মহা শূন্যের সংলাপ — ফজলুল হক – পর্ব – ৪

মহা শূন্যের সংলাপ/ -- ফজলুল হক - পর্ব - ৪
কী গল্প ?
ওই আকাশে কী থাকে ? চাঁদ ,তারা , সূর্য আর কী ?
আর কী থাকে আমি জানি না বাবা তুমি লেখাপড়া কর , তখন জানতে পারবে কী আছে
লেখাপড়া ? কখন করব ?
আর একবছর পার হোক তোমাকে ইসকুলে দিয়ে আসব বড় হয়ে চাকরি করবে করবে না ? টাকা রোজগার করবে ভাল ঘর দেখে আমাকে নিয়ে যাবে যাবে না ? আমি আর এখানে থাকতে পারছি না জায়গাটা ভাল নয় বাবা বড় হয়ে কখনও এখানে এসো না ধনের সে কথা আমি রাখিনি রাখতে পারেনি
কী জানি মনে হল , আমি যদি চাইতাম তাহলে পূর্ববোধের কথা বলতে পারতাম কিন্ত বুঝতে পারছি নিশ্চিতভাবে কিছু একটা ঘটতে চলেছে একটা ভূকম্পন, একটা অগ্নিকান্ড যা চিরদিনের জন্য ধনকে আমার ধেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে
এটা অনিবার্য আমি আরও শক্ত করে ধন কে আঁকড়ে ধরি তখন পরের দিন থেকে পল্লীর মেয়েরা আমার সামনা সামনি খোলাখুলি কিছু করে না আড়াল চালু হয়ে যায়
একটি অল্প বয়সি মেয়ে এসেছে কিছুদিন হল সে আমাকে কোলে করে গুমটিতে নিয়ে যায়, চকলেট দেয় আমি তাকে নতুন মাসি ডাকতাম তার অপরিণত ভঙ্গী খদ্দের ধরার উপযুক্ত হয়ে ওঠে না
তবু খদ্দেররা তাকে পছন্দ করার কারণ তার বয়স ধন মেয়েটিকে খুব ভালবাসে আমার প্রতি তার যত্ন মনে রাখার মতো নতুন মাসির সাথে সম্পর্ক আরও গভীর হলে সে রাতে তার কাছে শুতে বলল বললাম ,ধানু ! যদিও আমি আগে থেকে কীভাবে জানতে পারি ধানুর শরীরটা ভাল নেই তার বিশ্রাম ঘুমের প্রয়োজন বংশানুক্রমিক সম্পর্কের কেউ নয় সে
তবুও ভিতরের আর্তনাদ অভিমান হয়ে জমে উঠছিল বুঝেছিলাম রক্তের সম্পর্কের চেয়েও শক্তিশালী প্রতিদিনের অভ্যাসে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নতুন মাসি বুকে জড়িয়ে বলে দেয় , ধানু মার শরীরটা ভাল যাচ্ছে না তো তুমি আমার কাছে থাকবে আমি তোমাকে আলিবাবা চল্লিশ চোরের গল্প শোনাব
সে রাতে একজন খদ্দের আসে যার শরীরের বর্ণনা হাস্যকর ঠেকবে সে যখন নগ্ন হয়েছিল তাকে দেখে নতুন মাসি ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আবার ফিরেও আসে লোকটি তাকে কোলে তুলে নেয়
যেন তার কন্যা সন্তানকে সে এবার আদর করবে তারপরে যে ঘটনাটা ঘটেছিল তা এতটাই ভয়ংকর যে মুখে বলতে গেলে দৈব শক্তির সাহায্য চইতে হবে লাম্পট্যময় দৃশ্য , নতুনমাসির কাঁপন ধরা শরীর আর চোখ বিতৃষ্ণায় ভরা , আমি কেঁদেই ফেলেছিলাম
কোনও এক অবসর সময়ে আমি ডাকলাম নতুন মাসি
এই তো বাবা , ছুটে এল সে কী হয়েছে ?
ভয় লাগছে
কেন ভয় লাগবে কেন ?
আমি ধানুর কাছে যাব
মাসি আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরে অনরকটা সময় পার হলে আমি শান্ত হয়ে প্রশ্ন করি, ওই লোকটা কী তোমাকে খুব মেরেছে ওই যে তাল গাছের মতো লম্বা লোকটা ?
নতুন মাসির আর্তনাদ ভরা আদর ঝরে পড়ছিল আমার মুখমন্ডলে বললাম কৈ দেখি কোথায় মেরেছে নতুন মাসি তার বুকের জামা খুলে দেখায় গোটা স্তনে নখের আঁচড়ানোর দাগ স্পষ্ট, আর তাতে লেগে আছে মরা রক্ত
শরতের এক বিকেলে ধানু আমাকে জড়িয়ে নিল বুকে ওড়নায় মুখ ঢেকে দিল তারপর তার ফুঁপিয়ে ওঠা কান্না শুনলাম এর পর অতিক্রান্ত প্রতিটি মুহূর্ত অপেক্ষা করি অমঙ্গল , যা আমাকে অতি দূরত্বে ঠেলে দেবে এই আশ্রয়স্থলটি থেকে
আমি ধীরে ধীরে কোল থেকে নেমে ছুটে এসেছিলাম নতুন মাসির কাছে সে আমাকে পরের দিন নিয়ে যায় ধানু মার কাছে পরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে তখন তার নিথর শরীরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম
চার বছরের ইতিহাসের দর্পচূর্ণ হয়ে যায় তারপরে কিছু থেকে যায় তর্ক হিসেব নিকেস , আর হঠাৎ করে মৃত্যুর মধ্যে কোনও রহস্য আছে কি না ।কয়েকটা দিন চুপচাপ বসে থাকি বাঁচার জন্য সাধারণ কোনও একটা জীবিকাও এদের জোটেনি অনবরত লাম্পট্য আর রুচিহীন পৌরুষ নিয়ে গর্ব করে যে লোকগুলো তাদের ব্যবহার উৎকন্ঠা জাগায়
পরের বছরটি বিস্ময়কর আত্মগ্লানিতে কাটে
নিয়মিত ফাই ফরমাস খাটতে আমার মতো যোগ্য কে আছে ওদের ধনকে যারা দিদি বলে সম্বোধন করত তারা আমাকে চাকর হিসাবে ব্যবহার করে দুবেলা খাবার বিনিময়ে যতটা না বলা যায় ততই মঙ্গল তাতে বিপদের সম্ভাবনা আছে তাদের আচরণগুলি থেকে আমি নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করি
নতুন মাসি কেমন যেন পেশাদার হয়ে ওঠে
যে আমাকে আদর করে চকোলেট দিত ,সে এখন একজন দক্ষ যৌনকর্মী তাতে কিছুতেই কিছু এসে যায় না আমার জীবন সম্পর্কে আমার ধারণা তৈরি হয় যাপনের বৈচিত্র্য থেকে আরও অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে আমাকে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হলাম যখন আমাকে ওরা কাদের সাহায্যে একটি রুগ্ন হোমে রেখে গেল
নতুন মাসি বুঝেছিল এটাই হবে আমাকে রক্ষা করার সহজ পথ আমার সাথে যে ব্যবহার করত তার আড়ালে সে প্রতিদিন কাঁদত এই সত্যটি গোপন ছিল না


চলবে …………………………..

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: