাবে বিচলিত দেখাচ্ছিল তাকে তার চোখে আন্তরিকতার সাথে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখতে পাই কিন্তু বুঝতে পারি বিষয়টি তার কাছে জটিল হয়ে ওঠেনি আমি শেষ পর্যন্ত বলার চেষ্টা করেছিলাম , আমাকে ক্ষমা কর তার ধারণা ছিল ভিন্ন তার ব্যবহারের জন্য নাকি আমার এমন অধঃপতন ।আর আমি আরও অনুভব করি সেদিন তার ব্যবহারের তাতপর্য


আমার ক্ষুধা যা আমাকে মহৎ অথবা অসৎ করতে পারত এখন তার ঘরে এসে সম্পূর্ণ মুক্ত মনে হল আর স্বস্তি পেলাম


একটা সিগারেট ধরায় নতুন মাসি , কয়েকটা গভীর টান দিয়ে নিঃশব্দে কিছুক্ষণ ধোঁয়া ছাড়ে আর তার গলায় মৃদু স্বর বের হয়, কেন এত মদ খাস ?কেন ওসব খেয়ে নিজেকে শেষ করছিস ?একজন সংবেদনশীল মায়ের কণ্ঠস্বর, যেন পৃথিবীর শীতলতম শেষ আবেদন আমি নিজের কাছে সচেতন ভাবে স্বীকার্ করি আমি যা ভাবছি তা সত্য তাই একথা বলে তাকে শান্ত্বনা দিতে চাই না যে , মাসি আমি আর পান করব না এই প্রথমবার অনুমান করতে পারি , তরলটির এক বিষেশ গুন আছে , যা সময়ে নতুন ভাবনার মধ্যে নিজে বেঁচে উঠতে পারি


সারা রাত ধরে বিনোদনী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত লোকজনের মিলনমেলা এই পল্লীটির একজন দীর্ঘদিনের সদস্যা এমন সুন্দর আলোকিত সকালে তার মুখ কেমন ফ্যাকাশে দেখলাম অল্প মেদশরীরে কোনও লাম্পট্যের চিহ্ন নেই এক মাতৃ প্রতিমা যেন আমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে, মদ খাওয়া ছেড়ে দে সোনা ।তার সুন্দর মুখখানা উদ্বেগে কুঁচকে ওঠে আমার রক্তশূন্য স্ফীত ঠোঁটের বিশ্রী উজ্জ্বল্যে আরও বেশি কুশ্রী দেখাবে নিশ্চয় না সেটা ঠিক নয় দাড়ি ভর্তি মুখটায় তার হাতের স্নেহস্পর্শ অনুভব করি , আমার সোনা এত বড় হয়ে গেছে সোনা সেদিন তোকে চিনেছিলাম ঠিক , আমার ব্যবহারে রাগ করিসনি তো বাবা ? আমি তোআর না বলে আমাকে জড়িয়ে ধরে


আদরমাখা আঙুলগুলো আমার শরীরময় সোহাগ করে ঠিক আগের মতো ছোটবেলার স্মৃতি উসকে দেয় স্মৃতি কাতর আমি তার চোখের দিকে তাকাই তার চোখে তীব্রতর ,তীক্ষ্মতর ভয় , অথবা হতাশার অভিব্যক্তি আমি কখনও দেখিনি আবার তার হাতের শক্ত বন্ধনের সাথে মৃদু স্বর কানে এল, এখানে আসিস না সোনা এই সত্যিকারের পুরোপুরি বেশ্যা নারীটির মধ্যে আমি মায়ের স্বাদ পেলাম , যেমনটি ধানুর কাছে পেয়েছিলাম


সে আর কথা বলল না , কেবল আমাকে জড়িয়ে থাকল অনেকক্ষণ পরে যখন তার নিঃশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হয়ে আসে ,সে ডাক দেয় , গলু গলুরে এদিকে আয় একবার একটি মেয়ে ছুটে আসে


আর মুহূর্তে তার অনৈসর্গিক হাসি দিয়ে জয় করে নেয় সবকিছু আমি আগে থেকে সব জানতে পারি বলে যে ধারণার জন্ম দিয়েছিলাম আমি নিজেই তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটছে বলে আমার মনে হল
 দেখলাম আঠারো থেকে কুড়ির ভিতর থাকা যুবতি মেয়েটি একটি অপার বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল আমার সম্মুখে আমারই চিন্তার সহমর্মী হয়ে উড়ান গতির একমাত্র সহায়ক হয়ে গ্যালাক্সি আমার ভর নিতে আগ্রহী সেই ব্যকুলতাও রয়েছে মনে হল তার মধ্যে পলকেরও কম সময়ে তার সৌন্দর্য,রুচি শরীরী সম্পদ এই টি জিনিস তার যে যতেষ্টেরও বেশি নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকে না


যেন মনে হল সবটাই তার মাধুর্য, সবটাই স্থৈর্য , সৌষ্ঠবের প্রতিমূর্তি তখন আমার সাতাশ বছরের অতীব কালো শরীরের অঙ্গগুলি রসগ্রাহী মানসিকতার পুরুষ হয়ে ওঠে তাকে দেখা মাত্র অনুমান করে নিতে অসুবিধা হয় না যে, তার অগোছাল পরিচ্ছন্ন সালোয়ার কামিজের নীচে রয়েছে মহার্ঘ, উৎকৃষ্ট ,কোমল অন্তর্বাসের গোপন রমনীয়তা , আর অন্তর্বাসের নীচে রয়েছে সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত কাজল বরণ কেশ কন্যার রসসিক্ত মসৃণ শরীর


ওদের পল্লীর কাছাকাছি খুব অল্প টাকায় একটা ঘরভাড়া দেখে দেয় মাসি তার নিয়মিত খদ্দের স্টেশন মাস্টার কে বলে একটি কাজ যাতে আমার খাওয়া পরার কোনও দুশ্চিন্তা না থাকে


তারপর মহাজাগতিক সেই অঘটনটা ঘটে গেল আমার ঘরটি দখল নেয়ার সুযোগ ওদের হাতে চলে আসে শহরে শুধু নয় নিষিদ্ধ পল্লীর সব কটি এলাকা দখল নিল শাসক দল ।কেন জানি না অথবা কোনও দৈব বলে ছুটতে ছুটতে গলু আমাকে খবরটা দেয় , তুমি পালাও , ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে


অনেকগুলি প্রশ্ন জট পাকিয়ে মাথার স্নায়ু অবস করে দিচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না ,গলু নিজে থেকে খবরটা দিতে এসেছে না নতুন মাসি পাঠিয়েছে এক্ষেত্রে প্রথমটি হলে আমি পুলক অনুভব করব এই আতঙ্কের সময়েও সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই আর পরেরটি হলে , আমি নত হব সেই মহান সম্পর্কের কাছে যার নাম করণ হয়েছিল নতুন মাসি


কেন কী হয়েছে ? এই অবান্তর প্রশ্নটি ছাড়া আমার আর কিছু বলার কথা মনে এল না যদিও জানি এখান থেকে আমাকে চলে যেতে হবে রাজনীতিতে এমন হয় মানুষকে তার ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে তাদের পুর্ণবাসন দেয়ার জন্য ছায়া যুদ্ধ করে


যে কোনও কাজ আমার কাছে সম্মানের হৃদয়াবেগের প্রেরণাতেই সব রকম কাজের মধ্যে আনন্দের উৎস খুঁজে নেবার চেষ্টা করি নৈতিক অধঃপতিত যারা তারা একটি নিষিদ্ধ পৃথিবী গড়তে চায় আমি তাদের ঘৃণা করি মজার খবরটি হল আমি একদিন নিষিদ্ধ সাম্রাজ্যে নিজেকে দেখব


এই ভাবে অঘটনগুলি একে একে ঘটতে থাকবে তখন সত্যি সত্যি শূন্য হয়ে পড়ি চত্বরে ঘরটি পাওয়ার পর আমার সাথে যে অনৈতিক নির্যাতন হয়েছিল ক্ষমতাবানরা অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল , স্টেশন মাস্টারের দয়ায় এই কাজটি আমাকে আপাতত কিছুটা হলেও শান্তি দেয় রাতে যখন বিছানায় শরীর বিছিয়ে দিই, তখন আশ্চর্যভাবে মহাশূন্যের আলোকমালা দেখতে পাই উড়তে থাকি গ্যালাক্সির কাছাকাছি গিয়ে থেমে যাই সে বলে নৈতিক বলে কোনও শব্দ চিরকালের জন্য অর্থ বহন করে না ওটাও একটা আপেক্ষিক শব্দ


কেন কথা বলছ ?


তার অনেকগুলি কারণ তুমি স্টেশন মাস্টারের সাথে দূরত্ব রেখে নির্বাচিত কাজগুলি কর , আর তিনি যখন নীতি বাক্য দিয়ে তোমাকে বোঝাবার চেষ্টা করেন , তুমি তাকে প্রতারক রূপে দেখতে পাও , কিন্তু নতুন মাসির সাথে তার সম্পর্কের কোনও মালিন্যে নেই , নেই প্রতারণা আবার তার স্ত্রী স্বামীর অবর্তমানে টিকিট পরীক্ষককের সাথে যে যৌন খেলা করে তাও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পড়ে দেখো আমরা একদিন আরও ভয়ংকর যৌন লীলায় মেতে উঠব


সম্পর্কের যে কত রূপ ! কত রকম নাম এক সময় মনে হত সম্পর্ক শুধু অভ্যাস মাত্র আবার মনে হয় সম্পর্ক এক পবিত্র বন্ধনের যোগসূত্র


শূন্যতার মধ্যে স্বপ্ন দেখি, না ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা বলে দেবার দৈব প্রয়াশ, জানি না তবে আমার মনে হল, অনুভূতির ওপর দৃশ্যমান পৃথিবীর প্রভাব আপরিসীম


রাতের অন্ধকারে আমি ঘুরে বেড়াতাম কোনও একটি দেওয়াল ঘেঁষে শুতাম আর ওই অপরিসর অনুপোযুক্ত মাটির বিছানায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন একটি প্যান্ট জামার কোনও ক্ষমতা ছিল না আমাকে শীত থেকে বাঁচায় ওদিকে দীনহীন মুখাবয়ব বিষন্ন,অনিশ্চিত ধূসর জাগতিকতার মূল সুরটি যেন ধ্বংস , মাসিকে তেমনটি মনে হত


আর পুলিস অথবা শাসক বিরোধী দলের ভাড়াটে যারা শুধুমাত্র পেটের ক্ষুধার কারণে এই কাজটি করে থাকে , তাদের এলোপাথারি লাঠি , বোমবারুদে ক্ষতগুলি সহ্য করতে না পেরে নতুন মাসি গলুকে সাথে দিয়ে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয় এভাবে না বলে বলা ভাল আমার প্রাণ বাঁচায় আর গলু গ্যালাক্সি হয়ে ভয়ানক বিপদ সত্বেও এক সর্বগ্রাসী ভালবাসা দিয়ে আমাকে রক্ষা করে এইভাবে অন্য এক ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্যের উন্মোচন হয় আমার ভিতর আর আমার অন্তর , নাভিমূলের ম্বাসপ্রশ্বাসকে আলোকিত নীলাভ বর্ণে রঞ্জিত করে দেয়


নে হাঁ কর আর সময় পাব কি না জানি না , তোর জন্যে কিছুই আনতে পারলাম না , তোকে যে এখান থেকে নিরাপদে বের করে দেয়া প্রথম কাজ


আমার মুখে এক টুকরো মিষ্টি গুঁজে দিয়ে নতুন মাসি আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল, যেন চেতনার উপরি ভাগে নয়,অনেক অনেক মগ্নতার গভীরে স্পর্শের অনাস্বাদিত স্রোত আমাকে ভাবতে বাধ্য করল যে আমি আমার মায়ের দেখা পেলাম


আর সে এইসব ভালবাসার স্বাভাবিক , প্রাকৃতিক চিহ্নগুলিকে মুছে দিয়ে তার চেনা ভঙ্গিমায় দ্রুত শেষ চুম্বনটি দিয়ে প্রস্থান করল ততক্ষণে আমার চোখের দৃষ্টিতে ধরা পড়ল, চাপাশের মানুষ তাদের আতঙ্কিত চোখগুলি বেশ্যপল্লির মেয়েগুলী ছোটাছুটি করছিল একজন সিভিক পুলিস তার বুকে খামচে ধরে টানতে লাগল পুলিস ভ্যানটির দিকে ।গালাগাল করল তিরিশের কাছাকাছি মেয়েটি পুলিশ না, লোক বলা ভাল , সে মেয়েটিকে ছেড়ে আমাদের সিকে মুখ ফেরাল , ওবে শালা এদিকে আয়


আমি গোটা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছি হামেসা এটা ঘটে থাকে আজ এইসব ভাঙচুর , দোকান পাট লুট , আর নানাবিধ অনৈতিক কাজের এই তো সুযোগ এর পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিরোধী দল বনধ্ ডাকবে , আর একটা সুযোগ কাজে লাগাবে অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত লোকগুলি ঊর্দিধারী নকল লোকটিকে আমি ভয় পাই না ,ততক্ষণে পুরুষত্ব প্রাপ্তি হয়েছিল আমার ।ওই মেয়েটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাব এটাই ঠিক ছিল ; গলু আটকে দিল যারা বোম পাইপগান চালাচ্ছিল তারা এখন কেটে পড়েছে এখন পুলিসে ধরপাকড় গলু আমাকে টানতে টানতে গলির ভেতর এসে পৌঁছাল আমাকে আড়াল করে রাখল


জানি না কেন আমি কিছূই অনুমান করতে পারলাম না এটাও এক দৈব অভিশাপ আসতে মন চায় না এই গভীর পীড়াদায়ক আবিলতার মধ্যে আমার কাছে এটুকু ছিল সুখের যে,কুৎসিততম লাম্পট্যের এই নাটকগুলো ওই মেয়েগুলি করে থাকে তাদেরই একজনকে আমি ভালবেসে ফেলেছি


গলু আমাকে জীবনের ভিন্নতর স্বাদ চিনিয়ে দেয় যখন কোনো ক্রমে একটি ঘর শোবার জন্যে পেয়ে যাই ঘরটি খুব ছোট , নোংরা আমরা যখন একসাথে শালপাতার ঠোঙায় খাবার খাই , তখন আমার শরীর তার ক্লান্তি বিস্মিত করে আমি মহাজাগতিক উড়ান শুরু করি দেখা যায় এই বাঁশের কঞ্চি,আর লতা ,পলিথিনের ছেঁরা টুকরো দিয়ে তৈরি কুঁড়েঘরটি একটি উৎকৃষ্টতম বাসস্থানে রূপান্তরিত হয়েছে


সে যখন আমাকে আদর করত , পুরুষ বলে আমাকে চিনিয়ে দিত আমার আচরণগুলো কীভাবে ভয়ংকর ভাবে শৈল্পিক হয়ে যেত জানতাম না আমার খুশির কাছে সে নিজেকে সমর্পণ করত আমি তখন ক্ষুধার্ত, মলিন ভবঘুরে নই, যাকে কুকুর তাড়া করে , চোর ডাকাতও নই যে পুলিশকে ভয় পায় না আমি নক্ষত্রখচিত আকাশের তলায় তার জয়ী পুরুষ ,যাকে স্নেহ, ভালবাসায় শান্ত ,স্নিগ্ধ করে দিচ্ছে
 
চলবে   …………..

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: