রুটি’ : পীযূষকান্তি হাজরা

যে নিজেই নিজেকে চিনলো না ,
সেইতো ‘মানুষ’ !
‘মানুষ’ এর নামেই যার শপথ ,
সেইতো উন্নতির ধারক-বাহক !
যে ‘ধারক’ হয়েও উদাসীন –
হায় ! …. সেইযে ধরার ‘শাসক’ !
যে ‘শাসক’ হয়েও অসহায় ,
সেইতো আসলে শোষক !
সেই আত্মতৃপ্ত শোষকের ‘শোষণ’ই জন্ম দেয় বৈষম্যের ,
তাতেই ঘনায় বিক্ষোভ এর বাদল !
আর শত সহস্র ক্ষুধার্ত বিক্ষুব্ধ বাদলের হুঙ্কারে গর্জায় মেঘ ,
শুরু হয় বজ্র বিদ্যুৎ এর হানাহানি ,
আসে নতুন অধ্যায় – বাদানুবাদের ‘কাল’ । পুঞ্জিভূত হয় আন্দোলন !
অবহেলিত , বঞ্চিত , উপেক্ষিত বিপ্লবী ‘মেঘশিশু’- রাও বর্ণহীন ফ্যাকাশে চোখে ঝাঁপ দেয়
বাঁচা মরার শেষ লড়াইয়ে !
এ লড়াই রূপ নেয় এক মহা সমরের !
কেউই আর এ আবহে থাকেনা নিরপেক্ষ !
প্রাণ বাঁচানো যজ্ঞ ছেড়ে সেবক যোগী ‘বায়ু’সেনাও অসহায় এর পাশে এসে বইতে থাকে ,
শুরু হয়ে যায় প্রলয়ঙ্করী প্রবল ঝড় ;
মিনার মসনদ প্রাসাদ সৌধ জয় পতাকা সহ
ধূলায় লুটিয়ে পড়ে অহংকারী মুকুট !
আর রাঙা গগনে সংকেত ভেসে আসে ধ্বংসের ! প্রশ্নের মুখে দাঁড়ায় সভ্যতা ও সৃষ্টি –
শেষ অঙ্কে নয়নে অশ্রু ধারা নিয়ে প্রবেশ করে বৃষ্টি !
সূচনা হয় নতুন সন্ধির –
বৃষ্টিতে সব রোষানল হয় সিক্ত-শীতল ,
ছিন্ন পাতার আলপনা আঁকা ধরাতল !
তৃষ্ণার্ত মাটি এতদিনে হয় তৃপ্ত !
বৃষ্টি থামার পর গ্রাস করে বিষন্নতা এক চরম , আগ্রাসী হয় নিষ্প্রভ নিস্তব্ধ !
ভয়াবহ এ দৃশ্য বয়ে আনে এক বার্তা শান্তির , রচিত হয় সাম্যের জয়গানের !
স্বজনের খোঁজে স্বজন , প্রিয়ার খোঁজে প্রিয় , আত্মার টানে আত্মীয় , মিতার লাগি মিত্রর – অন্বেষণে কেটে যায় অসাড় এ নিস্তব্ধতা !
………………………………..
ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ‘বীজ শিশু’দের নিয়ে সিক্ত মৃত্তিকা সঞ্চারিত করবে যে প্রাণের উৎস রূপী নতুন ভ্রূণ , সাম্যের দরবারে সেই তরু ছায়ায় অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে সবার ,
দানা শস্যের ফসলে তৈরি হওয়া ‘রুটি’র দখল নিতে আসবে না আর কোনো রক্তচক্ষু হানাদার !

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: