শ্যামল কুমার রায়, সহ শিক্ষক,

শব্দাসুর
হে প্রাণসখা ! দেবাসুর সংগ্রামে নিধন হয়েছে অসুর যত।
স্বর্গে দেবদেবী আর ধরাতে নরনারী, আর কে আছে
– এ বিশ্ব চরাচরে ?
হে কৌন্তেয়! তুমি কি ভুলেছ মোর উবাচ ?
সেকি প্রভু ! ছি! ছি! কোথায় লোকাব এ লাজ্ ?
জানো না কি তুমি, বলেছি যে আমি ?
আসুরিক ভাবাপন্ন মনুষ্য যে আছে এ ধরণীর তলে ?
কিন্তু, প্রভু! তাহলে এই শব্দাসুর আবার কে ?
আহ, অর্জুন ! তুমি কি শোনোনি গুরু বাণী?
” রথ ভাবে আমি দেব , পথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব , হাসে অন্তর্যামী । “
স্থূল মনুষ্য আছে যত , দীপাবলি উৎসবে –
শব্দাসুরের দাপাদাপি করায় তত ।
কোথায় আলোর উৎসবে তমসা যাবে কেটে ,
চৈতন্যর উদয় ঘটবে এ ধরাতে ।
কিন্তু, জ্ঞান, বিজ্ঞানে ক্রমশ উন্নতি করা মানুষ ,
বারুদের ব্যবহার গেছে যে শিখে !
মারণাস্ত্র থেকে পটকা ফাটিয়ে আনন্দে মাতে তারা যে ।
বিকট আওয়াজে পটকা ফাটিয়ে কি মজাই না ওরা পায় ।
কার কি অসুবিধা হল, তাতে কিবা ওদের এসে যায় ।
আত্মসুখে মগ্ন ওরা , ওতেই থাকে বিভোর,
অন্যের অসুবিধা শোনে না ওদের কর্ণকুহর ।
তবে কি প্রভু রাম রাজ্য নেই ধরাতে ?
অরাজকতা কি বিরাজ করে সবেতে?
না কৌন্তেয় ! ঘোর কলিতে আছে সবই ।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ আছে বৈকি!
চেষ্টা যে ওরা করে না, তা বলা যায় না ।
কিন্তু, ধূর্ত মনুষ্য কে যে হার মানানো যায় না ।
সেদিনের দানবেরও ছিল মূল্যবোধ ।
আর্ত , নিপীড়িতের দিকে ঠিক ছিল নজর ।
আজকের মনুষ্য কেবল মুনাফাখোর ,
ন্যায় , নীতি বলি দিয়ে শব্দ দূষণ করে ।
শব্দাসুরের অত্যাচারে শিশু, বৃদ্ধ, রোগীই কেবল মরে।
 

খলের ভালোবাসা

ভালোবাসা আর যাই হোক কুহেলিকা নয়।
প্রেমিকের ভালোবাসা অপ্রাকৃত নয় ।
শরীরী ভালোবাসা ধর্ম, সমাজ অস্বীকৃতও নয়।
বৈবাহিক বন্ধনে দেহজ ভালোবাসা নিষিদ্ধও নয়।
দেহজ প্রেমের অবসান নিশ্চিত একটা সময়ে আসে।
প্লেটোনিক লাভ্ সেই শূন্যতা পূরণে আসে।
ভালোবাসা ভরসা, নির্ভরতারই অপর এক নাম,
কে বলে ভালোবাসায় বিশ্বাসযোগ্যতার নেইকো কোনো দাম ?
ভালোবাসা কি শুধুই প্রেম প্রেম খেলা ?
তার চেয়ে এটাই ভালো পরকীয়া খেলা ।
নিষ্কলুষ ভালোবাসায় ভরসাই থাক,
প্রেম প্রেম খেলা করা প্রেমিক নিপাত যাক ।

talkontalk.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *