লাকি – অভিষেক সাহা

 ” আচ্ছা, আলো এখন দেখতে কেমন হয়েছে ?” দশ টাকার কয়েনটা  নতুন আসা পাঁচ টাকার কয়েনকে জিজ্ঞেস করল।

” সেকি দাদা! আপনি আলো দেখেননি? আলোর আবার তখন আর এখন কী! আলো তো একই রকম ।” আশ্চর্য হয়ে পাঁচ টাকার কয়েনটা বলল।

” তা অবশ্য ঠিক বলেছিস। আলোর আবার তখন -এখন কী, আলোতো একইরকম। আসলে বহুদিন দেখিনি তো !”  হতাশা মেশানো গলায় দশ টাকার কয়েনটা উত্তর দিল।

” এ আবার কী কথা! মাঝেমাঝে বের হবেন , না হলে তো শরীরে মরচে পড়ে যাবে। ” পাঁচ টাকার কয়েনটা সাবধান করল।

” তুই বুঝি খুব ঘুরিস !” দশটাকার  কয়েনটা  জানতে চাইল  ।

” খুব  দাদা খুব। আমার খুব আনন্দ হয়। এই ফুচকাওয়ালা , তো ওমনি কোনও বৌদির হাতে , সেখান আবার সব্জি বা মাছওয়ালা। আর যদি কোন দান পাত্রে যাই , দু’একটা দিন রেস্ট হয় তারপর আবার টোটো। আপনার ইচ্ছা করে না দাদা ?”পাঁচ টাকার কয়েনটা বলল।

 ” ওরে ইচ্ছায় বুক ফেটে যায়। কিন্তু কী করব এটা তো পুজোর ভান্ডার !  বছরে একবার খোলে । তখন সবার সঙ্গে আমিও অল্প সময়ের জন্য বের হই, কিন্তু তারপর  আবার এই  ঘুটঘুটে অন্ধকারে ফিরে আসি ।” দশটাকার কয়েনের চোখে জল এসে গেল।

” কিন্তু কেনও দাদা আপনার সঙ্গে এমন হয় ।” অবাক হল পাঁচ টাকার কয়েনটা।

চোখের জল মুছে দশ টাকার কয়েনটা বলল “সে বড় কষ্টের কথা রে !   তিন বছর আগে পুরোহিত আমার গায়ে সিঁদুর  লাগিয়ে দিল। সেই থেকে ওরা আমাকে আর ছাড়তেই চাইছে না। তখন থেকে প্রতিবার সবার আগে আমাকেই এখানে  ফেরত পাঠায়। আমি তো ওদের কাছে লাকি !”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top