মহা শূন্যের সংলাপ — ফজলুল হক – পর্ব – ২

মহা শূন্যের সংলাপ   -- ফজলুল হক - পর্ব - ২
তখন সমস্ত রকম কোলাহলকে থামিয়ে তার স্বামী বলে উঠল,জারজ সন্তানকে আমি নিয়ে যেতে দেব না এমন তো নয় যে আমাদের আর সন্তান হবে না ।দু বছর তো বিয়ে হয়েছে এখনও সারা জীবন পড়ে রয়েছে তাছাড়া সমাজে মুখ দেখাব কী করে কার না কার ছেলে হাড়ি মুজি ডোম কেউ জানে না নেব বললেই তো আর নেয়া যায় না , মানাও যায় না
 
বিস্ময়ের সাথে জারজ শব্দটি ওর্য়াডের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে উচ্চারিত হল এই ছোট সাদামাটা মামুলি শব্দটির এত আবেদন ক্ষমতা যা একটা নোংরা দুর্গন্ধময় অনৈতিক কাজ কর্মের বস্তি চিনিয়ে দিচ্ছে যেন আমার মৃত্যু অনিবার্য ভেবে নিলাম কারণ দ্বিতীয়বার কেউ মহিয়সী জুটবে না ,এমনটাই ঘটে সাধারণত
 
তাহলে এই কয়েকটা দিনের জন্য আমাকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার ইচ্ছেটা ঈশ্বরের কাছে লুকানো মৃত্যু আত্মাকে বিচ্ছিন্ন করে , সেই আত্মা কায়ামতের ময়দানে আবার জীবীত হয় এবং তার বিচার হয় আমার কী বিচার হবে কি না জানি না তবে, যে আমাকে শাস্তি দিতে চায় কায়ামতের ময়দানে আগে তার বিচার হোক আশা রাখি এই আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় গোটা পৃথিবী, আগামীদিনে যার শাক্ষি অনেকেই থাকবে
 
 
সৌভাগ্যের স্থায়িত্ব কম এক্ষেত্রে চারদিন এর মধ্যে সংকটের ভিতর দিয়ে চলার অভিজ্ঞতা অর্জন করব স্নেহময়ীকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হল আমার থেকে তার সাথে আর দেখা হবে না এটাই সত্যি যে সামাজিক প্রতিষ্ঠার সম্মান হানী হবে রকমটা পরিবারের কেউ চাইবে না
 
কেননা মহিলাটির দ্বিতীয় বার সন্তান ধারণের ক্ষমতা রয়েছে , সেটা তার স্বামী জানে ,তাহলে সে অজাত কুজাতের শিশুকে নিজের স্তন দেবে কেন সন্তানহীনা সেই রমণীর হৃদয় ওযার্ড অতিক্রম করে চলে যাচ্ছিল সংকীর্ণ করিডোর দিয়ে, তারপর সিঁড়িতে দ্রুত পায়ের শব্দ মিলিয়ে যাচ্ছে কোন সুদূরতম প্রান্তে , কোলাহলও হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে
 
সময়ের এই শূন্যতার সাথে যুদ্ধ করার সময় নিজের জন্য দুঃখ করা উচিত না কে বলতে পারে এই সময় পরের দিনগুলি সংরক্ষিত করে রেখেছে চিরকালীন ভালবসার জন্য বিশ্বাস করুন এটাই সত্যি হয়ে পৃথিবী সম্বন্ধীয় সম্পর্কের আকশ্মিকতার রহস্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হল
 
সবচেয়ে বেশী শ্রদ্ধাহীনতা নিয়ে যে নারী নিজের অসাবধনতা বশত পা ভেঙে একমাস হাসপাতালে হেলাঅবহেলায় ছাড়া পেয়ে আমার মতো ভাগ্য বিড়ম্বিত শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আঁচলে ঢেকেছিল ; তার মমত্ত বোধের ইতিহাস কোনও দিন লেখা হবে না ।তবুও আমার জীবন যাপনে ঢাকা যাবে না তার মহিমান্বিত গভীর শ্রদ্ধাবোধটি জারজ শব্দটি বার বার শোনার পর তার মস্তিষ্কে আগুন জ্বলে ওঠে , উত্তেজনায় বুদ্ধি লোপ পায় , তখন তার চিন্তা করার অবকাশ থাকে না অথবা তার মস্তিষ্ক প্রচন্ড রকমে তাপমাত্রার নীচে চলে আসে
 
যেখানে এলে হৃদয়বত্তার সব দরজাগুলি খুলে যায় , এক অসীম শূন্যতায় তার প্রত্যক্ষ আঘাত জনিত বেদনার ফুলগুলি ফুটতে থাকে তখন সে তার সিদ্ধান্তকে চুড়ান্ত রূপ দিতে আমাকে নিজের কাছে রাখার বন্দোবস্ত করে নেয় বিষয়ে যাবতীয় তথ্য খুঁজলে পাওয়া যেতেও পারে বাতাস ভারি হয়ে এসেছিল অস্পষ্ট কুয়াশা বিকেলের আলোয় আমি ওর সাথে রওনা দিলাম দূর দিগন্তে ডুবে যাচ্ছে সূ্র্য বিস্তার ঘটছে পৃথিবীর বুকে ছায়াদের ।সে বলেছিল , আমি এই অনাথের মা
 
চলবে   ……………………

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: