অবজ্ঞা : সুব্রত মজুমদার

মাথা নিচু করে যাই। 

বাবুরা বসে বসে দরবারী কানাড়ায় সুর ভাঁজেন

আলোচনা হয় বৈদান্তিক দর্শনের। 

আমি চিরকালের লজ্জাহীন গায়ে পড়া উমেদারের মতন

জাতে ওঠার চেষ্টা করি নিয়মিত।

অহঙ্কার আমার যে নেই তা নয়,

আমার অহঙ্কার আমাকে নিয়ে, – নিজের ছেলেমানুষিকে নিয়ে।

বাবুরা বলেন আত্মার অবিনশ্বরতার কথা

আর দেহের চারপাশে অবজ্ঞার পুঁজ ঝরে,

জ্ঞানের প্রদীপের তলাতেই অন্ধকার।

মাঝে মাঝে রেগে খেপে যাই,

 মাঝে মাঝে কেঁদে উঠি প্রচণ্ড হুতাশে। 

মাঝে মাঝে মৈত্রেয়ীর মতো বলতে ইচ্ছা করে

‘যাতে অমৃত নেই তা নিয়ে কি করব ?”

কি করব জাগতিক জঞ্জাল নিয়ে পচে মরে ?

আবার দিনের শেষে হরিপদ কেরাণী, দর্শন মনন সরে যায়,

বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিনান্ত হিসাব

টাকা পয়সা আধুলির সময়ের কত চিন্তা আসে।

অন্তর্জালে বেদান্ত সংলাপ।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি ভয়াল ভীষণ

পচে আছে শত শত লাশ পূতিগন্ধময়,

ঢাকা তারা সুমার্জিত সুগন্ধি চাদরে।

নগ্নগায়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় শিশু কেঁপে ওঠে থরোথরোথরো,

বাজ পড়ে সুউচ্চ শাখায়।

বিধাতার দিকে চেয়ে শিশু হাঁসে চরম অবজ্ঞায়,

সে হাঁসির মানে জানা নেই।

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: