রোজনামচা // ২ // অপূর্ব শীট // ২৭,৫,২০১৯

রোজনামচা // ২ // অপূর্ব শীট // ২৭,৫,২০১৯

অব্যক্ত ব্যথাগুলো দিন রাত জট পাকায় , অতীত ঘটনা এত বেশী ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করি,দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে প্রতি নিয়ত ছারখার হয়ে গেছি,বুকটাকে খুলে দেখাতে পারিনি শুধু তীব্র অর্ন্তদাহে জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছি তাই অতীতকে ভয় পাই, চাপা দিয়ে রাখি ,যতটা গোপন রাখা যায়, কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে অতীত বেরিয়ে না পড়ে |

.

কত চাপ চাপ অন্ধকার, গুহা,কত কষ্টের ইমারত চল্লিশ বছরে তৈরী করলো আমার অতীত, নিঃসীমে মিশে যাবো কেউ বুঝতেও পারবে না,যদি কেউ পারে আমার ব্যথার সাগরের ঢেউগুলি গুণে নিবে সেও…

অতীতের ভেঙ্গে যাওয়া আমিটাকে,টুকরো টুকরো, শত টুকরো আমিটাকে জোড়া লাগানো কোনো দিনই সম্ভব নয় ,জোড়া লাগেও নি |জোড়াতে ও পারিনি,আর পারবোও না |

উপরে উপরে নিজস্ব আবরণ কতটা যে মেকি সেটাই আমার একান্তই ,

ভাগ্য আমি কোনোদিন বিশ্বাস করিনি কারণ আমার ভেতরটা বড়ো বেশী নাস্তিকতায় মোড়া তবুও লোকাচার ,ধর্মস্থলে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেই নিজের দূর্বলতা ঢাকতে যেতে হয়  মন সায় দেয় না,ধর্ম তো  মানুষকে আত্মিক শান্তি দেয় শুনেছি,অসহায়তায় অবলম্বণ করে ,বিশ্বাস করে ,.

পরাজয় ঢাকা দেয়,ইশ্বরের নামে দোষ গুণ চাপিয়ে ভাগ্যে আস্থা অর্পণ করে,পরাজয়ে শান্তি পায়, কিন্তু উন্মাদনা,গোঁড়ামি পৃথিবীকে ভঙ্গুর করে যেমন বিজ্ঞান জীবজড় কল্যাণে ,শুভ প্রয়াস কিন্তু রাষ্ট্র সমরাস্ত্র বানায়, পরিবেশ রক্তাক্ত করে |

ফেসবুকে কিছু কিছু বক্তব্য আমাকে উত্তরহীন করেছে,বেবাক হয়ে গেছি,চাপা কষ্ট টা আমাকে আরো অন্ধকার কক্ষে অন্তরীণ করেছে লেখার ইচ্ছেটা হারিয়ে ফেলেছি,পড়ার ইচ্ছেটা এই বয়সে সামান্যতম আছে, তাও হারিয়ে ফেলবো,এখনতো হতাশায় ভুগি,

.

এম্নিতেই লেখার সময় কম,আর্থিক টানাপোড়ণ,

বাড়িতে বসে লেখালেখির সমস্যা,পারিবারিক ব্যক্তিবিশেষের অপছন্দের তালিকায় তালিকাভুক্ত,খিটিমিটি,নিয়ত পুড়ে ছাই,তাই ছেঁড়া খাতার লেখাগুলো জীর্ণতর হচ্ছে হোক উইপোকা উদরস্থ করে করুক তাকানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না,বিস্মৃত ছিলাম,আছি , থাকবো |

এখন নূতন মায়ামৃগ সন্ধানে ঘুরি,অতীত কে তালাবন্দ করতে চাই ইদানীং যা কিছু লিখি মনের তাগিদে মনকে হাল্কা করার জন্য লিখি সেগুলোর একটাও কবিতা বা লেখার শর্ত মানে কিনা আমার জানার কথাও নয়,আমি শুধু অন্তর দিয়ে কবিতা ভালোবাসি,কবিতার অনুভব অন্তরে বহন করি,কবিতার নেশায় নেশাগ্রস্থ হই,তোমাদের লেখাগুলি সময় অভাবে কিছু কিছু পড়ি ,.

সাক্ষাৎ পরিচয় হউক না হউক মনের মনিকোঠায় তোমরা আছো,থাকবেও | কবিতার নেশায়ও

ঘসা ফোনের দৌলতে চল্লিশ বছর পর গত ১০,৪,২০১৯ ফেসবুকের পাতায় আমার জন্মান্তর,ফিরে এলাম নূতন কোরে,তোমাদের কাছে আরো নূতন নূতন কবিতা খুঁজে পাবো বলে,আমার কবিতা লেখার শেষ পেরেক ঊনিশো ঊনআশিতেই এখনতো একষট্টিতে তোমাদের অনুসরণ করি মাত্র|

এখন যেমন আমি মনে করি কবিতা কখনো লেখা হয় না কবিতা অনুভব,মনের ভেতর অব্যক্ত|হিমশৈল বার ভাগের এক ভাগ  জলের ওপর দেখা যায় কিন্তু কবিতার সবটুকুই নিমজ্জিত থাকে কবির নিজস্ব চেতনায়,আমার সামান্য পুঁথিগত পুঁজি ও প্রকৃতির পাঠশালা হতে দীর্ঘ পথচলায় বুঝতে পারি,কবিতা লেখা আমারপক্ষে অসম্ভব, শব্দ সাজাই শুধু,আজের অনুভবে আজ যাকে সাজাই কাল সেটাকে কালের অনুভবে অচেনা লাগে |.

আমার এক কবি বন্ধু বলেছিলো আমি যেনো আমার ভালো ভালো দশটি লেখা তাকে দিই কিন্তু আজো একটিও সাজাতে পারিনি মনে হয় কিছুই লিখতে পারিনি ,যাই হোক কবি কবিতার অনুভব বুকে নিয়ে শব্দমালা সাজিয়ে দিয়ে যায়  ,আসল কবিতাটা শুধু কবির মানস চেতনায়,আমরা কবি লিখিত উৎকৃষ্ট শব্দমালাগুলির সমালোচনা পর্যালোচনা করি,উচ্ছাসে আবৃত্তি করি,

আনন্দে গান গাই,আবার বিরহে ব্যথিত হই,ঘুমিয়ে পড়া কবিকে ভুলে যাই,নজরুল রবীন্দ্রনাথও ঘুমিয়ে থাকে প্রতিটি বাঙালির মননে যদিও,চলরে চলরে চল…বা জল পড়ে পাতা নড়ে| আমরা কবিকে খুঁজি না কবিতার খোঁজে শব্দমালায় হাত বাড়াই শুধু,কবিতাটা জানবো কি করে?

এখন আমি প্রত্যেক কবি মননটিকে শ্রদ্ধা করি ভালোবাসি,ছন্দ ,কলা,মাত্রা বা স্তবক ,অন্ত্যমিল ব্যাকরণ না মেনেও লেখাগুলির মধ্যে নিজের মতো করে রস আস্বাদন করি, হাজার হাজার
.

কবি মনন থেকে হয়তো মনমতো কবিতা খুব একটা খুঁজে পাবো না |এই কিছুদিন ফেসবুক ঘেঁটে বেশ বুঝতে পারছি ,কিন্তু কোমল কবিমনন গুলির প্রয়োজন অস্বীকার করি না বরং আরো বেশী বেশী প্রয়োজন |.

শিল্প প্রকৃত শিল্পীর হাত ধরে ইতিহাস হবে কিন্তু বর্তমানের অসুস্থ পৃথিবীটাকে অসুস্থতায় অক্সিজেন জোগাচ্ছে হাজার হাজার কবির মনন,অনেক উল্টোপাল্টা,তেপাল্টা লিখলাম রোজনামচায়

মনের ভেতর গজ গজ করছিলো কদিন ধরেই এগুলি আমার নিজস্ব সঠিক বা ভুল অভিমত |ভুল হলে তার দায়  আমার |নিচে একটি শব্দমালা সাজালাম| আসল অনুভব হৃদয়ে|ব্যাকরণ ছাই আমি বুঝি |.

গাছতলা.

মনে নেই শেষ কবে এইরকম এক

গাছতলায় বসেছিলাম আর গাছ

আমার দিকে তাকিয়ে বললো দ্যাখো …

.

.

আমি গাছটার নিচে মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে শিকড়ের বিস্তার দেখলাম ,কিভাবে জল নেয়,

দেখলাম নিঃসীম জলাধার কূলকিনারা নেই,

.

.

সহস্র হাত জড়িয়ে জড়িয়ে কান্ডের পরিধি মাপার চেষ্টা করলাম,পারলাম না |

.

.

গাছের  শাখা প্রশাখায় অজস্র অর্কিডের ফুল,ফুলে ভ্রমরের সমারোহ,কীট পতঙ্গ,পাখ পাখলির বাসা আর পরিপুষ্ট মিষ্টি সবুজ ও

রক্তবর্ণ কচি কচি পাতার ছায়া ,

.

.

দাড়িয়ে আছে গাছ |

.

.

আমি বসার আগেই গাছ বললো আমার ছায়ায় বসো,

আমার ছায়া গাছের ছায়ায় ঢেকে গেলো,বসলাম,

 সেই থেকে আমি কবিতা লিখা ভুলে বসে আছি |

.

.

গাছকে যা শুধোচ্ছি গাছ তৎক্ষণাৎ তার উত্তর দিচ্ছে,আর ফুলের সৌগন্ধে গাছের তলার

সমস্ত পরিমন্ডল স্বর্গীয় |

গাছ বললো কি বলবে বলো

.

.

আমি

দরিদ্র ও লোভী  ব্রাক্ষ্মণ ও বৃদ্ধ বাঘের গল্পটা গাছকে বললাম,গাছ বললো এ আর নূতন কি?

.

.

রাখাল বালকের পালে বাঘ পড়ার গল্পটা বললাম ,গাছ বললো ,শুনে আর লাভ নেই

তোমাদের মানুষের কথায় বিশ্বাস নেই,

তোমরা বাপু সব পারো,তোমরা বাঘ, মানুষ,তুতো ভাই, পরের বার এসে দেখবে আমি এখানে নেই

.

.

এন,এইচ বানিয়েছো তোমরা |

.

.

আমিও সেই থেকে কাজবাজ ভুলে,

ট্রেসিং নক্সা সব শিকেয় তুলে

গাছের শীতল ছায়ায়

চুপচাপ বসে আছি,

যতদিন গাছতলা থাকে…..

.

.

জানি গাছতলা গুলো বেশী দিন থাকবে না|

.

.

.

.

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *