মাতৃ রূপেণ —– সুমিত মোদক

মাতৃ রূপেণ  ----- সুমিত মোদক
বুকের মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেলো ।মুখের দিকে তাকিয়ে । দুটো মুখের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই । সেই চোখ । সেই নাক । সেই ঠোঁট । পার্থক্য রঙের । ফর্সা ও কালো । পোশাকে একজন রাজকীয় । অন্যজন মলিন । 
জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই মাকে দেখেনি । কোন সে ছোটবেলায় ওকে রেখে চলে গেছে । অন্য পুরুষের সঙ্গে । ভিন রাজ্যে । বাবা আজও মদে মাতালে । নন্দর সব কিছু দিদিকে ঘিরে । দিদিই ওর বাবা-মা , সব । বয়সের খুব বেশি পার্থক্য নেই । তবু , সেই কবে থেকে বুকে করে আকলে রেখেছে । পরের বাড়িতে কাজ করে । বাসন মাজে । কাপড় কাচে । ঘর মোছে । বাড়ি ফিরে নিজেদের জন্য রান্না করে ।
বিকাল থেকে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ভিড় । সকলের ঝলমলে পোষাক । রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে । দিদি দুটো জামা-প্যান্ট এনে দিয়েছে বাবুদের বাড়ি থেকে । বেশ চকচকে । ওদের বাতিল ।
প্যান্ডেলে ঢুকতে সাহস পায় না । পূজার লোকেরা যদি ঢুকতে না দেয় । সে কথা দিদিকে বলেছে খেতে বসে । দিদি তাই প্রথম সকালে তাকে নিয়ে প্যান্ডেলে ঢুকেছে । কাজে বার হওয়ার আগে । দুর্গা ঠাকুর দেখতে । পূজা দেখতে ।
একবার দুর্গা প্রতিমার মুখের দিকে তাকায় । একবার দিদির মুখের দিকে ।  মাইক থেকে তখন ভেসে আসে —- ইয়া দেবী সর্বভূতেসু মাতৃ রূপেণ সংস্থিতা ……

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *