স্মৃতির টুকরো // মাধব মন্ডল

talkontalk.com
সেটা বোধ হয় ১৯৮৮ সাল, আকন্ঠ ডুবে হতাশার সাম্রাজ্যে, নিজের মতই লিখে চলেছি, যা কিছু লিখতে মন চায়। কোথাও কোন প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছি না, এই সময়ই বেণারসের ” সবার সাথীর” ঠিকানা পেলাম। ছোটদের পত্রিকা, সম্পাদক শুভঙ্কর রায়। পাঠালাম গোটাতিনেক ছড়া। মনোণীত হবার চিঠি এল তাড়াতাড়িই। তারপর পরপর তিনমাসে তিনটে ছড়া প্রকাশিত হল। ডাকে কবে আসবে অপেক্ষায় বসে থাকতাম। 
 
এই কাগজটার পরপরই কলকাতায় ছোটদের সব বাণিজ্যিক পত্রিকার দরজায় দরজায় পৌঁছে গেলাম। কিন্তু অভাগাটার কপাল খুললোই না। এই ছটপটানি থেকেই সেজদার পরিচিত তপনদার সঙ্গে আলাপ এবং ওনার মৌসম পত্রিকার সঙ্গে কিছুটা জড়িয়ে পড়া। উনি তখন চাঁদমারিতে ভাড়া বাড়িতে ভাইকে নিয়ে থাকতেন। তাঁর মৌনমুখর প্রকাশনী থেকে ১৯৯০ সালে বইমেলার ঠিক আগে আমার এক ফর্মার বড়দের কবিতার একফর্মার বই “ছায়াপাত” বেরলো। আনন্দবাজার ও বর্তমানের অকুন্ঠ প্রশংসা পেলেও লেখা প্রকাশ করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল।
 
অনেকপরে শুকতারায় আমার একটা ছড়া বেরলো। তখন আমি পুরোপুরিই শামুকের মত গুটিয়ে গেছি। সি পি আই এর বাংলা মুখপত্র দৈনিক কালান্তরে কাজ করার সময়ও নিজেকে গুটিয়ে রেখেছি। আমার চিফ রিপোর্টার পবিত্রদা বললেও ওখান থেকে বই প্রকাশে রাজি হই নি। এমন কি ওনারা ছোটদের পেজ চালু করবেন বলে জানিয়েছিলেন, সেখানে যুক্ত হতে বলেছিলেন। মন সায় দেয় নি।
 
প্রথমে স্কুলে পড়াতাম, দুই সহপাঠীকে সঙ্গে নিয়ে ছোটদের একটা আস্ত স্কুলও ১৯৯৩ সালে গড়ে ফেললাম। বাড়িতে এবং স্কুলে ছোটদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমার লেখাগুলোও পরীক্ষিত হবার সুযোগ পেল। তখন আমার হতাশাটা মিলিয়ে গেল, বাড়তে লাগল আত্মবিশ্বাস। একটার পর একটা পাণ্ডুলিপি তেৈরি করে গেছি। কিছুদিন অন্তর অন্তর বঙ্কিমী দাওয়াই মেনে সেগুলো ঘষামাজা করি এখনও।
 
এই করতে করতেই সেচ দপ্তরে ঢোকা এবং প্রথমেই মেদিনীপুরে। স্কুল, কালান্তর সব ছাড়লাম। অফিস, বাড়ি আর নিজের মত লেখালেখি লোকচক্ষুর আড়ালে। সাহিত্যের কোলাহল থেকে দূরেই থাকলাম চিরকাল। আর এখন পথ দুর্ঘটনার পর শারীরিক কারণেই দূরে থাকতে হয়। 
 
১৯৯০ থেকে ২০১৭, ২৭ টা বছর এভাবেই কেটেছে। নিজের মতই। মৌলালির যুব গ্রন্থাগার, গোলপার্কের রামকৃষ্ঞ মিশনের লাইব্রেরি আর আলিপুরের সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে থাকা খ্যাতনামাদের বইগুলো আমার আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়েছিল। এখন বাড়ায় আমার বর্তমান অফিসের লাইব্রেরিটি।
 
১৭ সালেই আবার প্রকাশ্যে আসা, তবে ফেসবুকে,ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছি এখানে।
১৮ সালেই ছোটদের জন্যে একটি এবং গল্প ইত্যাদি গদ্যের জন্যে আরেকটি প্রোফাইল খুলেছি। বাংলা লিটারেচার আর্টেও নিয়মিত লিখি। 
 
” ব এ বর্ণমালা ” ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হল নিকোটিন ওয়েব ম্যাগে। বইও হলো বার্ণিকের হাত ধরে, ১৮ সালে। 
 
আর আমার প্রথম ছোটদের বই, ” ছোট্ট নয় ছোটবেলা “,  যেটি ধারাবাহিকভাবে বি বি সি আনন্দ সংবাদে প্রকাশিত ছড়াগুলো থেকে বেছে নেওয়া, এবার বার্ণিকের হাত ধরে কাল, ২৭ জুলাই, প্রকাশিত হবে।
 
আরেকটি চার ফর্মার বড়দের কবিতার বই “আশ শ্যাওড়া”, যেটি গত বইমেলাতে প্রকাশ করার আমার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, সেটি আগামী ২২ শ্রাবণ, ৮ আগষ্ট শান্তিনিকেতনে প্রকাশ করবেন বলে মুখার্জি পাবলিশিং এর কর্ণধার রাখালরাজ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
 
কিন্তু বাণিজ্যিক কোন কাগজের দরজা আজও খোলা গেল না। দেখা যাক……..

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *