সমদেহী —– অভীক পোদ্দার

সমদেহী -----  অভীক পোদ্দার
শীতের সন্ধ্যায় কলকাতায় আমার মেসের ঘরে বসে আছি,বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে অবিরত।আজ প্রায় দীর্ঘ তেরো বছর পর এখানে আসা এবং খানিকটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই এখানে থেকে যাওয়া।শহরে লোডশেডিং চলছে।সেই কারণেই এই মেসের কেয়ারটেকার হরিহর কাকা একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিয়ে গেছে।সেই তেরো বছর আগে যখন এখানে থাকতাম তখন থেকে হরিহর কাকা যেন আমার নিজের কাকার মতন হয়ে গেছে।আজ অনেক বছর পর তার সাথে দেখা,দেখলাম কাকা বুড়িয়ে গেছে অনেকটা।


শুধু কাকা বা কেন আমারও বয়স প্রায় পঁয়ত্রিশ ছুঁই ছুঁই।সন্ধে আটটা বাজে।কাকা মোমবাতি রাতের খাবার দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেছেন।কিন্তু আমার মন টা খচ খচ করতে লাগলো,কিছুতেই খেতে ইচ্ছে হলো না।মোমবাতির শিখায় ঘরটা আলো আঁধারির এক রহস্যময় খেলায় মেতেছে।সেই সাথে আমার পুরোনো স্মৃতির সূতোয় টান ধরছে।ঠিক যে কারণে কলকাতা আসা,দুই বন্ধুর সাথে রুম ভাগাভাগি করে থাকা এবং কলকাতা ছাড়া,সেসব কথা আবার মনে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।তখন আমার বয়স বাইশ।আমার বাড়ি সুরশুনিয়া,মালদা জেলার উত্তর পূর্বের ছোট্ট গ্রাম।গ্রামে থাকতেই শুনেছিলাম কলকাতায় নাকি পাতালরেল চালু হয়েছে এবং সেই কারণেই নাকি কলকাতায় এখন কাজের অভাব নেই।তাই খানিকটা বাড়িতে ঝামেলা করেই কলকাতায় চলে এলাম কাজের সন্ধানে।এসে উঠলাম বইপাড়ার এই মেসে।মাত্র একশ বিশ টাকায় থাকা খাওয়া শুধুমাত্র এই মেসেই মেলে।

শুধুমাত্র একটাই শর্ত দুজনের সাথে রুম ভাগাভাগি করে থাকতে হবে।আমি একা মানুষ,আর পকেটেরও টানাটানি,তাই রাজি হয়ে গেলাম।আমার ঘর দোতলার পশ্চিমদিকের কোনায়।আমার রুমমেট বলতে প্রায় আমার বয়সী দুজন,একজনের নাম সুদীপ,আর আরেকজন ইন্দ্র।তাঁরা দুজনেই প্রধানত পড়াশোনার তাগিদেই কলকাতায় এসেছে,এছাড়াও টুকটাক পার্ট টাইম কাজ করে।সুদীপের বাড়ি চুঁচুড়া আর ইন্দ্র বাড়ি ঝালদা।কিছুদিন একসাথে থাকার পর আমাদের মধ্যের সম্পর্কটা দৃঢ় হলো।হয়তো সমবয়সী চিন্তাধারার মিল থাকার কারণেই আমরা একে অপরের পরম বন্ধুতে পরিণত হলাম।এভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো।হঠাৎ এমনই এক বৃষ্টিমুখর রাতে আমরা তিনজন সিগারেট সহযোগে চা খেতে খেতে গল্প করছি,ঠিক এমন সময় সুদীপ বলে উঠলোএই তোরা ভূত বিশ্বাস করিস?আমি নাস্তিক হওয়ার কারণে ভূত ভগবান কিছুতেই আমার বিশ্বাস নেই,এবং ইন্দ্র আমতা আমতা করে বললোহুস এখন উন্নত দেশে ভূতের আর অস্তিত্ব নেই,ওসব গাঁজাখুরি কুসংস্কার।


আমাদের কথা শুনে সুদীপ অখুশি হলো, রীতিমতো আমাদের সাথে তর্ক লাগিয়ে দিলো।আমরা তখন বেশ করে যুক্তি দিয়ে বললাম,তুই যখন এতই জানিস তখন প্রমান দে,তবে আমরাও বিশ্বাস করবো।সুদীপ সিগারেটে একটা দীর্ঘ টান দিয়ে ধোয়া ছাড়তে ছাড়তে বললো আচ্ছা তবে তাই হোক।আগামী পরশু ভাদ্র মাসের অমাবস্যা,সেইদিন রাতে আমরা সবাই মিলে প্লানচেট করবো,এবং আত্মা নামাবো।আমরা দুজন রাজি হয়ে গেলাম।এরপর দুদিন ব্যাস্ততায় কেঁটে গেল।আজ ভাদ্র মাসের অমাবস্যা,সুদীপের কথা মতন আমি আর ইন্দ্র আজ নিরামিষ আহার খেলাম।ঠিক রাত নটার সময় আমরা কেওড়াতলা শ্মশানের ধারে নিস্তব্দ পরিবেশে গোল হয়ে বসলাম।সুদীপ ধীরে ধীরে ঝোলা থেকে মোমবাতি বের করে জ্বাললো এবং তার সামনে কি একটা ছকের মতন রাখলো।আমরা ওর নির্দেশমতন নিজের হাত পার্শ্বগামী করে সবাই সবার আঙুলে আঙুল ঠেকালাম।



সুদীপ নিজেই মিডিয়াম হবে বলে স্থির করেছে।সেইমতন সবাই একমনে আত্মাদের স্মরণ করতে থাকলাম।ঠিক কতক্ষন পর জানিনা,হঠাৎ সুদীপের আঙুলের কম্পন দেখে আমার চোখ খুলে গেল,এবং আমরা দুজনেই দেখলাম সুদীপের চেহারা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে,আমরা খানিক ভয় পেয়ে গেলাম,তারপর সুদীপের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো হাড় হিম করা এক আর্তনাদ,প্লানচেটে বসার আগে সুদীপ বলেছিলো আমরা যেন কোন অবস্থাতেই মাঝপথে কেউ কারোর হাত না ছাড়ি।কিন্তু এই ভয়ার্ত কণ্ঠে হঠাৎ আমাদের দুজনের হাত সরে গেল,আমরা প্রাণভয়ে সেখান থেকে উঠে দৌড়ে পালালাম,দৌড়ানোর সময় শুনতে পেলাম সুদীপের এবং সেই আত্মার মিশ্রিত আর্তনাদ।তারপর থেকে সুদীপকে আর কখনো পাওয়া যায়নি,সকাল হলে আমরা শ্মশানের এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সুদীপের কোনো চিহ্ন পাই নি।সুদীপের অকাল মৃত্যুর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী,কেন যে সেদিন সুদীপের সাথে বাজি ধরতে গেলাম,আর কেনই বা সুদীপের অমান্য সত্ত্বেও হাত ছেড়ে ওকে বিপদের মধ্যে ফেলে কাপুরুষের মতন পালিয়ে এলাম।এরপর আরও দু তিন সপ্তাহ কেটে গেল।সুদীপের বাড়িতে ব্যাপারে কিছু জানালো হলো না।সুদীপের মা ক্রমাগত চিঠি পাঠিয়ে যাচ্ছেন ছেলের খোঁজ খবর নিতে,কিন্তু কোনো চিঠির উত্তর পাচ্ছেন না।হঠাৎ একদিন সুদীপের বাবার সাথে আমার কলকাতায় দেখা।তার বাবা আমাদের মেসেই আসছিল।আমাকে দেখেই কাকু সুদীপের কথা জিজ্ঞেস করলেন এবং আরো বললেন ওর চিন্তায় কাকিমা নাকি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।



খবরটা শুনে আমার মায়া হলো,আমি সত্যিটা গোপন করে বললাম,সুদীপ পড়াশোনার কাজে কলেজের স্যারের সাথে একটু বাইরে গেছে,দু একদিনের মধ্যেই ফিরে আসবে।এই শুনে কাকু স্বস্তির শ্বাস নিলেন।আমি আরও বললাম,কাকু আপনি বাড়ি ফিরে যান,সুদীপ ফিরলেই আমি ওকে বাড়িতে গিয়ে কাকিমার সাথে দেখা করে আসতে বলবো।এই শুনে কাকু বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।আমিও মেসের উদ্দেশ্যে হাঁটা লাগলাম।মেসে ফিরে ইন্দ্রকে পুরো ঘটনাটা আগাগোড়া বিবৃত করলাম।সব শুনে ইন্দ্র বললো আমাদের জন্যই আজ কাকিমার এই অবস্থা।দুদিন পরে সুদীপ বাড়িতে যাবে কথা দিয়েছি,কিন্তু কিকরে সম্ভব,সে তো কর্পূরের মতন উবে গেছে।এই ব্যাপারেই আমি আর ইন্দ্র আলোচনা করেছি,হঠাৎ ইন্দ্র বললোএই অমিত,আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে,শোন!আমার চেনা জানা এক কাপালিক আছে,শুনেছি উনি সিদ্ধপুরুষ, অনেক ভেলকি কালাজাদু জানে,চল কাল সকালে একবার ওনার সাথে গিয়ে দেখা করি,উনি নিশ্চই আর একটা বিধান করে দেবেন।


আমিও অগত্যা রাজি হয়ে গেলাম,এই ছাড়া তো আমাদের হাতে আর কোনো বিশেষ উপায় নেই।পরদিন সকালে আমি আর ইন্দ্র উপস্থিত হলাম কাপালিকের আশ্রমে।তার এক চেলা আমাদের একটি ঘরের দিকে নির্দেশ করে দিতেই আমরা সেই ঘরে প্রবেশ করলাম,সকাল বেলাতেও সেই ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার,চারিপাশে মরার খুলি,সিঁদুর ইত্যাদি ছড়ানো,আর মাঝখানে অগ্নিকুন্ডে ফিকফিক করে আগুন জ্বলছে,এবং তার ওপাশে বসে আছে জটাজুটো ধারী এক লোক।সে কি বীভৎস চেহারা,সর্বাঙ্গে লাল রঙের কি যেন মাখা,সেটা সিঁদুর না রক্ত তা এই অন্ধকারে ঠাওর করতে পারলাম না,আমরা সেই অগ্নিকুণ্ডের এপাশে অর্থাৎ কাপালিকের মুখোমুখি বসলাম।ইন্দ্র ওনাকে সবটা খুলে বললো এবং একটা উপায় খুঁজে দিতে অনুরোধ করলো,কাপালিক দু মিনিট চুপ করে চোখ বুজলো, তারপর শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠলোতোদের বন্ধু আর ইহজগতে নেই,আত্মারা তাকে গ্রাস করেছে।এই শুনে আমরা কাঁদো কাঁদো স্বরে কাপালিককে অনুরোধ করলাম একটাবার অন্তত তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য নয়তো তার মাকে আর বাঁচানো সম্ভব হবে না।তারপর কাপালিক শান্ত গলায় বললো,তা আর সম্ভব নয়,তবে আমাদের মধ্যে কেউ যদি খানিকক্ষণের জন্য সুদীপের ভেট ধরতে রাজি থাকি তবে তার ব্যাবস্থা তিনি করতে পারবেন।কয়েক সেকেন্ড দুজনে আলোচনা করে রাজি হয়ে গেলাম।


ইন্দ্র,সুদীপের ভেট ধরবে,এবং আমি ওকে নিয়ে গিয়ে একবার সুদীপের মায়ের সাথে দেখা করিয়ে নিয়ে আসবো।সেইমতন কাপালিক ওঁ বিরিং তিরিং দেহাস্তি নম…..বলে একটা তাবিচ ইন্দ্রর হাতে দিয়ে দিলো এবং বললো সুদীপের বাড়ি ঢোকার আগে মুহূর্তে এটা বাঁ হাতে পরে নিলেই রূপের বদল ঘটবে এবং সাবধান করলো রূপধারী অবস্থায় যেন তাকে কেউ স্পর্শ না করে,তবে তৎক্ষণাৎ তাবিচ কাজ করা বন্ধ করে দেবে,যদিও সে শুধুমাত্র সুদীপের মাকে স্পর্শ করতে পারবে।আমরা কাপালিকের দক্ষিনা মিটিয়ে মেসের উদ্যেশে রওনা দিলাম।

রাস্তায় ঠিক করলাম কাল সকলেই সুদীপদের বাড়ি যাবো।সেইমতন মেসে ফিরে ব্যাগে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে নিলাম,তারপর তাড়াতাড়ি করে রাতের খাবার পর্ব সেরে শুয়ে পড়লাম।সকাল ঠিক ছটায় ঘুম ভাঙলো।তারপর আমি আর ইন্দ্র দুজনে একে একে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলাম।হরিহর কাকা জলখাবার দিতে আসে জিজ্ঞেস করলো আমরা কোথাও যাচ্ছি কিনা!আমি বললাম কাজের ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি।এই শুনে হরিহর কাকা চলে গেলেন।তারপর আমি আর ইন্দ্র রওনা দিলাম চূঁচূড়ার উদ্যেশে।প্রথমে ট্রেন তারপর বাসে করে এলাম চূঁচূড়ার শিবকালী স্টপেজে,এখান থেকে সুদীপের বাড়ি দশ মিনিটের হাঁটা পথ।এইভাবে আর এগোনো ঠিক হবে না মনে করে ইন্দ্র পাবলিক টয়লেটে ঢুকলো ভেট পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে,আমি বাইরে দাঁড়িয়ে রইলাম।



মিনিট দুয়েক পর যখন ইন্দ্র বেরিয়ে এলো তখন আমি তো অবাক!এও কি সম্ভব, তো একদম হুবহু সুদীপের চেহারা।ইন্দ্র উৎকণ্ঠটার সাথে জিজ্ঞেস করলো তাবিচে কাজ হয়েছে কিনা,আর এই সময় আমি বুঝতে পারলাম ইন্দ্রর গলার স্বরের পরিবর্তন ঘটেছে,এবং তা একদম সুদীপের মতন।আমার ইচ্ছে করছিল ওকে গিয়ে একবার জড়িয়ে ধরি,কিন্তু তখন কাপালিকের কথা স্মরণ করে নিজের ইচ্ছে দমন করলাম।এরপর মিনিট দশেক হাঁটার পরই আমরা পৌঁছে গেলাম সুদীপের বাড়িতে।কিভাবে কি বলতে হবে তা কাল রাতেই ইন্দ্র প্র্যাকটিস করে নিয়েছিল।

আমরা সুদীপের বাড়িতে ঢুকলাম।ইন্দ্র কাউকে ডাকলো না,সোজা ঘরে ঢুকে গেল।মাটির দেওয়াল,ওপরে খরের ছাউনি দেওয়া।ঘরে ঢুকেই দেখতে পেলাম একজন মহিলা বিছানায় শুয়ে আছেন,বুঝলাম এটা সুদীপের মা।আমি আর ইন্দ্র একবার চোখে চোখে ইশারায় সেকথা আদানপ্রদান করতেই সুদীপের ভেটধারী ইন্দ্র বলে উঠলোমা।এই শুনে ভভ্রমহিলাটি ওঠার চেষ্টা করলেন,কিন্তু পারলেন না,ইন্দ্র হাত ধরে আবার শুয়িয়ে দিয়ে বললো,নিজের কি হাল করেছো!আমি কি মরে গেছি নাকি।এই বলে সে মাকে একটা প্রণাম করল,সুদীপের মাএর ঠোঁটের কোনায় চওড়া হাসি ফুটে উঠলো,এই হাসিটুকু দেখে আমাদের দুজনেরই মনে উৎফুল্লতা জেগে উঠলো,এর জন্যই তো এত কিছু করা,অন্তত এবার হয়তো সুদীপ আমাদের ক্ষমা করবে।


আমরা বসে কথা বলছি এইসময় সুদীপের বাবা ঘরে ঢুকলেন এবং আমাদের দেখে চমকে গেলেন।এভাবেই কিছুক্ষন কেটে গেল,সুদীপের বাবা কাজে বেরিয়ে গেলেন।আমরাও উঠবো উঠবো করছি এমন সময় হঠাৎ করে একটি বাচ্চা ছেলে আসে ইন্দ্রকে কাকু বলে জড়িয়ে ধরলো,সাথে সাথেই চোখের সামনে নিমেষে এক ভয়ঙ্কর কান্ড ঘটে গেল।আমি দেখলাম ইন্দ্রর চেহারা সুদীপের চেহারা থেকে ধীরে ধীরে নিজের রূপে বদলে যাচ্ছে।এই সময় লক্ষ্য করলাম সুদীপরে মা এই দৃশ্য দেখে হতবাক,এবং হঠাৎ মূর্ছনা গেলেন।এমত অবস্থায় দিক্বিদিকশুন্য হয়ে আমি ইন্দ্রর হাত ধরে পাকা রাস্তার উদ্দেশ্যে ছুট লাগলাম।এরপর বাস ট্রেন ধরে সোজা কলকাতার মেসে।এর দুদিন পর জানতে পারলাম সুদীপের মা হার্ট এট্যাকে কাল মারা গেছেন।এই শুনে আমার আর ইন্দ্রর মাথায় বাজ ভেঙে পড়লো,একটা মানুষকে সুস্থ করতে গিয়ে মেরে ফেললাম,নিজেদের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করতে লাগলো।

এরপর থেকে দুদিন আমরা কেউ কারোর সাথে কথাও বলিনা আর ঠিকমতন খাওয়া দাওয়া করিনা।পরের দিন আমি বিশেষ দরকারে একটু বাইরে গেছিলাম,ফিরে আসে দেখি মেসে খুব ভিড় জমেছে,কি হয়েছে বুঝতে যাবো এমন সময় দেখি ভিড়টা আমাদের ঘরকে কেন্দ্র করেই,আমি ভিড় ঠেলে দৌড়ে আমার ঘরে গিয়ে দেখি ইন্দ্রর শরীরটা সিলিং থেকে নিচের দিকে ঝুলছে।এই দেখে আমি পাগলের মতন চিৎকার করে উঠি,সন্ধে বেলা পুলিশ আসে, জেরা করে,কিন্তু আত্মহত্যা বুঝতে পেরে আমাকে আর বেশি ঘাটায় নি,আমিও সত্যি কথাগুলো কখনো কাউকে বলতে পারিনি।তার দুদিন পর আমি কলকাতার মায়া ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে যাই।কিন্তু আজ হঠাৎ বিশেষ প্রয়োজনে কলকাতায় আসা এবং প্রাকৃতিক কারণে থেকে যাওয়ায় সেসব স্মৃতি আবার সতেজ হলো,এসব ভাবনা শেষ করে দেখি,পূব আকাশে সূর্য উঠছে,তার আলোর রেখা আকাশকে মাধুরীত করছে।সেসব ঘটনার জন্য আমি এখনও নিজেকে দোষারোপ করি।ভাগ্যদেবতা আমাদের তিন জনের ভাগ্যকে নিয়ে এরূপ বৈচিত্রময় খেলায় মত্ত হবে তা আমি কল্পনাও করিনি।এসব ভাবতে ভাবতে আমি বেরিয়ে পড়ার উদ্দেশ্যে রেডি হয়ে নিলাম,এবং মেসের ঘর পরিত্যাগ করে হরিহর কাকাকে প্রণাম করে,বইপড়া থেকে বিষাদভরা হৃদয়ে প্রস্থান করলাম।।

ফেসবুক মন্তব্য

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: