রসিকতা – আবীর মহাপাত্র

ব্যাঙ্কের কাজে গিয়ে দেখা নিতিন আর টাবলুর। ওরা উচ্চ মাধ্যমিক একই বিদ্যালয়ে পড়েছে। এখন ভিন্ন ভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করে। 

নিতিন: আরে টাবলু, কেমন আছিস ভাই? 

টাবলু: ভালো রে, তুই কেমন? 

নিতিন: ওই ঠিকঠাক, তোর কবিতা, গল্প পড়ছি সোস্যাল মিডিয়ায়। কয়েকটি পত্রিকাও তো সেয়ার করেছিস –

টাবলু: হুম। তুই লাইক, কমেন্ট করিস তো। এখন তো কাজ কিছু নেই, স্কুল বন্ধ। অগত্যা লেখালেখি তে সময় কাটছে। তুই ও তো ভাই লেখতিস, স্কুলের ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠানে তোর স্বরচিত কবিতা পাঠ এখনো মনে আছে। 

নিতিন: হ্যাঁ, মুখে মাস্ক নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে। তোর ফোন নং দে। এ নিয়ে কথা বলব। 

ওরা মোবাইল নং আদানপ্রদান করে। 

রাত সাতটা, নভেম্বর এর প্রথম সপ্তাহ, ঠান্ডা পড়েনি, তবে সূর্য অনেক্ষণ অস্ত গেছে। নিতিন টাবলু কে ফোন করেছে –

টাবলু: হ্যাঁ নিতিন বল। 

নিতিন: হুম। কি করছিলি? 

টাবলু: কিছু না। বল, লেখালেখি নিয়ে কিছু বলবি বলছিলি –

নিতিন: হুম। কয়েকটি লেখা পাঠিয়ে ছিলাম ভাই কয়েকটি ই ম্যাগাজিনে ও সোস্যাল মিডিয়া পত্রিকায়। কিন্তু ‘দুঃখিত, মনোনীত হয়নি’ বলে দিয়েছে। 

টাবলু: তুই আমাকে, একটা এখুনি পাঠাতে পারবি? আমি নেট, কম্পিউটার থেকে করি, খোলাই আছে। 

নিতিন: আচ্ছা, পাঠাচ্ছি। কাটছি একটু। 

টাবলু: হ্যাঁ। 

টাবলুর কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠল, নিতিনের একটি কবিতা –

নগ্নতা 

সেদিনের দরিদ্র তুলি

দিতে পারেনি শুভ্র বসন,

তবুও তালি দিয়েছিল

মুখোশ গুলো –

আজ ভিন্ন চিত্রে তারা

নগ্ন হয়ে ধরা দিল।

দেখতে পাচ্ছি তাদের

উত্তরসূরি উঠে আসছে

সাহিত্যের পাতায়।

অনেক মন্দ লাগার সাথে

আছে ভালো লাগা ও, 

মুখোশ ছাড়া মুখ গুলো

লজ্জা না পেলেও

অসহায় হবে একদিন। 

টাবলুর মোবাইল রিংটোন বাজছে। অনেকেই আবার মোবাইলে সিংটোন ছেড়ে পুরানো রিংটোন এ আসছে। টাবলু কল টা রিসিভ করতেই, নিতিন বলল –

নিতিন: পড়লি? এটা দুদিন হল লিখেছি, আজ সকালে রিজেক্ট করে ইমেইল রিপ্লাই দিয়েছে। 

টাবলু: বাকি গুলো কি এরকমই? 

নিতিন: মানে? 

টাবলু: সামাজিক সমস্যা নিয়ে? 

নিতিন: হুম। তা বলতে পারিস। 

টাবলু: কটা পত্রিকায় পাঠিয়েছিস? 

নিতিন: আপাতত একটারই যোগাযোগ নিয়েছি। একজনের পছন্দ হয়নি যখন, আর কাওকে পাঠাইনি। তবে ওখানেই চারটে পাঠিয়েছি। 

টাবলু: আপাতত ওখানে প্রকৃতিকে ভালোবেসে একটা কবিতা পাঠা। আর কয়েকটা পত্রিকার যোগাযোগ ডিটেইলস দিচ্ছি, সেইমতো লেখা পাঠিয়ে দেখ, কাজ হবে। একটু তাড়াতাড়ি করছি কেন বলতো? 

নিতিন: ক্রিকেট, আর কি! কেবল নেই? 

টাবলু: সেটটপ বক্স নষ্ট, করোনা কালে আর সারানো হয়নি। তুই ও দেখবি তো?

নিতিন: হুম। একদম। 

ওরা খেলা দেখতে বসে যায়। নিতিনের ফোনে টাবলুর মেসেজ ঢোকে। 

ভাবছি সোস্যাল মিডিয়ায় একটা লেখালেখির গ্রুপ খুলব। নিরপেক্ষ ও শিক্ষিত লেখক চাই। স্রোতের বিপরীতে বলার ক্ষমতা ধরতে হবে। লিবারেল, সেকুলার (পজিটিভ ভাবে নিতে হবে) হলে সে ক্ষমতা নিঃসন্দেহে থাকবে। গ্রুপের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হবে ‘বিরূপ অবধারণা’ -র উপর জোর দেওয়া। তা সে ধর্ম* বিষয়ে হোক বা বাংলা সাহিত্য। ‘*’ কি অর্থে আপনারা জানেন, terms & conditions, যা ক্রমশ প্রকাশ্য। “সবার উপরে মানুষ সত্য”। – কিরে, এটা পোস্ট করব? শেষের অংশ টুকু খাপছাড়া লাগতে পারে, কিন্তু ওটুকু রাখতে হবে। 

নিতিন সশব্দে হেসে ওঠে। টাবলুর কাছে খেলা মানে পছন্দের প্লেয়ারদের ব্যাট বা বল, মাঝে এর তার সাথে রসিকতা চলবে। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top