সুভাষ রবিদাস এর অপ্রকাশিত কবিতা।

পাষাণ্ড 

পাষাণের বুকে শুয়ে আমিও পাষাণ আজ 

শিখে গেছি পাষাণ্ড স্বভাব 

প্রেম জাগে যদিও ব্যথা লাগে নিরর্থক মনে 

যতই ঢালো মধু কামুকী যুবতী 

তোমার বিরহে আমি পাথর হয়েছি। 

তবুও বেদনা জাগে, হু হু করে 

উড়ে যায় ধূলো। আমি রোজ 

পথ ধরে হাঁটি, একতারা ধরে 

হাঁটে বাউলগুলো। করে কার খোঁজ 

অচীন পাখি কি খাঁচায় ধরা দিল! 

না- তাকে কেড়ে নিয়ে গেছে সিংহমানব 

আর হংসীও ভূলে গেছে অতীত আদর 

ডিম পারে সে আজ, ছানা ফোটে 

পাখি হয়ে উড়ে তার মন 

চেঁচিয়ে বলে – আহা, কি সুন্দর আমার জীবন! 

আমার জীবন- পন্চভূতে সমাহিত ষষ্ঠতম মন

পাষণ্ড হয়েছি আজ পাষাণ্ড জীবন। 

বাতাসের কান্না 

কান পেতে শুনি শুধু বাতাসের ডাক 

কাঁদছে কিনা সে গোঁ গোঁ স্বরে 

থেমে গেছে ঝড় রেখে গেছে তার যাবতীয় স্মৃতি 

রেখে গেছে টুনটুনি পাখির ক্ষত 

বাবুইয়ের ছিন্ন বাসা পড়ে আছে দূরে 

ভেঙে গেছে একটি স্বপ্ন প্রজন্মের 

খোঁজ নেই পাখির। 

বইছে বাতাস সাঁই সাঁই সাঁ সাঁ 

হায় বাতাস, কিশোরের ঘুড়ি খানা 

বাবলা গাছের ডালে আর সেই ছেলেটি 

আজ কোথায়? 

উড়িয়ে নিয়ে গেছে তাকে কোন কাল-বৈশাখী 

জানি না কোন পথে 

তারই কান্না বুকে আজ বয়ে যাও তুমি। 

বাতাসের ডাক

ওই রাজার পোশাকটি আমার নেই 

অর্জুনের গাণ্ডীব – না, 

সোনার হরিণ তো ছলনা মাত্র! 

উঠেছিল যে ঝড় চৈত্রের আকাশে – থেমে গেছে আজ 

থেমে গেছে সাগরের আলোড়ন 

বৈশাখ এখনো আসেনি দুয়ারে 

এমন ভাবে হারিয়ে যাবে বলে নি বাতাস 

আমিও বলব না সেই মুহূর্তের কথা 

তুমি আকাশ চাইতেই পারো 

চাইতে পারো তারা – 

চাইতে পারো আনন্দ পথিক 

তার সাথে 

যাবে যদি যাও 

মাঝ পথে ফিরে দেখবে শূন্য তেপান্তর 

Published by Story And Article

Word Finder

Leave a Reply

%d bloggers like this: