শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ // বিপ্লব ঠাকুর

smritisahitya.com

শুক্লপক্ষ ও কৃষ্ণপক্ষ দুটিই মাসের অঙ্গ। উভয়ই একটি সময়সীমাকে পরিপূর্নতা লাভ করতে সাহায্য করে। শুক্ল অর্থাৎ শুভ্র ,কৃষ্ণ অর্থাৎ তিমিরাচ্ছন্ন।উভয়ই  চম্বুকের সমমেরু।শুক্লপক্ষে পূর্নিমার চাঁদের সৌন্দর্য গোটা প্রকৃতিকে অভিভূত করে তোলে।আকাশের অপরূপ রূপ দেখে মনে হয় গোটা  আন্তরীক্ষ অকাল দীপাবলিতে মেতে উঠেছে।

.

.

এছাড়াও পূর্নিমা তিথিকে ভারতীয় সংস্কৃতিতে শুভতিথি হিসেবে মানা হয়।সংস্কৃতে বলা হয়েছে” চন্দনাং শীতলং লোকে চন্দনাপি চন্দমাঃ ॥ চন্দ্রচন্দনাশ্চপি শীতলা সাধুসঙ্গতিঃ ॥অর্থাৎ জগতে চন্দন সবাইকে শীতলতা প্রদান করে ,চন্দ্র চন্দনের চেয়েও বেশি করে ,কিন্তু সাধুসঙ্গ তার চেয়েও বেশি করে।

.

.

তদহেতু পূর্নিমা ঘিরেই যত উৎসব যেমন দোল,রাখী,রাস,লক্ষীপুজো ,ইত্যাদি ।সমস্তক্ষেত্রেই সাধুজনের সমাবেশ ঘটে। শুক্লপক্ষে শুধু শুভ্রতা রয়েছে তা নয় সেইসঙ্গে রয়েছে অজস্র গুনের সমাবেশ।আমরা জানি ” কুসুমং বর্নসম্পন্নং ,গন্ধহীনং ন শোভতে। অর্থাৎ ফুলের রং যতই সুন্দর হোক না কেনো গন্ধহীন হলে তা শোভা পায় না । কিন্তু শুক্লপক্ষে শোভা এবং গুন দুটোই বিদ্যমান।

.

.

শুক্লপক্ষ নতুন কোনো কিছুর পুর্বাভাষ দেয় তাই কবির ভাষায় ” এস হে নুতন করি বরন  , আলোকেরই হোক উম্মোচন।

.

.

    অপরদিকে কৃষ্ণপক্ষ ।অনেকেরই ধারনা কালো অর্থাৎ অশুভ ।কিন্তু সর্বস্থানে এটি গ্রাহ্য নয়। অন্ধকার না থাকলে আমরা আলোর গুরুত্ব বুঝতে পারতাম না। Hegel এর মতে এটি Dialectic এর উদাহরন। অথবা Blake এর কথায় “without contraries there is no progression” তাই সৌরজগতে দুটিরই প্রাধান্য রয়েছে।

.

.

তিমিরাচ্ছন্ন রাতের আকাশ জ্যোতিষপুঞ্জের মালায় নিজেরে সজ্জিত করে তোলে ,ভুপৃষ্ঠ থেকে দেখে মনে হয় অজস্র প্রদীপ জ্বালানো হয়েছে। এই তিথিতে আমরা শ্যামামায়ের আরাধনা করি। ‘ আধারহরন দিব্য প্রদীপ’ জ্বালিয়ে মনের কুলষতা দূর করি।

.

.

 পরিশেষে বলা যায় দুটিকেই গ্রহন করতে হবে এবং নিজ জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে কারন

    যথা চিত্তং তথা বাচঃ যথা বাচঃ তথা ক্রিয়া। চিত্তে বাচ ক্রিয়ানাং চ সাধুনাম একরূপতা।

.

.

.

.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *